আরও খবর

যে কারণে বাতিল মিশরের গোল (6)
হেফাজতের নেতৃত্বে আসছে বড় জোট
যে কারণে বাতিল মিশরের গোল (25)
মাদকে ডুবছে উচ্চবিত্ত পরিবারের সন্তানরা
যে কারণে বাতিল মিশরের গোল (21)
তিন জেলার ডিসি প্রত্যাহার
যে কারণে বাতিল মিশরের গোল (18)
কলকাতায় অগ্নিকাণ্ডের পর হোটেল নিয়ে নানা প্রশ্ন
যে কারণে বাতিল মিশরের গোল
প্রবাসীদের এনআইডি সংশোধনে শিথিল হচ্ছে প্রক্রিয়া

রাকসু তহবিলের ১৮ লাখ টাকার হিসাব দেননি আম্মার

রাকসু তহবিলের ১৮ লাখ টাকার হিসাব দেননি আম্মার, এখনো ভাউচারহীন। জিএস সালাউদ্দিন আম্মারের উত্তোলন, ব্যয়ের হিসাব ও কর্তৃপক্ষের বক্তব্যে উঠেছে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) তহবিল থেকে সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাউদ্দিন আম্মারের নামে উত্তোলন করা রাকসু তহবিলের ১৮ লাখ টাকা এখনো বিল-ভাউচারের মাধ্যমে সমন্বয় হয়নি। রাকসু কোষাধ্যক্ষ কার্যালয়ের ব্যয়ের বিবরণীসংক্রান্ত নথি বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মোট ২৩ লাখ ৮৮ হাজার টাকা উত্তোলনের বিপরীতে মাত্র ৫ লাখ ৪৯ হাজার টাকার বিল-ভাউচার জমা দিয়েছেন তিনি। ফলে ১৮ লাখ ৩৯ হাজার টাকার ব্যয়ের হিসাব এখনো নথিতে জমা হয়নি।

প্রাপ্ত নথি অনুযায়ী, জিএস আম্মার সাত ধাপে মোট ২৩ লাখ ৮৮ হাজার টাকা নিয়েছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় তিনটি উত্তোলনের হিসাব—ভর্তি পরীক্ষার বুথ স্থাপন, রাকসু সদস্যদের জানুয়ারি মাসের বাজেট এবং দাপ্তরিক ব্যয়ের অর্থ—মিলিয়ে ১৮ লাখ ৩৯ হাজার টাকা। এসব অর্থের বিল-ভাউচার জমা না পড়ায় অর্থগুলো কোন খাতে এবং কীভাবে ব্যয় হয়েছে, তা নথিতে পুরোপুরি প্রতিফলিত হয়নি।

রাকসু তহবিলের ১৮ লাখ টাকা কীভাবে হিসাবের বাইরে

নথিতে উল্লেখ করা তিনটি বড় উত্তোলনের মধ্যে প্রথমটি করা হয় ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষায় বুথ স্থাপনের জন্য। গত ১৫ জানুয়ারি এ খাতে ৩ লাখ ২ হাজার টাকা উত্তোলন করা হয়।

এরপর ২৭ জানুয়ারি রাকসু সদস্যদের জানুয়ারি মাসের বাজেট বাবদ নেওয়া হয় ১৩ লাখ ৭৭ হাজার টাকা। তৃতীয় ধাপে ১৩ এপ্রিল রাকসু সদস্যদের দাপ্তরিক খরচের জন্য উত্তোলন করা হয় আরও ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা।

এই তিন ধাপে মোট ১৮ লাখ ৩৯ হাজার টাকা উত্তোলন করা হলেও এসব অর্থের বিল-ভাউচার এখনো জমা হয়নি। অর্থাৎ, জিএসের নামে উত্তোলন করা মোট অর্থের বড় একটি অংশের আনুষ্ঠানিক ব্যয়ের নথি এখনো অসম্পূর্ণ রয়েছে।

নথি অনুযায়ী, এই রাকসু তহবিলের ১৮ লাখ টাকা-র প্রকৃত ব্যয়ের তথ্য বিল-ভাউচার জমা না হওয়া পর্যন্ত সম্পূর্ণভাবে যাচাই করা সম্ভব হচ্ছে না।

জিএস সালাউদ্দিন আম্মারের ব্যাখ্যা

বিল-ভাউচার জমা না দেওয়ার বিষয়ে রাকসুর জিএস সালাউদ্দিন আম্মার ভিন্ন ভিন্ন কারণের কথা জানিয়েছেন।

ভর্তি পরীক্ষার বুথ স্থাপনের জন্য নেওয়া অর্থের বিষয়ে তিনি বলেন, সেটি ছিল তাঁদের শুরুর দিকের বাজেটগুলোর একটি। তখন ব্যয়ের সঙ্গে ভ্যাট যুক্ত করার বিষয়টি জানা ছিল না। এ কারণে প্রায় ৩ লাখ টাকার হিসাব সমন্বয় করে বিল তৈরি করতে কিছুটা সমস্যা হয়েছে বলে জানান তিনি।

রাকসু সদস্যদের জন্য নেওয়া ১৩ লাখ ৭৭ হাজার টাকার বিষয়ে আম্মারের বক্তব্য, ওই অর্থের মধ্যে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদকের হিসাব পাওয়া যায়নি। এ কারণে সেই অর্থের হিসাব জমা দেওয়া হয়নি বলে তিনি জানান।

এ ছাড়া অন্য একটি অর্থের হিসাব জমা দেওয়া হয়েছে বলেও জানিয়েছেন জিএস সালাউদ্দিন আম্মার।

তবে নথিতে যে ১৮ লাখ ৩৯ হাজার টাকার বিল-ভাউচার জমা পড়েনি, সেই অর্থের ব্যয়ের পূর্ণাঙ্গ হিসাব এখনো প্রতিফলিত হয়নি।

বিল-ভাউচার জমা দেওয়ার নিয়ম কী

রাকসু তহবিলের ব্যয়ের নথি অনুযায়ী, বিভিন্ন কর্মসূচি ও দাপ্তরিক ব্যয়ের জন্য অর্থ উত্তোলনের পর সংশ্লিষ্ট বিল-ভাউচার জমা দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। অর্থাৎ কোনো কর্মসূচির জন্য টাকা নেওয়া হলে ব্যয় সম্পন্ন করার পর সেই ব্যয়ের প্রমাণ হিসেবে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়ার কথা।

এই প্রক্রিয়ার উদ্দেশ্য হলো উত্তোলন করা অর্থ কোন খাতে ব্যয় হয়েছে, কত টাকা ব্যয় হয়েছে এবং ব্যয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নথি কী—এসব তথ্য সংরক্ষণ করা।

এ কারণে রাকসু তহবিলের ১৮ লাখ টাকা-র বিল-ভাউচার জমা না পড়ায় অর্থের ব্যবহার সম্পর্কে নথিভিত্তিক পূর্ণাঙ্গ চিত্র পাওয়া যাচ্ছে না। তবে বিল-ভাউচার জমা না পড়াকে অর্থ আত্মসাৎ বা অনিয়মের প্রমাণ হিসেবে চূড়ান্তভাবে উল্লেখ করা হয়নি; বিষয়টি মূলত হিসাব-সমন্বয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে নথি ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্যে উঠে এসেছে।

কোষাধ্যক্ষের বক্তব্য

রাকসুর কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক সেতাউর রহমান জানিয়েছেন, কোনো কর্মসূচি শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বিল-ভাউচার জমা দেওয়া উচিত।

তিনি বলেন, রাকসুর কিছু বিল-ভাউচার এখনো জমা হয়নি। সংশ্লিষ্টদের সঠিক নিয়ম মেনে এসব নথি জমা দেওয়ার জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে।

কোষাধ্যক্ষের বক্তব্য থেকে স্পষ্ট, রাকসু তহবিলের অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে নথিপত্র জমা দেওয়ার বিষয়টি নিয়মিত আর্থিক ব্যবস্থাপনার অংশ। ফলে যেসব অর্থের ভাউচার এখনো জমা হয়নি, সেগুলো নিয়ম অনুযায়ী সমন্বয় করার প্রয়োজন রয়েছে।

উপাচার্য কী বলেছেন

রাকসুর সভাপতি ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদুল ইসলামও কর্মসূচি শেষ হওয়ার পরপরই বিল-ভাউচারসহ আর্থিক হিসাব জমা দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।

তিনি জানিয়েছেন, রাকসুর প্রতিটি অধিবেশনে এ বিষয়ে সতর্ক থাকার জন্য কোষাধ্যক্ষকে বলা হয়েছে। তবে এখনো কেন সব ভাউচার জমা পড়েনি, সে বিষয়ে তিনি অবগত নন বলে জানান। বিষয়টি খতিয়ে দেখার কথাও বলেছেন উপাচার্য।

অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে অবশ্যই বিল-ভাউচার জমা দিতে হবে এবং রাকসুকেও একই প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে।

রাকসুর মোট বরাদ্দেও বড় অঙ্কের হিসাব বাকি

শুধু জিএস সালাউদ্দিন আম্মারের নামে উত্তোলন করা অর্থ নয়, রাকসুর বর্তমান পরিষদের বিভিন্ন কর্মসূচির জন্য নেওয়া তহবিলের একটি বড় অংশের বিল-ভাউচারও এখনো জমা হয়নি।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, রাকসুর বর্তমান পরিষদের বিভিন্ন কর্মসূচির জন্য তহবিল থেকে মোট ১ কোটি ২৯ লাখ ১৪ হাজার ৬৮৯ টাকা বরাদ্দ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৬১ লাখ ৫০ হাজার ৪৬৮ টাকার বিল-ভাউচার এখনো জমা পড়েনি।

এই বকেয়া হিসাবের মধ্যে সবচেয়ে বেশি অর্থের হিসাব বাকি রয়েছে জিএস সালাউদ্দিন আম্মারের নামে উত্তোলন করা অর্থের ক্ষেত্রে।

অর্থাৎ, রাকসু তহবিলের ১৮ লাখ টাকা-র হিসাবের বিষয়টি বৃহত্তর আর্থিক নথি-সমন্বয়ের একটি অংশ। বর্তমান তথ্য অনুযায়ী, রাকসুর মোট বরাদ্দের একটি উল্লেখযোগ্য অংশের ব্যয়-সংক্রান্ত নথি এখনো সম্পূর্ণ হয়নি।

রাকসুর কোষাধ্যক্ষ সংশ্লিষ্টদের বিল-ভাউচার জমা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে উপাচার্য বিষয়টি খতিয়ে দেখার কথা বলেছেন।

তাই এখন মূল বিষয় হচ্ছে, জিএসের নামে উত্তোলন করা রাকসু তহবিলের ১৮ লাখ টাকা-র ব্যয়সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় বিল-ভাউচার কবে জমা পড়ে এবং নথিতে কীভাবে হিসাব সমন্বয় করা হয়।

বিল-ভাউচার জমা হলে সংশ্লিষ্ট অর্থ কোন খাতে ব্যয় হয়েছে এবং সেই ব্যয় কতটা নথিসম্মতভাবে উপস্থাপিত হয়েছে, তা আরও পরিষ্কার হবে। এর আগে পর্যন্ত নথিতে ওই অর্থের পূর্ণাঙ্গ ব্যয় বিবরণ অনুপস্থিত থাকছে।

রাকসু তহবিল থেকে জিএস সালাউদ্দিন আম্মারের নামে মোট ২৩ লাখ ৮৮ হাজার টাকা উত্তোলনের তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ৫ লাখ ৪৯ হাজার টাকার বিল-ভাউচার জমা পড়লেও ১৮ লাখ ৩৯ হাজার টাকার হিসাব এখনো জমা হয়নি।

বিশেষ করে ভর্তি পরীক্ষার বুথ স্থাপন, রাকসু সদস্যদের জানুয়ারি মাসের বাজেট এবং দাপ্তরিক ব্যয়ের জন্য নেওয়া অর্থের ভাউচার না থাকায় হিসাবের একটি বড় অংশ অসম্পূর্ণ রয়েছে।

জিএস সালাউদ্দিন আম্মার এর পেছনে ভ্যাট-সংক্রান্ত সমন্বয় সমস্যা এবং একটি সম্পাদকের হিসাব না পাওয়ার মতো কারণ জানিয়েছেন। অন্যদিকে কোষাধ্যক্ষ ও উপাচার্য উভয়েই নিয়ম অনুযায়ী বিল-ভাউচার জমা দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন।

রাকসুর বর্তমান পরিষদের মোট ১ কোটি ২৯ লাখ ১৪ হাজার ৬৮৯ টাকা বরাদ্দের মধ্যে ৬১ লাখ ৫০ হাজার ৪৬৮ টাকার ভাউচারও এখনো জমা হয়নি। ফলে রাকসু তহবিলের ১৮ লাখ টাকা-সহ বাকি অর্থের হিসাব নথিভুক্ত ও সমন্বয়ের বিষয়টি এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

সর্বাধিক পঠিত