বিপিএল না হলে ক্রিকেটারদের আর্থিক ক্ষতি পুষিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ক্রিকেটাররা। এক বছর টুর্নামেন্ট না হলেও অন্যভাবে সহায়তার প্রস্তাব নিয়ে বিসিবির সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।
বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) এক বছর আয়োজন না করার বিষয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছেন ক্রিকেটাররা। তবে বিপিএল আর্থিক ক্ষতি পুষিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা। রবিবার বিসিবির সঙ্গে ক্রিকেটারদের বৈঠকে টুর্নামেন্ট না হওয়ার কারণে খেলোয়াড়দের সম্ভাব্য আর্থিক ক্ষতি কীভাবে কমানো যায়, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
ক্রিকেটারদের সঙ্গে বৈঠকে বিপিএলের পরিবর্তে অন্যভাবে আর্থিক সহায়তার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এর মধ্যে আগের টুর্নামেন্টগুলোর ম্যাচ সংখ্যা বাড়ানোর একটি প্রস্তাবও রয়েছে। তবে কোনো সিদ্ধান্ত এখনো চূড়ান্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
এক বছরের জন্য বিপিএল স্থগিতের সিদ্ধান্ত
বিপিএল এক বছর আয়োজন না করার বিষয়ে বোর্ডের সিদ্ধান্তকে বৃহত্তর স্বার্থে মেনে নিয়েছেন ক্রিকেটাররা। অর্থাৎ, এবারের বিপিএল আয়োজন না করার বিষয়টি নিয়ে ক্রিকেটারদের পক্ষ থেকে আপত্তি থাকলেও শেষ পর্যন্ত তারা সিদ্ধান্তটির সঙ্গে একমত হয়েছেন।
তবে একই সঙ্গে তাদের উদ্বেগের জায়গা হয়ে দাঁড়িয়েছে আর্থিক বিষয়টি। বিপিএল ক্রিকেটারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ আয়ের একটি সুযোগ হওয়ায় টুর্নামেন্ট না হলে তারা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বেন—এ বিষয়টি বোর্ডের কাছে তুলে ধরেছেন খেলোয়াড়েরা।
এ কারণেই বিপিএল আর্থিক ক্ষতি পুষিয়ে দেওয়ার দাবি বৈঠকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য হয়ে ওঠে।
বিপিএল আর্থিক ক্ষতি পুষিয়ে দেওয়ার দাবি নিয়ে আলোচনা

রবিবারের বৈঠকে থাকা এক ক্রিকেটারের ভাষ্য অনুযায়ী, নতুন কোনো টুর্নামেন্ট আয়োজনের পরিবর্তে অন্য কোনো উপায়ে ক্রিকেটারদের আর্থিক সহায়তা দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
এ ক্ষেত্রে আগের টুর্নামেন্টগুলোর ম্যাচ সংখ্যা বাড়ানোর চেষ্টা করা হতে পারে। তবে এটি এখনো একটি সম্ভাব্য প্রস্তাব হিসেবেই রয়েছে। বিষয়টি চূড়ান্ত হয়নি।
অর্থাৎ, বিপিএল না হওয়ার কারণে তৈরি হওয়া আর্থিক ঘাটতি পূরণে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সেটি নিয়ে বোর্ড ও ক্রিকেটারদের মধ্যে আরও আলোচনা প্রয়োজন।
বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের প্রধান ফাহিম সিনহাও জানিয়েছেন, বিষয়গুলো এখনো আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে। ক্রিকেটারদের সঙ্গে সামনে আবারও বৈঠকে বসবে বোর্ড।
আগেও বিপিএল নিয়ে ক্রিকেটারদের আর্থিক উদ্বেগ ছিল
বিপিএল আয়োজন নিয়ে ক্রিকেটারদের আর্থিক উদ্বেগ নতুন নয়। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিসিবির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়া ফারুক আহমেদের জন্য বিপিএল আয়োজন একটি বড় চ্যালেঞ্জ ছিল।
সে সময় ক্রিকেটারদের অনুরোধ এবং তাদের আর্থিক বিষয় বিবেচনায় নিয়ে শেষ পর্যন্ত টুর্নামেন্ট আয়োজন করা হয়েছিল।
তখন বিপিএলের মান নিয়েও আলোচনা তৈরি হয়। তৎকালীন বাংলাদেশ দলের প্রধান কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহের মন্তব্যের পর বিষয়টি আরও আলোচনায় আসে।
এর পরিপ্রেক্ষিতে মুশফিকুর রহিম বলেছিলেন, বিপিএল না হলে ক্রিকেটারদের সংসার চালানো কঠিন হয়ে যাবে। সেই সময়ের বক্তব্যের সঙ্গে এবারের পরিস্থিতির একটি গুরুত্বপূর্ণ যোগসূত্র রয়েছে—বিপিএল ক্রিকেটারদের আর্থিক বাস্তবতার সঙ্গেও যুক্ত।
২২ জনের বেশি ক্রিকেটার বৈঠকে
রবিবার বিসিবির সঙ্গে বৈঠকে ক্রিকেটারদের প্রতিনিধিত্ব করেন মুশফিকুর রহিম, নাসির হোসেন, মার্শাল আইয়ুব, ইয়াসির আলী, এনামুল হক বিজয়, সাইফ হাসানসহ অন্তত ২২ জন ক্রিকেটার।
অস্ট্রেলিয়া থেকে অনলাইনে বৈঠকে যুক্ত হন টেস্ট দলের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত।
বৈঠকে মুশফিকুর রহিম বেশ সোচ্চার ছিলেন বলে জানা গেছে। তবে আলোচনার মূল বিষয় ছিল বিপিএল না হওয়ায় ক্রিকেটারদের ওপর সম্ভাব্য আর্থিক প্রভাব এবং এর বিকল্প সমাধান।
নাসির হোসেন যা জানালেন
বৈঠক শেষে ক্রিকেটারদের প্রতিনিধি হিসেবে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন নাসির হোসেন। তিনি জানান, মূলত বিপিএল নিয়েই আলোচনা হয়েছে।
নাসিরের বক্তব্য অনুযায়ী, এবার বিপিএল হচ্ছে না—এ বিষয়টি বোর্ড ক্রিকেটারদের কাছে ব্যাখ্যা করেছে। ক্রিকেটাররাও বিষয়টি বুঝেছেন। কিন্তু টুর্নামেন্ট না হলে খেলোয়াড়েরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বেন।
তাই বিপিএলের জায়গায় কী করা যায় এবং ক্রিকেটারদের জন্য ক্রিকেট বোর্ড কীভাবে ভালো কোনো ব্যবস্থা করতে পারে, তা নিয়েই আলোচনা হয়েছে।
নাসির জানান, বোর্ড ও ক্রিকেটারদের পক্ষ থেকে কয়েকটি প্রস্তাব এসেছে। তবে এখনো কোনো প্রস্তাব চূড়ান্ত হয়নি। পরবর্তী সময়ে আবারও আলোচনা হবে।
ম্যাচ সংখ্যা বাড়ানোর সম্ভাবনা
ক্রিকেটারদের আর্থিক ক্ষতি কমানোর সম্ভাব্য উপায় হিসেবে আগের টুর্নামেন্টগুলোর ম্যাচ সংখ্যা বাড়ানোর বিষয়টি আলোচনায় এসেছে।
তবে এটি কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়। বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে মাত্র। বিসিবি ও ক্রিকেটারদের মধ্যে পরবর্তী আলোচনার পর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হতে পারে।
ফলে এখনই বলা যাচ্ছে না, ক্রিকেটারদের আর্থিক ক্ষতি পূরণে ঠিক কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নাসির হোসেনও জানিয়েছেন, বিপিএল আর্থিক ক্ষতি পুষিয়ে দেওয়ার দাবি-ই আলোচনার কেন্দ্রীয় বিষয় ছিল। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, দ্রুত এ বিষয়ে একটি সমাধানে পৌঁছানো যাবে।
সামনে আবারও বৈঠক
রবিবারের বৈঠকের পর বিষয়টি এখনো আলোচনার পর্যায়েই রয়েছে। বিসিবি কর্তারা ক্রিকেটারদের সঙ্গে আবারও বৈঠকে বসবেন।
বোর্ডের দেওয়া প্রস্তাবগুলো নিয়ে নিজেদের সিদ্ধান্ত জানাবেন ক্রিকেটাররা। এরপর উভয় পক্ষের আলোচনার ভিত্তিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে।
বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের প্রধান ফাহিম সিনহার বক্তব্যেও বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে—ক্রিকেটারদের আর্থিক ক্ষতি পূরণের উপায় এখনো নির্ধারিত হয়নি।
ক্রিকেটারদের দাবির গুরুত্ব
বিপিএল এক বছরের জন্য স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত মেনে নিলেও ক্রিকেটারদের জন্য আর্থিক দিকটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। টুর্নামেন্ট না হলে তাদের আয় কমে যাওয়ার আশঙ্কা থেকেই বিকল্প ব্যবস্থার দাবি এসেছে।
অন্যদিকে, নতুন কোনো টুর্নামেন্ট আয়োজন না করে বিদ্যমান টুর্নামেন্টের ম্যাচ সংখ্যা বাড়ানোর মতো প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। তবে এসব প্রস্তাব বাস্তবায়ন করা হবে কি না, সেটি এখনো নিশ্চিত নয়।
এ কারণে পরবর্তী বৈঠকগুলোই বিষয়টির অগ্রগতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
বিসিবি ও ক্রিকেটারদের পরবর্তী পদক্ষেপ
এখন পর্যন্ত দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনার মূল বিষয় তিনটি—বিপিএল এক বছর না হওয়া, ক্রিকেটারদের সম্ভাব্য আর্থিক ক্ষতি এবং সেই ক্ষতি কমাতে বিকল্প ব্যবস্থা।
ক্রিকেটাররা বিপিএল স্থগিতের সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছেন। একই সঙ্গে তারা চান, টুর্নামেন্ট না হওয়ার কারণে যে আর্থিক ক্ষতি হবে, তার একটি বাস্তবসম্মত সমাধান করা হোক।
বোর্ডের পক্ষ থেকেও কয়েকটি প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তবে সেগুলোর কোনটি কার্যকর হবে, তা এখনো নির্ধারিত হয়নি।
এক বছর বিপিএল না আয়োজনের সিদ্ধান্ত মেনে নিলেও ক্রিকেটারদের আর্থিক বিষয়টি এখন আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে। রবিবারের বৈঠকে বিপিএল আর্থিক ক্ষতি পুষিয়ে দেওয়ার দাবি গুরুত্ব পেয়েছে। নতুন টুর্নামেন্টের পরিবর্তে অন্য কোনো উপায়ে সহায়তা কিংবা আগের টুর্নামেন্টগুলোর ম্যাচ সংখ্যা বাড়ানোর মতো প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
তবে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়নি। বিসিবি ও ক্রিকেটারদের মধ্যে আরও বৈঠকের পর এ বিষয়ে সমাধান আসতে পারে।





