এইমাত্র

আরও খবর

Untitled design (22)
নির্ধারিত সময়ের শুরুতে রিটার্ন জমা দিলে করছাড়, দেরিতে গুনতে হবে জরিমানা
Untitled design (20)
জেলায় জেলায় ভুয়া কমিটি বিএনপির মিডিয়া সেলের সতর্কবার্তা
Untitled design (16)
তেলের মজুদ তিন মাসে উন্নীতসহ ১২ দফা সুপারিশ
Untitled design (13)
সংসদে আনোয়ারার বেড়িবাঁধ নির্মাণের অনিয়ম তুলে ধরলেন এমপি: সরওয়ার নিজাম
Untitled design (9)
ব্যাটারিচালিত রিকশা মহানগর এলাকার বাইরে নেওয়ার চিন্তা-ভাবনা চলছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সৌদিতে প্রবাসী বাংলাদেশী শ্রমিক সমস্যা: মোটেও ভালো নেই তারা

সৌদি আরবের শ্রমবাজারে লাখ লাখ প্রবাসী বাংলাদেশী নাগরিক বর্তমানে ভয়াবহ সমস্যার মুখোমুখি। ফ্রি ভিসা বা অন্যান্য মাধ্যম ব্যবহার করে দেশটিতে পৌঁছানোর পরও তারা প্রায়শই দালাল ও অসাধু নিয়োগকর্তাদের ফাঁদে পড়ে যান। অনেক প্রবাসী তিন মাস কাজ করার পরও এক মাসের বেতন পান, যা দিয়ে জীবন চালানো অসম্ভব হয়ে ওঠে।

সৌদি প্রবাসী বাংলাদেশী শ্রমিক সমস্যা: মূল বাস্তবতা

সৌদি আরবগামী প্রবাসীদের মধ্যে অনেকেই জানেন না যে, যেখানে কাজ করবেন সেখানে সত্যিকারের চাকরির সুযোগ আছে কি না। অনেক দালাল বা মেসেঞ্জার প্রবাসীদের ভিসা এবং পাসপোর্টের মাধ্যমে প্রতারণা করছেন। ফ্রি ভিসার নামে চার-পাঁচ লাখ টাকা খরচ করে যেসব প্রবাসী দেশটিতে যাচ্ছেন, তাদের প্রায় অর্ধেকই বিভিন্ন সমস্যায় জড়িয়ে পড়ছেন।

বেতন ও কর্মপরিস্থিতি

এক প্রবাসী জানান, তিন মাস ধরে তিনি বেকার ছিলেন। এরপর অন্য একটি দালালের মাধ্যমে ২০০ রিয়াল খরচ করে কাজ নেন। তার বেতন ৬০০ রিয়াল, কিন্তু মালিক তিন মাস পরে এক মাসের বেতন দেন। এছাড়া থাকা-খাওয়া সব নিজস্ব খরচে। এই পরিস্থিতিতে পরিবারের খরচ মেটানো প্রায় অসম্ভব হয়ে ওঠে।

প্রতারণার ঘটনা এবং দালালদের কার্যক্রম

বাংলাদেশের বিভিন্ন রিক্রুটিং এজেন্সির কিছু অসাধু মালিক প্রবাসীদের ফাঁদে ফেলছেন। তারা পাসপোর্ট ও নগদ টাকা নিয়ে দালালের মাধ্যমে প্রবাসীদের প্রতারিত করেন। সৌদি আরব পৌঁছানোর পরও প্রবাসীরা নানা জায়গায় মানবেতর পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছেন। জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো প্রবাসীদের প্রশিক্ষণ, ভিসা ও কাজ নিশ্চিত করার পরই ছাড়পত্র প্রদান করছেন, কিন্তু সব সময়ই এটি কার্যকর হয় না।

সমস্যার প্রভাব ও পরামর্শ

সৌদি প্রবাসী বাংলাদেশী শ্রমিকদের জীবনযাত্রা অত্যন্ত কঠিন। অনেকেই দেশে ফিরে যাওয়ার কথা ভাবছেন। প্রবাসীদের জন্য পরামর্শ হলো, ভিসার মেয়াদ, কোম্পানির কাজ এবং বেতন নিশ্চিত করার পরই সৌদি আরব যাওয়া উচিত। এছাড়া, প্রবাসীরা যেন বৈধ নিয়োগকর্তার মাধ্যমে যাচ্ছেন তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।

মানবিক বিপর্যয় ও ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ

জেদ্দায় এক প্রবাসী জানান, ফ্রি ভিসায় এসে তিনি প্রতারিত হয়েছেন। ফোন করলেও দালাল ফোন ধরেন না। তিন মাস বেকার থাকার পর আবার অন্য দালালকে ২০০ রিয়াল খরচ করে কাজ পেতে হয়েছে। তার বেতন মাসে একবারই দেওয়া হচ্ছে। এই পরিস্থিতি শুধু তার নয়; হাজার হাজার প্রবাসীর জীবনই মানবেতর হয়ে গেছে।

বাংলাদেশ থেকে প্রতি বছর বৈধভাবে প্রায় অর্ধেক শ্রমিক সৌদি আরবে যাচ্ছেন। অনেকেই প্রবাসীর লেখা অভিযোগে সমস্যার কথা জানাচ্ছেন। এসব সমস্যা তদন্ত করে দেখা যাচ্ছে, অধিকাংশ অভিযোগই সত্য। ফলে জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো কঠোর অবস্থান নিয়েছে।

সর্বাধিক পঠিত