৫০০ কোটি টাকা অফার দিয়েছিল হাসিনার এমপি নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে বিস্ফোরক অভিযোগ ও অর্থ আত্মসাতের জবাব জানালেন তিনি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনের সামনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সদ্য জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)–তে যোগ দেওয়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সভাপতি রিফাত রশিদ দাবি করেছেন, জুলাই আন্দোলনের সময় শেখ হাসিনার সরকারের এক এমপির মাধ্যমে আন্দোলন থামিয়ে দিতে প্রত্যেককে ৫০০ কোটি টাকা অফার দেওয়া হয়েছিল। একই সংবাদ সম্মেলনে তিনি গণভোটে ‘হ্যাঁ’–এর পক্ষে প্রচারণার অনুদান আত্মসাতের অভিযোগও অস্বীকার করেন। রিফাত রশিদের ৫০০ কোটি টাকা অফার দাবি ঘিরে রাজনৈতিক ও জনপরিসরে নতুন আলোচনা তৈরি হয়েছে।
৫০০ কোটি টাকার অফার নিয়ে কী দাবি করলেন রিফাত রশিদ

শনিবার (২৫ এপ্রিল) বিকেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে রিফাত রশিদ বলেন, জুলাই আন্দোলনের সময় যখন তাদের “বড় ভাইয়েরা” ডিবি অফিসে ছিলেন, তখন আন্দোলন বন্ধ করতে শেখ হাসিনার সরকারের এক এমপির মাধ্যমে বড় অঙ্কের আর্থিক প্রস্তাব দেওয়া হয়।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রত্যেককে ৫০০ কোটি টাকা করে অফার দেওয়া হয়েছিল, তবে তারা সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন।
রিফাত রশিদ এ ঘটনাকে “ফ্যাসিবাদী আন্দোলনের সময় চাপ ও প্রলোভনের অংশ” হিসেবে তুলে ধরেন। যদিও সংবাদ সম্মেলনে তিনি ওই এমপির নাম উল্লেখ করেননি, তবে বক্তব্যে রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ ইঙ্গিত দেন।
রিফাত রশিদের ৫০০ কোটি টাকা অফার দাবি ঘিরে নতুন বিতর্ক
এই দাবি সামনে আসার পর বিষয়টি রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে আন্দোলন দমনে প্রভাব খাটানোর অভিযোগ নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
রিফাত রশিদ বলেন, এই অভিযোগ কেবল ব্যক্তিগত দাবি নয়, বরং আন্দোলনের সময়কার বাস্তব অভিজ্ঞতার অংশ। তিনি জানান, আর্থিক প্রলোভনের মাধ্যমে আন্দোলন থামানোর চেষ্টা করা হয়েছিল, কিন্তু তারা তাতে সাড়া দেননি।
এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি আন্দোলনের নৈতিক অবস্থান তুলে ধরতে চেয়েছেন বলেও পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন।
অনুদান আত্মসাতের অভিযোগ ‘মিথ্যা ও ভিত্তিহীন’
সংবাদ সম্মেলনে রিফাত রশিদ আরেকটি আলোচিত বিষয়ে অবস্থান পরিষ্কার করেন। গণভোটে ‘হ্যাঁ’–এর পক্ষে প্রচারণায় সরকার থেকে পাওয়া অনুদানের তথ্য গোপন করে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগকে তিনি “মিথ্যা, অসত্য ও ভিত্তিহীন” বলে দাবি করেন।
তার ভাষ্য, একটি বিশেষ মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই অপপ্রচার চালাচ্ছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি অডিট ফার্মের মাধ্যমে পুরো ব্যয়ের হিসাব অডিট করা হয় এবং সেই অডিট বাংলাদেশ ব্যাংক গ্রহণও করেছে।
রিফাত রশিদ আরও জানান, এই অভিযোগের বিরুদ্ধে তিনি আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও ভাবছেন।
অডিট রিপোর্ট নিয়ে কী বললেন হাসিব আল ইসলাম
সংবাদ সম্মেলনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক মুখ্য সমন্বয়ক হাসিব আল ইসলাম বলেন, তাদের কাছে পুরো অর্থ ব্যয়ের হিসাব সংরক্ষিত আছে।
তার বক্তব্য অনুযায়ী, ক্যাম্পেইনের খরচ শেষে বাংলাদেশ ব্যাংকের অডিট ফার্ম দিয়ে পুরো কার্যক্রম অডিট করা হয় এবং পরবর্তীতে তা কেন্দ্রীয় ব্যাংকে জমা দেওয়া হয়।
তিনি বলেন, যদি অর্থ আত্মসাতের মতো কোনো অনিয়ম থাকত, তাহলে বাংলাদেশ ব্যাংক এতদিন নীরব থাকত না।
হাসিব আল ইসলামের এই বক্তব্য অভিযোগ মোকাবিলায় সংগঠনের পক্ষ থেকে সমন্বিত অবস্থানকেই স্পষ্ট করেছে।
অভিযোগকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলছেন নেতারা
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত নেতারা দাবি করেন, কোনো তথ্য-প্রমাণ ছাড়া তাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।
তাদের বক্তব্য, গণমাধ্যমের মাধ্যমে জাতির সামনে এই অভিযোগের জবাব দেওয়া প্রয়োজন ছিল বলেই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে।
এই অবস্থান থেকে বোঝা যায়, অভিযোগকে তারা রাজনৈতিক বা কৌশলগত উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণা হিসেবে দেখছেন।
জুলাই আন্দোলনের প্রেক্ষাপট ও দাবির তাৎপর্য
রিফাত রশিদের বক্তব্যে জুলাই আন্দোলনের সময়কার চাপ, দর-কষাকষি ও রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ নতুন মাত্রা পেয়েছে।
বিশেষত “প্রত্যেককে ৫০০ কোটি টাকা অফার”–এর মতো বক্তব্য বড় ধরনের রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া তৈরি করতে পারে।
যদিও এ দাবির স্বাধীন যাচাই সংবাদ সম্মেলনে উপস্থাপিত হয়নি, তবে বক্তব্যটি জনআলোচনায় প্রভাব ফেলতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।
আন্দোলন সংশ্লিষ্ট ঘটনাপ্রবাহ, রাষ্ট্রীয় প্রতিক্রিয়া ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বুঝতে রিফাত রশিদের ৫০০ কোটি টাকা অফার দাবি এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠেছে।
আইনি পদক্ষেপের ইঙ্গিত
অর্থ আত্মসাতের অভিযোগকে কেন্দ্র করে রিফাত রশিদ আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন।
এটি ইঙ্গিত দেয় যে, বিষয়টি শুধু রাজনৈতিক বক্তব্যেই সীমাবদ্ধ নাও থাকতে পারে; প্রয়োজনে আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক পরিসরেও যেতে পারে।
যদি আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়, তাহলে অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের নতুন মাত্রা যুক্ত হতে পারে।
কী বলছে বৃহত্তর প্রেক্ষাপট
বাংলাদেশে আন্দোলন, রাজনৈতিক প্রভাব ও আর্থিক প্রলোভন সংক্রান্ত অভিযোগ নতুন নয়। তবে আন্দোলন থামাতে ব্যক্তিপ্রতি ৫০০ কোটি টাকার প্রস্তাবের দাবি ব্যতিক্রমী ও গুরুতর।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে রিফাত রশিদের বক্তব্য দুটি বড় প্রশ্ন সামনে এনেছে—জুলাই আন্দোলনের সময় কথিত ৫০০ কোটি টাকার প্রস্তাব এবং গণভোটের অনুদান আত্মসাতের অভিযোগের জবাব।
তিনি প্রথমটিকে রাজনৈতিক প্রলোভনের উদাহরণ এবং দ্বিতীয়টিকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার হিসেবে তুলে ধরেছেন।
রিফাত রশিদের ৫০০ কোটি টাকা অফার দাবি এখন শুধু একটি রাজনৈতিক বক্তব্য নয়, বরং জনআলোচনার কেন্দ্রে উঠে আসা একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু।




