কানাডায় রাজনৈতিক আশ্রয় আবেদন নিয়ে নতুন তথ্য প্রকাশ করেছে আইআরসিসি। বিশ্বকাপ দেখতে গিয়ে কানাডায় রাজনৈতিক আশ্রয় চেয়েছেন ১০ বাংলাদেশি। বিস্তারিত জানুন
ফিফা বিশ্বকাপের ম্যাচ দেখতে কানাডায় গিয়ে কানাডায় রাজনৈতিক আশ্রয় আবেদন করেছেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অন্তত ১৭৫ জন দর্শনার্থী। কানাডার অভিবাসন ও শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইমিগ্রেশন, রিফ্যুজি অ্যান্ড সিটিজেনশিপ কানাডা (আইআরসিসি) প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আবেদনকারীদের মধ্যে ১০ জন বাংলাদেশি নাগরিকও রয়েছেন। খবরটি প্রকাশ করেছে আনাদোলু এজেন্সি।
গত জুন ও জুলাই মাসে কানাডার টরন্টো ও ভ্যানকুভারে অনুষ্ঠিত ফিফা বিশ্বকাপের একাধিক ম্যাচকে কেন্দ্র করে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে হাজারো দর্শক দেশটিতে প্রবেশ করেন। সেই অস্থায়ী সফরের পরই কিছু দর্শনার্থী রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করেছেন বলে আইআরসিসির তথ্য থেকে জানা গেছে।
কানাডায় রাজনৈতিক আশ্রয় আবেদন: কী জানিয়েছে আইআরসিসি
আইআরসিসির প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০ জুলাই পর্যন্ত ফিফা সংশ্লিষ্ট অস্থায়ী বসবাসের অনুমোদন পাওয়া মোট ২৬ হাজার ১১১ জন ব্যক্তির মধ্যে ১৭৫ জন পরবর্তীতে রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন জমা দিয়েছেন।
তবে বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া কোনো খেলোয়াড় কিংবা দলের স্টাফ এই আবেদনকারীদের মধ্যে রয়েছেন কি না, সে বিষয়ে আইআরসিসি কোনো স্পষ্ট তথ্য দেয়নি।
এছাড়া যেসব ব্যক্তি ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও কানাডায় অবস্থান করছেন, তাদের সংখ্যা ভবিষ্যতে আরও বাড়তে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।
কোথায় অনুষ্ঠিত হয়েছিল বিশ্বকাপের ম্যাচ
জুন ও জুলাই মাসে কানাডার দুটি বড় শহর টরন্টো এবং ভ্যানকুভারে ফিফা বিশ্বকাপের মোট ১৩টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়।
এই ম্যাচগুলো উপভোগ করার জন্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রায় ২৬ হাজার নাগরিককে ভিসা প্রদান করেছিল কানাডা সরকার। ওই ভিসাধারীদের মধ্য থেকেই পরবর্তীতে ১৭৫ জন রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করেছেন বলে প্রকাশিত পরিসংখ্যানে উল্লেখ করা হয়েছে।
কোন দেশের নাগরিক সবচেয়ে বেশি আবেদন করেছেন

আইআরসিসির তথ্য অনুযায়ী, রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদনকারীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি রয়েছেন ঘানার নাগরিকরা।
দেশভিত্তিক আবেদনকারীর সংখ্যা হলো—
- ঘানা: ২৫ জন
- মিসর: ১৫ জন
- কলম্বিয়া: ১৫ জন
- কেনিয়া: ১৫ জন
- বাংলাদেশ: ১০ জন
- চীন: ১০ জন
- নাইজেরিয়া: ১০ জন
- সেনেগাল: ১০ জন
- ইকুয়েডর: ৫ জন
- বুরুন্ডি: ৫ জন
- নেপাল: ৫ জন
- পাকিস্তান: ৫ জন
পরিসংখ্যানে আরও দেখা যায়, যেসব দেশের জাতীয় দল মূল বিশ্বকাপ টুর্নামেন্টে অংশ নেয়নি, সেসব দেশ থেকেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক দর্শনার্থী রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করেছেন।
বাংলাদেশিদের অবস্থান
আইআরসিসির প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ১০ জন বাংলাদেশি নাগরিক বিশ্বকাপ উপলক্ষে কানাডায় গিয়ে রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করেছেন।
তবে এসব আবেদনকারীর ব্যক্তিগত পরিচয়, আবেদন গ্রহণ বা প্রত্যাখ্যানের অবস্থা কিংবা তারা কোন ধরনের ভিসায় প্রবেশ করেছিলেন—এসব বিষয়ে সংস্থাটি কোনো অতিরিক্ত তথ্য প্রকাশ করেনি।
খেলোয়াড়দের বিষয়ে কী বলেছে কর্তৃপক্ষ
আইআরসিসি জানিয়েছে, আবেদনকারীদের মধ্যে বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া কোনো খেলোয়াড় বা দলের কর্মকর্তা রয়েছেন কি না, সে বিষয়ে তারা নির্দিষ্ট করে কিছু জানায়নি।
এ কারণে আবেদনকারীদের পরিচয় বা সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়।
অতীতেও ছিল এমন নজির
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বিদেশ সফরে গিয়ে খেলোয়াড়দের রাজনৈতিক আশ্রয় চাওয়ার শঙ্কা নতুন নয়।
এ ধরনের আশঙ্কার কারণে অতীতে ইরিত্রিয়ার ফুটবল ফেডারেশন তাদের পুরুষ ফুটবল দলকে বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব থেকেই প্রত্যাহার করে নিয়েছিল। এর উদ্দেশ্য ছিল বিদেশ সফরের সময় খেলোয়াড়দের পালিয়ে গিয়ে রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করার সম্ভাবনা কমানো।
কী নির্দেশ করছে এই পরিসংখ্যান
আইআরসিসির প্রকাশিত তথ্য থেকে বোঝা যায়, আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আয়োজনকে কেন্দ্র করে অনেক দর্শনার্থী বৈধভাবে কোনো দেশে প্রবেশের সুযোগ পান। পরে তাদের মধ্যে কিছু ব্যক্তি রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করেন।
তবে রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন জমা দেওয়া মানেই আবেদন অনুমোদিত হয়েছে—এমন নয়। প্রতিটি আবেদন কানাডার প্রচলিত অভিবাসন ও শরণার্থী আইনের আওতায় পৃথকভাবে মূল্যায়ন করা হয়।
ফিফা বিশ্বকাপ উপলক্ষে কানাডায় প্রবেশ করা দর্শনার্থীদের একটি অংশ পরবর্তীতে রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করেছেন। আইআরসিসির সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, আবেদনকারীদের মধ্যে ১০ জন বাংলাদেশি রয়েছেন। যদিও তাদের পরিচয় বা আবেদনগুলোর বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে সংস্থাটি বিস্তারিত কিছু জানায়নি। ফলে বিষয়টি এখনো কানাডার শরণার্থী ও অভিবাসন প্রক্রিয়ার অধীনেই রয়েছে।





