এইমাত্র

আরও খবর

News Photocard
নবম পে স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারিতে আর কত দিন, যা জানা গেল
News Photocard (30)
সংসদীয় কমিটির সভাপতি পদ নিয়ে বিরোধ, অতীতে কে কতটি পেয়েছে
News Photocard (24)
জুলাই হত্যা মামলা: কাদের-নাছিম-আরাফাতসহ ৭ জনের রায় ঘোষণা কাল
News Photocard (18)
জাতিসংঘের অধিবেশনে যোগ দিতে ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্ক যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী
News Photocard (9)
এসএসসির পুনর্নিরীক্ষণের ফল আজ, জানবেন যেভাবে

ঢাকায় মেয়র পদে ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস, তিন দলের তিন ধরনের প্রার্থী

ঢাকায় মেয়র পদে ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস, বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপির তিন ধরনের প্রার্থী সামনে এসেছে। উত্তরে-দক্ষিণে সম্ভাব্য লড়াইয়ে বাড়ছে রাজনৈতিক গুরুত্ব।

ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি—এনসিপির তৎপরতা স্পষ্ট হচ্ছে। ঢাকা সিটি নির্বাচন নিয়ে এনসিপি ইতিমধ্যে ঢাকা উত্তরে আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া এবং দক্ষিণে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর নাম ঘোষণা করেছে। বিএনপি ও জামায়াত আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থী ঘোষণা না করলেও দুই সিটিতে তাদের পছন্দের প্রার্থী প্রায় চূড়ান্ত বলে সংশ্লিষ্ট দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

নির্বাচন নির্দলীয় হওয়ায় বিএনপি ও জামায়াত সরাসরি দলীয় প্রতীকে প্রার্থী দেবে না। বরং প্রার্থী বাছাই করে তাঁদের সমর্থন দেওয়ার কৌশল নিয়েছে দল দুটি। ফলে ব্যালটে দলীয় প্রতীক না থাকলেও ঢাকা সিটি নির্বাচনে বিএনপি ও জামায়াতের সাংগঠনিক সমর্থন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

গত ১৫ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, তিন দলের সম্ভাব্য প্রার্থীদের রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক পরিচিতিতেও রয়েছে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য। বিএনপি সামনে আনছে সিটি প্রশাসনের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের, জামায়াতের প্রার্থীদের একজন নগর সংগঠনের নেতা এবং অন্যজন ছাত্ররাজনীতির পরিচিত মুখ। আর এনসিপি বেছে নিয়েছে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সম্মুখসারির দুই ব্যক্তিকে।

বিএনপির পছন্দে প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা

বিএনপির উচ্চপর্যায়ের সূত্রের বরাতে জানা গেছে, ঢাকা উত্তর সিটিতে মেয়র পদে মো. শফিকুল ইসলাম খান এবং দক্ষিণে মো. আবদুস সালামের নাম প্রায় চূড়ান্ত করা হয়েছে।

গত ২২ ফেব্রুয়ারি স্থানীয় সরকার বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনে তাঁদের দুই সিটি করপোরেশনের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। দলীয় সূত্রের ভাষ্য, প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার সময় নাগরিক সেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সিটি নির্বাচনের প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশনাও তাঁদের দেওয়া হয়েছিল।

এ কারণে বিএনপি আনুষ্ঠানিকভাবে সমর্থনের ঘোষণা না দিলেও দুই সিটিতে সম্ভাব্য প্রার্থী নিয়ে দলের মধ্যে বড় ধরনের টানাপোড়েন নেই বলে সূত্রটি জানিয়েছে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটির প্রশাসক আবদুস সালাম বলেছেন, তিনি দায়িত্ব নেওয়ার আগে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন অনেকটা নির্জীব হয়ে পড়েছিল। দায়িত্ব নেওয়ার পর সেই অবস্থার পরিবর্তনে কাজ করার চেষ্টা করছেন তিনি। নাগরিকদের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার পাশাপাশি নির্বাচনের জন্যও প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানান আবদুস সালাম।

তিনি আরও বলেন, জনগণ যা চায়, সেই অনুযায়ী কাজ করার চেষ্টা করছেন এবং এর মধ্য দিয়েই নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

তবে বিএনপির একজন দায়িত্বশীল নেতা জানিয়েছেন, আপাতত শফিকুল ইসলাম খান ও আবদুস সালামের নাম ঠিক থাকলেও শেষ পর্যন্ত কী হবে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা কঠিন। প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে বিভিন্ন মাধ্যমে জরিপ হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।

জামায়াতের প্রার্থীরাও প্রায় চূড়ান্ত

ঢাকা সিটি নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর পছন্দের প্রার্থীর নামও অনেকটা নিশ্চিত বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। ঢাকা উত্তরে মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন এবং দক্ষিণে মো. আবু সাদিক—সাদিক কায়েমকে সমর্থন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলটি।

মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন জামায়াতের ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির। অন্যদিকে সাদিক কায়েম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ—ডাকসুর ভিপি। গত জুলাই পর্যন্ত তিনি ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। বর্তমানে তিনি জামায়াতের সহযোগী সদস্য।

সেলিম উদ্দিন এর আগে সিলেট–৬ (গোলাপগঞ্জ–বিয়ানীবাজার) আসন থেকে সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হন। সাদিক কায়েমের নির্বাচনী পরিচিতি মূলত ডাকসুর ছাত্ররাজনীতিকেন্দ্রিক।

জামায়াতের সূত্র অনুযায়ী, সেলিম উদ্দিন বেশ কিছুদিন ধরে ঢাকা উত্তরের বিভিন্ন এলাকায় সাংগঠনিক ও সেবামূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছেন। সাদিক কায়েমও জামায়াতের অভ্যন্তরীণ কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন এবং সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে তৎপরতা চালাচ্ছেন।

জামায়াতের একজন দায়িত্বশীল নেতা জানিয়েছেন, সাদিক কায়েম এখনো ডাকসুর প্রতিনিধিত্ব করায় জামায়াতে তাঁর সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রকাশ্যে খুব বেশি দেখা যাচ্ছে না।

জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য মু. আতাউর রহমান সরকার বলেছেন, মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছে যাচ্ছেন এবং সাড়া পাচ্ছেন। দলটি তাঁকে নিয়ে আশাবাদী বলেও জানান তিনি।

এদিকে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার জানিয়েছেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য দলটি সাংগঠনিকভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছে। ইউনিয়ন, উপজেলা, জেলা ও সিটি করপোরেশনে প্রার্থী মনোনয়নের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। ঢাকার দুই সিটিতেও প্রার্থী মনোনীত করা হয়েছে, তবে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি।

এনসিপির সরাসরি প্রার্থী ঘোষণা

বিএনপি ও জামায়াতের বিপরীতে এনসিপি ঢাকার দুই সিটিতে সরাসরি প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে। গত রোববার দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ঢাকা উত্তরের জন্য আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া এবং দক্ষিণের জন্য নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর নাম ঘোষণা করেন।

আসিফ মাহমুদের জন্য এটি সরাসরি নির্বাচনী রাজনীতিতে প্রথম পরীক্ষা হতে যাচ্ছে। এর আগে সংসদ বা স্থানীয় সরকারের কোনো নির্বাচনে তিনি অংশ নেননি।

অন্যদিকে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেওয়ার অভিজ্ঞতা রয়েছে। তিনি ঢাকা–৮ আসনে বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা মির্জা আব্বাসের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হন।

সিটি নির্বাচন সামনে রেখে দুই প্রার্থী তাঁদের ভোটার এলাকাও পরিবর্তন করেছেন। আসিফ মাহমুদ উত্তর সিটির ৩৭ নম্বর ওয়ার্ডে এবং নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী দক্ষিণ সিটির ২১ নম্বর ওয়ার্ডে ভোটার হয়েছেন। এরপরই তাঁদের দুই সিটিতে প্রার্থী ঘোষণা করে এনসিপি।

ঢাকা সিটি নির্বাচন: তিন দলের তিন ধরনের প্রার্থী

ঢাকা সিটি নির্বাচনে তিন রাজনৈতিক দলের প্রার্থী বাছাইয়ের ধরনেও পার্থক্য স্পষ্ট। বিএনপি এমন দুই ব্যক্তিকে সামনে রাখছে, যাঁদের সিটি প্রশাসনের সঙ্গে প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা রয়েছে।

ঢাকা দক্ষিণের সম্ভাব্য প্রার্থী আবদুস সালাম দীর্ঘ সময় মহানগর দক্ষিণে বিএনপির অন্যতম শীর্ষ নেতা ছিলেন। তিনি সিটি করপোরেশনের ভারপ্রাপ্ত মেয়রের দায়িত্বও পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য।

ঢাকা উত্তরের সম্ভাব্য প্রার্থী শফিকুল ইসলাম খান জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি। গত সংসদ নির্বাচনে তিনি ঢাকা–১৫ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ওই নির্বাচনে জামায়াতের আমির মো. শফিকুর রহমানের কাছে তিনি পরাজিত হন।

জামায়াতের ক্ষেত্রে উত্তরের প্রার্থী মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন দলটির নগর সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ নেতা। দক্ষিণের সম্ভাব্য প্রার্থী সাদিক কায়েম ছাত্ররাজনীতির পরিচিত মুখ এবং বর্তমানে ডাকসুর ভিপি।

অন্যদিকে এনসিপি বেছে নিয়েছে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সম্মুখসারির দুই মুখকে। ফলে ঢাকা সিটি নির্বাচনে তিন দলের প্রার্থীদের রাজনৈতিক পরিচয় ও অভিজ্ঞতার ধরন এক নয়।

দলীয় প্রতীক না থাকলেও সমর্থনের গুরুত্ব

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, বিএনপি কোনো প্রার্থীকে মনোনয়ন দেবে না। তবে তৃণমূলকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, স্থানীয়ভাবে যিনি জনপ্রিয় ও গ্রহণযোগ্য, তাঁকে ঐক্যবদ্ধভাবে ভোট দিয়ে বিজয়ী করার।

নির্দলীয় নির্বাচনের কারণে ভোটের ব্যালটে দলীয় প্রতীক থাকবে না। তাই প্রার্থীদের ব্যক্তিগত পরিচিতি, স্থানীয় গ্রহণযোগ্যতা ও সাংগঠনিক যোগাযোগ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

একই সঙ্গে বিএনপি ও জামায়াতের মতো বড় রাজনৈতিক শক্তির সমর্থন কোনো প্রার্থীর ভোটের মাঠে কতটা প্রভাব ফেলবে, সেটিও ঢাকা সিটি নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠতে পারে।

সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বিতার নতুন মাত্রা

ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচন শুধু মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; তিন রাজনৈতিক শক্তির জনপ্রিয়তা যাচাইয়ের ক্ষেত্র হিসেবেও এটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তবে নির্বাচনের ফলাফল সম্পর্কে আগাম কোনো সিদ্ধান্তে যাওয়ার সুযোগ নেই।

প্রার্থীদের পরিচয় ও রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার পার্থক্য ভোটারদের সামনে ভিন্ন ভিন্ন বিকল্প তৈরি করছে। একদিকে রয়েছে প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা, অন্যদিকে দলীয় সংগঠন ও ছাত্ররাজনীতির পরিচিতি; পাশাপাশি রয়েছে নতুন রাজনৈতিক পরিচয়ের প্রতিনিধিত্ব।

ফলে ঢাকা সিটি নির্বাচনে ভোটাররা কোন ধরনের নেতৃত্বকে বেশি গ্রহণ করেন, তা নির্বাচনের ফলাফলে প্রতিফলিত হতে পারে। শেষ পর্যন্ত প্রার্থীদের ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা, স্থানীয় পর্যায়ে যোগাযোগ এবং রাজনৈতিক দলগুলোর সমর্থনের সমন্বয় ভোটের মাঠে কী প্রভাব ফেলে, সেটিই হবে বড় বিষয়।

সর্বাধিক পঠিত