ঢাকায় বাংলাদেশের বিপক্ষে খেলার প্রস্তাব ব্রাজিলের, বাংলাদেশ-ব্রাজিল ম্যাচ ৬ অক্টোবর ঢাকায় আয়োজনের প্রস্তাব দিয়েছে ব্রাজিল। তবে বাংলাদেশের ব্যস্ত সূচি ও বড় আয়োজনের ব্যয় নিয়ে এখনো ভাবছে বাফুফে।
ঢাকায় বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ খেলার প্রস্তাব দিয়েছে পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। ভারতের বিপক্ষে ৩ অক্টোবর কলকাতার সল্টলেক স্টেডিয়ামে ম্যাচ খেলার পর ৫ অথবা ৬ অক্টোবর ঢাকায় বাংলাদেশের মুখোমুখি হওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে ব্রাজিল ফুটবল কনফেডারেশন (সিবিএফ)। তবে প্রস্তাবটি নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)।
রোববার, ২৩ আগস্ট ঢাকায় এসে সিবিএফের পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধি দল জাতীয় স্টেডিয়াম ও বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনা পরিদর্শন করে। মাঠ ও সংশ্লিষ্ট সুযোগ-সুবিধা দেখে সন্তুষ্ট হওয়ার পর রাতে বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়ালের সঙ্গে ডিনারে ৬ অক্টোবর ম্যাচ আয়োজনের প্রস্তাব দেয় প্রতিনিধি দলটি।
ব্রাজিলের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ভিনিসিয়ুস, রাফিনিয়াসহ দলটি ৪ অক্টোবর কলকাতা থেকে ঢাকায় আসতে চায়। এরপর বাংলাদেশের বিপক্ষে ম্যাচ খেলে তারা দুবাইয়ের উদ্দেশে রওনা দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে।
বাংলাদেশ-ব্রাজিল ম্যাচে বাফুফের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ

ব্রাজিলের মতো ফুটবল পরাশক্তির বিপক্ষে ম্যাচ আয়োজনের সুযোগ নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ। তবে বাফুফের সামনে একই সঙ্গে রয়েছে বেশ কিছু বাস্তব সমস্যা। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় বিষয় বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের ব্যস্ত আন্তর্জাতিক সূচি।
সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ৩ অক্টোবর পর্যন্ত ফিফা আসিয়ান কাপে বাংলাদেশের ম্যাচ রয়েছে। ফলে ওই ম্যাচ শেষ করে ইন্দোনেশিয়া থেকে দ্রুত ঢাকায় ফিরে ব্রাজিলের বিপক্ষে মাঠে নামা হামজা-তপুদের জন্য কঠিন হতে পারে।
এই সময়ের ব্যবধান নিয়েই বাফুফের মধ্যে দোটানা তৈরি হয়েছে। একদিকে ব্রাজিলের মতো দলের বিপক্ষে খেলার বিরল সুযোগ, অন্যদিকে বাংলাদেশের জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের জন্য অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত বিশ্রামের সময়—দুই বিষয়ই বিবেচনায় নিতে হচ্ছে ফেডারেশনকে।
ফলাফল ও প্রস্তুতির বিষয়টিও ভাবনায়
ব্রাজিলের বিপক্ষে ম্যাচ হলে মাঠের ফল কী হতে পারে, সেটিও বাফুফের বিবেচনায় রয়েছে। কারণ প্রতিপক্ষ হিসেবে ব্রাজিলের শক্তি ও আন্তর্জাতিক অবস্থান আলাদা। ফলে শুধু ম্যাচ আয়োজনের সুযোগ নয়, বাংলাদেশের জাতীয় দলের জন্য ম্যাচটি বাস্তবিকভাবে কতটা উপযোগী হবে, সেটিও সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
বাফুফের ভাবনায় রয়েছে ম্যাচ আয়োজনের ব্যয়ের বিষয়টিও। একটি আন্তর্জাতিক ম্যাচ আয়োজনের ক্ষেত্রে মাঠ প্রস্তুতি, দলগুলোর যাতায়াত, আবাসনসহ নানা ধরনের ব্যবস্থাপনার প্রয়োজন হয়। ব্রাজিলের প্রতিনিধি দলের দেওয়া প্রস্তাবেও বড় বহরের বিষয়টি উঠে এসেছে।
৯০ জনের বহর নিয়ে ঢাকায় আসতে চায় ব্রাজিল
ব্রাজিলের প্রতিনিধি দল বাফুফেকে জানিয়েছে, ২৩ জন খেলোয়াড়সহ মোট ৯০ জনের বহর নিয়ে তারা ঢাকায় আসতে চায়। প্রস্তাব অনুযায়ী, কলকাতা থেকে এই বড় বহরকে ঢাকায় আনা এবং ম্যাচ শেষে দুবাই পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থার কথাও বলা হয়েছে।
অর্থাৎ, ম্যাচ আয়োজনের ক্ষেত্রে শুধু মাঠ ব্যবস্থাপনাই নয়, ব্রাজিল দলের বিশাল বহরের ভ্রমণ ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ব্যবস্থাপনাও বিবেচনায় নিতে হবে বাফুফেকে।
এই কারণেই বাংলাদেশ-ব্রাজিল ম্যাচ আয়োজনের সম্ভাবনাটি কেবল ক্রীড়া বিষয় হিসেবে দেখছে না বাফুফে। এর সঙ্গে আর্থিক ও সাংগঠনিক দিকও জড়িত।
৩ অক্টোবর কলকাতায় ব্রাজিলের ম্যাচ
প্রস্তাবিত সূচি অনুযায়ী, ব্রাজিল ৩ অক্টোবর ভারতের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ খেলবে। কলকাতার সল্টলেক স্টেডিয়ামে হবে সেই ম্যাচ।
এরপর ৪ অক্টোবর কলকাতা থেকে ঢাকায় আসার পরিকল্পনা রয়েছে ব্রাজিল দলের। ঢাকায় এসে ৫ অথবা ৬ অক্টোবর বাংলাদেশের বিপক্ষে খেলার প্রস্তাব দিয়েছে তারা। বাফুফের সঙ্গে আলোচনায় ৬ অক্টোবরের ম্যাচ আয়োজনের প্রস্তাবই দেওয়া হয়েছে।
এই সময়সূচির কারণে ব্রাজিলের সফরটি খুবই সংক্ষিপ্ত হবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের জাতীয় দলের জন্যও সময়ের ব্যবধান একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বাফুফে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি
ব্রাজিলের প্রতিনিধি দল ঢাকার দুটি ভেন্যু পরিদর্শন করে সন্তুষ্ট হওয়ার পর প্রস্তাব দিয়েছে। এরপর বাফুফে এখন বিষয়টি পর্যালোচনা করছে।
ফেডারেশনের একটি সূত্র সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছে, বাস্তবতা বুঝে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পক্ষপাতী বাফুফে। অর্থাৎ, ব্রাজিলের প্রস্তাবটি গ্রহণ করা হবে কি না, তা নির্ধারণের আগে বাংলাদেশের ম্যাচ সূচি, খেলোয়াড়দের সময়সূচি, ম্যাচের ফলাফলসংক্রান্ত বিষয় এবং আয়োজনের ব্যয়—সবকিছু বিবেচনা করা হবে।
এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ-ব্রাজিল ম্যাচ আয়োজন নিশ্চিত হয়নি। বরং ব্রাজিলের প্রস্তাবটি বাফুফের বিবেচনায় রয়েছে।
ঐতিহাসিক প্রতিপক্ষের বিপক্ষে খেলার সম্ভাবনা
বাংলাদেশের বিপক্ষে ব্রাজিলের সম্ভাব্য ম্যাচটি দেশের ফুটবলপ্রেমীদের জন্য বড় আগ্রহের বিষয় হতে পারে। বিশেষ করে ভিনিসিয়ুস ও রাফিনিয়াদের মতো ব্রাজিলের তারকাদের ঢাকায় দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা এই প্রস্তাবকে আরও আলোচনায় এনেছে।
তবে প্রস্তাবিত ম্যাচের ক্ষেত্রে আবেগের পাশাপাশি বাস্তব বিষয়গুলোও গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের জাতীয় দলের আন্তর্জাতিক সূচি, খেলোয়াড়দের বিশ্রাম, ম্যাচ আয়োজনের আর্থিক ব্যয় এবং ৯০ সদস্যের ব্রাজিল দলকে ব্যবস্থাপনার বিষয়গুলো একসঙ্গে বিবেচনা করতে হচ্ছে বাফুফেকে।
সুতরাং, এখনই ম্যাচটি নিশ্চিত হয়েছে—এমন কোনো তথ্য নেই। বাফুফে প্রস্তাবটি নিয়ে ভাবছে এবং বাস্তব পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার অবস্থানে রয়েছে।
ব্রাজিলের ফুটবল সংস্থার তথ্য
ব্রাজিল ফুটবল কনফেডারেশন (CBF) দেশটির জাতীয় ফুটবল পরিচালনাকারী সংস্থা। সংস্থাটির অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে ব্রাজিলের জাতীয় দল ও ফুটবল-সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য প্রকাশ করা হয়।
শিগগিরই সিদ্ধান্ত আসতে পারে
ব্রাজিলের প্রস্তাব পাওয়ার পর এখন বাফুফের সামনে মূল প্রশ্ন হলো—এই ম্যাচ আয়োজন বাংলাদেশের জন্য বাস্তবসম্মত হবে কি না। ব্রাজিলের সঙ্গে খেলার সুযোগ যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি বাংলাদেশের জাতীয় দলের পূর্বনির্ধারিত সূচি এবং আয়োজনের আর্থিক বিষয়ও উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।
৩ অক্টোবর পর্যন্ত বাংলাদেশের ফিফা আসিয়ান কাপে ম্যাচ থাকার কারণে সময়ের ব্যবধান বিশেষভাবে বিবেচনায় নিতে হচ্ছে। একই সঙ্গে ব্রাজিলের ২৩ খেলোয়াড়সহ ৯০ জনের বহরকে কলকাতা থেকে ঢাকায় আনা এবং পরে দুবাইয়ে পৌঁছে দেওয়ার প্রস্তাবও আয়োজনের পরিধি বাড়াচ্ছে।
এখন তাই ব্রাজিলের প্রস্তাব গ্রহণের আগে সব দিক যাচাই করেই সিদ্ধান্ত নিতে চায় বাফুফে। প্রস্তাবটি গ্রহণ করা হলে ঢাকায় বাংলাদেশ ও ব্রাজিলের একটি প্রীতি ম্যাচ আয়োজনের সম্ভাবনা তৈরি হবে; তবে এই মুহূর্তে সেটি চূড়ান্ত নয়।





