পদ্মায় নৌকাডুবির ২০ ঘণ্টায়ও সন্ধান মেলেনি বাবা-ছেলের, উদ্ধার অভিযানে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল।
রাজশাহীর পদ্মা নদীতে নৌকাডুবির ঘটনায় নিখোঁজ বাবা ও ছেলের ২০ ঘণ্টা পরও সন্ধান পাওয়া যায়নি। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দুপুরে চরখানপুর এলাকার পদ্মার চর থেকে ঝাউগাছ নিয়ে ফেরার পথে নৌকাডুবির ঘটনা ঘটে। এরপর থেকে আফছার আলী (৬০) ও তার ছেলে জিয়ারুল ইসলামের (৪০) সন্ধানে দ্বিতীয় দিনের মতো উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা।
নিখোঁজ দুই ব্যক্তির পরিবারের সদস্যরা এখনো তাদের ফিরে আসার অপেক্ষায় রয়েছেন। একই পরিবারের বাবা ও ছেলের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় রাজশাহীর পবা উপজেলার শ্যামপুরের শান্তিনগর এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
পদ্মায় নৌকাডুবির ঘটনায় নিখোঁজ বাবা-ছেলের পরিচয়
পদ্মায় নৌকাডুবির ঘটনায় নিখোঁজ হওয়া দুজন হলেন পবা উপজেলার শ্যামপুর ইউনিয়নের শান্তিনগর এলাকার বাসিন্দা আফছার আলী ও তার ছেলে জিয়ারুল ইসলাম।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার দুপুরে চরখানপুরের পদ্মার নদীর চর থেকে একটি নৌকায় করে ঝাউগাছ নিয়ে আসার সময় নৌকাটি ডুবে যায়। এ সময় আফছার আলী ও জিয়ারুল ইসলাম পানিতে তলিয়ে যান।
ঘটনার সময় জিয়ারুল ইসলামের মা জাহেরা বেগমও নৌকায় ছিলেন। তবে তিনি প্রাণে বেঁচে যান। পরে নিখোঁজ বাবা ও ছেলের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান শুরু হয়।
উদ্ধার অভিযানে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল

নিখোঁজদের উদ্ধারে রাজশাহী ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল কাজ করছে। নৌকাডুবির ঘটনাস্থল রাজশাহীর বড়কুঠি এলাকায় হলেও নদীর স্রোতের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালানো হচ্ছে।
ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, পদ্মা নদীতে স্রোত থাকায় নিখোঁজদের অবস্থান শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ছে। এ কারণে নদীর তীরবর্তী এলাকাতেও খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।
রাজশাহী সদর ফায়ার সার্ভিসের ডেপুটি ডিরেক্টর ফরহাদ হোসেন জানান, সকালে উদ্ধার অভিযান শুরু করার পরিকল্পনা ছিল। তবে প্রয়োজনীয় নৌকা সময়মতো না আসায় কিছুটা দেরি হয়েছে।
তিনি বলেন, নৌকা আসার পর উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করা হবে। পাশাপাশি নদীর তীরবর্তী এলাকাগুলোতে লোক পাঠানো হয়েছে। স্থানীয় থানাগুলোর সঙ্গেও যোগাযোগ করা হয়েছে, যাতে নদীতে কাউকে পাওয়া গেলে দ্রুত খবর দেওয়া যায়।
পরিবারের অপেক্ষা, এলাকায় শোকের পরিবেশ
পদ্মায় নৌকাডুবির পর নিখোঁজ আফছার আলী ও জিয়ারুল ইসলামের পরিবারের সদস্যরা এখনো তাদের ফিরে আসার আশায় রয়েছেন।
নিখোঁজ জিয়ারুল ইসলামের মা জাহেরা বেগম বলেন, সাধারণত পানিতে ডুবে গেলে অনেক সময় মানুষ ভেসে ওঠে। কিন্তু দীর্ঘ সময় পার হলেও তাদের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। তিনি আবেগ প্রকাশ করে বলেন, আল্লাহ জানেন তাদের সঙ্গে শেষ দেখা হবে কি না।
এদিকে আফছার আলীর বাড়িতে স্বজন ও স্থানীয়দের ভিড় দেখা গেছে। পরিবারের সদস্যরা কান্নায় ভেঙে পড়েছেন। প্রতিবেশী ও স্বজনরা তাদের সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করছেন।
একই পরিবারের দুই সদস্য নিখোঁজ হওয়ায় পুরো এলাকায় শোকের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
পদ্মা নদীতে উদ্ধার কার্যক্রম অব্যাহত
পদ্মায় নৌকাডুবির ঘটনায় উদ্ধার অভিযান এখনো চলমান রয়েছে। নদীর স্রোত ও পরিস্থিতি বিবেচনা করে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা বিভিন্ন এলাকায় অনুসন্ধান চালাচ্ছেন।
উদ্ধারকারীরা ঘটনাস্থলের পাশাপাশি আশপাশের নদী তীরবর্তী এলাকাগুলোতেও নজর রাখছেন। স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করেও তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
নিখোঁজ বাবা-ছেলের পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাদের সন্ধান পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন।
পদ্মা নদীতে নৌযান চলাচলের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ও সতর্কতার বিষয়টি আবারও সামনে এসেছে। বিশেষ করে নদীর স্রোত ও আবহাওয়ার পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে নৌযাত্রা করার গুরুত্ব রয়েছে।
পদ্মায় নৌকাডুবি বিষয়ে আরও তথ্য
পদ্মায় নৌকাডুবির ঘটনা নিয়ে উদ্ধার কার্যক্রমের সর্বশেষ তথ্য জানতে ফায়ার সার্ভিস ও সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার আপডেট অনুসরণ করা হচ্ছে। নদী দুর্ঘটনার বিষয়ে সরকারি তথ্য ও নির্দেশনার জন্য পাঠকরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তথ্য দেখতে পারেন।
রাজশাহীর পদ্মা নদীতে নৌকাডুবির ঘটনায় নিখোঁজ আফছার আলী ও তার ছেলে জিয়ারুল ইসলামের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। দীর্ঘ সময় পার হলেও তাদের খোঁজ না পাওয়ায় পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা নদীর স্রোত ও পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছেন।





