আরও খবর

News Photocard (9)
নতুন পে-স্কেলে বড় পরিবর্তন, নিচের গ্রেডে ৫ শতাংশ ইনক্রিমেন্ট
News Photocard (6)
বৃষ্টি কমায় বাড়ছে গরম; আজ কমতে পারে তাপমাত্রা
News Photocard (15)
ঢাকায় মেয়র পদে ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস, তিন দলের তিন ধরনের প্রার্থী
News Photocard
নবম পে স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারিতে আর কত দিন, যা জানা গেল
News Photocard (30)
সংসদীয় কমিটির সভাপতি পদ নিয়ে বিরোধ, অতীতে কে কতটি পেয়েছে

অনুমোদন পেল ৩ মেট্রো রেল প্রকল্প

অনুমোদন পেল ৩ মেট্রো রেল প্রকল্প, লাইন-১, লাইন-৫ নর্দান ও সাউদার্ন প্রকল্পে মোট ব্যয় প্রায় আড়াই লাখ কোটি টাকা।

রাজধানীর যোগাযোগব্যবস্থার অবকাঠামো উন্নয়নে ৩ মেট্রো রেল প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ অনুষ্ঠিত একনেকের বৈঠকে প্রকল্পগুলো অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেকের চেয়ারম্যান তারেক রহমান। পরিকল্পনা কমিশন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, তিনটি প্রকল্প বাস্তবায়নে মোট ব্যয় হবে প্রায় আড়াই লাখ কোটি টাকা।

অনুমোদিত প্রকল্প তিনটি হলো—মেট্রো রেল লাইন-৫ সাউদার্ন রুট, মেট্রো রেল লাইন-১ এবং মেট্রো রেল লাইন-৫ নর্দান রুট। এর মধ্যে দুটি প্রকল্প জাপানের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা) অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন। অন্যদিকে নতুন লাইন-৫ সাউদার্ন প্রকল্পে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ অর্থায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।

একই সভায় চলমান দুটি প্রকল্পের ব্যয় ও মেয়াদ সংশোধনের প্রস্তাবও অনুমোদন করা হয়েছে। ফলে ঢাকা শহরের বিভিন্ন অংশকে যুক্ত করার পরিকল্পনায় মেট্রোরেল নেটওয়ার্কের আরও তিনটি গুরুত্বপূর্ণ রুট নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো।

৩ মেট্রো রেল প্রকল্পের মোট ব্যয়ের চিত্র

অনুমোদন পাওয়া তিন প্রকল্পের মধ্যে এমআরটি লাইন-১ বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর পর্যন্ত এবং এমআরটি লাইন-৫ নর্দান হেমায়েতপুর থেকে ভাটারা পর্যন্ত বিস্তৃত। নতুন এমআরটি লাইন-৫ সাউদার্ন গাবতলী থেকে দাশেরকান্দি পর্যন্ত যাওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

প্রকল্পগুলোর নির্ধারিত ব্যয় আলাদাভাবে হিসাব করলে বড় অঙ্কের অর্থের প্রয়োজন দেখা যাচ্ছে। এমআরটি লাইন-১-এর ব্যয় ধরা হয়েছে ১ লাখ ১৪ হাজার ৩৯৪ কোটি ৮৯ লাখ টাকা। এমআরটি লাইন-৫ নর্দানের জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৮৯ হাজার ৮৪৮ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। আর লাইন-৫ সাউদার্ন প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ৪৫ হাজার ৫০৩ কোটি টাকা।

সম্প্রতি প্রকাশিত তথ্যেও লাইন-১ ও লাইন-৫ নর্দানের সম্মিলিত সংশোধিত ব্যয় ২ লাখ ৪ হাজার ২৪৩ কোটি ২৫ লাখ টাকার বেশি দেখানো হয়েছে।

এমআরটি লাইন-১: বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর

জাইকার অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন এমআরটি লাইন-১-এর দৈর্ঘ্য ৩১ দশমিক ২৪ কিলোমিটার। প্রকল্পটির নির্ধারিত মোট ব্যয় ১ লাখ ১৪ হাজার ৩৯৪ কোটি ৮৯ লাখ টাকা।

এই রুটে বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর পর্যন্ত মেট্রোরেল সংযোগ স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্পটি জাইকার অর্থায়নে বাস্তবায়িত হচ্ছে এবং একনেকের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তে এর ব্যয় ও মেয়াদ সংশোধনের প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।

এমআরটি লাইন-৫ নর্দান: হেমায়েতপুর-ভাটারা

এমআরটি লাইন-৫ নর্দান প্রকল্পের দৈর্ঘ্য ২০ কিলোমিটার। হেমায়েতপুর থেকে ভাটারা পর্যন্ত এই রুট বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৮৯ হাজার ৮৪৮ কোটি ৩৬ লাখ টাকা।

এ প্রকল্পটিও জাইকার অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন। লাইন-১-এর মতো লাইন-৫ নর্দানের ব্যয় ও মেয়াদ সংশোধনের প্রস্তাবও একই একনেক সভায় উপস্থাপন করা হয়।

এমআরটি লাইন-৫ সাউদার্ন প্রকল্পে নতুন অনুমোদন

নতুন করে অনুমোদন পাওয়া এমআরটি লাইন-৫ সাউদার্ন প্রকল্পটি গাবতলী থেকে দাশেরকান্দি পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। এর মোট দৈর্ঘ্য ১৭ দশমিক ২০ কিলোমিটার। এর মধ্যে ১৩ দশমিক ১০ কিলোমিটার অংশ হবে পাতালপথ।

প্রকল্পটির প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৫ হাজার ৫০৩ কোটি টাকা। এ প্রকল্পে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ অর্থায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।

এর মাধ্যমে রাজধানীর পশ্চিম ও পূর্বাঞ্চলের মধ্যে মেট্রোরেল যোগাযোগের একটি নতুন করিডর তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তবে প্রকল্পের বাস্তবায়ন ও ব্যয়ের বিস্তারিত কাঠামো সম্পর্কে উৎস প্রতিবেদনে এর বাইরে অতিরিক্ত তথ্য দেওয়া হয়নি।

কেন একই সভায় তিন প্রকল্পের প্রস্তাব

পরিকল্পনা কমিশন সূত্র জানিয়েছে, শুরুতে একনেকের মূল এজেন্ডায় শুধু এমআরটি লাইন-৫ সাউদার্ন প্রকল্প উপস্থাপনের কথা ছিল। পরে সমন্বিত অগ্রগতির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে জাপানের অর্থায়নে চলমান এমআরটি লাইন-১ এবং এমআরটি লাইন-৫ নর্দানের ব্যয় ও মেয়াদ সংশোধনের প্রস্তাবও একই সভায় উপস্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

অর্থাৎ, একনেকের বৈঠকে একটি নতুন প্রকল্প অনুমোদনের পাশাপাশি দুটি চলমান প্রকল্পের সংশোধিত প্রস্তাবও বিবেচনা করা হয়েছে। এতে ঢাকার মেট্রোরেল নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের একাধিক রুট একই সময়ে সিদ্ধান্তের আওতায় এসেছে।

তিন রুটে ঢাকার মেট্রোরেল নেটওয়ার্ক

তিনটি প্রকল্পের রুট রাজধানীর ভিন্ন ভিন্ন অংশকে যুক্ত করার লক্ষ্য তুলে ধরে। এমআরটি লাইন-১ বিমানবন্দর ও কমলাপুরকে সংযুক্ত করবে। লাইন-৫ নর্দান হেমায়েতপুর ও ভাটারার মধ্যে সংযোগ স্থাপনের জন্য নির্ধারিত। আর লাইন-৫ সাউদার্ন গাবতলী থেকে দাশেরকান্দি পর্যন্ত যাওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

রুটগুলোর দৈর্ঘ্য ও নির্মাণ কাঠামোও এক নয়। লাইন-১-এর দৈর্ঘ্য ৩১ দশমিক ২৪ কিলোমিটার, লাইন-৫ নর্দানের ২০ কিলোমিটার এবং লাইন-৫ সাউদার্নের ১৭ দশমিক ২০ কিলোমিটার। সাউদার্ন রুটের ১৩ দশমিক ১০ কিলোমিটার পাতালপথ হওয়ার কথা রয়েছে।

ফলে প্রকল্পগুলোর মধ্যে শুধু রুটের পার্থক্যই নয়, নির্মাণ কাঠামো ও অর্থায়নের ক্ষেত্রেও ভিন্নতা রয়েছে।

ব্যয় ও অর্থায়নে বড় পরিসর

তিনটি প্রকল্পের অর্থায়নে জাপান, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক ও দক্ষিণ কোরিয়ার অংশগ্রহণ রয়েছে। লাইন-১ এবং লাইন-৫ নর্দান জাইকার অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন। অন্যদিকে লাইন-৫ সাউদার্নে এডিবি ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ অর্থায়নের কথা বলা হয়েছে।

প্রকল্পগুলোর মোট ব্যয়ের আকারও উল্লেখযোগ্য। বিশেষ করে লাইন-১-এর জন্য ১ লাখ ১৪ হাজার ৩৯৪ কোটি ৮৯ লাখ টাকা এবং লাইন-৫ নর্দানের জন্য ৮৯ হাজার ৮৪৮ কোটি ৩৬ লাখ টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। নতুন সাউদার্ন প্রকল্পে আরও ৪৫ হাজার ৫০৩ কোটি টাকার প্রাক্কলন রয়েছে।

উৎস প্রতিবেদনে তিনটি প্রকল্প বাস্তবায়নে মোট ব্যয় প্রায় আড়াই লাখ কোটি টাকা বলা হয়েছে। পৃথক প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয়ের সঙ্গে এই বড় অঙ্কের বিষয়টি ঢাকার মেট্রোরেল সম্প্রসারণ পরিকল্পনার আর্থিক পরিসরও তুলে ধরে।

ঢাকার গণপরিবহন অবকাঠামোয় সম্ভাব্য পরিবর্তনের পরিসর

একসঙ্গে তিনটি মেট্রো রেল প্রকল্প নিয়ে সিদ্ধান্ত ঢাকার দীর্ঘমেয়াদি গণপরিবহন অবকাঠামো পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তবে প্রকল্প অনুমোদনের পর বাস্তবায়নের বিভিন্ন ধাপ সম্পন্ন হতে হবে—এমন কোনো অতিরিক্ত সময়সূচি বা বাস্তবায়ন-অগ্রগতির তথ্য এই প্রতিবেদনের উৎসে উল্লেখ নেই।

বর্তমান সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, লাইন-১ ও লাইন-৫ নর্দানের ক্ষেত্রে ব্যয় ও মেয়াদ সংশোধনের বিষয়টি অনুমোদন পেয়েছে। আর লাইন-৫ সাউদার্ন নতুন প্রকল্প হিসেবে অনুমোদিত হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে বলা যায়, তিনটি রুটই রাজধানীর ভিন্ন ভিন্ন করিডরকে মেট্রোরেল নেটওয়ার্কের আওতায় আনার পরিকল্পনার অংশ। প্রকল্পগুলোর নির্ধারিত ব্যয়, দৈর্ঘ্য এবং অর্থায়ন কাঠামো আলাদা হলেও একনেকের একই বৈঠকে এগুলো নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

একনেকের অনুমোদনের পরবর্তী প্রেক্ষাপট

একনেকের অনুমোদন প্রকল্পগুলোর প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। তবে উৎস প্রতিবেদনে অনুমোদনের পর কোন প্রকল্পে ঠিক কোন সময় থেকে নির্মাণকাজের পরবর্তী ধাপ শুরু হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য নেই।

তাই বর্তমানে নিশ্চিত তথ্য হলো—১৬ সেপ্টেম্বরের একনেক বৈঠকে রাজধানীর তিনটি মেট্রোরেল প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে; দুটি চলমান প্রকল্পের ব্যয় ও মেয়াদ সংশোধন করা হয়েছে এবং গাবতলী-দাশেরকান্দি রুটের নতুন লাইন-৫ সাউদার্ন প্রকল্প অনুমোদিত হয়েছে।

ঢাকার মেট্রোরেল নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের এই তিন উদ্যোগের মধ্যে প্রকল্পভেদে দৈর্ঘ্য, ব্যয়, অর্থায়ন এবং নির্মাণ কাঠামোর পার্থক্য রয়েছে। এসব প্রকল্পের বাস্তবায়ন অগ্রগতি পরবর্তী সময়ে রাজধানীর গণপরিবহন অবকাঠামোর চিত্রে কী পরিবর্তন আনে, তা নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ার ওপর।

সর্বাধিক পঠিত