এইমাত্র

আরও খবর

যে কারণে বাতিল মিশরের গোল (3)
সাগরে সুস্পষ্ট লঘুচাপ, সমুদ্রবন্দরে সতর্কসংকেত বহাল
যে কারণে বাতিল মিশরের গোল
শাহজালালের থার্ড টার্মিনাল ৯৯.৯১% কাজ শেষ, তবু ব্যয় বাড়ছে ৯০২ কোটি টাকা
যে কারণে বাতিল মিশরের গোল (27)
মালয়েশিয়ায় কর্মী নিয়োগে মানতে হবে যেসব নির্দেশনা
যে কারণে বাতিল মিশরের গোল (24)
মসলা-ঘিসহ ১০ নিম্নমানের পণ্য বাজার থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশ
যে কারণে বাতিল মিশরের গোল (9)
নভেম্বরে ইউপি দিয়ে শুরু হচ্ছে স্থানীয় সরকার নির্বাচন

গঙ্গা চুক্তি: নতুন উদ্যোগ বাংলাদেশের, জেআরসিতে আলোচনা চায় ভারত

গঙ্গা চুক্তি: নতুন উদ্যোগ বাংলাদেশের, জেআরসিতে আলোচনা চায় ভারত, মেয়াদ শেষের আগে নতুন চুক্তি নিয়ে বাড়ছে গুরুত্ব।

গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি নিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে নতুন করে আলোচনা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ১৯৯৬ সালে ৩০ বছরের জন্য সই হওয়া চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে নতুন চুক্তি করার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ। এর পরিপ্রেক্ষিতে ভারত জানিয়েছে, দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় যৌথ নদী কমিশন বা জেআরসির কাঠামোয় পানি ও নদীসংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হবে। এ বিষয়ে এখন ভারতের আনুষ্ঠানিক জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে বাংলাদেশ।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল সম্প্রতি নয়াদিল্লিতে সাংবাদিকদের বলেন, ১৯৯৬ সালে ৩০ বছরের জন্য গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি সই হয়েছিল। বাংলাদেশ ও ভারতের সব পানি ও নদীসংক্রান্ত বিষয় দ্বিপক্ষীয় যৌথ নদী কমিশনের আলোচ্যসূচির অংশ হিসেবে আলোচনা করা হয়। একই সঙ্গে গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির যৌথ কমিটির বৈঠক কারিগরি পর্যায়েও অব্যাহত রয়েছে বলে জানান তিনি।

গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি নিয়ে বাংলাদেশের নতুন উদ্যোগ

১৯৯৬ সালে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সই হওয়া গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ ৩০ বছর। আগামী ডিসেম্বর মাসে এই চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই নতুন চুক্তি প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ।

বাংলাদেশ সরকারের অবস্থান হলো, দেশের জনগণের পানির অধিকার সংরক্ষণ করেই নতুন চুক্তি করতে হবে। এ লক্ষ্যে একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে এ উদ্যোগের কথা ভারতীয় কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

বাগেরহাট-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. আব্দুল আলীমের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, অভিন্ন নদীগুলো থেকে বাংলাদেশের ন্যায্য হিস্যা আদায়ে সরকার সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নতুন চুক্তি প্রণয়নের লক্ষ্যেই কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ বিষয়ে ভারতের কাছ থেকে জবাব পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে বাংলাদেশ।

জেআরসিতে আলোচনার কথা জানাল ভারত

বাংলাদেশের উদ্যোগের পর ভারত জানিয়েছে, পানি ও নদীসংক্রান্ত বিষয়গুলো দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় যৌথ নদী কমিশনের কাঠামোর মধ্যেই আলোচনা করা হয়।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, দুই দেশের পানি ও নদীসংক্রান্ত সব বিষয় জেআরসির আলোচ্যসূচির অংশ। পাশাপাশি গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির যৌথ কমিটির বৈঠক কারিগরি পর্যায়েও চলছে।

ভারতের এই বক্তব্যের ফলে চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে দুই দেশের মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক আলোচনার সুযোগ তৈরি হওয়ার বিষয়টি সামনে এসেছে। তবে নতুন চুক্তির বিষয়ে ভারতের আনুষ্ঠানিক জবাব কী হবে, তা এখনো জানা যায়নি।

বাংলাদেশ ইতিমধ্যে নতুন চুক্তির উদ্যোগ নেওয়ার কথা ভারতীয় কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছে। এখন সেই উদ্যোগের পরিপ্রেক্ষিতে ভারতের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়ার অপেক্ষায় রয়েছে ঢাকা।

৩০ বছরের পুরোনো চুক্তি পর্যালোচনার দাবি

গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি সই হয়েছিল প্রায় তিন দশক আগে। বর্তমান বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে চুক্তিটি ব্যাপকভাবে পর্যালোচনা ও সংস্কার করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

তাঁদের মতে, নতুন চুক্তি প্রণয়নের আগে বিদ্যমান চুক্তির বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করা জরুরি। এ প্রক্রিয়ায় শুধু পানি বা নদীসংক্রান্ত বিশেষজ্ঞদের নয়, অর্থনীতিবিদ, নগর পরিকল্পনাবিদ, সমাজবিজ্ঞানী ও পরিবেশবিদদেরও সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তাঁরা।

বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, যথাযথভাবে পানি বণ্টন নিশ্চিত করা না গেলে বাংলাদেশ বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। তাই নতুন চুক্তির ক্ষেত্রে দেশের জনগণের পানির প্রয়োজন ও অধিকারকে গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টি সামনে এসেছে।

জনগণের প্রয়োজনকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা বাংলাদেশের

মরিশাসে অনুষ্ঠিত নবম ইন্ডিয়ান ওশান কনফারেন্সে অংশ নেওয়ার সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, বাংলাদেশের জনগণের মৌলিক প্রয়োজন নিশ্চিত করে—এমন একটি নতুন বা সংশোধিত চুক্তি চায় সরকার।

সম্মেলনের ফাঁকে এনডিটিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অভিন্ন নদীগুলো দুই দেশের অভিন্ন ঐতিহ্য ও স্বার্থের সঙ্গে যুক্ত। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এমন একটি টেকসই সমাধান খুঁজে বের করা প্রয়োজন, যা জনগণের আস্থা অর্জন করবে।

তিনি আরও বলেন, আগামী ২৫ থেকে ৫০ বছরের সম্পর্কের ভিত্তি তৈরির ক্ষেত্রেও বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এই বক্তব্যে বাংলাদেশের অবস্থানের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক উঠে আসে—শুধু বর্তমান চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নতুন কোনো ব্যবস্থা নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই সমাধানের দিকে যেতে চায় বাংলাদেশ।

গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি সংশোধনের প্রয়োজন কেন

বাংলাদেশ সেন্টার ফর ইন্দো-প্যাসিফিক অ্যাফেয়ার্সের নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক শাহাব এনাম খান মনে করেন, প্রায় তিন দশক আগে গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি হওয়ায় বর্তমান বাস্তবতার আলোকে এটি সংশোধন করা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের জন্য গঙ্গা চুক্তি নবায়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে তাঁর মতে, শুধু নবায়ন করলেই হবে না, চুক্তিতে সংশোধনও আনতে হবে। এর কারণ হিসেবে তিনি চুক্তিটি প্রায় তিন দশক আগে সম্পাদিত হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করেন।

অর্থাৎ, দীর্ঘ সময় পর দুই দেশের নদী, পানি ও সংশ্লিষ্ট বাস্তবতার পরিবর্তনের বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে চুক্তির কাঠামো পুনর্মূল্যায়নের প্রয়োজনীয়তার কথা উঠে এসেছে।

যৌথ নদী কমিশনের আলোচনাই এখন গুরুত্বপূর্ণ

গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি নিয়ে পরবর্তী আলোচনায় যৌথ নদী কমিশন বা জেআরসির ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বক্তব্য অনুযায়ী, দুই দেশের পানি ও নদীসংক্রান্ত বিষয়গুলো এই দ্বিপক্ষীয় কাঠামোর আলোচ্যসূচির অন্তর্ভুক্ত।

একই সঙ্গে গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির যৌথ কমিটির বৈঠক কারিগরি পর্যায়ে অব্যাহত থাকার কথাও জানিয়েছে ভারত। ফলে নতুন চুক্তি নিয়ে আলোচনার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক পর্যায়ের পাশাপাশি কারিগরি পর্যায়ের আলোচনাও গুরুত্ব পেতে পারে।

তবে নতুন চুক্তির সুনির্দিষ্ট কাঠামো, পানি বণ্টনের নতুন কোনো ব্যবস্থা কিংবা আলোচনার সময়সূচি সম্পর্কে উৎস প্রতিবেদনে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। তাই এ বিষয়ে নতুন তথ্য না আসা পর্যন্ত নির্দিষ্ট কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।

বাংলাদেশের সামনে এখন কী

চুক্তির মেয়াদ আগামী ডিসেম্বর মাসে শেষ হওয়ার কথা থাকায় নতুন চুক্তির উদ্যোগটি বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রক্রিয়া হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরকার ইতিমধ্যে কমিটি গঠন করেছে এবং ভারতীয় কর্তৃপক্ষকে উদ্যোগের কথা জানিয়েছে।

এখন ভারতের আনুষ্ঠানিক জবাবের অপেক্ষায় বাংলাদেশ। অন্যদিকে ভারত জেআরসির কাঠামোর মধ্যে পানি ও নদীসংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আলোচনার কথা জানিয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে দুই দেশের মধ্যে আলোচনার পরবর্তী ধাপ কী হয়, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, নতুন চুক্তি প্রণয়নের ক্ষেত্রে বর্তমান বাস্তবতা, বাংলাদেশের পানির প্রয়োজন এবং দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থকে বিবেচনায় নেওয়ার বিষয়টি সামনে রয়েছে।

দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের ওপর গুরুত্ব

গঙ্গা নদীর পানি বণ্টন শুধু একটি দ্বিপক্ষীয় চুক্তির বিষয় নয়—বাংলাদেশের জনগণের পানির প্রয়োজন ও অভিন্ন নদী ব্যবস্থাপনার সঙ্গেও এটি সম্পর্কিত। এ কারণে নতুন বা সংশোধিত চুক্তির ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই সমাধানের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জনগণের মৌলিক প্রয়োজন নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বিশেষজ্ঞরা বিদ্যমান চুক্তি পর্যালোচনা করে বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশেষজ্ঞদের সম্পৃক্ত করার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন।

ভারতও জানিয়েছে, পানি ও নদীসংক্রান্ত বিষয় জেআরসির কাঠামোয় আলোচনা করা হয় এবং গঙ্গা চুক্তির যৌথ কমিটির কারিগরি বৈঠক অব্যাহত রয়েছে। ফলে আগামী দিনে দুই দেশের প্রাতিষ্ঠানিক আলোচনাই নতুন চুক্তির পথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির ৩০ বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ নতুন চুক্তির উদ্যোগ নিয়েছে। সরকার ইতিমধ্যে এ লক্ষ্যে একটি কমিটি গঠন করেছে এবং ভারতকে বিষয়টি জানিয়েছে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জনগণের পানির অধিকার ও মৌলিক প্রয়োজন নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

অন্যদিকে ভারত জানিয়েছে, পানি ও নদীসংক্রান্ত বিষয় জেআরসির কাঠামোয় আলোচনা করা হবে এবং গঙ্গা চুক্তির যৌথ কমিটির কারিগরি পর্যায়ের বৈঠক অব্যাহত রয়েছে। এখন বাংলাদেশের উদ্যোগের বিষয়ে ভারতের আনুষ্ঠানিক জবাব এবং পরবর্তী দ্বিপক্ষীয় আলোচনা কীভাবে এগোয়, সেদিকেই নজর থাকবে।

সর্বাধিক পঠিত