ইনফান্তিনোর চেয়ার টলমল এবং তার দৌড় ঘিরে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে ঘিরে বিতর্কের মধ্যে সম্ভাব্য ৪ উত্তরসূরির পরিচয় ও তাদের অবস্থান জানুন।
বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো নতুন বিতর্কের মুখে পড়েছেন। বিশ্বকাপসহ ফিফার বিভিন্ন ইভেন্ট বেসরকারিকরণের পরিকল্পনা নিয়ে সমালোচনার পর ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা তার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। অনাস্থা প্রস্তাব, স্বেচ্ছায় পদত্যাগ কিংবা ভোটাভুটির মাধ্যমে অপসারণ—এমন আলোচনা সামনে আসায় ফিফা প্রেসিডেন্ট দৌড় নিয়ে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে কয়েকজন প্রভাবশালী ফুটবল প্রশাসকের নাম এখন আলোচনায় রয়েছে।
ফিফা প্রেসিডেন্ট দৌড় কেন আলোচনায়?

বিশ্বকাপসহ ফিফার বড় বড় টুর্নামেন্ট বেসরকারিকরণের পরিকল্পনা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। পরে তিনি সেই পরিকল্পনা থেকে সরে এলেও বিতর্ক থামেনি।
সূত্র অনুযায়ী, উয়েফা তার বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনার মতো কঠোর অবস্থান বিবেচনা করছে। একই সঙ্গে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ অথবা ভোটাভুটির মাধ্যমে অপসারণের সম্ভাবনাও আলোচনায় এসেছে। ফলে বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ পদে পরিবর্তনের সম্ভাবনা নিয়ে ফুটবল অঙ্গনে আলোচনা তুঙ্গে।
ফিফা প্রেসিডেন্ট দৌড়ে এগিয়ে থাকা সম্ভাব্য ৪ প্রার্থী
ভিক্টর মন্টালিয়ানি (সভাপতি, কনকাকাফ)
২০১৬ সালে ইনফান্তিনোর সময়েই কনকাকাফের সভাপতি হন কানাডিয়ান ফুটবল সংগঠক ভিক্টর মন্টালিয়ানি।
২০২৬ সালের যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো আয়োজিত ত্রিদেশীয় বিশ্বকাপ বাস্তবায়নের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংগঠক হিসেবে তার ভূমিকা উল্লেখযোগ্য।
ইংরেজি, ফরাসি, ইতালীয় ও স্প্যানিশ ভাষায় দক্ষ এই প্রশাসক ফুটবল রাজনীতিতেও অভিজ্ঞ হিসেবে পরিচিত। আর্সেন ওয়েঙ্গারের প্রস্তাবিত দ্বিবার্ষিক বিশ্বকাপ পরিকল্পনা এবং ৬৪ দলের বিশ্বকাপ আয়োজনের ধারণার বিরোধিতায় তিনি দৃশ্যমান ভূমিকা রাখেন।
এ ছাড়া ২০২৪ সালের সম্প্রসারিত কোপা আমেরিকা সফলভাবে আয়োজনেও তার সম্পৃক্ততা ছিল। তবে তিনি সেই মডেলকে স্থায়ী রূপ দেওয়ার পক্ষে ছিলেন না।
এসব কারণে ফিফা প্রেসিডেন্ট দৌড়-এ তাকে অন্যতম শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে দেখা হচ্ছে।
শেখ সালমান বিন ইব্রাহিম আল খলিফা (সভাপতি, এএফসি)
বাহরাইনের শেখ সালমান বিন ইব্রাহিম আল খলিফা ২০১৩ সাল থেকে এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের (এএফসি) নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ২০২৭ সাল পর্যন্ত চতুর্থ মেয়াদের জন্য নির্বাচিত হয়েছেন।
তার নেতৃত্বে এশিয়ান কাপ ২৪ দলে উন্নীত হয়েছে। পাশাপাশি নতুন কাঠামোর চ্যাম্পিয়ন্স লিগ এলিট এবং নারী চ্যাম্পিয়ন্স লিগ চালু হয়েছে।
ইনফান্তিনোর নেতৃত্বের সমালোচক হিসেবেও শেখ সালমান পরিচিত। এএফসির ৪৬টি সদস্য দেশের মধ্যে তার প্রভাব এবং নেতৃত্বের ভিত্তি শক্তিশালী বলেই বিবেচিত হয়।
নাসের আল-খেলাইফি (সভাপতি, পিএসজি ও চেয়ারম্যান, ইউরোপিয়ান ফুটবল ক্লাব)
পিএসজির সভাপতি নাসের আল-খেলাইফি ইউরোপীয় ফুটবলে অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব।
সুপার লিগ বিতর্কের সময় তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তার নেতৃত্বে ইউরোপিয়ান ক্লাব অ্যাসোসিয়েশন নতুন কাঠামোয় ইউরোপিয়ান ফুটবল ক্লাবস হিসেবে রূপ নেয় এবং সদস্যসংখ্যা ৮০০-এর বেশি হয়।
তাত্ত্বিকভাবে তিনি ইনফান্তিনোর সবচেয়ে শক্তিশালী বিকল্প হতে পারতেন। তবে তার ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে, ৫২ বছর বয়সী খেলাইফির ফিফা সভাপতির পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার কোনো আগ্রহ নেই।
ফলে আলোচনায় থাকলেও বাস্তবে তার প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা অনিশ্চিত।
ম্যাটিয়াস গ্রাফস্ট্রোম (সাধারণ সম্পাদক, ফিফা)
২০২৪ সালের মে মাসে ফিফার সাধারণ সম্পাদক হওয়ার পর ম্যাটিয়াস গ্রাফস্ট্রোম সংস্থার সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করেছেন।
২০১৬ সাল থেকে তিনি ইনফান্তিনোর ‘চিফ অব স্টাফ’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
তবে তার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো, তিনি ইনফান্তিনোর ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত। পাশাপাশি ফিফার পরবর্তী সভাপতি হিসেবে ইউরোপের বাইরের কাউকে অগ্রাধিকার দেওয়ার যে আলোচনা চলছে, সেটিও তার সম্ভাবনার ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।
ইনফান্তিনোর ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা
বর্তমান পরিস্থিতিতে জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর ভবিষ্যৎ নিয়ে নিশ্চিত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে একের পর এক বিতর্ক এবং উয়েফার কঠোর অবস্থানের খবরে বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ পদ নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে।
যদি নেতৃত্বে পরিবর্তন আসে, তাহলে ভিক্টর মন্টালিয়ানি, শেখ সালমান বিন ইব্রাহিম আল খলিফা, নাসের আল-খেলাইফি এবং ম্যাটিয়াস গ্রাফস্ট্রোম—এই চারজনের নাম সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত হচ্ছে।
বিশ্ব ফুটবলের প্রশাসনিক নেতৃত্বে পরিবর্তনের সম্ভাবনা দেখা দেওয়ায় ফিফা প্রেসিডেন্ট দৌড় এখন আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনের অন্যতম আলোচিত বিষয়। যদিও এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হয়নি, তবুও সম্ভাব্য উত্তরসূরিদের ঘিরে আলোচনা ফুটবল প্রশাসনের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন আগ্রহ তৈরি করেছে। পরবর্তী সময়ে উয়েফা ও ফিফার অবস্থানই নির্ধারণ করবে নেতৃত্ব পরিবর্তনের বিষয়টি কোন দিকে এগোয়।





