আরও খবর

যে কারণে বাতিল মিশরের গোল (9)
আর্জেন্টিনাকে জিতিয়ে কী বললেন মেসি
যে কারণে বাতিল মিশরের গোল (6)
কোয়ার্টার ফাইনালে কে কার কখন মুখোমুখি
Untitled design (3)
রেফারিং নিয়ে ফিফার কাছে অভিযোগ মিসরের
Untitled design
প্রতিপক্ষের নেতিবাচক ফুটবলে লাভবান ইংল্যান্ড
Untitled design (9)
যুক্তরাষ্ট্রকে উড়িয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়াম

যে কারণে বাতিল মিশরের গোল

যে কারণে বাতিল মিশরের গোল এই নিয়ে তীব্র বিতর্কের মধ্যে আইএফএবির নিয়ম, রেফারির ব্যাখ্যা এবং সাবেক দুই বিশেষজ্ঞের বিশ্লেষণে উঠে এসেছে কেন সিদ্ধান্তটি সঠিক ছিল।

আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ম্যাচে মিশরের গোল বাতিল হওয়া নিয়ে ফুটবল বিশ্বে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ম্যাচ শেষে মিশরের কোচ ও খেলোয়াড়রা রেফারির সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেন। তবে রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়ে এবং পরে দুই সাবেক রেফারি-বিশেষজ্ঞ আইএফএবির (ইন্টারন্যাশনাল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বোর্ড) আইন তুলে ধরে ব্যাখ্যা দিয়েছেন কেন গোলটি বাতিল করা হয়েছে।

আর্জেন্টিনার নাটকীয় প্রত্যাবর্তনের ম্যাচ

আটালান্টায় অনুষ্ঠিত ম্যাচে দীর্ঘ সময় পর্যন্ত ২-০ গোলে এগিয়ে ছিল মিশর। ৭৮ মিনিট পর্যন্ত আর্জেন্টিনা পিছিয়ে থাকলেও শেষ দিকে দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে ৩-২ ব্যবধানে জয় তুলে নেয়।

এই নাটকীয় পরাজয়ের পর স্বাভাবিকভাবেই হতাশ হয়ে পড়ে মিশর শিবির। তবে তাদের অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল মিশরের গোল বাতিল এবং একটি সম্ভাব্য পেনাল্টি না পাওয়া।

মিশরের কোচ ও জিকোর অভিযোগ

ম্যাচ শেষে মিশরের কোচ অভিযোগ করেন, আর্জেন্টিনা ও লিওনেল মেসিকে টুর্নামেন্টে এগিয়ে রাখতে তাদের প্রতি অন্যায় করা হয়েছে।

অন্যদিকে দলের ফরোয়ার্ড জিকো রেফারিকে ‘জালিম’ বলে মন্তব্য করেন। তার ক্ষোভের প্রধান কারণ ছিল ৫৮ মিনিটে করা নিজের গোলটি ভিএআরের মাধ্যমে বাতিল হয়ে যাওয়া এবং পরে পেনাল্টি না পাওয়া।

জিকোর করা গোলটি মাঠের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রথমে বৈধ ধরা হলেও পরে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারির (VAR) সহায়তায় তা বাতিল করা হয়।

কেন বাতিল হলো মিশরের গোল?

রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়ে ম্যাচ শেষে গোল বাতিলের ব্যাখ্যা দেন।

তার মতে, আক্রমণের সূচনালগ্নে মিশরের মারওয়ান আতিয়া আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডার লিসান্দ্রো মার্তিনেসের জার্সি টেনে ধরেন এবং একই সঙ্গে তার পায়ে বুটের আঘাত করেন।

রেফারির ব্যাখ্যায় বলা হয়, ওই ফাউলের মাধ্যমেই আর্জেন্টিনা বলের নিয়ন্ত্রণ হারায় এবং একই আক্রমণ থেকে পরে গোলটি আসে। ফলে ভিএআরের পর্যালোচনায় আগের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে গোল বাতিল করা হয়।

মিশরের গোল বাতিল: আইএফএবির নিয়ম কী বলছে?

আইএফএবির লজ অব দ্য গেম অনুযায়ী, কোনো গোল হওয়ার আগে একই আক্রমণের মধ্যে যদি আক্রমণকারী দলের কোনো ফাউল, হ্যান্ডবল বা অফসাইড ঘটে, তাহলে ভিএআরের মাধ্যমে সেই ঘটনাও পর্যালোচনা করা যায়।

অর্থাৎ, শুধু গোল হওয়ার মুহূর্ত নয়, গোলের আগে আক্রমণ কীভাবে গড়ে উঠেছে সেটিও রেফারি পরীক্ষা করতে পারেন।

এই নিয়ম অনুসারেই মারওয়ান আতিয়ার ফাউলকে বিবেচনায় এনে গোল বাতিল করা হয়েছে।

এ কারণে গোলটি হওয়ার পরও ভিএআরের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা আইএফএবির বিদ্যমান আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

সাবেক স্ট্রাইকার অ্যালি ম্যাকয়েস্টের বিশ্লেষণ

স্কটল্যান্ডের সাবেক স্ট্রাইকার অ্যালি ম্যাকয়েস্টও সিদ্ধান্তটিকে সঠিক বলে মন্তব্য করেছেন।

আইটিভিকে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, এত সুন্দর একটি গোল বাতিল হওয়ায় তিনি হতাশ হয়েছেন। তবে আক্রমণকারী স্পষ্টভাবেই প্রতিপক্ষের জার্সি টেনেছিলেন। তাই নিয়ম অনুযায়ী গোল বাতিলের সিদ্ধান্তই সঠিক ছিল।

তার মতে, গোলের সৌন্দর্য নয়, নিয়মই শেষ পর্যন্ত বিবেচ্য বিষয়।

সাবেক রেফারি অ্যান্ডি ডেভিস কী বলেছেন?

সাবেক সিলেক্ট গ্রুপ রেফারি অ্যান্ডি ডেভিসও রেফারির সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছেন।

তিনি বলেন, ভিএআরের হস্তক্ষেপ যথাযথ ছিল এবং গোল বাতিল করাও নিয়মসঙ্গত সিদ্ধান্ত।

ডেভিসের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, আতিয়ার স্পষ্ট ফাউলের কারণেই আর্জেন্টিনা বলের নিয়ন্ত্রণ হারায়। পরে সেই একই আক্রমণ থেকে মিশর গোল করে।

তিনি আরও বলেন, ঘটনাটি মাঠের মাঝামাঝি বা বক্সের বাইরে ঘটেছে বলে বিতর্ক তৈরি হতে পারে। কিন্তু যদি একই আক্রমণের ধারাবাহিকতায় সেই ফাউলের সরাসরি ফল হিসেবে গোল আসে, তাহলে আইনের দৃষ্টিতে গোল বাতিল করতে হয়।

তার ভাষায়, রেফারি যখন জার্সি টানা এবং পায়ে আঘাত করার দৃশ্য একসঙ্গে দেখেছেন, তখন আগের গোলের সিদ্ধান্ত বহাল রাখার সুযোগ ছিল না।

সালাহর পেনাল্টি না পাওয়ার ব্যাখ্যা

ম্যাচে মোহাম্মদ সালাহ একটি পেনাল্টির দাবিও করেন। তবে সেই আবেদনও গ্রহণ করেননি রেফারি।

এ নিয়েও অ্যান্ডি ডেভিস নিজের মতামত দিয়েছেন।

তার মতে, সালাহ ফাউলের চেয়ে পেনাল্টি আদায়ের চেষ্টা বেশি করেছেন। আলভারেজের পক্ষ থেকে স্পষ্ট কোনো ফাউল ছিল না।

ডেভিস ব্যাখ্যা করেন, দুই খেলোয়াড়ের বুট একে অপরের সঙ্গে লেগেছিল মূলত তাদের স্বাভাবিক গতির কারণে। এরপর সালাহ অপ্রয়োজনীয়ভাবে মাটিতে পড়ে যান। তাই পেনাল্টি না দেওয়ার সিদ্ধান্তও সঠিক ছিল।

সামাজিক মাধ্যমে চলছে বিতর্ক

গোল বাতিল হওয়ার পর থেকেই বিষয়টি সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

একপক্ষ মনে করছে, সিদ্ধান্তটি মিশরের প্রতি অন্যায্য ছিল। অন্যদিকে আইএফএবির নিয়ম এবং সাবেক খেলোয়াড় ও রেফারিদের বিশ্লেষণ বলছে, একই আক্রমণের শুরুতে সংঘটিত ফাউল প্রমাণিত হলে ভিএআরের মাধ্যমে গোল বাতিল করার সুযোগ রয়েছে।

ফলে বিতর্ক থাকলেও ফুটবলের প্রচলিত আইন অনুযায়ী রেফারির সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।

মিশরের গোল বাতিল নিয়ে আবেগ ও বিতর্ক থাকলেও আইএফএবির ‘লজ অব দ্য গেম’, রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়ের ব্যাখ্যা, সাবেক স্ট্রাইকার অ্যালি ম্যাকয়েস্ট এবং সাবেক রেফারি অ্যান্ডি ডেভিস—সবার বক্তব্য একই দিকে ইঙ্গিত করছে। তাদের মতে, আক্রমণের শুরুতে সংঘটিত ফাউলের কারণে ভিএআরের সহায়তায় গোল বাতিল করা ফুটবলের বর্তমান আইন অনুযায়ী সঠিক সিদ্ধান্ত।

সর্বাধিক পঠিত