মে মাসে অপরিবর্তিত থাকবে জ্বালানি তেলের দাম। ডিজেল, পেট্রোল, অকটেন ও কেরোসিনের নতুন দর জানালো বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়।
মে মাসের জন্য জ্বালানি তেলের দাম অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. এনামুল হক স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, এপ্রিল মাসের মতো মে মাসেও ডিজেল, পেট্রোল, অকটেন ও কেরোসিনের বর্তমান মূল্যই বহাল থাকবে। ফলে জ্বালানি তেলের দাম অপরিবর্তিত থাকায় বাজারে নতুন কোনো মূল্য পরিবর্তন আসছে না।
সরকারের এই সিদ্ধান্তে সাধারণ ভোক্তা থেকে শুরু করে পরিবহন ও শিল্পখাত—সব ক্ষেত্রেই স্বস্তি বজায় থাকবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সরকারের প্রজ্ঞাপনে কী বলা হয়েছে
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতি এবং জ্বালানি সরবরাহ বিবেচনায় নিয়ে এপ্রিল মাসে যে মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছিল, সেটিই মে মাসে বহাল থাকবে। অর্থাৎ জ্বালানি তেলের দাম অপরিবর্তিত থাকবে পুরো মাসজুড়ে।

প্রজ্ঞাপনে আরও জানানো হয়—
- ডিজেল: প্রতি লিটার ১১৫ টাকা
- পেট্রোল: প্রতি লিটার ১৩৫ টাকা
- অকটেন: প্রতি লিটার ১৪০ টাকা
- কেরোসিন: প্রতি লিটার ১৩০ টাকা
এই দামগুলো এপ্রিল মাসে নির্ধারণ করা হয়েছিল এবং মে মাসেও একইভাবে কার্যকর থাকবে।
জ্বালানি তেলের দাম অপরিবর্তিত রাখার কারণ
সরকারি সূত্র অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দামের ওঠানামা, বৈশ্বিক সরবরাহ পরিস্থিতি এবং আমদানি ব্যয় বিশ্লেষণ করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মূলত বাজার স্থিতিশীল রাখার জন্যই জ্বালানি তেলের দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।
এর আগে ১৮ এপ্রিল একটি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। তখনই জানানো হয়, আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেই এই দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।
সাধারণ মানুষের ওপর প্রভাব
বিশেষজ্ঞদের মতে, জ্বালানি তেলের দাম অপরিবর্তিত থাকায় পরিবহন খরচ ও পণ্যের দামে বড় কোনো পরিবর্তন আসবে না। ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারেও স্থিতিশীলতা বজায় থাকতে পারে।
অন্যদিকে, পরিবহন খাতের মালিকরা বলছেন, জ্বালানি তেলের দাম অপরিবর্তিত থাকলে তারা ভাড়া বৃদ্ধি না করেই কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারবেন।
অর্থনীতিতে প্রভাব বিশ্লেষণ
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানি খাত সরাসরি দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত। তাই জ্বালানি তেলের দাম অপরিবর্তিত থাকলে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করবে।
বিশেষ করে কৃষি, পরিবহন, শিল্প ও বিদ্যুৎ উৎপাদন খাতে স্থিতিশীলতা বজায় থাকবে। তবে ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক বাজারে বড় পরিবর্তন এলে এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা হতে পারে।
জ্বালানি তেলের দাম অপরিবর্তিত: আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট
বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম সাধারণত অস্থির থাকে। মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি, বৈশ্বিক চাহিদা ও সরবরাহ সংকট এসব ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখে। এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ সরকার আপাতত জ্বালানি তেলের দাম অপরিবর্তিত রাখার মাধ্যমে স্থিতিশীল নীতি অনুসরণ করছে।
আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার নিয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায় Reuters এর বিশ্লেষণমূলক প্রতিবেদনে, যেখানে বৈশ্বিক তেলের দাম ও সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়মিত হালনাগাদ করা হয়।
পরিবহন ও শিল্প খাতে স্বস্তি
ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন শহরে পরিবহন খাতে এই সিদ্ধান্তকে ইতিবাচকভাবে দেখা হচ্ছে। চালক ও মালিকরা বলছেন, জ্বালানি তেলের দাম অপরিবর্তিত থাকায় দৈনন্দিন পরিচালন ব্যয় স্থিতিশীল থাকবে।
শিল্প মালিকরাও মনে করছেন, উৎপাদন ব্যয় বাড়বে না বলে পণ্যের দামও নিয়ন্ত্রণে থাকবে।
সরকারী নীতির ধারাবাহিকতা
গত কয়েক মাস ধরে সরকার আন্তর্জাতিক বাজার অনুযায়ী জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় করে আসছে। তবে এবার জ্বালানি তেলের দাম অপরিবর্তিত রাখার মাধ্যমে একটি স্থিতিশীল নীতি অনুসরণ করা হয়েছে।
এটি অর্থনীতিতে স্বল্পমেয়াদে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে মে মাসে জ্বালানি তেলের দাম অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়তা করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ডিজেল, পেট্রোল, অকটেন ও কেরোসিনের দাম অপরিবর্তিত থাকায় সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ী উভয়েই আপাত স্বস্তি পাবেন।




