এইমাত্র

আরও খবর

News Photocard (9)
আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান ‘বিরোধী দল দমনের চক্রান্ত ও ফ্যাসিবাদী পথ’: বিবৃতিতে নাহিদ-আখতার
News Photocard (6)
আসিফ মাহমুদের দুর্নীতি এনসিপিতে ওপেন সিক্রেট : রাশেদ খান
News Photocard
প্রশাসনের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসেনি জঙ্গল সলিমপুর, এখনো ভয়
News Photocard (6)
পে স্কেলে বছরে বাড়তি ব্যয় ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা
News Photocard (3)
সেপ্টেম্বরে ৩ লঘুচাপ, স্বল্পমেয়াদি বন্যার শঙ্কা

প্রধানমন্ত্রী এখনো এক-এগারোর নির্যাতনের স্মৃতিচিহ্ন বয়ে বেড়াচ্ছেন, প্রেসসচিব আতিকুর রহমান রুমন

প্রধানমন্ত্রী এখনো এক-এগারোর নির্যাতনের স্মৃতিচিহ্ন বয়ে বেড়াচ্ছেন, প্রেসসচিব আতিকুর রহমান রুমন, ১৯তম কারামুক্তি দিবসে অতীত ভুলে উন্নয়নের বার্তা দেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এক-এগারোর সেনাসমর্থিত সরকারের সময়ে নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন এবং সেই ঘটনার স্মৃতিচিহ্ন এখনো বহন করছেন বলে জানিয়েছেন তাঁর অতিরিক্ত প্রেসসচিব আতিকুর রহমান রুমন। বুধবার সকালে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে উত্তরাঞ্চল ছাত্রফোরাম আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ১৯তম কারামুক্তি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অতীতের দুঃসহ স্মৃতি, প্রতিশোধের রাজনীতি এবং দেশের উন্নয়নে সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন তিনি।

আতিকুর রহমান রুমনের বক্তব্য অনুযায়ী, এক-এগারোর সময় তারেক রহমানকে বিনা ওয়ারেন্টে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল এবং পরে তাঁর ওপর অমানবিক নির্যাতন করা হয়। তাঁর দাবি, সেই নির্যাতনের প্রভাব বা তারেক রহমানের নির্যাতনের স্মৃতিচিহ্ন এখনো তাঁর মধ্যে রয়েছে।

১৯তম কারামুক্তি দিবসে অতীতের স্মৃতি

৩ সেপ্টেম্বর তারেক রহমানের কারামুক্তি দিবস হিসেবে উল্লেখ করে আতিকুর রহমান রুমন বলেন, তাঁর প্রিয় নেতাকে বিনা ওয়ারেন্টে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। এরপর তাঁকে অমানুষিক নির্যাতনের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছিল বলে তিনি দাবি করেন।

রুমন বলেন, সেই সময়ের নির্যাতনের স্মৃতি এখনো প্রধানমন্ত্রী বহন করছেন। তবে তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, তারেক রহমান নিজেই অতীতের সেই দিনগুলো মনে রাখতে চান না।

এ প্রসঙ্গে রুমনের বক্তব্য ছিল, পুরোনো দিনের কথা মনে রেখে প্রতিশোধ নেওয়ার চেষ্টা করলে সেই প্রতিশোধের ধারাবাহিকতা দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। তাঁর মতে, এতে দেশের জনগণ যে আকাঙ্ক্ষা নিয়ে তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রী করেছে, সেই কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

তারেক রহমানের নির্যাতনের স্মৃতিচিহ্ন নিয়ে রুমনের বক্তব্য

আতিকুর রহমান রুমনের বক্তব্যে তারেক রহমানের নির্যাতনের স্মৃতিচিহ্ন বিষয়টি বিশেষভাবে উঠে আসে। তিনি বলেন, অতীতের দুঃসহ ঘটনাগুলোকে সামনে না রেখে দেশের উন্নয়ন ও ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যেতে চান প্রধানমন্ত্রী।

রুমনের ভাষ্য অনুযায়ী, তারেক রহমানের অবস্থান হলো পুরোনো কষ্টকর স্মৃতিগুলো পেছনে রেখে দেশের উন্নয়নে মনোযোগ দেওয়া। তাঁর বক্তব্যে প্রতিশোধের পরিবর্তে ভবিষ্যৎমুখী রাজনীতির ওপর গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বানও উঠে আসে।

এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে তিনি বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদেরও বর্তমান সরকারের কাজ সফল করার জন্য একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।

অতীতের ষড়যন্ত্র নিয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান

প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেসসচিব আরও বলেন, বিএনপি অতীতে যখন দেশ পরিচালনা করেছে, তখন তারেক রহমানকে হেয়প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে দেশ-বিদেশে ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছিল বলে তিনি মনে করেন।

এ ধরনের ষড়যন্ত্রের বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান রুমন। তবে তাঁর বক্তব্যে নির্দিষ্ট কোনো ষড়যন্ত্রের বিস্তারিত বিবরণ দেওয়া হয়নি।

তিনি ছাত্রদল, যুবদলসহ বিএনপির নেতাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাজগুলো সফল করতে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করার আহ্বান জানান।

জনগণকে ক্ষমতার উৎস হিসেবে উল্লেখ

আতিকুর রহমান রুমন তাঁর বক্তব্যে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের একটি বক্তব্যের উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, দেশের জনগণই সব ক্ষমতার উৎস।

এ প্রসঙ্গে তিনি বাংলাদেশের ইতিহাসের বিভিন্ন রাজনৈতিক আন্দোলনের কথা তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় জনগণ এর প্রমাণ রেখেছে। পরে স্বৈরাচার এরশাদ ও ওয়ান-ইলেভেন সরকারকে হটানোর ক্ষেত্রেও জনগণের ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন তিনি।

রুমনের বক্তব্যে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহও উঠে আসে। তিনি বলেন, ছাত্র-জনতা এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে জুলাইয়ে আন্দোলনের মাধ্যমে শেখ হাসিনার সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়েছে। এই বক্তব্য তাঁর নিজের রাজনৈতিক মূল্যায়ন হিসেবে সভায় উপস্থাপিত হয়।

দুঃসময়ের স্মৃতি ও বর্তমান পরিস্থিতি

তারেক রহমানের ১৯তম কারামুক্তি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে রুমন বলেন, আগের ১৯ বছর ধরে যথাসময়ে এই দিবস পালন করা হয়েছে। তবে এবারকার পরিস্থিতি অতীতের সময়ের তুলনায় ভিন্ন বলে তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, অনুষ্ঠানে বসে তাঁর চোখের সামনে আগের দুঃসময়ের বিভিন্ন করুণ স্মৃতি ভেসে উঠছে। তারেক রহমানের নির্যাতনের স্মৃতিচিহ্ন প্রসঙ্গে তাঁর বক্তব্যে সেই সময়ের রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত কষ্টের বিষয়টি গুরুত্ব পায়।

একই সঙ্গে তিনি জানান, অতীতের সেই সময়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানগুলোতে সাংবাদিকদের সহযোগিতা পেয়েছেন। এ জন্য সাংবাদিকদের প্রতি কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেন তিনি।

উন্নয়ন ও সামনে এগিয়ে যাওয়ার বার্তা

আতিকুর রহমান রুমনের বক্তব্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল অতীতের প্রতিশোধের বদলে ভবিষ্যতের দিকে মনোযোগ দেওয়া। তাঁর মতে, পুরোনো নির্যাতনের ঘটনা নিয়ে প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে উঠলে দেশের জনগণ যে প্রত্যাশা নিয়ে তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রী করেছে, তা পূরণ করা কঠিন হবে।

তাই তারেক রহমানের নির্যাতনের স্মৃতিচিহ্ন অতীতের একটি বেদনাদায়ক অধ্যায় হিসেবে উল্লেখ করলেও রুমনের বক্তব্যে দেশের উন্নয়ন ও সামনে এগিয়ে যাওয়ার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

রাজনৈতিকভাবে অতীতের ঘটনাগুলো নিয়ে আলোচনা থাকলেও তাঁর বক্তব্যের মূল আহ্বান ছিল দলীয় নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করা এবং প্রধানমন্ত্রীর কাজ বাস্তবায়নে সহযোগিতা করা।

অনুষ্ঠানে যারা উপস্থিত ছিলেন

জাতীয় প্রেস ক্লাবে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেসসচিব আতিকুর রহমান রুমন।

সভায় উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবীর রিজভী আহমেদ, ভূমি প্রতিমন্ত্রী ও উত্তরাঞ্চল ছাত্রফোরামের উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, ঢাকা জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক নাজমুল হাসান এবং আমরা বিএনপি পরিবারের সদস্যসচিব কৃষিবিদ মোকছেদুল মোমিন মিথুন।

এ ছাড়া উত্তরাঞ্চলের ছাত্রনেতৃবৃন্দ ও শিক্ষার্থীরাও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

তারেক রহমানের নির্যাতনের স্মৃতিচিহ্ন: বক্তব্যের মূল বার্তা

আলোচনা সভায় আতিকুর রহমান রুমনের বক্তব্যে তিনটি বিষয় বিশেষভাবে উঠে এসেছে। প্রথমত, এক-এগারোর সময় তারেক রহমানের গ্রেপ্তার ও নির্যাতনের দাবি। দ্বিতীয়ত, সেই সময়ের স্মৃতি থেকে প্রতিশোধের রাজনীতিতে না যাওয়ার আহ্বান। তৃতীয়ত, দেশের উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ লক্ষ্য বাস্তবায়নে দলীয় নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার অনুরোধ।

রুমনের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অতীতের দুঃসহ ঘটনাগুলো মনে রাখতে চান না। বরং তিনি সেই স্মৃতিকে পেছনে রেখে দেশের উন্নয়নের দিকে এগিয়ে যেতে চান।

এ কারণে তারেক রহমানের নির্যাতনের স্মৃতিচিহ্ন নিয়ে আলোচনা হলেও অনুষ্ঠানের বক্তব্যে ভবিষ্যৎমুখী রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

নের ১৯তম কারামুক্তি দিবস উপলক্ষে জাতীয় প্রেস ক্লাবের আলোচনা সভায় এক-এগারোর সময়ের গ্রেপ্তার ও নির্যাতনের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন তাঁর অতিরিক্ত প্রেসসচিব আতিকুর রহমান রুমন। তিনি দাবি করেন, ওই সময়ের নির্যাতনের স্মৃতিচিহ্ন এখনো প্রধানমন্ত্রী বহন করছেন।

তবে রুমনের বক্তব্যে অতীতের ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রতিশোধ নেওয়ার পরিবর্তে দেশের উন্নয়ন ও ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের প্রধানমন্ত্রীর কাজ সফল করতে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

সর্বাধিক পঠিত