এইমাত্র

আরও খবর

Website Feature Image (5)
ভারতের উপকূলে নতুন ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কা, সরানো হচ্ছে হাজারো মানুষ
Website Feature Image (3)
কেন আরব দলগুলোর বিরুদ্ধে ভোট চুরির অভিযোগ আনলেন নেতানিয়াহু
Website Feature Image
ভোটে অমীমাংসিত ফলাফল: ইসরায়েলের অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পথে নেতানিয়াহু
Website Feature Image (33)
অদ্ভুত অর্থনৈতিক সংকটে ট্রাম্প
Website Feature Image (8)
ইসরায়েল সবেমাত্র একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনে ভোট দিয়েছে, তবে চূড়ান্ত ফলাফল স্পষ্ট হতে সময় লাগবে

অনিশ্চিত যুদ্ধবিরতি: এক দিনের ব্যবধানে কমল তেলের দাম

অনিশ্চিত যুদ্ধবিরতি , বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমেছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার সম্ভাবনায়। একদিনে ৬% ওঠানামার পর ব্রেন্ট ও ডব্লিউটিআই দামে বড় পরিবর্তন দেখা গেছে।

বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমেছে—যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য শান্তি আলোচনার খবর ঘিরে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের ওঠানামা দেখা দিয়েছে। একদিকে আলোচনা নিয়ে অনিশ্চয়তা, অন্যদিকে নতুন কূটনৈতিক সম্ভাবনা—এই দুই পরিস্থিতির প্রভাবে মাত্র একদিনের ব্যবধানে জ্বালানি তেলের দামে বড় পরিবর্তন এসেছে।

বিশ্ব অর্থনীতি, শেয়ারবাজার এবং জ্বালানি সরবরাহ চেইনে এই পরিবর্তনের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বলেও বিশ্লেষকদের ধারণা।

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার খবরে পরিবর্তন

বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমেছে

রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এই প্রত্যাশা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে। এর ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমেছে এবং জ্বালানি বাজারে স্থিতিশীলতার ইঙ্গিত দেখা যাচ্ছে।

এর আগে সোমবার আলোচনা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম প্রায় ৬ শতাংশ বেড়ে গিয়েছিল। কিন্তু পরদিন মঙ্গলবার পরিস্থিতি উল্টে যায়।

ব্রেন্ট ও ডব্লিউটিআই দামে বড় পরিবর্তন

মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৫৪ সেন্ট বা ০.৬ শতাংশ কমে দাঁড়ায় ৯৪.৯৪ ডলারে। একই দিনে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (WTI) তেলের মে মাসের দর ব্যারেলপ্রতি ১.১১ ডলার বা ১.২ শতাংশ কমে ৮৮.৫০ ডলারে নেমে আসে।

এই পরিসংখ্যান স্পষ্টভাবে দেখাচ্ছে যে বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমেছে মূলত রাজনৈতিক আলোচনার সম্ভাবনার কারণে।

শেয়ারবাজারে ফিরছে কিছুটা স্বস্তি

তেলের দামের এই ওঠানামার সঙ্গে সঙ্গে এশিয়ার শেয়ারবাজারেও মঙ্গলবার কিছুটা চাঞ্চল্য দেখা গেছে। বিনিয়োগকারীরা এখন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন এবং ঝুঁকি কমানোর চেষ্টা করছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানি তেলের দামের পরিবর্তন সরাসরি বৈশ্বিক শেয়ারবাজারের ওপর প্রভাব ফেলে, বিশেষ করে এশিয়ার উদীয়মান অর্থনীতিগুলোতে।

হরমুজ প্রণালি ও বৈশ্বিক সরবরাহ সংকট

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের ওপর হামলা চালানোর পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। এর জবাবে ইরান গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন রুট হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়।

এই প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথ হওয়ায়, এতে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে বড় ধাক্কা লাগে। সরবরাহ সংকটের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে দামের অস্থিরতা আরও বেড়ে যায়।

অর্থনীতিতে সম্ভাব্য প্রভাব ও উদ্বেগ

বিশ্বজুড়ে দীর্ঘস্থায়ী এই উত্তেজনা অর্থনীতিকে মন্দার দিকে ঠেলে দিতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন অর্থনীতিবিদরা। তবে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার নতুন সম্ভাবনা সেই উদ্বেগ কিছুটা কমাতে শুরু করেছে।

এখন বাজার বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যদি আলোচনা সফলভাবে এগোয়, তাহলে জ্বালানি বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরে আসতে পারে।

বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমেছে: ভবিষ্যৎ দৃষ্টিভঙ্গি

বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমেছে এমন পরিস্থিতি সাময়িক হলেও এটি বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ সংকেত বহন করছে। রাজনৈতিক উত্তেজনা কমলে জ্বালানি বাজার আরও স্থিতিশীল হতে পারে।

তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, যেকোনো নতুন ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা আবারও বাজারকে অস্থির করে তুলতে পারে।

সর্বাধিক পঠিত