আরও খবর

যে কারণে বাতিল মিশরের গোল (4)
দেশের বাজারে আজ যে দামে বিক্রি হচ্ছে সোনার ভরি
যে কারণে বাতিল মিশরের গোল (9)
নতুন দামে বিক্রি হচ্ছে সোনা, ভরি কত?
যে কারণে বাতিল মিশরের গোল (6)
ভরা মৌসুমেও পাতে উঠছে না ইলিশ
যে কারণে বাতিল মিশরের গোল (12)
ফের বাড়ল সোনার দাম, ভরি কত
যে কারণে বাতিল মিশরের গোল (16)
আজ যত টাকায় বিক্রি হচ্ছে সোনার ভরি

বিনিয়োগের ক্ষেত্র খুঁজতে ঢাকায় ২৫ মার্কিন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি

বিনিয়োগের ক্ষেত্র খুঁজতে ঢাকায় ২৫ মার্কিন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি ৪৭ সদস্যের দল। জ্বালানি, প্রযুক্তি, অবকাঠামোসহ নানা খাতে চলছে আলোচনা।

মার্কিন বিনিয়োগ সম্ভাবনা যাচাই করতে যুক্তরাষ্ট্রের ২৫টি শীর্ষস্থানীয় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ৪৭ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল এখন ঢাকায়। জ্বালানি ও বিদ্যুৎ, তথ্যপ্রযুক্তি, অবকাঠামো, আর্থিক সেবা, লজিস্টিকসসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগের সুযোগ খতিয়ে দেখতেই তাদের এই সফর।

সফরকালে প্রতিনিধি দলের সদস্যরা সরকারি বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থা এবং ব্যবসায়ী মহলের সঙ্গে বৈঠক করবেন। এসব আলোচনায় সম্ভাবনাময় খাত, বিনিয়োগের সুযোগ এবং বাংলাদেশের ব্যবসায়িক পরিবেশ সম্পর্কে ধারণা নেওয়ার কথা রয়েছে।

এখন পর্যন্ত প্রতিনিধি দলের কোনো প্রতিষ্ঠান নির্দিষ্ট বিনিয়োগের পরিমাণ বা কোনো প্রকল্প ঘোষণা করেনি। ফলে সংশ্লিষ্টরা এই সফরকে সরাসরি বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতির বদলে বাংলাদেশে কোথায় এবং কীভাবে বিনিয়োগ করা যায়, তার প্রাথমিক অনুসন্ধান হিসেবে দেখছেন।

তবে কয়েকজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, সফর শেষে প্রতিনিধি দল ঢাকা ছাড়ার আগে সম্ভাব্য বিনিয়োগ নিয়ে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যেতে পারে।

মার্কিন বিনিয়োগ নিয়ে বৈঠকে গুরুত্ব পাবে যেসব খাত

সংশ্লিষ্ট সূত্র অনুযায়ী, প্রতিনিধি দলের সদস্যরা গত রোববার ও সোমবার ঢাকায় পৌঁছান। মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) সঙ্গে বৈঠকের মধ্য দিয়ে তাদের আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি শুরু হওয়ার কথা।

এরপর সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার সঙ্গে বৈঠক করবেন তারা। এসব বৈঠকে কয়েকটি খাত বিশেষ গুরুত্ব পাবে।

এর মধ্যে রয়েছে—

  • জ্বালানি ও বিদ্যুৎ
  • অফশোর তেল-গ্যাস
  • নবায়নযোগ্য জ্বালানি
  • অবকাঠামো
  • তথ্যপ্রযুক্তি ও হাইটেক পার্ক
  • ফিনটেক
  • ব্যাংক ও বীমা
  • অর্থনৈতিক অঞ্চল
  • শিল্প
  • লজিস্টিকস
  • সেবা খাত

বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ীদের একটি দল বাংলাদেশে এসেছে এবং দেশের বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগের সুযোগ সম্পর্কে তাদের জানানো হবে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিনের ভাষায়, মার্কিন ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলের এই সফর বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগ বাড়ানোর ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রথম পদক্ষেপ।

জ্বালানি খাতে সম্ভাবনা দেখছেন মার্কিন ব্যবসায়ীরা

প্রতিনিধি দলের আগ্রহের তালিকায় জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। বিশেষ করে জ্বালানি নিরাপত্তা, পরিচ্ছন্ন জ্বালানি এবং বিদ্যুৎ অবকাঠামোয় বিনিয়োগের সুযোগ খতিয়ে দেখার সম্ভাবনা রয়েছে।

এই খাতে বড় সম্ভাবনার একটি ক্ষেত্র হিসেবে উঠে এসেছে বঙ্গোপসাগরের অফশোর তেল-গ্যাস অনুসন্ধান।

বাংলাদেশ সরকার সম্প্রতি ২৬টি অফশোর ব্লকে আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করেছে। এসব ক্ষেত্রে গ্যাসের মূল্য নির্ধারণে ব্রেন্টের দামের সঙ্গে সংযোগ, মুনাফা দেশে ফেরত নেওয়ার সুযোগ এবং কর-সুবিধাসহ বিভিন্ন প্রণোদনা রাখা হয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশে গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদনে যুক্ত মার্কিন জ্বালানি কোম্পানিগুলোর জন্য অফশোর অনুসন্ধান নতুন বিনিয়োগের একটি বড় ক্ষেত্র হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

এ ছাড়া বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সঞ্চালন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং জ্বালানি অবকাঠামোতেও বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে। ভবিষ্যতে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের বাড়তি চাহিদা পূরণে এসব খাতে বড় বিনিয়োগ প্রয়োজন বলেও বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক ফজলুল হক বলেছেন, বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগের জন্য অনেক খাত রয়েছে। বিশেষ করে জ্বালানি নিরাপত্তায় বিদেশি বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে তুলনামূলক কম জ্বালানি প্রয়োজন এমন খাতগুলোকেও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সামনে তুলে ধরার প্রয়োজন রয়েছে।

তথ্যপ্রযুক্তি ও ফিনটেকেও বাড়ছে সম্ভাবনা

জ্বালানি খাতের পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তিও মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্ভাব্য বিনিয়োগের অন্যতম বড় ক্ষেত্র হতে পারে।

হাইটেক পার্ক, সফটওয়্যার, ডাটা সেন্টার, ডিজিটাল অবকাঠামো এবং ই-কমার্সে বিনিয়োগের সুযোগ নিয়ে আলোচনা হতে পারে। দ্রুত সম্প্রসারিত ডিজিটাল লেনদেন, ডাটা প্রসেসিং এবং প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবসার কারণে এই খাতে বাজার সম্প্রসারণের সম্ভাবনাও রয়েছে।

ফিনটেক খাতেও নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে। ডিজিটাল পেমেন্ট, পেমেন্ট গেটওয়ে, আর্থিক প্রযুক্তি এবং ডাটাভিত্তিক সেবার সম্প্রসারণ মার্কিন প্রযুক্তি ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য নতুন বাজার তৈরি করতে পারে।

বাংলাদেশের মার্কিন বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনায় এসব প্রযুক্তিনির্ভর খাত তাই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

অবকাঠামো ও লজিস্টিকসেও বিনিয়োগের সুযোগ

বাংলাদেশের অবকাঠামো খাতেও মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে। সমুদ্রবন্দর, অভ্যন্তরীণ লজিস্টিকস, পরিবহন সংযোগ, অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং শিল্প পার্কে বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনা খোঁজা হচ্ছে।

বন্দর ও কাস্টমসের কার্যকারিতা বাড়ানো, দ্রুত পণ্য খালাস এবং সরবরাহব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হতে পারে।

অর্থাৎ প্রতিনিধি দলের সফর শুধু কোনো একটি খাতকেন্দ্রিক নয়। বরং জ্বালানি থেকে প্রযুক্তি এবং অবকাঠামো থেকে আর্থিক সেবা—বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিনিয়োগের সম্ভাবনা যাচাই করাই সফরের অন্যতম উদ্দেশ্য।

বাংলাদেশে মার্কিন প্রতিষ্ঠানের উপস্থিতি নতুন নয়

বাংলাদেশে মার্কিন ব্যবসায়িক উপস্থিতি অবশ্য নতুন নয়। সিটিব্যাংক ও মেটলাইফসহ বেশ কয়েকটি বড় মার্কিন প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরে দেশে ব্যবসা পরিচালনা করছে।

ব্যাংক, বীমা এবং আর্থিক সেবায় প্রযুক্তিনির্ভর নতুন বিনিয়োগেরও সুযোগ রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বাংলাদেশে মার্কিন পুঞ্জীভূত বিনিয়োগ ইতিমধ্যে ৪০০ কোটি ডলারের বেশি। তবে এই বিনিয়োগের বড় অংশ এসেছে বাংলাদেশে আগে থেকেই কার্যক্রম পরিচালনা করা প্রতিষ্ঠানগুলোর পুনর্বিনিয়োগ থেকে।

এ কারণে নতুন মার্কিন বিনিয়োগকারী আকৃষ্ট করাকে এখন বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

মার্কিন বিনিয়োগ বাড়াতে প্রয়োজন স্পষ্ট পরিকল্পনা

বিশেষজ্ঞদের মতে, ২৫টি মার্কিন প্রতিষ্ঠানের এই সফরকে শুধু বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ হিসেবে দেখলে এর পূর্ণ সম্ভাবনা কাজে লাগানো কঠিন হবে।

বাংলাদেশের কোন খাতে বিনিয়োগ প্রয়োজন, কী ধরনের প্রকল্প নেওয়া দরকার এবং বিনিয়োগকারীদের কী ধরনের সুবিধা দেওয়া হবে—এসব বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থান নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।

সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগ এলে কোন কোন খাতে তা নেওয়া হবে, সে বিষয়ে বাংলাদেশের অগ্রাধিকার নির্ধারণ করা জরুরি। বিশেষ করে জ্বালানি অবকাঠামোয় মার্কিন বিনিয়োগকারীদের উৎসাহিত করা যেতে পারে।

তিনি মনে করেন, শুধু বিদেশি ব্যবসায়ীরা এলেই হবে না। তাদের জন্য সুস্পষ্ট নীতি, নীতির ধারাবাহিকতা এবং প্রয়োজনীয় সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে।

পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. আশিকুর রহমানও মার্কিন বিনিয়োগকে বাংলাদেশের জন্য ইতিবাচক হিসেবে দেখেছেন। তবে তার মতে, বিনিয়োগের পুরো প্রক্রিয়া স্বচ্ছ হতে হবে এবং তা জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া প্রয়োজন।

তার বক্তব্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ দীর্ঘদিন ধরেই প্রত্যাশার তুলনায় কম। তাই মার্কিন ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলের সফরকে কাজে লাগিয়ে কোন খাতে বিনিয়োগ প্রয়োজন, কত বড় প্রকল্প দরকার এবং বিনিয়োগকারীদের কী ধরনের সুবিধা দেওয়া হবে—এসব বিষয়ে একটি সুস্পষ্ট পরিকল্পনা তৈরি করা যেতে পারে।

এখন পর্যন্ত ২৫টি মার্কিন প্রতিষ্ঠানের কোনোটি নির্দিষ্ট বিনিয়োগের অঙ্ক বা প্রকল্প ঘোষণা করেনি। তাই এই সফর থেকে তাৎক্ষণিক বিনিয়োগের ঘোষণা প্রত্যাশা করার চেয়ে আলোচনার ফলাফল ও পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে নজর রাখাই গুরুত্বপূর্ণ।

সরকারি সংস্থা, ব্যবসায়ী মহল ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আলোচনায় কোন খাতগুলো অগ্রাধিকার পায় এবং সফর শেষে বিনিয়োগের বিষয়ে কী ধরনের ধারণা তৈরি হয়, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

বাংলাদেশের জ্বালানি, তথ্যপ্রযুক্তি, অবকাঠামো, ফিনটেক, আর্থিক সেবা ও লজিস্টিকস খাতে সম্ভাবনা যাচাইয়ের এই উদ্যোগ ভবিষ্যতে নতুন বিনিয়োগের পথ তৈরি করে কি না, তা পরবর্তী আলোচনাগুলোতেই স্পষ্ট হবে।

সর্বাধিক পঠিত