এইমাত্র

আরও খবর

Website Feature Image (7)
ফের বাড়ল সোনার দাম, ভরি কত?
Website Feature Image (19)
৪ দফা কমার পর বাড়ল সোনার দাম, ভরি কত
Website Feature Image (6)
নতুন দামে বিক্রি হচ্ছে সোনা, ভরি কত
News Photocard (6)
৪ দফা কমার পর আজ সোনার ভরি কত
News Photocard (3)
১৫ শতাংশ ডলার রাখতে পারবেন পর্যটন ব্যবসায়ীরা

এলপিজি ব্যবসায়ীদের কমিশন বৃদ্ধির প্রস্তাব, বাড়বে দামও

এলপিজি ব্যবসায়ীদের কমিশন বৃদ্ধি নিয়ে বিইআরসির গণশুনানিতে আমদানিকারক, পরিবেশক ও খুচরা বিক্রেতারা কমিশন বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছেন। এতে সিলিন্ডারের দাম বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

বাংলাদেশে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) ব্যবসায়ীদের কমিশন বাড়ানোর প্রস্তাব নিয়ে গণশুনানি করছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, রাজধানীর ইস্কাটনে বিয়াম মিলনায়তনে শুরু হওয়া এই শুনানিতে আমদানিকারকেরা বর্তমান কমিশন দুই থেকে আড়াই গুণ এবং পরিবেশকেরা তিন গুণ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছেন। খুচরা বিক্রেতারাও কমিশন বৃদ্ধির আবেদন করেছেন। এসব প্রস্তাব বিবেচনায় নেওয়া হলে এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বাড়তে পারে। তবে শুনানি শেষে কমিশন ও মূল্য নির্ধারণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে বিইআরসি।

এলপিজি কমিশন বৃদ্ধি নিয়ে গণশুনানিতে যেসব প্রস্তাব

এলপিজি সরবরাহ ও বিক্রির বিভিন্ন পর্যায়ে যুক্ত ব্যবসায়ীরা কমিশন বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন। বিইআরসিতে জমা দেওয়া আবেদন অনুযায়ী, ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রির ক্ষেত্রে আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো বর্তমান কমিশন ১৯১ টাকা থেকে বাড়িয়ে বিভিন্ন হারে নির্ধারণের প্রস্তাব দিয়েছে।

প্রস্তাবগুলোতে প্রতিষ্ঠানভেদে কমিশনের পরিমাণে পার্থক্য রয়েছে। ওমেরা, পেট্রোম্যাক্স, ডেল্টা ও মেঘনা গ্রুপের পক্ষ থেকে পৃথক অঙ্কের কমিশন নির্ধারণের আবেদন করা হয়েছে।

প্রস্তাবিত কমিশনগুলো হলো:

  • ওমেরা: বর্তমান ১৯১ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪৭৮ টাকা।

  • পেট্রোম্যাক্স: বর্তমান ১৯১ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩৪৯ টাকা।

  • ডেল্টা: বর্তমান ১৯১ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩৬০ টাকা।

  • মেঘনা গ্রুপ: বর্তমান ১৯১ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩০০ টাকা।

এই প্রস্তাবগুলোর মধ্যে ওমেরার প্রস্তাবিত কমিশন সবচেয়ে বেশি। প্রতিষ্ঠানটির প্রস্তাব অনুযায়ী, ১২ কেজি সিলিন্ডারের কমিশন বর্তমান ১৯১ টাকা থেকে বেড়ে ৪৭৮ টাকা হতে পারে।

অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রস্তাবেও কমিশন উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। তবে এসব প্রস্তাব এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়। গণশুনানির পর বিইআরসি সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে।

পরিবেশক ও খুচরা বিক্রেতাদের কমিশন কত বাড়ানোর প্রস্তাব

এলপিজি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত শুধু আমদানিকারকেরাই নন, পরিবেশক ও খুচরা বিক্রেতারাও কমিশন বাড়ানোর আবেদন করেছেন। সরবরাহব্যবস্থার এই দুই পর্যায়ে কমিশন বৃদ্ধির প্রস্তাবও গণশুনানির গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

বিইআরসিতে জমা দেওয়া আবেদনের তথ্য অনুযায়ী, পরিবেশকেরা বর্তমানে ৫০ টাকা কমিশন পান। তাঁরা এই অঙ্ক বাড়িয়ে ১৫০ টাকা করার প্রস্তাব দিয়েছেন। অর্থাৎ, তাঁদের প্রস্তাব অনুযায়ী কমিশন বর্তমানের তিন গুণ হতে পারে।

অন্যদিকে, খুচরা বিক্রেতারা বর্তমান ৪৫ টাকা কমিশন থেকে বাড়িয়ে ৭০ টাকা নির্ধারণের আবেদন করেছেন।

প্রস্তাবগুলো একসঙ্গে বিবেচনা করলে দেখা যায়, এলপিজি আমদানি থেকে শুরু করে পরিবেশনের মাধ্যমে খুচরা বিক্রি পর্যন্ত বিভিন্ন পর্যায়ে কমিশন বাড়ানোর দাবি উঠেছে।

তবে কমিশন বৃদ্ধির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও ব্যবসায়ীদের প্রস্তাবের পাশাপাশি ভোক্তাদের ওপর সম্ভাব্য প্রভাবও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, সরবরাহব্যবস্থার বিভিন্ন পর্যায়ে ব্যয় বাড়লে তা চূড়ান্ত বিক্রয়মূল্যের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

এলপিজি কমিশন বৃদ্ধি হলে সিলিন্ডারের দাম কেন বাড়তে পারে

এলপিজি সিলিন্ডারের চূড়ান্ত মূল্য নির্ধারণে সরবরাহব্যবস্থার বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। আমদানিকারক, পরিবেশক ও খুচরা বিক্রেতাদের কমিশন এই ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পর্কিত। ফলে কমিশন বাড়ানোর প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে এলপিজির মূল্য সমন্বয়ের প্রয়োজন দেখা দিতে পারে।

বর্তমান প্রস্তাব অনুযায়ী, আমদানিকারকদের কমিশনে বড় ধরনের পরিবর্তন চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পরিবেশক ও খুচরা বিক্রেতারাও তাঁদের কমিশন বাড়ানোর আবেদন করেছেন। এসব প্রস্তাব অনুমোদিত হলে ব্যবসায়ীদের কমিশন বাবদ ব্যয় বাড়বে।

তবে কমিশন বাড়ানোর প্রস্তাবের অর্থ এই নয় যে সিলিন্ডারের দাম একই অনুপাতে বাড়বে। কমিশন বৃদ্ধির আবেদন, মূল্য নির্ধারণের অন্যান্য বিবেচনা এবং বিইআরসির চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই সম্ভাব্য মূল্য পরিবর্তনের বিষয়টি স্পষ্ট হবে।

এ কারণে এখনই এলপিজির নতুন দাম কত হবে, তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। গণশুনানি শেষে কমিশন কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেটিই এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।

১২ কেজি সিলিন্ডারের কমিশন নিয়ে মূল হিসাব

আমদানিকারকদের দেওয়া প্রস্তাবগুলোতে ১২ কেজি সিলিন্ডারের কমিশন ১৯১ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩০০ থেকে ৪৭৮ টাকার মধ্যে নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানভেদে প্রস্তাবিত অঙ্ক আলাদা হলেও সবগুলোতেই বর্তমান কমিশন বাড়ানোর আবেদন রয়েছে।

পরিবেশকদের ক্ষেত্রে ৫০ টাকা থেকে ১৫০ টাকা এবং খুচরা বিক্রেতাদের ক্ষেত্রে ৪৫ টাকা থেকে ৭০ টাকা কমিশন নির্ধারণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

এই হিসাবগুলো ব্যবসায়ীদের প্রস্তাবিত কমিশনের পরিমাণ তুলে ধরে। এগুলোকে এলপিজির নতুন খুচরা মূল্য হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই। কমিশন ও সিলিন্ডারের বিক্রয়মূল্য দুটি পৃথক বিষয়, যদিও একটির পরিবর্তন অন্যটির ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

বিইআরসি কী বলেছে

গণশুনানিতে বিইআরসির চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ জানিয়েছেন, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর স্বার্থ বিবেচনায় রেখে যৌক্তিকতার ভিত্তিতে এলপিজির দাম সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

তাঁর বক্তব্যের মূল বিষয় হলো, মূল্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টদের স্বার্থ এবং সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা বিবেচনা করা হবে। অর্থাৎ, কমিশন বৃদ্ধির প্রস্তাবগুলো পর্যালোচনা করে মূল্য সমন্বয়ের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

বিইআরসির এই বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, ব্যবসায়ীদের দাবি শুনে সরাসরি কমিশন বা মূল্য বাড়ানোর সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়নি। বরং গণশুনানির পর প্রস্তাবগুলো বিবেচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।

এ ক্ষেত্রে আমদানিকারক, পরিবেশক ও খুচরা বিক্রেতাদের প্রস্তাবের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর স্বার্থের ভারসাম্য বজায় রাখার বিষয়টি গুরুত্ব পাবে বলে জানিয়েছেন কমিশনের চেয়ারম্যান।

গণশুনানির পর কী সিদ্ধান্ত আসতে পারে

গণশুনানির পর কমিশন ও এলপিজির মূল্য নির্ধারণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। ফলে ব্যবসায়ীদের প্রস্তাবের চূড়ান্ত পরিণতি জানতে বিইআরসির পরবর্তী সিদ্ধান্তের অপেক্ষা করতে হবে।

এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, আমদানিকারকেরা দুই থেকে আড়াই গুণ পর্যন্ত কমিশন বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছেন। পরিবেশকেরা তিন গুণ কমিশন চেয়েছেন। খুচরা বিক্রেতারাও বর্তমান কমিশনের তুলনায় বেশি অর্থ নির্ধারণের আবেদন করেছেন।

তবে প্রস্তাবিত সব অঙ্ক অনুমোদন করা হবে কি না, কিংবা কমিশনের পরিমাণে কোনো পরিবর্তন আনা হবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। একইভাবে, কমিশন বৃদ্ধির প্রস্তাবের ভিত্তিতে এলপিজির দাম কতটা পরিবর্তিত হতে পারে, সে সম্পর্কেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে নিশ্চিত তথ্য দেওয়া সম্ভব নয়।

বিইআরসির সিদ্ধান্তের পর কমিশনের নতুন কাঠামো এবং এলপিজির মূল্য সমন্বয়ের বিষয়টি আরও পরিষ্কার হবে।

ভোক্তাদের জন্য কেন বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ

এলপিজি বাংলাদেশের অনেক পরিবারের রান্নার জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। তাই সিলিন্ডারের দাম পরিবর্তনের সম্ভাবনা সাধারণ ভোক্তাদের ব্যয় পরিকল্পনার সঙ্গে সম্পর্কিত।

ব্যবসায়ীদের কমিশন বৃদ্ধির প্রস্তাবের ফলে সম্ভাব্য মূল্য পরিবর্তনের বিষয়টি সামনে এসেছে। তবে এই প্রস্তাবের ভিত্তিতে এখনই সিলিন্ডারের দাম বাড়ছে বলে নিশ্চিতভাবে বলা যাবে না।

ভোক্তাদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বিইআরসি শেষ পর্যন্ত কী সিদ্ধান্ত নেয় এবং সেই সিদ্ধান্তে এলপিজির বিক্রয়মূল্যে কোনো পরিবর্তন আসে কি না। কমিশন বৃদ্ধির আবেদন অনুমোদিত হলে মূল্য সমন্বয়ের বিষয়টি বিবেচনায় আসতে পারে। অন্যদিকে, চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে নতুন দাম সম্পর্কে অনুমাননির্ভর তথ্য ছড়ানো বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে।

এ কারণে এলপিজির বর্তমান মূল্য ও সম্ভাব্য পরিবর্তন সম্পর্কে জানতে বিইআরসির আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের দিকে নজর রাখা প্রয়োজন।

এলপিজির কমিশন ও মূল্য নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ

২৯ অক্টোবর ২০২৬ রাজধানীর ইস্কাটনে বিয়াম মিলনায়তনে শুরু হওয়া গণশুনানিতে আমদানিকারক, পরিবেশক ও খুচরা বিক্রেতাদের কমিশন বাড়ানোর প্রস্তাব উঠে এসেছে। ১২ কেজি সিলিন্ডারের ক্ষেত্রে আমদানিকারকদের প্রস্তাবিত কমিশন ৩০০ থেকে ৪৭৮ টাকা। পরিবেশকদের প্রস্তাব ১৫০ টাকা এবং খুচরা বিক্রেতাদের প্রস্তাব ৭০ টাকা।

বর্তমান কমিশনের তুলনায় এসব অঙ্ক বাড়ানোর আবেদন করা হয়েছে। তবে প্রস্তাবগুলো অনুমোদিত হয়েছে—এমন কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।

বিইআরসি চেয়ারম্যান জালাল আহমেদের বক্তব্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর স্বার্থ বিবেচনা করে যৌক্তিকভাবে এলপিজির দাম সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ফলে শুনানি-পরবর্তী সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে কমিশন কাঠামো ও মূল্য সমন্বয়ের পরবর্তী দিক।

এলপিজি কমিশন বৃদ্ধি নিয়ে আলোচনার মূল বিষয় তাই শুধু ব্যবসায়ীদের কমিশন বাড়ানোর দাবি নয়; বরং সেই দাবি মূল্য নির্ধারণে কী প্রভাব ফেলে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত এলপিজির নতুন দাম সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না।

সর্বাধিক পঠিত