এইমাত্র

আরও খবর

News Photocard (21)
মাদক নিয়ন্ত্রণের কর্মকর্তারাই জড়াচ্ছেন মাদক কারবারে
News Photocard
পে স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারি আজ? যা জানা গেল
News Photocard (9)
জিপিএ ৫ পেয়েও প্রথম ধাপে কলেজ পায়নি ২২০৫ শিক্ষার্থী
News Photocard (12)
অনুমোদন পেল ৩ মেট্রো রেল প্রকল্প
News Photocard (9)
নতুন পে-স্কেলে বড় পরিবর্তন, নিচের গ্রেডে ৫ শতাংশ ইনক্রিমেন্ট

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতাদের তিরস্কার করলেন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতাদের তিরস্কার করলেন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, অভ্যন্তরীণ তথ্য ফাঁস নিয়ে সতর্কতা, ডিসেম্বরের দেশে ফেরার ইচ্ছা ও দলীয় কৌশল নিয়েও আলোচনা হয়েছে।

ভারতে অবস্থানরত কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দলের নেতাদের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠকে দিল্লিতে সরাসরি বৈঠকের পরিকল্পনা প্রকাশ্যে চলে আসায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর রাতে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে তিনি ভবিষ্যতে দলের অভ্যন্তরীণ আলোচনা ও কর্মসূচির তথ্য বাইরে না যাওয়ার বিষয়ে নেতাদের সতর্ক করেন বলে দলটির এক জ্যেষ্ঠ নেতা জানিয়েছেন। একই বৈঠকে শেখ হাসিনার সম্ভাব্য দেশে ফেরা, আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কৌশল এবং নেতৃত্ব কাঠামো নিয়েও আলোচনা হয়েছে।

দলীয় সূত্রের বরাতে জানা যায়, স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ৯টার দিকে দিল্লি থেকে অনলাইনে বৈঠকে যুক্ত হন শেখ হাসিনা। বৈঠকের শুরুতেই দিল্লিতে আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতাদের সরাসরি উপস্থিতিতে বৈঠক আয়োজনের পরিকল্পনার তথ্য প্রকাশ্যে আসার বিষয়টি নিয়ে তিনি অসন্তোষ জানান।

শেখ হাসিনার তিরস্কার ও তথ্য গোপন রাখার নির্দেশ

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের এক জ্যেষ্ঠ নেতা হোয়াটসঅ্যাপে সংবাদমাধ্যমকে জানান, বৈঠকে শেখ হাসিনা দলের অভ্যন্তরীণ আলোচনা, কর্মসূচি ও অন্যান্য সাংগঠনিক তথ্য যাতে বাইরে না যায়, সে বিষয়ে নেতাদের সতর্ক করেছেন।

এই শেখ হাসিনার তিরস্কার মূলত বৈঠকের পরিকল্পনা আগেভাগে প্রকাশ্যে চলে আসাকে কেন্দ্র করে বলে দলীয় সূত্রের ভাষ্য। অর্থাৎ, সরাসরি বৈঠকের পরিকল্পনা নিয়ে প্রকাশ্য আলোচনা হওয়ার পর ভবিষ্যতে দলের অভ্যন্তরীণ বিষয় আরও সতর্কতার সঙ্গে পরিচালনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে দিল্লিতে শেখ হাসিনার রাজনৈতিক তৎপরতা বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে সংবেদনশীল একটি বিষয় হয়ে উঠেছে। ভারতের ভূখণ্ড থেকে তাঁর রাজনৈতিক ও গণমাধ্যম-সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ড নিয়ে এর আগে ঢাকার পক্ষ থেকে প্রতিবাদও জানানো হয়েছে।

কেন সরাসরি বৈঠক থেকে অনলাইন বৈঠক

আওয়ামী লীগের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা এরই মধ্যে দিল্লিতে পৌঁছে গিয়েছিলেন। শেখ হাসিনা যে বাসভবনে অবস্থান করছেন, সেখানেই তাদের নিয়ে সরাসরি বৈঠকের পরিকল্পনা ছিল।

তবে শেষ মুহূর্তে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা হয়। সরাসরি বৈঠকের পরিবর্তে অনলাইনে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে এই সরাসরি বৈঠকের খবর প্রকাশ্যে আসার পরই বিষয়টি নিয়ে দলীয় নেতৃত্বের মধ্যে সতর্কতা তৈরি হয় বলে সূত্রের ভাষ্য।

ফলে ১৮ সেপ্টেম্বরের বৈঠকটি ভার্চুয়াল হলেও এতে দলের জ্যেষ্ঠ পর্যায়ের নেতাদের অংশগ্রহণ ছিল। বৈঠকে বর্তমান পরিস্থিতি, সম্ভাব্য রাজনৈতিক করণীয় এবং সাংগঠনিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে।

ডিসেম্বরের মধ্যে দেশে ফেরার ইচ্ছা

বৈঠকে শেখ হাসিনা আবারও ডিসেম্বরের মধ্যে বাংলাদেশে ফেরার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন বলে ওই আওয়ামী লীগ নেতা দাবি করেছেন। একই সঙ্গে এ বিষয়ে ভারতের সরকারের সঙ্গে জোরালোভাবে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার কথাও তিনি জানিয়েছেন।

তবে দেশে ফেরার নির্দিষ্ট তারিখ বা চূড়ান্ত প্রক্রিয়া সম্পর্কে উৎস প্রতিবেদনে কোনো নিশ্চিত তথ্য দেওয়া হয়নি। সাম্প্রতিক সময়েও শেখ হাসিনার সম্ভাব্য দেশে ফেরা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ১৭ সেপ্টেম্বর সংসদীয় কমিটির বৈঠকেও তাঁকে দেশে ফেরাতে সরকারের কূটনৈতিক ও আইনগত উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানানো হয়েছিল।

এ কারণে ডিসেম্বরের মধ্যে ফেরার ইচ্ছার বিষয়টি বর্তমানে শেখ হাসিনার বক্তব্য ও দলীয় সূত্রের দাবির মধ্যেই রয়েছে। বাস্তবে তিনি কখন এবং কীভাবে দেশে ফিরবেন, সে বিষয়ে উৎস প্রতিবেদনে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা বলা হয়নি।

রাজনৈতিক, আইনি ও সাংগঠনিক কৌশল নিয়ে আলোচনা

১৮ সেপ্টেম্বরের বৈঠকে শুধু সম্ভাব্য দেশে ফেরার বিষয় নয়, আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক, আইনি ও সাংগঠনিক কৌশল নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে।

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের আন্দোলন ঘিরে সহিংসতার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ২০২৫ সালের নভেম্বরে অনুপস্থিতিতে শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দেয় বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এই আইনি বাস্তবতাও তাঁর সম্ভাব্য দেশে ফেরার আলোচনার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে।

আওয়ামী লীগের বর্তমান সাংগঠনিক অবস্থার পাশাপাশি দলের নেতাদের ভূমিকা এবং ভবিষ্যৎ কর্মকৌশল নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে আদালতের রায়ও রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ১৫ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের সাত নেতাকে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার খবর প্রকাশিত হয়।

সায়মা ওয়াজেদ পুতুলকে নেতৃত্বে আনার আলোচনা

বৈঠকে শেখ হাসিনার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলকে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে আনার বিষয়টিও আলোচনায় আসে বলে সূত্র জানিয়েছে।

দলটির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী কাঠামো সভাপতিমণ্ডলীতে পুতুলকে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে নেতাদের মধ্যে আলোচনা চলছে বলে ওই সূত্রের দাবি। বর্তমানে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের কোনো পদ নেই।

তবে এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে কি না, তা উৎস প্রতিবেদনে বলা হয়নি। ফলে বিষয়টি আপাতত দলীয় পর্যায়ের আলোচনা হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত কয়েকজন নেতার অংশগ্রহণ

দলীয় সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি একটি মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাত নেতার কয়েকজনও অনলাইন বৈঠকে যুক্ত ছিলেন।

তাদের দলের জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। বৈঠকে তারা নিজেদের বর্তমান পরিস্থিতি এবং বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরেন বলে ওই নেতা জানিয়েছেন।

এতে বোঝা যায়, বৈঠকটি কেবল শীর্ষ নেতৃত্বের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরিকল্পনা নিয়ে সীমাবদ্ধ ছিল না; দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের বর্তমান পরিস্থিতিও আলোচনার অংশ ছিল।

দিল্লিতে শেখ হাসিনার রাজনৈতিক তৎপরতা ঘিরে সংবেদনশীলতা

শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করার পর থেকে দিল্লি থেকে তাঁর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে বাংলাদেশে আলোচনা ও সংবেদনশীলতা তৈরি হয়েছে। তাঁর রাজনৈতিক ও গণমাধ্যম-সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডের বিষয়ে ঢাকা এর আগে ভারত সরকারের কাছে প্রতিবাদ জানিয়েছে।

অন্যদিকে, শেখ হাসিনা অংশ নেওয়া অন্তত একটি অনুষ্ঠানের বিষয়ে নয়াদিল্লি জানিয়েছিল, অনুষ্ঠানটি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান আয়োজন করেছিল এবং এতে ভারত সরকারের কোনো ভূমিকা ছিল না।

এই প্রেক্ষাপটে ১৮ সেপ্টেম্বরের বৈঠকের ধরন পরিবর্তন এবং বৈঠকের তথ্য প্রকাশ্যে চলে আসা বিষয়টি দলীয় নেতৃত্বের জন্য আলাদা গুরুত্ব পেয়েছে বলে সূত্রের বক্তব্যে উঠে এসেছে।

সামনে আওয়ামী লীগের জন্য কী বিষয়গুলো আলোচনায়

১৮ সেপ্টেম্বরের বৈঠকের তথ্য অনুযায়ী, আওয়ামী লীগের সামনে কয়েকটি বিষয় এখন আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে—শেখ হাসিনার সম্ভাব্য দেশে ফেরা, দলের রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কৌশল, আইনি পরিস্থিতি এবং নেতৃত্ব কাঠামো।

এর পাশাপাশি দলের অভ্যন্তরীণ তথ্য কীভাবে নিয়ন্ত্রিত থাকবে, নেতাদের মধ্যে সমন্বয় কীভাবে হবে এবং ভবিষ্যৎ কর্মসূচি কীভাবে পরিচালিত হবে, সেসব বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

শেখ হাসিনার তিরস্কার থেকে অন্তত এটুকু স্পষ্ট যে, দলের অভ্যন্তরীণ বৈঠক ও কর্মসূচির তথ্য বাইরে যাওয়ার বিষয়টি নেতৃত্বের নজরে এসেছে। তবে ভবিষ্যতে এ বিষয়ে কী ধরনের সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সে সম্পর্কে উৎস প্রতিবেদনে কোনো নির্দিষ্ট সিদ্ধান্তের কথা বলা হয়নি।

শেখ হাসিনার সম্ভাব্য দেশে ফেরার বিষয়টিও এখনো নিশ্চিত সময়সূচিতে রূপ নেয়নি। ফলে ডিসেম্বরের মধ্যে ফেরার তাঁর ইচ্ছা, ভারতের সরকারের সঙ্গে আলোচনা এবং আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরিকল্পনা—সবকিছুই পরবর্তী পরিস্থিতি ও সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।

সর্বাধিক পঠিত