আরও খবর

যে কারণে বাতিল মিশরের গোল (33)
রবার্তো কার্লোস সত্যিই কি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন
যে কারণে বাতিল মিশরের গোল (30)
তিন দিনের ব্যবধানে দুইবার মাঠে লুটিয়ে পড়লেন জামাল মুসিয়ালা, কি হয়েছে তার
যে কারণে বাতিল মিশরের গোল (27)
টেস্ট কখনো হয়নি, অস্ট্রেলিয়া-বাংলাদেশের দ্বিতীয় টেস্টের ভেন্যুতে আর কী খেলা হয়েছে
যে কারণে বাতিল মিশরের গোল (6)
নতুন নিয়মে প্রথম শাস্তি পেলেন নেইমার
যে কারণে বাতিল মিশরের গোল (16)
মৌসুমের শুরুতেই বড় অঘটনের শিকার পিএসজি

ব্যালন ডি’অর জিততে সবকিছু করেছেন, দাবি হ্যারি কেইনের

ব্যালন ডি’অর জিততে সবকিছু করেছেন, দাবি হ্যারি কেইনের, ২০২৫-২৬ মৌসুমে ৭৩ গোল, গোল্ডেন শু জয় ও বিশ্বকাপের পারফরম্যান্সে তৈরি হয়েছে বড় সম্ভাবনা।

২০২৫-২৬ মৌসুমে ক্লাব ও জাতীয় দলের হয়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পর ২০২৬ সালের ব্যালন ডি’অর জয়ের স্বপ্ন দেখছেন ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হ্যারি কেইন। বায়ার্ন মিউনিখের এই ইংলিশ তারকা ইউরোপের সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার গোল্ডেন শু হাতে তুলে নেওয়ার পর নিজের সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলেছেন। তাঁর বক্তব্য, গত মৌসুমে নিজের নিয়ন্ত্রণে থাকা সবকিছুই তিনি করার চেষ্টা করেছেন।

কেইনের জন্য মৌসুমটি ছিল পরিসংখ্যান ও দলীয় সাফল্যের দিক থেকে উল্লেখযোগ্য। ক্লাব ও জাতীয় দল মিলিয়ে তিনি করেছেন মোট ৭৩ গোল। বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে বুন্দেসলিগায় ৩৬ গোল করে তিনি জিতেছেন গোল্ডেন শু। একই সঙ্গে জার্মান লিগ ও কাপ—দুটি শিরোপাই জিতেছে বায়ার্ন।

অন্যদিকে, উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগেও বায়ার্ন মিউনিখ সেমিফাইনাল পর্যন্ত উঠেছিল। জাতীয় দলের হয়ে বিশ্বকাপেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন কেইন। ইংল্যান্ডকে সেমিফাইনালে তোলার পথে তিনি করেছেন ছয় গোল।

৭৩ গোলের মৌসুমে কেইনের বড় অর্জন

হ্যারি কেইনের ব্যালন ডি’অর সম্ভাবনার আলোচনায় তাঁর গোলসংখ্যা অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ২০২৫-২৬ মৌসুমে ক্লাব ও জাতীয় দলের হয়ে ৭৩ গোল করা তাঁর ধারাবাহিকতার বড় প্রমাণ।

বায়ার্নের হয়ে বুন্দেসলিগায় ৩৬ গোল করে ইউরোপের সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার গোল্ডেন শু জিতেছেন কেইন। শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়, দলীয় সাফল্যও এসেছে তাঁর মৌসুমে। বায়ার্ন জিতেছে জার্মান লিগ ও কাপ।

চ্যাম্পিয়নস লিগে অবশ্য শেষ পর্যন্ত শিরোপা জিততে পারেনি বায়ার্ন। সেমিফাইনালে পিএসজির কাছে হেরে তাদের বিদায় নিতে হয়। ফলে কেইনের ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স শক্তিশালী হলেও ইউরোপীয় ক্লাব ফুটবলের সবচেয়ে বড় শিরোপাটি তাঁর দলের হাতে ওঠেনি।

বিশ্বকাপেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা কেইনের

ক্লাব ফুটবলের পাশাপাশি ইংল্যান্ডের হয়েও ভালো সময় কাটিয়েছেন কেইন। বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডকে সেমিফাইনালে তুলতে তাঁর অবদান ছিল উল্লেখযোগ্য। টুর্নামেন্টে তিনি করেছেন ছয় গোল।

তবে ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপ অভিযান শেষ হয় সেমিফাইনালে। আর্জেন্টিনার কাছে ২-১ গোলে হেরে বিদায় নেয় কেইনের দল। অর্থাৎ, বিশ্বকাপেও ব্যক্তিগতভাবে ভালো পারফরম্যান্স থাকলেও দলকে ফাইনালে তুলতে পারেননি তিনি।

এ কারণে হ্যারি কেইনের ব্যালন ডি’অর জয়ের দৌড়ে তাঁর ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের পাশাপাশি দলীয় ফলাফলও আলোচনায় আসছে।

ব্যালন ডি’অর নিয়ে কী বললেন হ্যারি কেইন?

নিজের ব্যালন ডি’অর জয়ের সম্ভাবনা নিয়ে কেইন বাস্তব অবস্থান তুলে ধরেছেন। তাঁর মতে, অক্টোবর পর্যন্ত এ নিয়ে অনেক আলোচনা চলবে। তবে চূড়ান্ত ফল তাঁর নিয়ন্ত্রণে নেই।

কেইনের বক্তব্যের সারকথা হলো, গত মৌসুমে তাঁর পক্ষে যা করা সম্ভব ছিল, তিনি তা করেছেন। নিজের মৌসুমকে তিনি ক্যারিয়ারের সেরা মৌসুম হিসেবেও দেখছেন। পাশাপাশি তিনি বলেছেন, যে দলগুলোর হয়ে খেলেছেন, তাদের সঙ্গে অনেক কিছু অর্জন করেছেন।

এ বক্তব্যে ব্যক্তিগত আত্মবিশ্বাসের পাশাপাশি পুরস্কারের সিদ্ধান্ত তাঁর হাতে না থাকার বিষয়টিও স্পষ্ট হয়েছে। ব্যালন ডি’অর শেষ পর্যন্ত কে জিতবেন, সেটি নির্ধারণ হবে ভোট ও পুরস্কারের প্রক্রিয়ার মাধ্যমে।

ড্যানি মিলসের চোখে হ্যারি কেইনের ব্যালন ডি’অর সম্ভাবনা

সাবেক ইংলিশ ফুটবলার ড্যানি মিলসও এবারের ব্যালন ডি’অরের লড়াইকে তুলনামূলকভাবে উন্মুক্ত মনে করছেন। তাঁর মতে, এখন পর্যন্ত কেইন সম্ভবত সবচেয়ে ধারাবাহিক খেলোয়াড়দের একজন।

মিলসের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, কেইন পুরো মৌসুমে অসাধারণ ছিলেন। তবে ক্লাব ও জাতীয় দল—দুই পর্যায়ের পারফরম্যান্স বিবেচনায় নিয়ে একজন খেলোয়াড়কে অন্যদের চেয়ে স্পষ্টভাবে এগিয়ে রাখাটা এবার কঠিন।

তাঁর মতে, অনেক দিন পর এবার ব্যালন ডি’অরের লড়াই সবচেয়ে উন্মুক্ত অবস্থায় রয়েছে। অর্থাৎ, একজন খেলোয়াড়কে নিশ্চিত ফেভারিট হিসেবে চিহ্নিত করার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি।

এই বিশ্লেষণ হ্যারি কেইনের ব্যালন ডি’অর সম্ভাবনাকে নতুন করে আলোচনায় এনেছে। বিশেষ করে ৭৩ গোল, গোল্ডেন শু এবং ক্লাব ও জাতীয় দলের সাফল্যের কারণে তাঁর নাম প্রতিযোগিতায় শক্তভাবে রয়েছে।

মেসির সম্ভাবনাও কেন কমেছে?

ড্যানি মিলসের আলোচনায় লিওনেল মেসির বিষয়টিও এসেছে। তাঁর মতে, আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপ জিততে পারলে মেসি ব্যালন ডি’অর জয়ের দৌড়ে বড় সুবিধা পেতেন।

কিন্তু বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা রানার্স আপ হওয়ায় মেসির ব্যালন ডি’অর জয়ের সম্ভাবনা আগের তুলনায় ফিকে হয়েছে বলে মনে করেন মিলস। ফলে এবারের পুরস্কারের দৌড়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও উন্মুক্ত হয়েছে।

তবে শুধু এই কারণে কেইনের জয় নিশ্চিত—এমন কোনো দাবি করা হয়নি। বরং এবারের প্রতিযোগিতায় একাধিক খেলোয়াড়ের পারফরম্যান্স বিবেচনায় নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

২৬ অক্টোবর লন্ডনে ব্যালন ডি’অর অনুষ্ঠান

২০২৬ সালের ব্যালন ডি’অর পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান হবে ২৬ অক্টোবর লন্ডনে। এবারের আয়োজনটি পুরস্কারের ৭০তম আসর।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এবার প্রথমবারের মতো ব্যালন ডি’অর পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান প্যারিসের বাইরে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে পুরস্কারটির আয়োজনে একটি নতুন অধ্যায় যুক্ত হচ্ছে।

অনুষ্ঠান পর্যন্ত হ্যারি কেইনের ব্যালন ডি’অর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলবে। তবে পুরস্কারের চূড়ান্ত ফল প্রকাশের আগে নিশ্চিতভাবে কাউকে বিজয়ী বলা সম্ভব নয়।

হ্যারি কেইনের জন্য ২০২৫-২৬ মৌসুমের সবচেয়ে বড় শক্তি তাঁর ধারাবাহিক গোল এবং ব্যক্তিগত সাফল্য। ৭৩ গোলের পাশাপাশি বুন্দেসলিগার গোল্ডেন শু জয় তাঁর প্রার্থিতাকে শক্তিশালী করেছে।

অন্যদিকে, বায়ার্ন মিউনিখের চ্যাম্পিয়নস লিগ সেমিফাইনাল থেকে বিদায় এবং ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে থেমে যাওয়া তাঁর পক্ষে কিছু সীমাবদ্ধতাও তৈরি করেছে। তাই ব্যালন ডি’অরের লড়াইয়ে ব্যক্তিগত ও দলীয় পারফরম্যান্স—দুই দিকই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

ড্যানি মিলসের মতে, এবারের লড়াই দীর্ঘ সময় পর সবচেয়ে উন্মুক্ত। কেইনের নিজের বক্তব্যও স্পষ্ট—নিজের নিয়ন্ত্রণে থাকা জায়গায় তিনি সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন। এখন অপেক্ষা ২৬ অক্টোবরের।

২০২৬ সালের ব্যালন ডি’অরকে ঘিরে হ্যারি কেইনের সম্ভাবনা এখন আলোচনার অন্যতম বিষয়। ২০২৫-২৬ মৌসুমে ৭৩ গোল, বুন্দেসলিগার গোল্ডেন শু এবং বায়ার্ন মিউনিখের ঘরোয়া সাফল্যের পাশাপাশি বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের হয়ে ছয় গোল করেছেন তিনি।

তবে বায়ার্ন চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালে এবং ইংল্যান্ড বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে থেমে যাওয়ায় তাঁর যাত্রায় দলীয় কিছু সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। সব মিলিয়ে, হ্যারি কেইনের ব্যালন ডি’অর জয়ের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা জোরালো হলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করতে হবে ২৬ অক্টোবর পর্যন্ত।

সর্বাধিক পঠিত