এইমাত্র

আরও খবর

Shikor Web Image (3)
আমি কোন দল করব- এর ওপর হস্তক্ষেপের অধিকার রাষ্ট্র কাউকে দেয়নিঃ সংসদে জামায়াত আমির
Shikor Web Image
জাতীয় গ্রিডে পূর্ণ সক্ষমতায় বিদ্যুৎ পেতে সময় লাগবে প্রায় ১০ মাস
Shikor Web Image (4)
রূপপুর থেকে ৬০ বছর নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ মিলবে
Shikor Web Image
যশোরে প্রধানমন্ত্রীঃজুলাই সনদের প্রতিটি শর্ত সংসদে পাস করা হবে
Shikor Web Image (6)
জঙ্গি সমস্যা মোকাবিলায় ধর্মীয় নেতাদের যুক্ত করার দাবিঃ ইসলামী আন্দোলনের

দুর্নীতির অভিযোগ ঘিরে সংসদে শামা–নাহিদের বিতর্ক

দুর্নীতির অভিযোগ ঘিরে সংসদে শামা–নাহিদের বিতর্ক ঘিরে উত্তপ্ত সংসদে দুই পক্ষের তীব্র বাদানুবাদ, বক্তব্য ও পাল্টা অভিযোগে তৈরি হয় নাটকীয় পরিস্থিতি।

জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনার সময় সংসদে শামা–নাহিদ বিতর্ক দুর্নীতি অভিযোগ ঘিরে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। মঙ্গলবার সংসদ অধিবেশনে বিএনপির সংসদ সদস্য শামা ওবায়েদ ইসলাম অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তোলেন। তার বক্তব্যের পাল্টা জবাব দেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংসদে তৈরি হয় দুই পক্ষের তীব্র বিতর্ক ও উত্তপ্ত পরিস্থিতি।

এই সংসদে শামা–নাহিদ বিতর্ক দুর্নীতি অভিযোগ শুধুমাত্র রাজনৈতিক বক্তব্যে সীমাবদ্ধ না থেকে সরাসরি পাল্টাপাল্টি অভিযোগে রূপ নেয়, যা সংসদীয় আলোচনাকে আরও উত্তপ্ত করে তোলে।

সংসদে শামা–নাহিদ বিতর্ক দুর্নীতি অভিযোগের সূচনা

রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, জুলাই অভ্যুত্থান প্রমাণ করেছে যে নতুন প্রজন্ম দেশপ্রেমিক। তবে তিনি অভিযোগ করেন, ৫ আগস্টের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের নবীন সদস্যদের বিরুদ্ধেও গত দেড় বছরে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।

তার এই বক্তব্যের মাধ্যমেই শুরু হয় মূল সংসদে শামা–নাহিদ বিতর্ক দুর্নীতি অভিযোগ, যা পরে সংসদে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্কে রূপ নেয়।

সরকারের ভূমিকা ও অভিজ্ঞতা নিয়ে মন্তব্য

শামা ওবায়েদ আরও বলেন, সরকার ও বিরোধী দল উভয়েরই দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তার মতে, সরকারে দায়িত্ব পালন করতে হলে অভিজ্ঞতা, সাহস ও বুদ্ধিমত্তা প্রয়োজন।

তিনি বিএনপির অবস্থান তুলে ধরে বলেন, বিএনপি ফেসবুকভিত্তিক রাজনীতি করে না এবং সামাজিক মাধ্যমে প্রচার-প্রচারণাকে রাজনীতির মূল মাধ্যম হিসেবে দেখে না।

এই বক্তব্যও সংসদে শামা–নাহিদ বিতর্ক দুর্নীতি অভিযোগ প্রসঙ্গে নতুন মাত্রা যোগ করে।

সোশ্যাল মিডিয়া ও রাজনৈতিক বক্তব্য নিয়ে সমালোচনা

শামা ওবায়েদ মন্তব্য করেন, শুধুমাত্র অনলাইন প্রচারণা বা সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে রাজনীতি করা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, “বট বাহিনী” দিয়ে মানুষকে ছোট করে বা ভাইরাল হওয়ার মাধ্যমে রাজনীতি টেকসই হয় না।

তিনি আরও বলেন, ১৯৭১ সালে যদি সামাজিক মাধ্যম থাকত, তাহলে দেশের স্বাধীনতা আন্দোলন একইভাবে সফল হতো কি না—এ নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায়।

এই মন্তব্যও সংসদে উপস্থিত অন্য সদস্যদের মধ্যে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে, যা সংসদে শামা–নাহিদ বিতর্ক দুর্নীতি অভিযোগ আরও গভীর করে তোলে।

মুক্তিযুদ্ধ ও ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ নিয়ে বক্তব্য

মুক্তিযুদ্ধকে সর্বোচ্চ মর্যাদার বিষয় হিসেবে উল্লেখ করে শামা ওবায়েদ বলেন, তিনি সংসদে উপস্থিত নাহিদ ইসলাম ও হাসনাত আবদুল্লাহর মতো তরুণদের ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ গঠনের আকাঙ্ক্ষাকে সম্মান করেন।

তিনি বলেন, একটি নতুন বাংলাদেশ গড়তে হলে আইনের শাসন, খুনের বিচার এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা জরুরি।

তার মতে, রাজনৈতিক বিরোধ ভুলে ঐক্যবদ্ধ হলে সংসদ থেকেই দেশের উন্নয়নের নতুন সূচনা সম্ভব।

এই অংশটি সংসদে শামা–নাহিদ বিতর্ক দুর্নীতি অভিযোগ প্রসঙ্গে কিছুটা সমঝোতার বার্তা দিলেও বিতর্ক থামেনি।

নাহিদ ইসলামের পাল্টা বক্তব্য

শামা ওবায়েদের বক্তব্যের পর বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম ফ্লোর নেন। তিনি পাল্টা বক্তব্যে সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা ব্যক্তিদের অতীত ভূমিকা তুলে ধরেন।

তিনি উল্লেখ করেন, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী খলিলুর রহমান অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ছিলেন এবং আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

এরপর তিনি সরাসরি বলেন, যদি দুর্নীতির অভিযোগ তোলা হয়, তবে তার প্রমাণ দিতে হবে। একই সঙ্গে তিনি নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগেরও প্রমাণ দাবি করেন।

এই পাল্টা বক্তব্য সংসদে শামা–নাহিদ বিতর্ক দুর্নীতি অভিযোগ আরও তীব্র করে তোলে।

স্পিকারের হস্তক্ষেপ

উত্তপ্ত পরিস্থিতির মাঝে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ হস্তক্ষেপ করেন। তিনি বলেন, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তার বক্তব্যে কারও নাম উল্লেখ করেননি, ফলে বিষয়টি ব্যক্তিগত অভিযোগ হিসেবে দেখা উচিত নয়।

তার এই হস্তক্ষেপের মাধ্যমে সংসদে চলমান উত্তেজনা কিছুটা প্রশমিত হয়।

বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের সংসদে শামা–নাহিদ বিতর্ক দুর্নীতি অভিযোগ বাংলাদেশের সংসদীয় রাজনীতিতে মতপার্থক্য ও মত প্রকাশের স্বাধীনতার একটি উদাহরণ। তবে একই সঙ্গে এটি রাজনৈতিক ভাষার উত্তেজনা বৃদ্ধিরও ইঙ্গিত দেয়।

সর্বাধিক পঠিত