পাবনার ৪ মাদরাসার সবাই ফেল করেছে ৬০ শিক্ষার্থী। ফল বিপর্যয়ের কারণ খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন জেলা শিক্ষা অফিসার আব্দুর রাজ্জাক।
এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলে পাবনা জেলায় চারটি মাদরাসায় কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি। পাবনার ৪ মাদরাসায় শতভাগ ফেল করার ঘটনায় মোট ৬০ জন পরীক্ষার্থীর ফলাফল নিয়ে তৈরি হয়েছে উদ্বেগ। জেলা শিক্ষা অফিসার আব্দুর রাজ্জাক জানিয়েছেন, ফলাফল বিপর্যয়ের কারণ খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
১১ আগস্ট ২০২৬ প্রকাশিত ফলাফলে এ চিত্র উঠে এসেছে। শতভাগ ফেল করা চার মাদরাসার মধ্যে দুটি ভাঙ্গুড়া উপজেলায়, একটি ফরিদপুর উপজেলায় এবং একটি চাটমোহর উপজেলায় অবস্থিত।
কোন চার মাদরাসায় কোনো শিক্ষার্থী পাস করেনি
প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, পাবনা জেলার চারটি মাদরাসা থেকে অংশ নেওয়া কোনো শিক্ষার্থীই এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেনি।
মাদরাসাগুলো হলো—

- ভাঙ্গুড়া উপজেলার মাগুরা দাখিল মাদরাসা
- ভাঙ্গুড়া উপজেলার সিকেবি আলিম মাদরাসা (ভোকেশনাল শাখা)
- ফরিদপুর উপজেলার হারোভাঙ্গা ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসা
- চাটমোহর উপজেলার মহেলা মহিলা দাখিল মাদরাসা
এই চার প্রতিষ্ঠানের প্রত্যেকটির ফলাফলে পাসের সংখ্যা শূন্য।
পাবনার ৪ মাদরাসায় শতভাগ ফেল: পরীক্ষার্থী ছিলেন ৬০ জন
পাবনার ৪ মাদরাসায় শতভাগ ফেল—এই ফলাফলের সঙ্গে মোট ৬০ জন পরীক্ষার্থী যুক্ত ছিলেন। প্রতিষ্ঠানভিত্তিক হিসাবে মাগুরা দাখিল মাদরাসা থেকে সবচেয়ে বেশি ১৯ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল।
অন্যদিকে, সিকেবি আলিম মাদরাসার ভোকেশনাল শাখা থেকে ৭ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। ফরিদপুর উপজেলার হারোভাঙ্গা ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসা থেকে পরীক্ষায় অংশ নেয় ১৪ জন।
চাটমোহর উপজেলার মহেলা মহিলা দাখিল মাদরাসা থেকে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল ২০ জন শিক্ষার্থী।
অর্থাৎ চারটি প্রতিষ্ঠানের পরীক্ষার্থীদের সংখ্যা ছিল যথাক্রমে ১৯, ৭, ১৪ ও ২০ জন। সব মিলিয়ে পরীক্ষার্থী ৬০ জন।
প্রতিষ্ঠানভিত্তিক পরীক্ষার্থীর সংখ্যা
| মাদরাসার নাম | উপজেলা | পরীক্ষার্থী |
|---|---|---|
| মাগুরা দাখিল মাদরাসা | ভাঙ্গুড়া | ১৯ জন |
| সিকেবি আলিম মাদরাসা (ভোকেশনাল শাখা) | ভাঙ্গুড়া | ৭ জন |
| হারোভাঙ্গা ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসা | ফরিদপুর | ১৪ জন |
| মহেলা মহিলা দাখিল মাদরাসা | চাটমোহর | ২০ জন |
| মোট | — | ৬০ জন |
ফল বিপর্যয়ের কারণ খতিয়ে দেখার কথা
চারটি মাদরাসায় কোনো শিক্ষার্থী পাস না করায় বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনিকভাবে কারণ অনুসন্ধানের কথা জানানো হয়েছে।
জেলা শিক্ষা অফিসার আব্দুর রাজ্জাক এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, ফলাফল বিপর্যয়ের কারণ খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে ঠিক কী কারণে চারটি প্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি, সে বিষয়ে উৎসের তথ্যে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। তাই এ মুহূর্তে ফল বিপর্যয়ের নির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।
পাবনার চার প্রতিষ্ঠানের ফলাফল নিয়ে যা জানা গেছে
ফলাফলের তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, চারটি মাদরাসার মধ্যে পরীক্ষার্থী সংখ্যায় সবচেয়ে বড় প্রতিষ্ঠান মহেলা মহিলা দাখিল মাদরাসা। সেখানে ২০ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছিল।
এর পরের অবস্থানে রয়েছে মাগুরা দাখিল মাদরাসা। প্রতিষ্ঠানটি থেকে ১৯ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়।
হারোভাঙ্গা ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসা থেকে অংশ নেয় ১৪ জন। আর সবচেয়ে কম, ৭ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছিল সিকেবি আলিম মাদরাসার ভোকেশনাল শাখা থেকে।
পরীক্ষার্থী সংখ্যা ভিন্ন হলেও চার প্রতিষ্ঠানের ফলাফলের একটি বিষয় একই—কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেনি।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ফলাফল পর্যবেক্ষণের গুরুত্ব
একটি প্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থী পাস না করার ঘটনা সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বিশেষ করে একাধিক প্রতিষ্ঠানে একই ধরনের ফল দেখা গেলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কারণ পর্যালোচনা করা প্রয়োজন হতে পারে।
পাবনার ক্ষেত্রে জেলা শিক্ষা অফিসার ইতোমধ্যে ফলাফল বিপর্যয়ের কারণ খতিয়ে দেখার কথা জানিয়েছেন। ফলে পরবর্তী সময়ে তদন্ত বা পর্যালোচনায় কী কারণ সামনে আসে, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
জেলা শিক্ষা অফিসার আব্দুর রাজ্জাকের বক্তব্য অনুযায়ী, ফল বিপর্যয়ের কারণ অনুসন্ধান করা হবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে তদন্তের ফল বা সম্ভাব্য ব্যবস্থা সম্পর্কে এখনো বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি। তাই বর্তমানে নিশ্চিতভাবে বলা যায়, পাবনার চারটি মাদরাসা থেকে অংশ নেওয়া ৬০ জন পরীক্ষার্থীর কেউই পাস করতে পারেনি এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখার উদ্যোগের কথা জানিয়েছে জেলা শিক্ষা কর্তৃপক্ষ।
এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলে পাবনার চারটি মাদরাসায় শতভাগ ফেল করার বিষয়টি সামনে এসেছে। মাগুরা দাখিল মাদরাসা, সিকেবি আলিম মাদরাসার ভোকেশনাল শাখা, হারোভাঙ্গা ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসা এবং মহেলা মহিলা দাখিল মাদরাসা থেকে মোট ৬০ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছিল।
প্রকাশিত ফলে কোনো শিক্ষার্থীই উত্তীর্ণ হতে পারেনি। জেলা শিক্ষা অফিসার আব্দুর রাজ্জাক জানিয়েছেন, ফলাফল বিপর্যয়ের কারণ খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পর্যালোচনায় এই ফলাফলের কারণ কীভাবে চিহ্নিত হয়, সেটিই দেখার বিষয়।





