এইমাত্র

আরও খবর

Website Feature Image (14)
এল ক্লাসিকো চলাকালে ব্রাজিল তারকার ৫ কোটি টাকার সম্পদ লুট
Website Feature Image (22)
আলভারেজকে তো পেলই না, উল্টো জরিমানা গুনল বার্সেলোনা
Website Feature Image (3)
ইয়ামাল-এমবাপ্পেকে হতাশ করে ব্যালন ডি’অর জিতলেন কেইন
News Photocard (15)
এমবাপ্পের জোড়া গোলে রিয়ালের এল ক্লাসিকো জয়
News Photocard
আজ কার হাতে উঠবে ব্যালন ডি’অর, জেনে নিন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

নেপালের বিপক্ষে উড়ন্ত সূচনা বাংলাদেশের, উচ্ছ্বাসে ভাসলেন জাইমা রহমানও

নেপালের বিপক্ষে উড়ন্ত সূচনা বাংলাদেশের, উচ্ছ্বাসে ভাসলেন জাইমা রহমানও। বাংলাদেশ নারী কাবাডি দল নেপালকে ৩৪-২৪ পয়েন্টে হারিয়ে পাঁচ ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়েছে।

ঢাকার জাতীয় কাবাডি স্টেডিয়ামে নেপাল জাতীয় নারী কাবাডি দলকে ৩৪-২৪ পয়েন্টে হারিয়ে পাঁচ ম্যাচের সিরিজে উড়ন্ত সূচনা করেছে বাংলাদেশ নারী কাবাডি দল। সিরিজের প্রথম ম্যাচে ১০ পয়েন্টের ব্যবধানে জয় পেয়ে বাংলাদেশ ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেছে। ম্যাচে বাড়তি আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কন্যা জাইমা রহমান, যিনি মাঠে উপস্থিত থেকে খেলোয়াড়দের উৎসাহ দেন এবং জয় শেষে বাংলাদেশ দলের সঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নেন।

নেপালের বিপক্ষে বাংলাদেশ নারী কাবাডি দলের দাপুটে জয়

ঘরের মাঠে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মানসিকতা নিয়ে খেলতে নামে বাংলাদেশ। কৌশলী আক্রমণের পাশাপাশি রক্ষণভাগেও স্বাগতিক দল ছিল দৃঢ়। ফলে ম্যাচের প্রথমার্ধেই বাংলাদেশ ১৪-১০ পয়েন্টের লিড নেয়।

প্রথমার্ধে চার পয়েন্টের ব্যবধান তৈরি করার পর দ্বিতীয়ার্ধেও নিজেদের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখে বাংলাদেশ। নেপাল ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করলেও স্বাগতিক মেয়েদের ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের সামনে তা যথেষ্ট হয়নি।

শেষ পর্যন্ত ৩৪-২৪ পয়েন্টের জয় নিয়ে ম্যাচ শেষ করে বাংলাদেশ। ১০ পয়েন্টের ব্যবধানে এই জয়ের ফলে পাঁচ ম্যাচের সিরিজে বাংলাদেশ ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল।

ম্যাচসেরা নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক শ্রাবণী মল্লিক। দলের নেতৃত্ব দেওয়ার পাশাপাশি তার পারফরম্যান্সও বাংলাদেশের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

জাইমা রহমানের উপস্থিতিতে বাড়তি উচ্ছ্বাস

মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি ম্যাচে দর্শকদের আগ্রহের আরেকটি বড় কারণ ছিল জাইমা রহমানের উপস্থিতি। খেলা শুরুর আগে তিনি বাংলাদেশ ও নেপাল—দুই দলের খেলোয়াড়দের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।

ম্যাচ চলাকালে ভিআইপি বক্সে সীমাবদ্ধ না থেকে একপর্যায়ে নিচে নেমে এসে সাধারণ দর্শকের মতো দাঁড়িয়ে খেলা উপভোগ করেন জাইমা রহমান। পুরো ম্যাচে তিনি বাংলাদেশ দলের খেলোয়াড়দের উৎসাহ দেন।

বাংলাদেশের জয়ের পরও তার উচ্ছ্বাস অব্যাহত থাকে। খেলা শেষে তিনি বাংলাদেশ দলের খেলোয়াড়দের কাছে ডাকেন, তাদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং হাস্যোজ্জ্বল মুখে সেলফি তোলেন। খেলোয়াড়দের সঙ্গে তার এই আন্তরিক যোগাযোগ দলের সাফল্য উদযাপনে নতুন মাত্রা যোগ করে।

সিরিজ উদ্বোধনে কাবাডির গুরুত্ব তুলে ধরলেন আইজিপি

বাংলাদেশ ও নেপালের নারী কাবাডি সিরিজের উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এবং বাংলাদেশ কাবাডি ফেডারেশনের সভাপতি আলী হোসেন ফকির।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, কাবাডি বাংলাদেশের জাতীয় খেলা এবং দেশের সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের সাফল্য দেশের ক্রীড়া ঐতিহ্যের জন্য গর্বের বিষয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

আলী হোসেন ফকির আরও বলেন, বাংলাদেশ ও নেপালের মধ্যকার এই সিরিজ দুই দেশের খেলোয়াড়দের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও বন্ধুত্ব আরও দৃঢ় করতে ভূমিকা রাখবে। তার বক্তব্যে ক্রীড়ার মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্ক ও পারস্পরিক যোগাযোগ আরও শক্তিশালী হওয়ার প্রত্যাশা উঠে আসে।

বাংলাদেশ নারী কাবাডি দলকে ঘিরে দর্শকদের প্রত্যাশা

নেপালের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে জয় দিয়ে সিরিজ শুরু করায় বাংলাদেশের আত্মবিশ্বাস এখন বাড়ার কথা। বিশেষ করে প্রথমার্ধে লিড নেওয়ার পর দ্বিতীয়ার্ধেও সেই নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখে ১০ পয়েন্টের জয় পাওয়া দলের সামগ্রিক পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতা তুলে ধরে।

তবে সিরিজের আরও ম্যাচ বাকি রয়েছে। ফলে প্রথম ম্যাচের সাফল্য ধরে রেখে পরবর্তী ম্যাচগুলোতেও একই ধরনের সংগঠিত আক্রমণ ও শক্ত রক্ষণ প্রদর্শন করা বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হবে।

প্রথম ম্যাচে অধিনায়ক শ্রাবণী মল্লিকের নেতৃত্ব এবং দলের সম্মিলিত পারফরম্যান্স বাংলাদেশের জয়ের ভিত্তি তৈরি করেছে। সিরিজের পরবর্তী ম্যাচগুলোতে এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখাই এখন স্বাগতিক দলের প্রধান লক্ষ্য।

কাবাডি বাংলাদেশের জাতীয় খেলা হওয়ায় ঘরের মাঠে এই সিরিজকে ঘিরে দর্শকদের আগ্রহও ছিল উল্লেখযোগ্য। মাঠের জয়, গ্যালারির উৎসাহ এবং খেলোয়াড়দের সঙ্গে জাইমা রহমানের প্রাণবন্ত উপস্থিতি—সব মিলিয়ে জাতীয় কাবাডি স্টেডিয়ামে তৈরি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ক্রীড়া অঙ্গনের কর্মকর্তারা

সিরিজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (ক্রীড়া) আমেনা বেগম এবং জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের পরিচালক (ক্রীড়া) মোহাম্মদ আমিনুল এহসান উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া বাংলাদেশ কাবাডি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক এস এম নেওয়াজ সোহাগসহ ফেডারেশনের অন্যান্য কর্মকর্তারাও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

উদ্বোধনী আয়োজন এবং ম্যাচ—দুই ক্ষেত্রেই বাংলাদেশের কাবাডিকে ঘিরে আগ্রহের বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে। আন্তর্জাতিক প্রতিপক্ষ নেপালের বিপক্ষে সিরিজের শুরুতেই জয় পাওয়ায় বাংলাদেশের মেয়েরা এখন পরবর্তী ম্যাচগুলোর দিকে মনোযোগ দেবে।

পরবর্তী ম্যাচে ধারাবাহিকতা ধরে রাখাই লক্ষ্য

পাঁচ ম্যাচের সিরিজের প্রথম ম্যাচে জয় পাওয়ার পর বাংলাদেশ ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে। এই অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করতে পরবর্তী ম্যাচগুলোতে দলকে একইভাবে মনোযোগী থাকতে হবে।

নেপাল প্রথম ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করলেও বাংলাদেশের রক্ষণ ও আক্রমণের সমন্বয় ভাঙতে পারেনি। তাই পরবর্তী ম্যাচগুলোতে নেপাল আরও শক্তভাবে ফিরে আসার চেষ্টা করবে—এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের জন্য নিজেদের পরিকল্পনা ও পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতা ধরে রাখা গুরুত্বপূর্ণ হবে।

বাংলাদেশ নারী কাবাডি দলের এই জয় দেশের কাবাডি অঙ্গনে ইতিবাচক বার্তা দিয়েছে। সিরিজের শুরুতেই জয় পাওয়ায় দর্শকদের প্রত্যাশাও বেড়েছে। এখন বাংলাদেশের মেয়েরা পরবর্তী ম্যাচগুলোতেও এই জয়যাত্রা ধরে রাখতে পারে কি না, সেদিকেই নজর থাকবে।

নেপালের বিপক্ষে ৩৪-২৪ পয়েন্টের জয় দিয়ে পাঁচ ম্যাচের সিরিজ শুরু করেছে বাংলাদেশ নারী কাবাডি দল। প্রথম ম্যাচে ১০ পয়েন্টের ব্যবধানে জয় এবং ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি অধিনায়ক শ্রাবণী মল্লিকের ম্যাচসেরা হওয়া বাংলাদেশের পারফরম্যান্সকে আরও উজ্জ্বল করেছে। জাইমা রহমানের প্রাণবন্ত উপস্থিতিও ম্যাচের পরিবেশে বাড়তি উচ্ছ্বাস যোগ করেছে। এখন সিরিজের পরবর্তী ম্যাচগুলোতে এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখাই বাংলাদেশের প্রধান লক্ষ্য।

সর্বাধিক পঠিত