এইমাত্র

আরও খবর

News Photocard (16)
প্রধানমন্ত্রী এখনো এক-এগারোর নির্যাতনের স্মৃতিচিহ্ন বয়ে বেড়াচ্ছেন, প্রেসসচিব আতিকুর রহমান রুমন
News Photocard (6)
আসিফ মাহমুদের দুর্নীতি এনসিপিতে ওপেন সিক্রেট : রাশেদ খান
News Photocard
প্রশাসনের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসেনি জঙ্গল সলিমপুর, এখনো ভয়
News Photocard (6)
পে স্কেলে বছরে বাড়তি ব্যয় ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা
News Photocard (3)
সেপ্টেম্বরে ৩ লঘুচাপ, স্বল্পমেয়াদি বন্যার শঙ্কা

আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান ‘বিরোধী দল দমনের চক্রান্ত ও ফ্যাসিবাদী পথ’: বিবৃতিতে নাহিদ-আখতার

আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধানকে বিরোধী দল দমনের চক্রান্ত ও ফ্যাসিবাদী পথ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন নাহিদ ইসলাম ও আখতার হোসেন।

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও সদস্যসচিব আখতার হোসেন আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান নিয়ে তীব্র আপত্তি জানিয়েছেন। বুধবার রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে তাঁরা দাবি করেন, বর্তমান দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) নৈতিক ও আইনি বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তাঁদের মতে, জুলাই সনদে বর্ণিত প্রক্রিয়ায় দুদক পুনর্গঠন না হলে এই অনুসন্ধান নিরপেক্ষ হওয়ার সুযোগ নেই।

এনসিপির দুই নেতা অভিযোগ করেছেন, দুদককে আবারও রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ দমনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের চেষ্টা চলছে। তাঁরা বর্তমান কমিশন বাতিল করে জুলাই সনদে উল্লিখিত প্রক্রিয়ায় একটি স্বাধীন, স্বচ্ছ ও যোগ্য ব্যক্তিদের সমন্বয়ে নতুন দুর্নীতি দমন কমিশন গঠনের দাবি জানিয়েছেন।

আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান কীভাবে শুরু

বুধবার দুপুরে দুদকের এক সংবাদ সম্মেলনে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে আসিফ মাহমুদসহ চারজনের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরুর কথা জানানো হয়।

প্রাথমিকভাবে দুদকের পক্ষ থেকে অভিযোগের ‘প্রাথমিক সত্যতা’ পাওয়ার কথা বলা হয়েছিল। তবে পরে সংস্থাটির উপপরিচালক আকতারুল ইসলাম বিষয়টি থেকে সরে আসেন। সাংবাদিকদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে পাঠানো এক বার্তায় তিনি ‘প্রাথমিক সত্যতা’ শব্দটি ব্যবহার না করার অনুরোধ জানান বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

এই ঘটনাকেই দুদকের বিশ্বাসযোগ্যতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার অন্যতম কারণ হিসেবে দেখেছেন নাহিদ ইসলাম ও আখতার হোসেন।

নাহিদ-আখতারের অভিযোগ কী

এনসিপির আহ্বায়ক ও সদস্যসচিবের যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গত সাত মাসে ক্ষমতাসীন দলের বিভিন্ন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে প্রভাব খাটিয়ে সরকারি কাজ হাসিল ও জনগণের অর্থ আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

তাঁদের দাবি, এসব অভিযোগের ক্ষেত্রে দুদক নীরব রয়েছে। অন্যদিকে রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে বিরোধী পক্ষের একজন নেতার বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করায় তাঁরা এর উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

নাহিদ ও আখতারের বক্তব্য অনুযায়ী, কমিশনের এই ভূমিকা তাদের কাছে দুদকের গঠন ও কার্যক্রমের স্বচ্ছতা নিয়ে সন্দেহ তৈরি করেছে। তাঁরা মনে করেন, বর্তমান কমিশনের অধীনে আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্ত সম্ভব নয়।

দুদককে ‘বিরোধী দল দমনের হাতিয়ার’ করার অভিযোগ

বিবৃতিতে এনসিপির দুই নেতা অভিযোগ করেন, বিরোধী দলগুলো যখন জনগণের মৌলিক অধিকার ও গণরায় অনুযায়ী রাষ্ট্র সংস্কারের দাবিতে রাজপথে নামছে, তখন দুদককে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ দমনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের পুরোনো কৌশল আবারও সামনে এসেছে।

তাঁদের ভাষ্য অনুযায়ী, এটি পরাজিত ফ্যাসিবাদী আমলের নিপীড়নমূলক পদ্ধতির পুনরাবৃত্তি। তাঁরা আরও দাবি করেন, অতীতে সরকারের প্রতিপক্ষকে দমনে যেভাবে কমিশনকে ব্যবহার করা হয়েছিল, বর্তমান পরিস্থিতিতেও সেই ধরনের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।

বিবৃতিতে এ ঘটনাকে বিরোধী দল দমনের একটি ‘ড্রেস রিহার্সেল’ হিসেবেও উল্লেখ করা হয়েছে।

অনুসন্ধানের শুরুতেই তথ্য নিয়ে প্রশ্ন

আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান ঘিরে এনসিপির আপত্তির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো অনুসন্ধান শুরুর সময় দুদকের বক্তব্য।

নাহিদ ইসলাম ও আখতার হোসেনের অভিযোগ, দুদকের মুখপাত্র সংবাদমাধ্যমের সামনে অনুসন্ধানের শুরুতেই ‘দুর্নীতির সত্যতা’ পাওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। পরে সাংবাদিকদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে একই কর্মকর্তা ‘প্রাথমিক সত্যতা’ শব্দটি ব্যবহার না করার অনুরোধ জানান।

এনসিপির দুই নেতা মনে করেন, সংবাদ সম্মেলনে একটি বক্তব্য দেওয়ার পর গোপনে তা সংশোধনের চেষ্টা দুদকের ন্যূনতম বিশ্বাসযোগ্যতা ও নিরপেক্ষতাকেও প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।

তাঁদের বক্তব্য, তদন্ত শুরুর আগেই যদি কোনো সংস্থা অভিযোগ সম্পর্কে বিভ্রান্তিকর বা অস্পষ্ট তথ্য প্রকাশ করে, তাহলে সেই সংস্থার অধীনে পরবর্তী তদন্ত কতটা নিরপেক্ষ হবে, তা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন তৈরি হয়।

বর্তমান দুদক নিয়ে এনসিপির অবস্থান

নাহিদ ইসলাম ও আখতার হোসেন বর্তমান দুদককে ‘অসাংবিধানিক ও বিতর্কিত প্রক্রিয়ায়’ গঠিত কমিশন হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাঁদের দাবি, এই কমিশনের কোনো নৈতিক ও আইনি বৈধতা নেই।

তাঁরা বলেছেন, জুলাই সনদে বর্ণিত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কমিশন পুনর্গঠন করতে হবে। তাঁদের প্রস্তাব অনুযায়ী, নতুন কমিশনে নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও যোগ্য ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

এনসিপির দুই শীর্ষ নেতা আরও বলেছেন, দুদককে বিরোধী দল দমনের প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার যেকোনো উদ্যোগ বন্ধ করতে হবে।

সরকারের কাছে কী দাবি জানানো হয়েছে

বিবৃতিতে নাহিদ ইসলাম ও আখতার হোসেন সরকারের প্রতি বর্তমান পথ থেকে সরে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁদের দাবি, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে দুদককে ব্যবহার না করে সরকারের ভেতরে থাকা দুর্নীতিবাজ ও লুটেরাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে।

তাঁরা আরও বলেন, দুদকের মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি পাবলিক ইনস্টিটিউশনকে কোনো রাজনৈতিক দলের অবৈধ কর্মকাণ্ড বা ক্ষমতা রক্ষার মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়।

এনসিপির দুই নেতার বক্তব্য অনুযায়ী, একটি কার্যকর দুর্নীতি দমন কমিশনের জন্য স্বাধীনতা, স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা অপরিহার্য।

দুদকের ভূমিকা নিয়ে বিতর্কের প্রেক্ষাপট

দুর্নীতি দমন কমিশন বাংলাদেশের দুর্নীতি প্রতিরোধ ও তদন্তের দায়িত্বে থাকা গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রতিষ্ঠান। কমিশনের নিজস্ব প্রকাশিত নথিতেও দুর্নীতির অভিযোগ গ্রহণ, অনুসন্ধান ও তদন্তসহ বিভিন্ন কার্যক্রমের কথা উল্লেখ রয়েছে।

এই প্রেক্ষাপটে আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে। একদিকে দুদক যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে অনুসন্ধান শুরু করেছে। অন্যদিকে এনসিপি নেতারা অনুসন্ধানের নিরপেক্ষতা ও কমিশনের বৈধতা নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন।

তবে এই প্রতিবেদনে অনুসন্ধানে ওঠা অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে কোনো সিদ্ধান্ত দেওয়া হচ্ছে না। মূলত এনসিপির দুই নেতার বিবৃতিতে উত্থাপিত অভিযোগ ও দুদকের অনুসন্ধান শুরুর ঘটনাক্রমই এখানে তুলে ধরা হয়েছে।

আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান নিয়ে সামনে কী

বর্তমান পরিস্থিতিতে মূল প্রশ্ন হলো, দুদকের অনুসন্ধান কীভাবে এগোয় এবং সংশ্লিষ্ট অভিযোগগুলোর বিষয়ে কী ধরনের তথ্য সামনে আসে। একই সঙ্গে এনসিপির পক্ষ থেকে বর্তমান কমিশন পুনর্গঠনের যে দাবি জানানো হয়েছে, সরকার সে বিষয়ে কী অবস্থান নেয়, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।

নাহিদ ইসলাম ও আখতার হোসেন স্পষ্টভাবে বলেছেন, বর্তমান কমিশনের অধীনে আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত সম্ভব নয়। তাঁরা কমিশন বাতিল ও জুলাই সনদের প্রক্রিয়ায় নতুন কমিশন গঠনের দাবি জানিয়েছেন।

অন্যদিকে, অনুসন্ধান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে দুদক। ফলে পরবর্তী সময়ে অনুসন্ধানের অগ্রগতি, অভিযোগের ধরন এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থার আনুষ্ঠানিক বক্তব্যই বিষয়টির পরবর্তী দিক নির্ধারণ করবে।

আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান নিয়ে নাহিদ ইসলাম ও আখতার হোসেনের বক্তব্য বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে দুদকের ভূমিকা, নিরপেক্ষতা ও প্রতিষ্ঠানটির গঠনপ্রক্রিয়া নিয়ে বিতর্ক সামনে এনেছে।

এনসিপির দুই নেতা অনুসন্ধানকে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ দমনের চক্রান্ত হিসেবে আখ্যা দিয়ে সরকারকে এই পথ থেকে সরে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। পাশাপাশি তাঁরা বর্তমান দুদক বাতিল করে জুলাই সনদে বর্ণিত প্রক্রিয়ায় স্বাধীন ও স্বচ্ছ কমিশন গঠনের দাবি জানিয়েছেন।

বিষয়টি নিয়ে পরবর্তী সময়ে দুদক বা সরকারের পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য এলে তা অনুসন্ধানের পরবর্তী গতিপথ ও বিতর্কের প্রেক্ষাপট আরও স্পষ্ট করতে পারে।

সর্বাধিক পঠিত