আরও খবর

যে কারণে বাতিল মিশরের গোল (27)
মালয়েশিয়ায় কর্মী নিয়োগে মানতে হবে যেসব নির্দেশনা
যে কারণে বাতিল মিশরের গোল (9)
নভেম্বরে ইউপি দিয়ে শুরু হচ্ছে স্থানীয় সরকার নির্বাচন
যে কারণে বাতিল মিশরের গোল (3)
রোহিঙ্গা সংকটের দশম বছরে বাংলাদেশ, কমছে সহায়তা
যে কারণে বাতিল মিশরের গোল
প্রধানমন্ত্রীর ত্বরিত পদক্ষেপ: তেলবিদ্যুৎ কেন্দ্র পূর্ণ উৎপাদনে ফিরছে, দ্রুত কমবে লোডশেডিং
যে কারণে বাতিল মিশরের গোল (19)
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কি ব্রিটিশ নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছেন

মসলা-ঘিসহ ১০ নিম্নমানের পণ্য বাজার থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশ

মসলা-ঘিসহ ১০ নিম্নমানের পণ্য বাজার থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছে বিএসটিআই। ক্রেতাদের এসব পণ্য না কেনার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় বাংলাদেশ মান (বিডিএস) অনুযায়ী নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণে ব্যর্থ হওয়া ১০ নিম্নমানের পণ্য বাজার থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছে। বুধবার, ২৬ আগস্ট ২০২৬ এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে প্রতিষ্ঠানটি জানায়, তালিকায় বম্বে সুইটসের বিভিন্ন মসলা, বাঘাবাড়ি ব্র্যান্ডের ঘিসহ আরও কয়েকটি ঘি ও বাটার অয়েল রয়েছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর বিএসটিআই লাইসেন্স কেন বাতিল করা হবে না, সে বিষয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

বিএসটিআই পরীক্ষায় নিম্নমান প্রমাণিত হওয়ায় এসব পণ্য না কেনার জন্য ভোক্তাদের পরামর্শও দিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, নিয়মিত সার্ভিল্যান্স কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বাজার থেকে বিভিন্ন কোম্পানির পণ্য সংগ্রহ করে নিজস্ব অত্যাধুনিক ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করা হয়। সেই পরীক্ষায় কিছু পণ্যের মান যথাযথ পাওয়া গেলেও কয়েকটি ব্র্যান্ডের ঘি, বাটার অয়েল ও মসলায় নির্ধারিত মানের ঘাটতি পাওয়া যায়।

১০ নিম্নমানের পণ্য শনাক্তের প্রক্রিয়া

বিএসটিআই জানিয়েছে,

বাজার তদারকির নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবেই এসব পণ্য পরীক্ষা করা হয়েছে। বাজার থেকে বিভিন্ন কোম্পানির পণ্য সংগ্রহ করে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন নিজস্ব ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করা হয়।

পরীক্ষায় একাধিক পণ্যের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ মান অনুযায়ী নির্ধারিত বিভিন্ন পরামিতি পূরণ না করার বিষয়টি ধরা পড়ে। এর পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট পণ্যগুলো বাজার থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিএসটিআইয়ের এই উদ্যোগের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর লাইসেন্সের বিষয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশও দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, পণ্যের মানসংক্রান্ত পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে পরবর্তী পদক্ষেপের বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।

বম্বে সুইটসের যেসব মসলা পরীক্ষায় অকৃতকার্য

বিএসটিআইয়ের পরীক্ষায় বম্বে সুইটস অ্যান্ড কোং লিমিটেডের উৎপাদিত পাঁচ ধরনের মসলা বাংলাদেশ মান অনুযায়ী অকৃতকার্য হয়েছে।

তালিকায় রয়েছে—

  • কারী পাউডার হাঁসের মাংসের মসলা — ব্যাচ নম্বর ১৪১২২৪
  • তেহারি মসলা — ব্যাচ নম্বর ১৪০২২৬
  • কালা ভুনা মসলা — ব্যাচ নম্বর ২৬০৯২৭
  • গরুর মাংসের মসলা — ব্যাচ ‘এ’
  • মাছের মসলা — ব্যাচ ‘এ’

বিএসটিআইয়ের ল্যাবরেটরি পরীক্ষার ফল অনুযায়ী, এসব মসলায় মোট অ্যাশ ও লবণের মাত্রা বাংলাদেশ মানের তুলনায় বেশি পাওয়া গেছে। এ কারণে পণ্যগুলো পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়েছে।

অন্যদিকে, ঘি ও বাটার অয়েলের ক্ষেত্রেও নির্ধারিত মানের ব্যত্যয় পাওয়া গেছে। এসব পণ্যের বিভিন্ন রাসায়নিক ও গুণগত পরামিতি পরীক্ষা করা হয়েছে।

ঘি ও বাটার অয়েলে যে সমস্যা পাওয়া গেছে

বিএসটিআইয়ের পরীক্ষায় বাঘাবাড়ি প্রিমিয়াম ঘি কোম্পানির ‘বাঘাবাড়ি’ ব্র্যান্ডের ঘি নিম্নমানের হিসেবে শনাক্ত হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পরীক্ষায় ওই ঘিতে ‘ঘি’ বা মিল্ক ফ্যাট পাওয়া যায়নি। বরং পাম অলিন ও বনস্পতি ব্যবহার করে তা ‘ঘি’ নামে বাজারজাত করা হচ্ছে বলে পরীক্ষায় দেখা গেছে।

এ ছাড়া আরও চারটি ঘি ও বাটার অয়েল পণ্য বাংলাদেশ মান অনুযায়ী বিভিন্ন পরামিতিতে অকৃতকার্য হয়েছে। এগুলো হলো—

  • কিশোরগঞ্জ ফুড প্রোডাক্টসের ‘অরুন বাঘাবাড়ী’ ব্র্যান্ডের ঘি
  • মেসার্স মামুন ফুড প্রোডাক্টের ‘নিউ রাঁধুনী’ ব্র্যান্ডের ঘি
  • মেসার্স মামুন ফুড প্রোডাক্টের ‘সিটি’ ব্র্যান্ডের ঘি
  • এলডার্স ফুড প্রোডাক্টস অ্যান্ড প্যাকেজিং ইন্ডাস্ট্রিজের ‘এলডার্স’ ব্র্যান্ডের বাটার অয়েল

বিএসটিআইয়ের পরীক্ষায় এসব পণ্যে রিফ্র্যাক্টিভ ইনডেক্স, আয়োডিন ভ্যালু, স্যাপোনিফিকেশন ভ্যালু এবং পলেনস্কে ভ্যালু নির্ধারিত সীমার বাইরে পাওয়া গেছে।

বিএসটিআই মহাপরিচালকের বক্তব্য

বিএসটিআই মহাপরিচালক (সচিব) কাজী ইমদাদুল হক বলেছেন, জাতীয় মান অনুযায়ী পণ্যের গুণগত মান বজায় রাখা প্রতিটি লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের আইনগত ও নৈতিক দায়িত্ব।

তিনি জানান, কোনো প্রতিষ্ঠান এই দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে বিএসটিআই প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত। একই সঙ্গে নকল ও ভেজাল পণ্য ঠেকাতে মান সনদ দেওয়ার পাশাপাশি সার্ভিল্যান্সের মাধ্যমে কঠোর নজরদারি অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান তিনি।

কাজী ইমদাদুল হক আরও বলেন, পণ্য কেনার আগে ক্রেতাদের বিএসটিআইয়ের মানচিহ্ন, লাইসেন্স নম্বর, উৎপাদনের তারিখ, মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ, উপাদানসহ প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই করা উচিত।

ভোক্তাদের জন্য বিএসটিআইয়ের পরামর্শ

বিএসটিআইয়ের পরীক্ষায় ১০ নিম্নমানের পণ্য চিহ্নিত হওয়ার পর ভোক্তাদের এসব পণ্য কেনা থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি বাজার থেকে পণ্য কেনার সময় প্যাকেটের তথ্য যাচাইয়ের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

বিশেষ করে কোনো পণ্যে বিএসটিআইয়ের মানচিহ্ন ও লাইসেন্স নম্বর রয়েছে কি না, উৎপাদনের তারিখ এবং মেয়াদ শেষ হওয়ার তারিখ ঠিক আছে কি না—এসব বিষয় দেখে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

পণ্যের উপাদান ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্যও যাচাই করে তারপর পণ্য কেনার আহ্বান জানিয়েছে বিএসটিআই। এর মাধ্যমে ভোক্তারা পণ্যের মান ও বৈধতা সম্পর্কে আরও সতর্ক হতে পারবেন।

অভিযোগ জানাতে হটলাইন ১৬১১৯

কোনো পণ্যের মান, ভেজাল, প্রতারণা কিংবা বিএসটিআইয়ের মানচিহ্নের অপব্যবহার নিয়ে অভিযোগ থাকলে দ্রুত প্রতিষ্ঠানটিকে জানাতে বলেছেন বিএসটিআই মহাপরিচালক।

এ জন্য ১৬১১৯ নম্বরে বিএসটিআইয়ের হটলাইনে কল করা যাবে। পাশাপাশি dg@bsti.gov.bd ঠিকানায় ই-মেইলের মাধ্যমেও অভিযোগ বা তথ্য জানানো যাবে।

পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণে বিএসটিআইয়ের নিয়মিত সার্ভিল্যান্স কার্যক্রম সম্পর্কে জানতে আগ্রহী পাঠকরা ১০ নিম্নমানের পণ্য ও বিএসটিআইয়ের মান নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত তথ্য দেখতে পারেন।

এ ছাড়া ১০ নিম্নমানের পণ্য এবং বাংলাদেশ মান (বিডিএস) সম্পর্কিত তথ্য বিএসটিআইয়ের সংশ্লিষ্ট সরকারি প্ল্যাটফর্মেও পাওয়া যায়।

পণ্য কেনার আগে সতর্ক থাকার আহ্বান

বাজারে বিভিন্ন ধরনের খাদ্যপণ্য ও ভোগ্যপণ্য কেনার ক্ষেত্রে মান যাচাই গুরুত্বপূর্ণ বলে জানিয়েছে বিএসটিআই। সাম্প্রতিক পরীক্ষায় ১০ নিম্নমানের পণ্য চিহ্নিত হওয়ার পর প্রতিষ্ঠানটি ভোক্তাদের আরও সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে।

বিএসটিআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, নিয়মিত সার্ভিল্যান্সের মাধ্যমে বাজার থেকে পণ্য সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হচ্ছে। পরীক্ষায় মানদণ্ড পূরণে ব্যর্থ পণ্যের বিরুদ্ধে প্রত্যাহারসহ প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার প্রক্রিয়া রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রে লাইসেন্স বাতিল করা হবে কি না, তা নিয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। ফলে পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে পরবর্তী প্রশাসনিক ও আইনগত পদক্ষেপ কী হয়, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

বিএসটিআইয়ের ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় বম্বে সুইটসের পাঁচ ধরনের মসলা এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পাঁচ ধরনের ঘি ও বাটার অয়েলসহ মোট ১০ নিম্নমানের পণ্য নির্ধারিত মান পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। এসব পণ্য বাজার থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর লাইসেন্সের বিষয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

বিএসটিআই ভোক্তাদের এসব পণ্য না কেনার পরামর্শ দিয়েছে এবং কেনাকাটার আগে মানচিহ্ন, লাইসেন্স নম্বর, উৎপাদন ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ এবং উপাদান যাচাই করতে বলেছে। কোনো অনিয়ম বা ভেজাল সম্পর্কে তথ্য থাকলে ১৬১১৯ নম্বরে অথবা dg@bsti.gov.bd ঠিকানায় জানানোর আহ্বানও জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

সর্বাধিক পঠিত