প্রশাসনের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসেনি জঙ্গল সলিমপুর, এখনো ভয়, প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণের দাবি থাকলেও বিদ্যুৎ-পানি ব্যবস্থায় স্থানীয় প্রভাব রয়ে গেছে। ২২ সংযোগে ৭২ লাখ টাকা বকেয়া ও হামলার ঘটনায় বাড়ছে উদ্বেগ।
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরে প্রশাসনের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার দাবি করা হলেও বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহসহ দৈনন্দিন জীবনের গুরুত্বপূর্ণ কিছু ব্যবস্থায় এখনো স্থানীয় প্রভাব রয়ে গেছে। গত ৯ মার্চ বড় যৌথ অভিযানের পর এলাকায় পুলিশি তল্লাশিচৌকি ও দুটি অস্থায়ী ক্যাম্প স্থাপন করা হয়। চলাচলও আগের তুলনায় স্বাভাবিক হয়েছে। তবে ক্যাম্পে হামলা, পানির পাইপে বিষাক্ত পদার্থ মেশানোর ঘটনা এবং স্থানীয়ভাবে বিদ্যুৎ-পানি ব্যবস্থাপনার কারণে পুরোপুরি আতঙ্কমুক্ত হতে পারেননি বাসিন্দারা।
প্রথম আলোর প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, জঙ্গল সলিমপুরে প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পরও বিদ্যুতের বৈধ মূল সংযোগের সংখ্যা মাত্র ২২টি। এসব সংযোগ থেকে বিভিন্ন সাবলাইন ছড়িয়ে বসতিতে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। আবার বিদ্যুৎ বিলের একটি অংশ স্থানীয় সংগঠনের রসিদে নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
জঙ্গল সলিমপুর প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণ কতটা কার্যকর

জঙ্গল সলিমপুরে আগে প্রবেশপথে সশস্ত্র পাহারা থাকত এবং অপরিচিত ব্যক্তিদের পরিচয়পত্র দেখাতে হতো। যৌথ বাহিনীর অভিযানের পর সেই পরিস্থিতিতে পরিবর্তন এসেছে। এখন পুলিশের তল্লাশিচৌকি রয়েছে, দুটি অস্থায়ী ক্যাম্পও আছে। মানুষ আগের তুলনায় অবাধে চলাচল করছেন এবং দোকানপাটও খোলা থাকে।
তবে নিরাপত্তা পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। যৌথ বাহিনী ও র্যাবের অস্থায়ী ক্যাম্পে হামলা হয়েছে। পাশাপাশি একটি পুলিশ ক্যাম্পের পানির পাইপে বিষাক্ত বা কীটনাশকজাতীয় পদার্থ মেশানোর ঘটনাও ঘটেছে।
এই পরিস্থিতিতে স্থানীয় বাসিন্দাদের একটি অংশ এখনো নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন। তাঁদের আশঙ্কা, স্থানীয়ভাবে নিয়ন্ত্রক হিসেবে পরিচিত মো. ইয়াসিন ও তাঁর প্রধান সহযোগীরা গ্রেপ্তার না হলে সুযোগ পেয়ে আবার সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করতে পারেন।
আবার উচ্ছেদ নিয়েও বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। তাঁদের দাবি, স্থানান্তরের প্রয়োজন হলে সরকার যেন বিকল্প বাসস্থানের ব্যবস্থা করে।
২২টি মূল বিদ্যুৎ সংযোগ, ছড়িয়ে আছে অসংখ্য সাবলাইন
বিদ্যুৎ ব্যবস্থাই জঙ্গল সলিমপুরের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণের একটি বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড বা পিডিবির তথ্য অনুযায়ী, পুরো এলাকায় বৈধ মূল বিদ্যুৎ সংযোগ রয়েছে মাত্র ২২টি।
এই মূল সংযোগগুলো থেকে অসংখ্য সাবলাইন ছড়িয়ে বিভিন্ন বসতিতে বিদ্যুৎ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু কোন সংযোগ বৈধ, কোনটি অবৈধ এবং কারা এসব সংযোগের বিপরীতে অর্থ সংগ্রহ করছে—এর পূর্ণাঙ্গ হিসাব পিডিবির কাছে নেই।
পাইলট উচ্চবিদ্যালয়সংলগ্ন বাজারের দোকানদার শাহ আলম প্রায় ২০ বছর ধরে সেখানে ব্যবসা করছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি সরকারি বিদ্যুৎ বিল পান না। স্থানীয় ছিন্নমূল বস্তিবাসী সংগ্রাম পরিষদের নামে রসিদ আসে এবং সেই সংগঠনের স্থানীয় ‘বিদ্যুৎ অফিসে’ নগদ টাকা জমা দিতে হয়।
সরেজমিনেও স্থানীয় সংগঠনের রসিদ এবং আলাদা বিদ্যুৎ অফিস থাকার বিষয়টি দেখা গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
২২টি মূল সংযোগের মধ্যে চারটি মো. ইয়াসিনের নামে। অন্য সংযোগগুলো পুরোনো প্রভাবশালী ব্যক্তি ও বিভিন্ন সমিতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নামে রয়েছে।
৭২ লাখ টাকা বকেয়া: অর্থ সংগ্রহের পরও প্রশ্ন
জঙ্গল সলিমপুরের বিদ্যুৎ সংযোগগুলোর বিপরীতে একসময় মোট বকেয়া দাঁড়িয়েছিল ৭২ লাখ টাকা। পরে ৪৪ লাখ টাকা পরিশোধ করা হয়। বাকি ২৮ লাখ টাকা পরিশোধের জন্য প্রথমে ২০ আগস্ট পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছিল। ওই সময়ের মধ্যে টাকা পরিশোধ না হওয়ায় আবার ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে।
এখানে বড় প্রশ্ন হচ্ছে, বাসিন্দাদের কাছ থেকে নিয়মিত বিদ্যুৎ বিলের টাকা সংগ্রহ করা হলে এত বিপুল পরিমাণ বকেয়া কীভাবে তৈরি হলো।
পিডিবি এ বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেনি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
পিডিবির ষোলশহর বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ছানা উল্লাহ জানিয়েছেন, জঙ্গল সলিমপুরের ২২টি মূল সংযোগ প্রায় ২০ বছর আগে নেওয়া হয়েছিল। কীভাবে এবং কোন বিবেচনায় এসব সংযোগ দেওয়া হয়েছিল, সে বিষয়ে তাঁর জানা নেই।
বর্তমানে পিডিবির কর্মীরা বৈধ ও অবৈধ সংযোগ যাচাইয়ের কাজ শুরু করেছেন। তবে সব সংযোগ একসঙ্গে বিচ্ছিন্ন করলে পুলিশ ক্যাম্প, পানির পাম্পসহ সরকারি কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই যাচাই করে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
পানি সরবরাহেও নেই পূর্ণাঙ্গ সরকারি ব্যবস্থা
বিদ্যুতের পাশাপাশি পানি সরবরাহ ব্যবস্থাতেও একই ধরনের জটিলতা রয়েছে। জঙ্গল সলিমপুরে কেন্দ্রীয় সরকারি পানি সরবরাহের পূর্ণাঙ্গ ব্যবস্থা নেই। বিভিন্ন গভীর নলকূপ, পাম্প, জলাধার ও পাইপলাইনের মাধ্যমে বাসিন্দাদের পানি সরবরাহ করা হয়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, এসব পাম্প চালানো ও পাইপলাইন মেরামতের জন্য নিয়মিত অর্থ নেওয়া হয়। কিন্তু কতটি পাম্প রয়েছে, সেগুলো কার জমিতে স্থাপিত, কোন মিটারে চলে, কত পরিবার পানি ব্যবহার করে এবং সংগৃহীত টাকা কার কাছে জমা হয়—এসব বিষয়ে জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন বা কোনো পানি সরবরাহকারী সংস্থার সমন্বিত হিসাব পাওয়া যায়নি।
অর্থাৎ প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পরও পানি ব্যবস্থাপনার একটি বড় অংশ স্থানীয় ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল।
পুলিশ ক্যাম্পের পানির পাইপেও হামলা
আলীনগরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অস্থায়ী ক্যাম্পে পাশের একটি গভীর নলকূপ থেকে পাইপের মাধ্যমে পানি নেওয়া হতো। ২৬ জুলাই সেই পাইপলাইনে হামলার ঘটনা ঘটে।
সকালে ট্যাংকের পানি গ্লাসে ঢালার সময় তিন পুলিশ সদস্য পানিতে সাদা ফেনা দেখতে পান। পরে ওই পানি পান করে তাঁরা অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে বলা হয়, পানির পাইপ কেটে তার ভেতরে বিষাক্ত বা কীটনাশকজাতীয় পদার্থ ঢোকানো হয়েছিল। এরপর কাটা অংশটি প্লাস্টিক দিয়ে মুড়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় একটি মামলাও হয়েছে।
এই ঘটনার পরও চট্টগ্রাম রেঞ্জ পুলিশের উপমহাপরিদর্শক আবদুল কুদ্দুস চৌধুরী দাবি করেছেন, জঙ্গল সলিমপুর এখন পুলিশ প্রশাসনের পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, দু-একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটলেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শনাক্ত করা হয়েছে এবং ইয়াসিন, রোকনসহ তাঁদের সহযোগীদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
৯ মার্চের বড় যৌথ অভিযানে গ্রেপ্তার ২২
জঙ্গল সলিমপুরের পরিস্থিতি বদলাতে গত ৯ মার্চ বড় ধরনের যৌথ অভিযান চালানো হয়। সেনাবাহিনী, পুলিশ, র্যাব, বিজিবি ও অন্যান্য ইউনিটের মোট ৩ হাজার ১৭৩ সদস্য এতে অংশ নেন।
অভিযানে ২২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। উদ্ধার করা হয় আগ্নেয়াস্ত্র, পাইপগান, গুলি, ককটেল, অস্ত্র তৈরির যন্ত্র এবং নজরদারিতে ব্যবহৃত সিসি ক্যামেরা।
অভিযানের পর প্রবেশপথে তল্লাশিচৌকি স্থাপন করা হয়। এস এম পাইলট ও আলীনগর উচ্চবিদ্যালয় এলাকায় দুটি অস্থায়ী ক্যাম্পও স্থাপন করা হয়।
এরপর চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার মো. জিয়াউদ্দীন জানিয়েছিলেন, জঙ্গল সলিমপুর পুরোপুরি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে এসেছে।
কিন্তু এর আড়াই মাসের মধ্যেই সেই নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি হয়।
২৪ মে ক্যাম্পে সশস্ত্র হামলা
২৪ মে দিবাগত রাত প্রায় দুইটার দিকে আলীনগরের যৌথ বাহিনীর ক্যাম্পে সশস্ত্র হামলা হয়। ক্যাম্প লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়। পরে বুলডোজার দিয়ে চৌকির দেয়ালসহ বিভিন্ন অবকাঠামো ভেঙে ফেলা হয়।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যাতে দ্রুত সেখানে পৌঁছাতে না পারে, সে জন্য অন্তত চারটি জায়গায় রাস্তা কেটে দেওয়ার ঘটনাও ঘটে।
ফলে মার্চের অভিযানের পর প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার ঘোষণা থাকলেও মে মাসের এই হামলা নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করে।
পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম জানিয়েছেন, পুলিশ কর্মকর্তারা নিয়মিত জঙ্গল সলিমপুরে যাচ্ছেন এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলছেন। তাঁর মতে, বাসিন্দাদের মধ্যে যাতে আতঙ্ক না ছড়ায়, সে জন্য কিছু উদ্যোগ ধীরে ধীরে নেওয়া হচ্ছে।
৩০টি পাহাড় কেটে প্লট তৈরির অভিযোগ
জঙ্গল সলিমপুরের আরেকটি বড় সমস্যা পাহাড় কেটে জমি ও প্লট তৈরি করা। পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের সূত্র অনুযায়ী, সেখানে অন্তত ৩০টি পাহাড় কেটে প্লট করা হয়েছে।
আলীনগরে আড়াই কাঠার একটি প্লট প্রায় ৩০ লাখ টাকা এবং ছোট প্লট প্রায় ৫ লাখ টাকায় বিক্রির তথ্য পাওয়া গেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, প্রায় ২৬ হাজার ছোট প্লটের মধ্যে ২৩ হাজারই বিক্রি হয়েছে।
এসব প্লটের পূর্ণাঙ্গ নিবন্ধন বা বৈধ দলিল নেই বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে প্লটের ক্রেতারা পরে স্থানীয় বিদ্যুৎ ও পানি ব্যবস্থার গ্রাহকে পরিণত হয়েছেন।
এর ফলে জমির বাণিজ্যের পাশাপাশি বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ ঘিরেও অর্থ আদায়ের একটি দীর্ঘস্থায়ী কাঠামো তৈরি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
সরকারি খাসজমির হিসাব নিয়েও প্রশ্ন
জঙ্গল সলিমপুরের সরকারি জমির পরিমাণ নিয়েও রয়েছে অস্পষ্টতা।
২০২২ সালের ১২ সেপ্টেম্বর সরকারের উচ্চপর্যায়ের একটি সভার কার্যবিবরণীতে জঙ্গল সলিমপুরে ৩ হাজার ১০০ একর খাসজমির কথা উল্লেখ করা হয়েছিল। সেখানে বলা হয়েছিল, এসব জমি পাহাড়খেকো, ভূমিদস্যু ও সন্ত্রাসীরা দখল করে অবৈধ বসতি ও স্থাপনা তৈরি করেছে।
তবে চার বছর পর বর্তমান জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার হিসাবে জঙ্গল সলিমপুরে খাসজমির পরিমাণ প্রায় এক হাজার একর।
জেলা প্রশাসকের ব্যাখ্যা, আগের ৩ হাজার ১০০ একরের হিসাবটি সলিমপুর ইউনিয়নের পাঁচটি মৌজার সম্মিলিত আয়তন হয়ে থাকতে পারে।
তবে আগের হিসাব ভুল ছিল কি না, অথবা বর্তমান হিসাবের সঙ্গে এত বড় পার্থক্যের কারণ কী—তার কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পরও কেন এত প্রশ্ন
জঙ্গল সলিমপুর প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে মূল প্রশ্নটি শুধু আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে সীমাবদ্ধ নয়। বিদ্যুৎ, পানি, জমি এবং স্থানীয় অর্থ সংগ্রহের ব্যবস্থাও এর সঙ্গে যুক্ত।
একদিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের দাবি করা হয়েছে। অন্যদিকে স্থানীয় পর্যায়ে বিদ্যুৎ বিল সংগ্রহ, পানি ব্যবস্থাপনা, ক্যাম্পে হামলা এবং সরকারি জমির হিসাবের অস্পষ্টতা সেই দাবির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করছে।
বাসিন্দাদের নিরাপত্তার পাশাপাশি উচ্ছেদ-পরবর্তী পুনর্বাসন নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। ফলে জঙ্গল সলিমপুরে স্থায়ীভাবে প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলার পাশাপাশি নাগরিক সেবা ও জমি ব্যবস্থাপনার স্বচ্ছতাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
জঙ্গল সলিমপুরে মার্চের যৌথ অভিযানের পর পরিস্থিতিতে দৃশ্যমান পরিবর্তন এসেছে। সশস্ত্র পাহারা ও প্রকাশ্য অস্ত্রধারীদের আনাগোনা কমেছে, তল্লাশিচৌকি ও অস্থায়ী ক্যাম্প স্থাপন হয়েছে এবং মানুষের চলাচল আগের তুলনায় স্বাভাবিক হয়েছে।
তবে বিদ্যুৎ ও পানি ব্যবস্থার স্থানীয় নির্ভরতা, ৭২ লাখ টাকার বকেয়া, ক্যাম্পে হামলা, পানির পাইপে বিষাক্ত পদার্থ মেশানোর ঘটনা এবং সরকারি খাসজমির হিসাব নিয়ে প্রশ্ন এখনো পুরোপুরি মীমাংসিত হয়নি।
তাই জঙ্গল সলিমপুরে প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার দাবি থাকলেও স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তা, সরকারি সেবা এবং জমি ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে আরও স্বচ্ছতা ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি সামনে রয়েছে।





