এইমাত্র

আরও খবর

Untitled design (12)
ইরানের প্রস্তাবে অসন্তুষ্ট ট্রাম্প: স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন ‘যুদ্ধ শিগগিরই শেষ হচ্ছে না’
Untitled design (9)
ইরানের পর আরো একটি দেশ দখলের ইঙ্গিত ট্রাম্পের
Shikor Web Image (25)
ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে গ্রেনেডে ‘আত্মঘাতী’ সেনাদের প্রশংসা করলেন কিম জং–উন
Shikor Web Image (22)
ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র থাকা উচিত নয় রাজা চার্লসও একমত: ট্রাম্প
Shikor Web Image (19)
এবার মার্কিন পাসপোর্টে দেখা যাবে ট্রাম্পকে

সোমালি জলদস্যুদের দৌরাত্ম্য বাড়ছেঃ ইয়েমেন উপকূলে তেলবাহী জাহাজ ছিনতাই

সোমালি জলদস্যুদের দৌরাত্ম্য বাড়ছে সোমালি জলদস্যু জাহাজ ছিনতাইয়ের ঘটনায় ইয়েমেন উপকূলে তেলবাহী জাহাজ অপহরণ। টানা ৩ ঘটনায় বিশ্ববাণিজ্যে তৈরি হয়েছে নতুন উদ্বেগ।

সোমালি জলদস্যু জাহাজ ছিনতাইয়ের একটি নতুন ঘটনায় ইয়েমেন উপকূলের কাছে টোগোর পতাকাবাহী তেলবাহী জাহাজ ‘ইউরেকা’ দখল করা হয়েছে। শনিবার অজ্ঞাত ব্যক্তিরা জাহাজটিতে উঠে নিয়ন্ত্রণ নেয় এবং সেটিকে সোমালিয়ার জলসীমার দিকে নিয়ে যায়। রোববার সোমালিয়ার কর্তৃপক্ষ এ তথ্য নিশ্চিত করে। সাম্প্রতিক কয়েক সপ্তাহে এটি তৃতীয় ছিনতাইয়ের ঘটনা, যা আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য উদ্বেগ বাড়িয়েছে।সোমালি জলদস্যু জাহাজ ছিনতাই: পরিস্থিতির অবনতি

ইয়েমেনের কোস্ট গার্ড জানায়, শনিবার সংঘটিত এই ঘটনায় জাহাজটি এডেন উপসাগরের ইয়েমেন অংশ অতিক্রম করে সোমালিয়ার দিকে নিয়ে যাওয়া হয়। জাহাজটিকে বর্তমানে খুঁজে বের করে উদ্ধার করার চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে হিরান অনলাইন।

সোমালিয়ার গালমুদুগ রাজ্যের বন্দর মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক আবশির হাশি আলি জানান, জাহাজটি পুন্তল্যান্ড উপকূলের কাছে আটকে রাখা হয়েছে এবং মুক্তিপণের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে।

এই ধারাবাহিক ঘটনাগুলো থেকে বোঝা যাচ্ছে, সোমালিয়ায় জলদস্যুতা আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে, যা দেশটির কেন্দ্রীয় সরকারের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আঞ্চলিক উত্তেজনা ও হুতিদের সম্ভাব্য সম্পৃক্ততা

ঘটনাটি এমন সময় ঘটলো, যখন লোহিত সাগর বৈশ্বিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ইরানসংক্রান্ত জটিলতায় হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ থাকায় এই অঞ্চলের গুরুত্ব আরও বেড়েছে।

বিশ্লেষক মোহাম্মদ আল-বাসা দাবি করেন, সোমালি জলদস্যুদের সঙ্গে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের যোগাযোগ থাকতে পারে। তিনি জানান, দুই দেশের কর্তৃপক্ষ থেকে এমন ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

পুন্তল্যান্ডের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, এই হামলায় কিছু ইয়েমেনির সম্পৃক্ততার সন্দেহ রয়েছে এবং তারা হুতি বা অন্য কোনো সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত কি না তা তদন্ত করা হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, অতীতেও হুতি বিদ্রোহী ও সোমালি জলদস্যুদের মধ্যে যোগাযোগ ছিল। কখনো কখনো প্রযুক্তি ও সামরিক সহায়তাও দেওয়া হয়েছে। বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতি ও জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধির কারণে এই সহযোগিতা আরও বাড়তে পারে।

ইতিহাস ও বর্তমান বাস্তবতা

গত কয়েক দশক ধরে লোহিত সাগর অঞ্চলে সোমালি জলদস্যুতা একটি বড় সমস্যা। ২০১০ সালের দিকে এটি চরমে পৌঁছায়, যখন শত শত জাহাজ ছিনতাই হয় এবং মুক্তিপণের মাধ্যমে বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হয়।

পরে আন্তর্জাতিক নৌ জোট—যেখানে ন্যাটো ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন অংশ নেয়—পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আনে। জাহাজগুলো সোমালিয়া উপকূল থেকে দূরে চলাচল শুরু করে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থাও জোরদার করা হয়।

তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নতুন হুমকি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা। বিশেষ করে গাজা সংঘাতের সময় এই হামলা বৃদ্ধি পায়, যদিও গত বছরের শেষ দিকে যুদ্ধবিরতির পর তা কিছুটা কমে আসে।

অভ্যন্তরীণ সংকট ও জলদস্যুতার পুনরুত্থান

সোমালিয়ার বিশ্লেষকদের মতে, দেশটির অভ্যন্তরীণ সমস্যাই জলদস্যুতা বৃদ্ধির প্রধান কারণ। উপকূলীয় দরিদ্র এলাকায় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো আবার সক্রিয় হয়ে উঠছে এবং ছোট নৌকা ব্যবহার করে সমুদ্রে নামছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বিদেশি বড় ট্রলার জাহাজের কারণে মাছ ধরা কম লাভজনক হয়ে পড়েছে। ফলে অনেকেই বিকল্প হিসেবে জলদস্যুতার দিকে ঝুঁকছে।

সোমালি নিরাপত্তা বিশ্লেষক সামিরা গেইদ বলেন, ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের পর ওই অঞ্চলে আন্তর্জাতিক নজরদারি কমে গেছে। এতে জলদস্যুদের জন্য সুযোগ তৈরি হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, মুক্তিপণের মাধ্যমে কয়েক কোটি ডলার পর্যন্ত আয় সম্ভব, যা স্থানীয় অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলে এবং কিছু ক্ষেত্রে সামাজিক সমর্থনও তৈরি করে।

সরকারের চ্যালেঞ্জ ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি

সোমালিয়ার প্রেসিডেন্ট হাসান শেখ মোহাম্মদের জন্য এই পরিস্থিতি একটি বড় চ্যালেঞ্জ। সরকার দেশের সার্বভৌমত্ব শক্তিশালী করতে চাইলেও জলদস্যুতা ও সশস্ত্র গোষ্ঠীর কারণে তা কঠিন হয়ে পড়ছে।

তুরস্কের সহায়তা থাকা সত্ত্বেও দেশটি এখনো পুরো জলসীমায় কার্যকর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি। একই সঙ্গে সরকার আল-শাবাব জঙ্গিগোষ্ঠীর বিরুদ্ধেও লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।

তবে সাম্প্রতিক জাহাজ ছিনতাইয়ের ঘটনাগুলোতে আল-শাবাবের সংশ্লিষ্টতার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন নিরাপত্তা কর্মকর্তারা।

আন্তর্জাতিক সতর্কতা ও সাম্প্রতিক তথ্য

এপ্রিল থেকে এখন পর্যন্ত সোমালি জলদস্যুরা অন্তত তিনটি জাহাজ ছিনতাই করেছে। ব্রিটিশ নৌবাহিনী পরিচালিত ইউনাইটেড কিংডম মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস ওই এলাকায় ঝুঁকি বাড়ার কথা জানিয়ে জাহাজগুলোকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে।

সামুদ্রিক তথ্যভাণ্ডার ভেসেলফাইন্ডারের তথ্য অনুযায়ী, ‘ইউরেকা’ সর্বশেষ সংযুক্ত আরব আমিরাতে নোঙর করেছিল। এরপর ইয়েমেন উপকূলের কাছে এসে এটি হঠাৎ সোমালিয়ার দিকে ঘুরে যায়।

বর্তমানে জাহাজটির অবস্থান দুই দেশের মাঝামাঝি এলাকায় শনাক্ত করা হয়েছে, তবে নাবিকদের অবস্থা এখনো নিশ্চিত নয়।

মালিকানা ও নীরবতা

জনসাধারণের তথ্য অনুযায়ী, জাহাজটির মালিক রয়্যাল শিপিং লাইনস ইনকরপোরেটেড। তবে প্রতিষ্ঠানটি এখনো এই ঘটনায় কোনো মন্তব্য করেনি।

সর্বাধিক পঠিত