আরও খবর

যে কারণে বাতিল মিশরের গোল (16)
নতুন দামে বিক্রি হচ্ছে সোনা, ভরি কত?
যে কারণে বাতিল মিশরের গোল (15)
৫ কার্গো এলএনজি কিনবে সরকার
যে কারণে বাতিল মিশরের গোল (10)
দেশের বাজারে স্বর্ণের ভরি কত?
যে কারণে বাতিল মিশরের গোল (10)
আজ যে দামে বিক্রি হচ্ছে সোনা
যে কারণে বাতিল মিশরের গোল (6)
দাম বেড়ে দেশের বাজারে স্বর্ণের ভরি কত?

হীরার বাজারে নকলের ছড়াছড়ি, ক্রেতাদের পকেট কাটছে প্রতারকরা

হীরার বাজারে নকলের ছড়াছড়ি, ক্রেতাদের পকেট কাটছে প্রতারকরা,  বৈধ আমদানি প্রায় বন্ধ থাকলেও ১১ হাজার কোটি টাকার বাজার চলছে। ক্রেতাদের সতর্কতা, সার্টিফিকেট যাচাই ও কঠোর নজরদারি জরুরি।

বাংলাদেশে বৈধভাবে হীরা আমদানি প্রায় বন্ধ থাকলেও দেশে হীরার গয়নার বাজার বড় হচ্ছে। ব্যবসায়ীদের হিসাবে, বর্তমানে এই বাজারের আকার ১১ হাজার কোটি টাকার বেশি। অনুসন্ধান ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের তথ্য অনুযায়ী, হীরা চোরাচালান এবং ল্যাবে তৈরি নকল হীরার ওপর বাজারের একটি বড় অংশ নির্ভর করছে। ফলে একদিকে সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে, অন্যদিকে কম দামে হীরার গয়না কিনতে গিয়ে ক্রেতাদের প্রতারণার শিকার হওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে।

রাজধানীর শ্যামলী স্কয়ার শপিং মলের একটি গয়নার দোকানের ডায়মন্ড এসেটের ফেসবুক পেজে মাত্র ৪ হাজার ৯৯৯ টাকায় নাকফুল বিক্রির বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দেওয়া হচ্ছে বিশেষ ছাড় ও উপহার। তবে একজন ক্রেতা কমেন্টে অরিজিনাল হীরা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করলে প্রতিষ্ঠানটি দাবি করে, তাদের হীরা ১০০ শতাংশ প্রাকৃতিক এবং দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে বৈধভাবে সংগ্রহ করা।

এই দাবির বিপরীতে খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, এত কম দামে আসল হীরার গয়না বিক্রি করা বাস্তবসম্মত নয়। তাঁদের মতে, অনেক ক্ষেত্রে আসল হীরার বদলে মোজানাইট, জারকন বা ল্যাবে তৈরি পাথর বিক্রি করা হচ্ছে।

বৈধ আমদানি কমলেও বাজার বাড়ছে

বাংলাদেশে হীরার নিজস্ব খনি নেই এবং দেশে হীরা উৎপাদনও হয় না। একই সঙ্গে ২০১৮ সালের পর বৈধভাবে হীরা আমদানির উল্লেখযোগ্য কোনো রেকর্ড নেই। হালনাগাদ আমদানি-রপ্তানি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ ও ২০২৫ সালেও দেশে হীরা আমদানির পরিমাণ শূন্যের কোঠায় ছিল।

অথচ বাজারে হীরার গয়নার সরবরাহ কমেনি। বরং রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় শত শত প্রতিষ্ঠান হীরার গয়না বিক্রি করছে। ব্যবসায়ীদের সমীক্ষা অনুযায়ী, একসময় বছরে প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকার বাজার থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে তা বেড়ে ১১ হাজার কোটি টাকার বেশি হয়েছে।

এখানেই বড় প্রশ্ন তৈরি হয়েছে—বৈধ আমদানি প্রায় নেই, অথচ বাজারে হীরার পণ্য পাওয়া যাচ্ছে কীভাবে?

খাতসংশ্লিষ্টদের বক্তব্য, এর একটি বড় অংশের উৎস হীরা চোরাচালান

হীরা চোরাচালানের সঙ্গে সীমান্তের যোগসূত্র

বাংলাদেশে উচ্চ শুল্ক অবৈধ পথে হীরা প্রবেশের অন্যতম কারণ বলে ব্যবসায়ীরা মনে করেন। ব্যাগেজ রুলের আওতায় বিমানে করে বিদেশ থেকে হীরা আনার সুযোগ নেই। বন্ড সুবিধা ছাড়া অমসৃণ হীরায় কর প্রায় ৮৯ শতাংশ এবং মসৃণ হীরায় প্রায় ১৫১ শতাংশ।

এই পরিস্থিতিতে বৈধভাবে আমদানির পরিবর্তে চোরাচালানের মাধ্যমে হীরা দেশে ঢোকার প্রবণতা তৈরি হয়েছে বলে খাতসংশ্লিষ্টদের অভিযোগ।

বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন বা বাজুসের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৩০ কোটি টাকার হীরা ও হীরার গয়না অবৈধভাবে দেশে ঢোকে। বছরে এর পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ১০ হাজার ৯৫০ কোটি টাকা। সংগঠনটির হিসাবে, সোনাসহ মোট চোরাচালানের পরিমাণ বছরে ৯১ হাজার কোটি টাকার বেশি এবং এই অর্থ হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে পাচার হয়।

ভারতের সুরাট বিশ্বের অন্যতম বড় হীরা কাটিং ও পলিশিং কেন্দ্র। ব্যবসায়ীদের ধারণা, সেখান থেকে সহজে বহনযোগ্য হীরা সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে আসে।

সাম্প্রতিক কয়েকটি জব্দের ঘটনাও এই সন্দেহকে সামনে এনেছে।

যশোরে কোটি টাকার হীরা জব্দ

গত ২ এপ্রিল যশোরে পাচারের সময় প্রায় ছয় কোটি ৬২ লাখ টাকা মূল্যের ১৫৫ দশমিক ৭৬ গ্রাম হীরা ও বৈদেশিক মুদ্রা জব্দ করে বিজিবি। এ ঘটনায় তামিলনাড়ুর এক নাগরিককে আটক করা হয়।

এর আগে ২০২৫ সালের ৩০ জানুয়ারি যশোরের পাঁচভুলোট সীমান্ত এলাকায় ভারত থেকে আসা প্রায় ১০ কোটি টাকা মূল্যের হীরার গয়নাসহ বাংলাদেশি হাফিজুর রহমানকে আটক করে বিজিবির একটি টহল দল।

২০২১ সালে সাতক্ষীরায় প্রায় পৌনে দুই কোটি টাকা মূল্যের ১৪৪টি হীরার গয়না জব্দের ঘটনাও ঘটে। এছাড়া বিভিন্ন সময়ে বিজিবির অভিযানে হীরা জব্দের তথ্য রয়েছে।

তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, অবৈধভাবে আসা হীরার বেশির ভাগ চালানই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়িয়ে যায়।

নকল হীরার বাজারও বড় হচ্ছে

হীরার বাজারের আরেকটি বড় সমস্যা নকল পাথরকে আসল হীরা হিসেবে বিক্রি করার অভিযোগ। মোজানাইট, জারকনসহ ল্যাবে তৈরি বিভিন্ন পাথর অনেক সময় হীরা হিসেবে বাজারজাত করা হচ্ছে বলে খাতসংশ্লিষ্টদের বক্তব্য।

দেশের বাজারে এক ক্যারেট বা ০.২ গ্রাম হীরার দাম ৮৩ হাজার টাকার বেশি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। সেই তুলনায় ৫ হাজার টাকায় হীরার নাকফুল বিক্রির দাবি স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন তৈরি করে।

২০২২ সালে বাংলাদেশে সলিটায়ার জ্যামোলজিক্যাল ল্যাবরেটরিজ বা এসজিএল কার্যক্রম শুরু করে। লন্ডন ও নিউইয়র্কে সদর দপ্তর থাকা এই আন্তর্জাতিক ল্যাবের ঢাকার বাংলামোটর কার্যালয়ে হীরা পরীক্ষা করা যায়। বিভিন্ন পরীক্ষায় সেখানে আসল ও নকল—দুই ধরনের পাথরই পাওয়া যায় বলে জানা গেছে।

আসল হীরার ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটি সনদ নম্বর খোদাই করে দেয়। ফলে ক্রেতাদের জন্য পণ্যের সত্যতা যাচাইয়ে সার্টিফিকেট গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডকে ঘিরে অভিযোগ

দেশের হীরার বাজারে আলোচিত নাম ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড এবং এর মালিক দিলীপ কুমার আগরওয়ালা। প্রতিষ্ঠানটির দেশের বিভিন্ন স্থানে কয়েক ডজন শোরুম রয়েছে এবং দৈনিক লেনদেন কোটি টাকার বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে প্রতিষ্ঠানটির বৈধ আমদানির তথ্য খুবই সীমিত। ২০২৫ সালের নভেম্বরে সিআইডি দিলীপ কুমার আগরওয়ালার বিরুদ্ধে ৬৭৮ কোটি টাকার মানি লন্ডারিং মামলা করে। অভিযোগের মধ্যে রয়েছে চোরাই সোনা-হীরা কেনা, অবৈধ মুনাফা এবং অর্থপাচার।

তথ্য অনুযায়ী, ২০০৬ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বৈধভাবে এলসির মাধ্যমে মাত্র ৩৮ কোটি ৪৭ লাখ টাকার পণ্য আমদানি হয়েছে। অন্যদিকে স্থানীয় বাজার থেকে ৬৭৮ কোটি টাকার সোনা-হীরা সংগ্রহের বৈধ দলিল পাওয়া যায়নি বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

দিলীপ আগরওয়ালা ও তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধেও অবৈধ সম্পদ ও সন্দেহজনক লেনদারের মামলা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে ভ্যাট ফাঁকির অভিযোগও রয়েছে।

তবে এসব বিষয় অভিযোগ ও মামলার পর্যায়ে রয়েছে—চূড়ান্তভাবে আদালতের সিদ্ধান্তই এসব অভিযোগের আইনি অবস্থান নির্ধারণ করবে।

নকল গয়না প্রতিস্থাপনের অভিযোগ

হীরার বাজারে প্রতারণার আরেকটি দিক উঠে এসেছে এনজে ডায়মন্ডসের করা মামলায়। গত ৮ জুলাই বনানী থানায় নর্দান ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ ট্রাস্টের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান এনজে ডায়মন্ডসের পক্ষে মো. খায়েজ আহাম্মদ মামলা করেন।

মামলায় দুই নারী কর্মচারীর বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, তাঁরা অজ্ঞাতপরিচয় সহযোগীদের সঙ্গে যোগসাজশ করে ২০২৪ সালের ২৭ এপ্রিল থেকে ২০২৬ সালের ৮ জুলাই পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে প্রকৃত ডায়মন্ডের অলংকার সরিয়ে তার জায়গায় রেপ্লিকা বা নকল অলংকার প্রতিস্থাপন করেন।

১৩ জুলাই ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সেফাতুল্লাহর আদালত দুই নারীকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে পাঠান। বিষয়টি প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই মোক্তার হোসেন নিশ্চিত করেন।

এনজে ডায়মন্ডস কর্তৃপক্ষের দাবি, অভিযুক্ত চক্রটি আগে থেকেই হীরা চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত এবং ভারত ও দুবাই থেকে হীরা আনার সঙ্গে যুক্ত। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।

একসময় বৈধ রপ্তানির সম্ভাবনা ছিল

বাংলাদেশে হীরার বৈধ ব্যবসার ইতিহাস পুরোপুরি নেতিবাচক ছিল না। ২০০৭ সালে সাভারের ব্রিলিয়ান্ট হীরা লিমিটেড বেলজিয়ামে প্রথম মসৃণ হীরা রপ্তানি করে। পরে রেনেসান্স জুয়েলারি ও ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডও এই খাতে যুক্ত হয়।

২০০৭ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত হীরা রপ্তানি থেকে মোট আয় হয়েছিল প্রায় ৩ কোটি ৯৬ লাখ ডলার। ওই সময়ে প্রতি সপ্তাহে উড়োজাহাজে হীরার চালান বিদেশে যেত।

অন্যদিকে ২০০৩ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ প্রায় ৯৩ লাখ ৫০ হাজার ডলারের হীরা ও হীরার গয়না আমদানি করে। এর ৮৭ শতাংশই আসে ভারত থেকে।

২০১৮ সালে ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান মোট ১ লাখ ৪০ হাজার ডলারের হীরা আমদানি করে। এরপর বৈধভাবে হীরা বা হীরার গয়না আমদানির উল্লেখযোগ্য রেকর্ড আর পাওয়া যায়নি। গত আট বছরে বৈধভাবে আমদানি হওয়া হীরার মূল্য ১০ লাখ টাকারও কম বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, যার ব্যবহার ছিল শিল্প খাতে।

বিনিয়োগ ও রপ্তানির সম্ভাবনা

হীরার বাজারে বিনিয়োগের আগ্রহও দেখা গেছে। ২০২২ সালে ভারতের মালাবার গোল্ড অ্যান্ড ডায়মন্ডস নিটল-নিলয় গ্রুপের সঙ্গে যৌথভাবে নারায়ণগঞ্জের মদনপুরে কারখানা স্থাপনের উদ্যোগ নেয়। লক্ষ্য ছিল স্বর্ণ ও হীরার গয়না তৈরি করে স্থানীয় বাজারের পাশাপাশি রপ্তানি করা।

তবে সাম্প্রতিক সময়ে ওই কারখানার পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য সীমিত।

ব্যবসায়ীদের মতে, নীতিগত সহায়তা পেলে বাংলাদেশে হীরা কাটিং ও পলিশিং শিল্পের সম্ভাবনা রয়েছে। বিশ্বে মসৃণ হীরা রপ্তানির বাজার প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলারের। ভারতের দখলে রয়েছে এর বড় অংশ।

তাঁদের মতে, অমসৃণ হীরায় শুল্ক কমানো, বন্ড সুবিধা সহজ করা এবং রপ্তানি প্রণোদনা বাড়ানো গেলে বাংলাদেশ এ খাতে এগিয়ে যেতে পারে।

সরকারের নতুন উদ্যোগ

চোরাচালান ও আটক পণ্য নিষ্পত্তির প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ ও দ্রুত করতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড বা এনবিআর ১৭ আগস্ট ২০২৬ নতুন স্থায়ী আদেশ জারি করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

‘অখালাসকৃত বা চোরাচালানের অভিযোগে আটক ও বাজেয়াপ্তকৃত পণ্যের নিষ্পত্তি পদ্ধতি সংক্রান্ত স্থায়ী আদেশ, ২০২৬’-এ স্বর্ণ, রৌপ্য, প্লাটিনাম, হীরা, জুয়েলারি ও বৈদেশিক মুদ্রার ক্ষেত্রে বিশেষ নির্দেশনা রাখা হয়েছে।

নির্দেশনায় মূল্যবান পণ্যের জন্য স্বীকৃত যাচাইকারী প্রতিষ্ঠানের সনদ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। সনদ না পাওয়া গেলে সাময়িকভাবে বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা রাখার বিধানও রয়েছে।

গুদামে গ্রহণের পর পুলিশ পাহারায় জরুরি ভিত্তিতে এসব পণ্য নিকটস্থ বাংলাদেশ ব্যাংক বা ট্রেজারি ব্যাংকে পাঠানোর কথা বলা হয়েছে। বিচারিক প্রক্রিয়া দুই মাসের মধ্যে শেষ না হলে পণ্যগুলো বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দেওয়ার বিধান রয়েছে।

বাজুসের বক্তব্য ও ক্রেতাদের করণীয়

বাংলাদেশ জুয়েলারি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এবং বাজুসের মুখপাত্র আনোয়ার হোসেন বলেন, বৈধ পথে আমদানি না হলেও বাজারে বিপুল পরিমাণ হীরার পণ্য থাকা ব্যবসায়িক সততার জন্য বড় বাধা। তাঁর অভিযোগ, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী অবৈধ বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত।

তিনি বলেন, ২০১৮ সালের পর দেশে বৈধ পথে হীরা আমদানির উল্লেখযোগ্য তথ্য না থাকলেও বাজারে পণ্যের ঘাটতি নেই। তাঁর মতে, এতে হীরা অবৈধ পথে দেশে প্রবেশের বিষয়টি স্পষ্ট হয়।

আনোয়ার হোসেনের বক্তব্য অনুযায়ী, ব্যবসায়ীরা চান না চোরাচালানের মাধ্যমে পণ্য দেশে আসুক। সাধারণ মানুষ যাতে প্রতারিত না হয় এবং সঠিক পণ্য পায়, তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব রাষ্ট্রের।

নকল বা ল্যাবে তৈরি হীরাকে আসল হিসেবে বিক্রির প্রবণতা নিয়েও তিনি সতর্ক করেছেন। তাঁর পরামর্শ, বিক্রেতাদের বৈধ সার্টিফিকেটসহ আসল পণ্য বিক্রি করতে হবে। একই সঙ্গে ক্রেতাদেরও কেনার আগে সার্টিফিকেট ও পণ্যের সত্যতা যাচাই করা উচিত।

এ বিষয়ে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মতো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিয়মিত মনিটরিংয়ের প্রয়োজন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

বাংলাদেশের হীরার বাজারের বর্তমান চিত্রে কয়েকটি বিষয় স্পষ্টভাবে সামনে এসেছে। বৈধ আমদানি কমে যাওয়ার পরও বাজারে হীরার সরবরাহ অব্যাহত রয়েছে। একই সময়ে সীমান্তে কোটি কোটি টাকার হীরা জব্দের ঘটনা ঘটছে। পাশাপাশি নকল হীরাকে আসল হিসেবে বিক্রির অভিযোগও রয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে হীরা চোরাচালান বন্ধের পাশাপাশি বৈধ আমদানি ব্যবস্থা কতটা কার্যকর করা যায়, সেটিই বড় প্রশ্ন। উচ্চ শুল্ক ও নীতিগত জটিলতা যদি অবৈধ বাণিজ্যকে উৎসাহিত করে থাকে, তাহলে সেগুলো যৌক্তিক করার বিষয়টিও ব্যবসায়ীরা সামনে আনছেন।

একই সঙ্গে ক্রেতার স্বার্থ রক্ষায় হীরার সার্টিফিকেশন, পরীক্ষাগারভিত্তিক যাচাই এবং বাজার মনিটরিং আরও কার্যকর করা প্রয়োজন বলে খাতসংশ্লিষ্টরা মনে করেন।

বাংলাদেশের হীরার বাজার যদি স্বচ্ছ ও বৈধ কাঠামোর মধ্যে আনা যায়, তাহলে অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণের পাশাপাশি ভবিষ্যতে রপ্তানির সুযোগও তৈরি হতে পারে। তবে সেই সম্ভাবনা কাজে লাগাতে হলে চোরাচালান, নকল পণ্য এবং বৈধ ব্যবসার মধ্যে তৈরি হওয়া বৈষম্যের সমাধান জরুরি।

সর্বাধিক পঠিত