আরও খবর

যে কারণে বাতিল মিশরের গোল (27)
মালয়েশিয়ায় কর্মী নিয়োগে মানতে হবে যেসব নির্দেশনা
যে কারণে বাতিল মিশরের গোল (24)
মসলা-ঘিসহ ১০ নিম্নমানের পণ্য বাজার থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশ
যে কারণে বাতিল মিশরের গোল (3)
রোহিঙ্গা সংকটের দশম বছরে বাংলাদেশ, কমছে সহায়তা
যে কারণে বাতিল মিশরের গোল
প্রধানমন্ত্রীর ত্বরিত পদক্ষেপ: তেলবিদ্যুৎ কেন্দ্র পূর্ণ উৎপাদনে ফিরছে, দ্রুত কমবে লোডশেডিং
যে কারণে বাতিল মিশরের গোল (19)
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কি ব্রিটিশ নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছেন

নভেম্বরে ইউপি দিয়ে শুরু হচ্ছে স্থানীয় সরকার নির্বাচন

নভেম্বরে ইউপি দিয়ে শুরু হচ্ছে স্থানীয় সরকার নির্বাচন, ইউপি দিয়ে ধাপে ধাপে ভোট হবে; তফসিল, ভোটকেন্দ্র, ভোটার তালিকা ও আইনশৃঙ্খলা প্রস্তুতি এগোচ্ছে।

ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের মধ্য দিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু করার পরিকল্পনা করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। অক্টোবর থেকে পরিকল্পনা পিছিয়ে এখন নভেম্বরে ভোট শুরুর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে। তবে ভোটের নির্দিষ্ট দিনক্ষণ এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ জানিয়েছেন, নভেম্বর, ডিসেম্বর, জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি—এই চার মাস নির্বাচন আয়োজনের জন্য তুলনামূলকভাবে সহায়ক সময়। তবে দুর্গাপূজা, রমজান, পাবলিক পরীক্ষা, বার্ষিক পরীক্ষা, আবহাওয়া ও বন্যাসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করে ভোটের সময় নির্ধারণ করা হবে।

ইসির পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগের মতোই ধাপে ধাপে স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। প্রথমে ইউপি নির্বাচন আয়োজনের কথা ভাবা হচ্ছে। এর সঙ্গে পৌরসভা নির্বাচনও হতে পারে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে ইসির সময়সূচির ভাবনা

আগে অক্টোবর মাসকে সামনে রেখে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। পরে বিভিন্ন বাস্তবতা বিবেচনায় সেটি পিছিয়ে নভেম্বরে ভোট শুরু করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেছেন, নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময়কে তুলনামূলকভাবে নির্বাচন আয়োজনের জন্য উপযোগী মনে করা হচ্ছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হবে।

বিশেষ করে দুর্গাপূজা ও রমজানের সময়সূচি, পাবলিক পরীক্ষা এবং বার্ষিক পরীক্ষার বিষয়টি গুরুত্ব পাবে। পাশাপাশি আবহাওয়া ও বন্যার সম্ভাবনাও বিবেচনায় থাকবে।

ইসি জানিয়েছে, ভোটের ৪৫ দিন আগে তফসিল ঘোষণা করা হবে। ফলে ভোটের দিন নির্ধারণের আগে নির্বাচন আয়োজনের প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো সমন্বয় করবে কমিশন।

ইউপি দিয়ে শুরু, পৌরসভাও হতে পারে

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন দিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ। একই সময়সূচির ধারায় পৌরসভা নির্বাচনও অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে তিনি জানিয়েছেন।

তবে কোন পর্যায়ে কোন নির্বাচন হবে এবং ভোটের নির্দিষ্ট দিনক্ষণ কী হবে, সে বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়নি। অর্থাৎ নভেম্বরকে সম্ভাব্য শুরুর সময় হিসেবে বিবেচনা করা হলেও পুরো নির্বাচনী ক্যালেন্ডার এখনো নির্ধারিত নয়।

ইসির প্রস্তুতির অংশ হিসেবে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের কাছ থেকে নির্বাচন উপযোগী স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর তথ্যও নেওয়া হয়েছে। গত ৯ জুলাই এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের কাছে তথ্য চেয়েছিল কমিশন। মঙ্গলবার পর্যন্ত ইউপি ও পৌরসভার তালিকা ইসির কাছে পৌঁছেছে।

আইন ও বিধিমালা নিয়ে প্রস্তুতি

স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় আইনি প্রস্তুতিও এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। ইসি সূত্র জানিয়েছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আচরণবিধি আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের জন্য পাঠানো হয়েছিল। সেটি ফেরত এসেছে।

তবে নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা এবং আইন সংস্কারের বিষয়ে ইসির সুপারিশ এখনো পাঠানো হয়নি। এ অবস্থায় বিদ্যমান আইন ও বিধিমালা অনুসরণ করেই নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে কমিশন।

ইসি কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, আইন ও বিধি সংক্রান্ত বিষয় বাদ দিলে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের প্রায় সব প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

আগামীকাল বৃহস্পতিবার সম্ভাব্য ভোটকেন্দ্রের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করার কথা রয়েছে। আর ভোটের ২৫ দিন আগে চূড়ান্ত ভোটকেন্দ্রের গেজেট প্রকাশ করা হবে। ভোটার তালিকাও ৩১ আগস্ট চূড়ান্ত হওয়ার কথা রয়েছে।

পাঁচ ধরনের স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা

চলতি অর্থবছরের মধ্যেই পাঁচ ধরনের স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের কথা জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

এই পাঁচ ধরনের প্রতিষ্ঠান হলো—ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ, পৌরসভা এবং সিটি করপোরেশন।

গতকাল ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত ক্রিশ্চিয়ান ব্রিক্স মোলারের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে প্রতিমন্ত্রী বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের জন্য বাজেটে ৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, প্রধানমন্ত্রীর অনুমতি নিয়ে আগামী সপ্তাহে ইসির সঙ্গে বৈঠক করা হবে। তবে নির্বাচনের তফসিল ও ভোটের তারিখ নির্ধারণের দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের।

বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের স্থানীয় ও জাতীয় নির্বাচনসংক্রান্ত তথ্য ও বিধিমালা জানতে স্থানীয় সরকার নির্বাচন সংক্রান্ত অফিসিয়াল তথ্য দেখা যেতে পারে।

আইনশৃঙ্খলা নিয়ে ইসির বিশেষ প্রস্তুতি

স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিও পর্যালোচনা করছে নির্বাচন কমিশন। এ ধারাবাহিকতায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি), বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) মহাপরিচালক এবং আনসার ও ভিডিপির মহাপরিচালকের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।

সিইসি বলেছেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সহিংসতার প্রবণতা বেশি। এ কারণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে হবে।

ভোটের সময় নির্ধারণের ক্ষেত্রেও একাধিক বিষয় বিবেচনায় নেওয়ার কথা জানিয়েছেন সিইসি। এর মধ্যে রয়েছে আবহাওয়া, বন্যা, পূজা ও পাবলিক পরীক্ষা। পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হওয়া এবং শিক্ষকদের ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালনের বিষয়টিও বিবেচনায় থাকবে।

দেশে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের বর্তমান চিত্র

ইসির তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে ১৩টি সিটি করপোরেশন রয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদের সংখ্যা ৪ হাজার ৫৭৩টি। এ ছাড়া রয়েছে ৩২৬টি পৌরসভা ও ৫০০টি উপজেলা।

তিন পার্বত্য জেলা বাদে দেশে জেলা পরিষদের সংখ্যা ৬১টি। অর্থাৎ বিভিন্ন স্তরে বিপুলসংখ্যক স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন আয়োজন করতে হবে কমিশনকে।

এই বড় পরিসরের নির্বাচন ধাপে ধাপে আয়োজনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রথম ধাপে ইউপি নির্বাচন দিয়ে কার্যক্রম শুরু করার কথা বলা হলেও পরবর্তী ধাপের বিস্তারিত সময়সূচি এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

সামনে যেসব সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ

এখন ইসির সামনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ রয়েছে। এর মধ্যে ভোটার তালিকা চূড়ান্ত করা, সম্ভাব্য ভোটকেন্দ্রের তালিকা প্রকাশ, চূড়ান্ত ভোটকেন্দ্রের গেজেট প্রকাশ এবং নির্বাচনী তফসিল নির্ধারণ অন্যতম।

একই সঙ্গে আইন ও বিধিমালার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। বিদ্যমান আইন ও বিধিমালা অনুযায়ী প্রস্তুতি চললেও আইন সংস্কার ও নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা নিয়ে ইসির সুপারিশ এখনো পাঠানো হয়নি।

অন্যদিকে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, আবহাওয়া, বন্যা, ধর্মীয় উৎসব ও পরীক্ষার সময়সূচির সঙ্গে ভোটের সময় সমন্বয় করতে হবে। ফলে নভেম্বরে ভোট শুরু করার পরিকল্পনা থাকলেও চূড়ান্ত সময়সূচি নির্ভর করবে এসব বিষয় বিবেচনার পর ইসির সিদ্ধান্তের ওপর।

নভেম্বরে ইউপি নির্বাচনের মধ্য দিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু করার পরিকল্পনা করছে নির্বাচন কমিশন। একই সঙ্গে পৌরসভাসহ অন্যান্য স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতিও চলছে। তবে ভোটের দিনক্ষণ এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

ভোটার তালিকা, ভোটকেন্দ্র, নির্বাচনী আচরণবিধি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং আবহাওয়া ও পরীক্ষার সময়সূচি বিবেচনায় নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ইসির প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে থাকলেও এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অপেক্ষা নির্বাচনী তফসিল ও ভোটের তারিখ ঘোষণার।

সর্বাধিক পঠিত