গ্যালারিতে বসে আর্জেন্টিনার রুদ্ধশ্বাস জয় দেখলাম, এ যেন আনন্দ-বেদনার মহাকাব্য, জামাল ভূঁইয়া। মায়ামিতে ৫ গোলের রুদ্ধশ্বাস লড়াই, মেসির জাদু ও কেপ ভার্দের সাহসী ফুটবল নিয়ে বিস্তারিত পড়ুন।
বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামি থেকে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ও কেপ ভার্দের শেষ ৩২-এর ম্যাচ সরাসরি গ্যালারিতে বসে দেখার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন। তাঁর ভাষায়, ম্যাচটি ছিল আনন্দ, উত্তেজনা ও নাটকীয়তায় ভরপুর এক ফুটবল মহাকাব্য, যেখানে শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনা জয় পেলেও কেপ ভার্দে হৃদয় জয় করেছে।
আর্জেন্টিনা বনাম কেপ ভার্দে ম্যাচ: প্রত্যাশার চেয়ে অনেক বেশি নাটকীয়
ম্যাচ শুরুর আগে অধিকাংশ দর্শকের মতো জামাল ভূঁইয়ারও ধারণা ছিল, বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা সহজেই জয় তুলে নেবে। তিনি নিজেও আর্জেন্টিনার জয়ের সম্ভাবনা ৯০ শতাংশ এবং কেপ ভার্দের ১০ শতাংশ বলে মনে করেছিলেন। এমনকি তাঁর অনুমান ছিল, ম্যাচটি ২-০ ব্যবধানে শেষ হবে।
কিন্তু মাঠের ফুটবল সেই ধারণাকে সম্পূর্ণ বদলে দেয়। শুরু থেকেই কেপ ভার্দে সাহসী ও সংগঠিত ফুটবল খেলতে থাকে। ম্যাচ যত এগিয়েছে, ততই বাড়তে থাকে উত্তেজনা। গ্যালারিতে বসে হাজারো দর্শকের সঙ্গে প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগ করেছেন জামাল ভূঁইয়া।
কেপ ভার্দের লড়াই দর্শকদের মুগ্ধ করেছে

জামাল ভূঁইয়ার মতে, কেপ ভার্দে শুধু প্রতিরোধই গড়ে তোলেনি, বরং বিশ্বকাপের অন্যতম শক্তিশালী দলের বিপক্ষে সমানতালে লড়াই করেছে। তিনি উল্লেখ করেন, চলতি বিশ্বকাপে দলটি সাবেক ও বর্তমান মিলিয়ে তিনটি বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন—স্পেন, উরুগুয়ে এবং আর্জেন্টিনাকে নির্ধারিত সময়ে কঠিন পরীক্ষার মুখে ফেলেছে।
১-১ সমতায় ফেরার পর তাঁর মনে হয়েছিল ম্যাচটি হয়তো অতিরিক্ত সময়ে গড়াবে। যদিও তিনি নিজেকে ব্রাজিলের সমর্থক হিসেবে পরিচয় দেন, তবুও প্রতিদ্বন্দ্বী আর্জেন্টিনার এমন ম্যাচ উপভোগ করতে তাঁর কোনো দ্বিধা ছিল না।
মেসির জাদু আবারও মুগ্ধ করল দর্শকদের
স্টেডিয়ামের অধিকাংশ দর্শক এসেছিলেন মূলত লিওনেল মেসিকে দেখতে। বিশ্বকাপে ধারাবাহিকভাবে গোল করার রেকর্ড আরও সমৃদ্ধ করেন তিনি।
জামাল ভূঁইয়ার মতে, মেসির প্রথম গোলের আগে তাঁর প্রথম স্পর্শ এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত ছিল অসাধারণ। শুধু গোল নয়, আক্রমণ সাজানো এবং কর্নার থেকে আর্জেন্টিনার গুরুত্বপূর্ণ গোল তৈরিতেও ছিল তাঁর বড় অবদান।
তাঁর মূল্যায়নে, ম্যাচের সেরা খেলোয়াড় ছিলেন লিওনেল মেসি।
মায়ামির গ্যালারিতে ছিল উৎসবের আবহ
জামাল ভূঁইয়া জানান, মায়ামির স্টেডিয়াম ছিল দর্শকে পরিপূর্ণ। চারদিকে আকাশি-সাদা জার্সির সমুদ্র। ম্যাচের প্রতিটি মুহূর্তে গ্যালারি ছিল প্রাণবন্ত।
খেলা দেখতে উপস্থিত ছিলেন ব্রাজিলের কিংবদন্তি কাফু, ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক ডেভিড বেকহাম ও তাঁর স্ত্রী এবং কলম্বিয়ার সংগীতশিল্পী শাকিরা। ম্যাচের আগের দিন শাকিরার কনসার্টেও উপস্থিত ছিলেন জামাল ভূঁইয়া।
হোটেল থেকে স্টেডিয়ামে যেতে সাধারণত ৩০ মিনিট লাগলেও দর্শকদের ভিড় ও যানজটের কথা মাথায় রেখে তিনি দুই ঘণ্টা আগেই রওনা দেন এবং সময়মতো স্টেডিয়ামে পৌঁছান।
অতিরিক্ত সময়ে বদলে যায় ম্যাচের চিত্র
অতিরিক্ত সময়ের শুরুতে যখন আর্জেন্টিনা ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায়, তখন স্টেডিয়ামের অধিকাংশ আর্জেন্টাইন সমর্থক জয় নিশ্চিত ধরে নিয়ে উদ্যাপন শুরু করেন।
কিন্তু ঠিক তখনই কেপ ভার্দে দ্রুত পাল্টা আক্রমণে সমতায় ফিরে আসে। বাঁ প্রান্ত থেকে সিডনি কাবরাল ভেতরে ঢুকে ডান পায়ের দারুণ বাঁকানো শটে দূরের পোস্টে বল জড়ান। জামাল ভূঁইয়ার মতে, এটি চলতি বিশ্বকাপের অন্যতম সেরা গোল বললেও অত্যুক্তি হবে না।
সে মুহূর্তে স্টেডিয়ামের বেশিরভাগ দর্শক নিস্তব্ধ হয়ে গেলেও কেপ ভার্দের সমর্থকদের আনন্দ ছিল চোখে পড়ার মতো।
শেষ হাসি আর্জেন্টিনার
নাটকীয়তার শেষ হয়নি সেখানেই। বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা আবারও গোল করে এগিয়ে যায়। এরপর পুরো স্টেডিয়ামজুড়ে শুরু হয় উল্লাস, গান ও উদ্যাপন।
জামাল ভূঁইয়া বলেন, ম্যাচ শেষে আর্জেন্টিনার সমর্থকদের আনন্দ ছিল দেখার মতো। স্টেডিয়াম ছাড়ার পরও ম্যাচের উত্তেজনা তাঁর মনে রয়ে যায়।
দ্বিতীয়বার গ্যালারিতে মেসির ম্যাচ
এটি গ্যালারিতে বসে আর্জেন্টিনার ম্যাচ দেখার জামাল ভূঁইয়ার দ্বিতীয় অভিজ্ঞতা। এর আগে তিনি ২০২২ বিশ্বকাপে মেক্সিকোর বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ম্যাচও সরাসরি দেখেছিলেন, যেখানে গোল করেছিলেন মেসি।
তাঁর মতে, এবারও মায়ামিতে বসে বিশ্ব ফুটবলের সৌন্দর্য, মেসির জাদু এবং দুই দলের অসাধারণ প্রতিদ্বন্দ্বিতা কাছ থেকে দেখার সুযোগ হয়েছে। সেই অভিজ্ঞতা দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
ফুটবলপ্রেমীদের জন্য স্মরণীয় এক ম্যাচ
জামাল ভূঁইয়ার অভিজ্ঞতা শুধু একজন পেশাদার ফুটবলারের নয়, একজন সাধারণ দর্শকের অনুভূতিকেও তুলে ধরে। তাঁর বর্ণনায় স্পষ্ট, আর্জেন্টিনা জয় পেলেও কেপ ভার্দের সাহসী ফুটবল সমানভাবে প্রশংসার দাবি রাখে।
রুদ্ধশ্বাস লড়াই, নাটকীয় গোল, মেসির নেতৃত্ব এবং কেপ ভার্দের অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের চেষ্টায় ম্যাচটি বিশ্বকাপের অন্যতম স্মরণীয় লড়াই হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে।





