এইমাত্র

আরও খবর

News Photocard (8)
টেস্ট ক্রিকেটে ‘চা-বিরতি’ শুরু হয়েছিল যেভাবে
News Photocard (16)
মেসির কীর্তি ভেঙে রোনালদোয় চোখ কেইনের
News Photocard (6)
বাংলাদেশ সফরের জন্য ওয়েস্ট ইন্ডিজের দল ঘোষণা, কে আছেন, কে নেই
News Photocard (6)
হামজাকে ছাড়াই সাফ শুরু করবে বাংলাদেশ
News Photocard (3)
আর্জেন্টিনার হয়ে মেসির পথচলায় রোনালদোর শ্রদ্ধা

বিশ্বের সবচেয়ে দামি ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদ, বার্সা-পিএসজিসহ বাকিরা কোথায়

বিশ্বের সবচেয়ে দামি ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদ, বার্সেলোনা দ্বিতীয়, আর্সেনাল-PSGসহ ইউরোপের শক্তিশালী ক্লাবগুলোর অবস্থান জানুন।

বর্তমান ফুটবলে সাফল্যের হিসাব শুধু মাঠের ট্রফি দিয়ে হচ্ছে না। ক্লাবের ব্র্যান্ড ভ্যালু, স্পনসরশিপ, আন্তর্জাতিক উপস্থিতি এবং বাণিজ্যিক শক্তিও এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ব্র্যান্ড ফাইন্যান্সের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের সবচেয়ে দামি ক্লাব হিসেবে শীর্ষে রয়েছে স্প্যানিশ জায়ান্ট রিয়াল মাদ্রিদ। গত এক বছরে ক্লাবটির ব্র্যান্ড ভ্যালু ২৫ শতাংশ বেড়ে প্রায় ২৪০ কোটি ইউরোতে পৌঁছেছে।

রিয়ালের এই অবস্থান এসেছে এমন এক সময়ে, যখন মাঠের পারফরম্যান্সে ক্লাবটি প্রত্যাশিত সাফল্য পায়নি। স্প্যানিশ লিগের শিরোপা হাতছাড়া হয়েছে এবং চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার ফাইনাল থেকেও বিদায় নিতে হয়েছে। এরপরও বাণিজ্যিক মূল্যায়নে রিয়াল মাদ্রিদ অন্যদের পেছনে ফেলেছে।

রিয়াল মাদ্রিদের ব্র্যান্ড ভ্যালু বেড়েছে ২৫ শতাংশ

ব্র্যান্ড ফাইন্যান্সের হিসাব অনুযায়ী, রিয়াল মাদ্রিদের বর্তমান ব্র্যান্ড মূল্য প্রায় ২.৪ বিলিয়ন ইউরো বা ২৪০ কোটি ইউরো। এক বছরে এই মূল্য ২৫ শতাংশ বেড়েছে।

মাঠের ফলাফল বিবেচনায় এটি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। লিগ শিরোপা হারানো এবং চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার ফাইনালে থেমে যাওয়ার পরও ক্লাবটির বাণিজ্যিক শক্তি কমেনি।

এ সময় রিয়ালের কোচিং স্টাফেও বড় পরিবর্তন এসেছে। বছরের মাঝামাঝি জাবি আলোনসোকে বরখাস্ত করে আলভারো আরবেলোয়াকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। পরে হোসে মরিনহোকে ডাগআউটে বসানোর ঘটনাও আলোচনায় আসে। তবে এসব পরিবর্তনের কোনোটি রিয়ালের ব্র্যান্ড ভ্যালুর ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেনি বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

বিশ্বের সবচেয়ে দামি ক্লাবের তালিকায় বার্সেলোনা দ্বিতীয়

রিয়াল মাদ্রিদের সবচেয়ে কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছে স্পেনের আরেক জায়ান্ট বার্সেলোনা। কাতালান ক্লাবটির ব্র্যান্ড ভ্যালু গত এক বছরে ১৫ শতাংশ বেড়ে ২০০ কোটি ইউরোতে দাঁড়িয়েছে।

বার্সেলোনার এই অবস্থানের পেছনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে। ক্যাম্প ন্যু সংস্কার এবং অর্থসংকটের মতো চ্যালেঞ্জের মধ্যেও ক্লাবটি স্প্যানিশ শিরোপা ধরে রেখেছে। একই সঙ্গে স্পনসরশিপ চুক্তি, বিশেষ করে ‘স্পোটিফাই’-এর সঙ্গে অংশীদারত্ব, ক্লাবটির বাণিজ্যিক অবস্থান শক্তিশালী করেছে।

ফলে রিয়াল মাদ্রিদের পরই বিশ্বের সবচেয়ে দামি ক্লাবের তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে জায়গা করে নিয়েছে বার্সেলোনা।

ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের আধিপত্য

ক্লাবভিত্তিক তালিকায় স্প্যানিশ দুই জায়ান্ট এগিয়ে থাকলেও সামগ্রিক চিত্রে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের আধিপত্য স্পষ্ট। বিশ্বের সেরা ৫০টি ক্লাবের মধ্যে ইংল্যান্ডের প্রিমিয়ার লিগের ২০টি ক্লাব রয়েছে।

প্রিমিয়ার লিগের ক্লাবগুলোর সম্মিলিত ব্র্যান্ড ভ্যালু প্রায় ৮৭০ কোটি ইউরো। এই অঙ্ক লা লিগার সম্মিলিত ব্র্যান্ড মূল্যের চেয়ে প্রায় ৩০০ কোটি ইউরো বেশি।

ইংলিশ ক্লাবগুলোর মধ্যে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে আর্সেনাল। ১৫৩ কোটি ৬০ লাখ ইউরো ব্র্যান্ড ভ্যালু নিয়ে তারা তালিকার তৃতীয় স্থানে আছে।

এরপর রয়েছে জার্মানির বায়ার্ন মিউনিখ। তাদের ব্র্যান্ড মূল্য ১৫১ কোটি ৫০ লাখ ইউরো। ফ্রান্সের পিএসজি রয়েছে পঞ্চম স্থানে, ব্র্যান্ড ভ্যালু ১৫০ কোটি ৩ লাখ ইউরো।

ম্যানচেস্টার সিটি, লিভারপুল ও ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড কোথায়?

তালিকায় পিএসজির পর ষষ্ঠ ও সপ্তম স্থানে রয়েছে যথাক্রমে ম্যানচেস্টার সিটি ও লিভারপুল। ইংলিশ ফুটবলের আরেক ঐতিহ্যবাহী ক্লাব ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড রয়েছে অষ্টম স্থানে।

নবম স্থানে জায়গা পেয়েছে চেলসি। অর্থাৎ বিশ্বের সবচেয়ে মূল্যবান ১০টি ক্লাবের তালিকায় ইংল্যান্ডের বেশ কয়েকটি ক্লাব শক্ত অবস্থান ধরে রেখেছে।

তবে গত কয়েক বছরের ধারাবাহিকতার তুলনায় টটেনহ্যাম হটস্পারের অবস্থান এবার পিছিয়েছে। চরম অফফর্মের কারণে তারা সেরা দশ থেকে ছিটকে গেছে। তাদের জায়গায় সেরা দশে ঢুকেছে জার্মানির বরুসিয়া ডর্টমুন্ড।

জার্মান ফুটবলে বায়ার্নের একক দাপট

জার্মান ফুটবলে ব্র্যান্ড ভ্যালুর দিক থেকে বায়ার্ন মিউনিখই সবচেয়ে শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। ১৫১ কোটি ৫০ লাখ ইউরো ব্র্যান্ড মূল্য নিয়ে তারা বৈশ্বিক তালিকায় চতুর্থ স্থানে উঠে এসেছে।

অন্যদিকে বরুসিয়া ডর্টমুন্ডও সেরা দশে জায়গা করে নিয়ে জার্মান ফুটবলের বাণিজ্যিক শক্তির আরেকটি দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে।

ইতালিয়ান ক্লাবগুলোর অবস্থান

ইতালিয়ান ফুটবলের চিত্র তুলনামূলকভাবে দুর্বল। ইতালি টানা তৃতীয়বারের মতো ফুটবল বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জনে ব্যর্থ হওয়ায় জাতীয় দলের পারফরম্যান্সের নেতিবাচক প্রভাব ক্লাব ফুটবলেও দেখা যাচ্ছে।

তবে কয়েকটি ক্লাব তাদের ব্র্যান্ড ভ্যালু বাড়াতে পেরেছে। ইন্টার মিলানের ব্র্যান্ড মূল্য দাঁড়িয়েছে ৫৮ কোটি ৫ লাখ ইউরো। এসি মিলানের ব্র্যান্ড ভ্যালু ৫১ কোটি ৪ লাখ ইউরো।

অন্যদিকে জুভেন্টাসের অবস্থান আরও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। ক্লাবটির ব্র্যান্ড ভ্যালু ১৭ শতাংশ কমে ৪১ কোটি ৯ লাখ ইউরোতে নেমে গেছে।

ফ্রান্সে PSG বনাম অন্যদের বড় ব্যবধান

ফরাসি ফুটবলে বিশ্বের শীর্ষ ৫০ ক্লাবের তালিকায় মাত্র দুটি ক্লাব জায়গা পেয়েছে। এর একটি পিএসজি, অন্যটি অলিম্পিক মার্সেই।

পিএসজি পরপর দুবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতে নিজেদের আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড হিসেবে আরও শক্তিশালী করেছে। এর ফলে ফ্রান্সের অন্য ক্লাবগুলোর তুলনায় প্যারিসের ক্লাবটির বাণিজ্যিক মূল্য অনেক এগিয়ে গেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অলিম্পিক মার্সেইয়ের তুলনায় পিএসজির ব্র্যান্ড মূল্য প্রায় ১১ গুণ বেশি। এতে ফরাসি ক্লাব ফুটবলের অভ্যন্তরীণ বৈষম্যের চিত্রও স্পষ্ট হয়।

ইউরোপের বাইরে ব্রাজিলের দুই ক্লাবের চমক

ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগের বাইরে পর্তুগাল ও নেদারল্যান্ডসের ঐতিহ্যবাহী ক্লাবগুলোও ভালো অবস্থানে রয়েছে। তবে ইউরোপের বাইরে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি ব্রাজিলের দুটি ক্লাবের।

ব্রাজিলের ফ্ল্যামেঙ্গো বৈশ্বিক তালিকায় ৩২তম স্থানে রয়েছে। আর পালমেইরাস রয়েছে ৪৯তম অবস্থানে।

জাতীয় দলের পারফরম্যান্স আশানুরূপ না হলেও ব্রাজিলের শীর্ষ ২০টি ক্লাবের আয় ২০২৫ সালে ৩৩ শতাংশ বেড়েছে। অর্থাৎ জাতীয় দলের পারফরম্যান্স এবং ক্লাব পর্যায়ের বাণিজ্যিক আয়—দুই ক্ষেত্রে একই ধরনের চিত্র দেখা যাচ্ছে না।

ক্লাব ফুটবলে ব্র্যান্ড ভ্যালুর গুরুত্ব বাড়ছে

বর্তমান ফুটবলে মাঠের সাফল্যের পাশাপাশি ক্লাবের বাণিজ্যিক পরিচিতিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। গ্রীষ্মকালীন প্রাক-মৌসুম সফর, আন্তর্জাতিক বাজারে নতুন কার্যালয় এবং বড় স্পনসরশিপ—সবকিছুই ক্লাবের ব্র্যান্ড ভ্যালু বাড়ানোর অংশ।

রিয়াল মাদ্রিদ ও বার্সেলোনার অবস্থান তারই উদাহরণ। মাঠে সবসময় প্রত্যাশিত সাফল্য না থাকলেও শক্তিশালী বৈশ্বিক পরিচিতি ও বাণিজ্যিক অংশীদারত্ব তাদের মূল্য ধরে রাখতে সহায়তা করেছে।

অন্যদিকে প্রিমিয়ার লিগের ২০টি ক্লাবের সেরা ৫০-এ জায়গা পাওয়া ইংলিশ ফুটবলের সামগ্রিক বাণিজ্যিক শক্তিকে তুলে ধরে।

বিশ্বের সবচেয়ে দামি ক্লাব নিয়ে মূল চিত্র

ব্র্যান্ড ফাইন্যান্সের তথ্য থেকে পাওয়া তালিকায় শীর্ষ অবস্থানগুলো সংক্ষেপে এমন—

  • ১ম: রিয়াল মাদ্রিদ — প্রায় ২৪০ কোটি ইউরো
  • ২য়: বার্সেলোনা — ২০০ কোটি ইউরো
  • ৩য়: আর্সেনাল — ১৫৩ কোটি ৬০ লাখ ইউরো
  • ৪র্থ: বায়ার্ন মিউনিখ — ১৫১ কোটি ৫০ লাখ ইউরো
  • ৫ম: পিএসজি — ১৫০ কোটি ৩ লাখ ইউরো
  • ৬ষ্ঠ: ম্যানচেস্টার সিটি
  • ৭ম: লিভারপুল
  • ৮ম: ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড
  • ৯ম: চেলসি
  • ১০ম: বরুসিয়া ডর্টমুন্ড

এই তালিকা দেখাচ্ছে, বিশ্বের সবচেয়ে দামি ক্লাব হওয়ার লড়াইয়ে শুধু ট্রফি নয়, ব্র্যান্ড শক্তি ও বাণিজ্যিক সক্ষমতাও বড় ভূমিকা রাখছে।

ফুটবল এখন কেবল ৯০ মিনিটের মাঠের প্রতিযোগিতা নয়; এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বিশাল বাণিজ্যিক অর্থনীতি। বিশ্বের সবচেয়ে দামি ক্লাবের তালিকায় রিয়াল মাদ্রিদের শীর্ষস্থান এবং বার্সেলোনার দ্বিতীয় অবস্থান স্প্যানিশ দুই জায়ান্টের বৈশ্বিক ব্র্যান্ড শক্তি তুলে ধরে।

একই সময়ে সেরা ৫০-এ প্রিমিয়ার লিগের ২০টি ক্লাবের উপস্থিতি ইংলিশ ফুটবলের সামগ্রিক আর্থিক ক্ষমতার দিকটি স্পষ্ট করেছে। বায়ার্ন, পিএসজি, ডর্টমুন্ডের মতো ক্লাবও নিজেদের জায়গা শক্ত করেছে। ইউরোপের বাইরে ব্রাজিলের ফ্ল্যামেঙ্গো ও পালমেইরাসের উপস্থিতি দেখিয়েছে, বৈশ্বিক ফুটবলের বাণিজ্যিক মানচিত্র ইউরোপের গণ্ডিতেই সীমাবদ্ধ নয়।

সর্বাধিক পঠিত