আরও খবর

যে কারণে বাতিল মিশরের গোল (29)
ইরানের কোথায় কোথায় হামলা চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র?
যে কারণে বাতিল মিশরের গোল (18)
কানাডার দাবানলের ধোঁয়া যুক্তরাষ্ট্রে, শুল্ক বাড়ানোর হুমকি ট্রাম্পের
যে কারণে বাতিল মিশরের গোল (12)
চীনের ভূমিধসে নিহত অন্তত ৮, নিখোঁজ ৩৪
যে কারণে বাতিল মিশরের গোল (3)
সাবেক ব্রিটিশ মন্ত্রী উইডিকম্বকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে: পুলিশ
যে কারণে বাতিল মিশরের গোল (12)
যুক্তরাষ্ট্রে ৬ দিনের ব্যবধানে দ্বিতীয় ঘটনা, আইস এজেন্টের গুলিতে অভিবাসী নিহত

কানাডার পণ্যে ৫০% শুল্ক ঘোষণা ট্রাম্পের

কানাডার পণ্যে ৫০% শুল্ক ঘোষণা ট্রাম্পের, গাড়ি, ওয়াইন, হকি স্টিকসহ বিভিন্ন পণ্যে নতুন শুল্কে বাড়ছে বাণিজ্যিক চাপ ও উদ্বেগ।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কানাডা থেকে আমদানি করা বিভিন্ন পণ্যের ওপর অতিরিক্ত ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন। মার্কিন প্রশাসনের দাবি, কানাডা যুক্তরাষ্ট্রের গাড়ি, দুগ্ধজাত পণ্য ও অ্যালকোহলজাত পানীয়ের ক্ষেত্রে বৈষম্যমূলক শুল্ক ও কোটা নীতি অনুসরণ করছে। এই অভিযোগের ভিত্তিতেই কানাডার বিভিন্ন পণ্যে নতুন শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ট্রাম্পের স্বাক্ষর করা সিদ্ধান্তটি আদেশ জারির ৩০ দিন পর কার্যকর হবে।

কানাডার পণ্যে ৫০% শুল্ক: কোন কোন পণ্য থাকছে তালিকায়

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১৯৩০ সালের মার্কিন শুল্ক আইনের ৩৩৮ ধারার অধীনে কানাডা থেকে আমদানি করা বিভিন্ন পণ্যের ওপর অতিরিক্ত ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে।

এই তালিকায় কানাডার ওয়াইন, হকি স্টিক, সিমেন্টসহ বিভিন্ন আমদানিকৃত পণ্য রয়েছে। অর্থাৎ, কানাডার যেসব পণ্য নতুন শুল্কের আওতায় পড়বে, সেগুলো যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রবেশের সময় অতিরিক্ত করের মুখোমুখি হবে।

মার্কিন প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পণ্যগুলো ‘মার্কিন-মেক্সিকো-কানাডা’ বা USMCA চুক্তির আওতায় উৎপাদিত হলেও এই নতুন শুল্ক থেকে ছাড় পাওয়া যাবে না। অর্থাৎ, চুক্তির আওতাভুক্ত পণ্য এবং চুক্তির বাইরে থাকা পণ্য—উভয়ের ক্ষেত্রেই নির্ধারিত শুল্ক প্রযোজ্য হবে।

তবে সব ধরনের কানাডীয় পণ্য এই শুল্কের আওতায় পড়বে না। মার্কিন জ্বালানি, পটাশ, মাছ এবং গুরুত্বপূর্ণ খনিজ পদার্থের মতো কিছু নির্দিষ্ট পণ্যের ক্ষেত্রে এই অতিরিক্ত শুল্ক প্রযোজ্য হবে না।

৩০ দিন পর কার্যকর হবে নতুন শুল্ক

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বাক্ষর করা সিদ্ধান্ত অনুযায়ী,

আদেশ জারির ৩০ দিন পর নতুন শুল্ক কার্যকর হবে। মার্কিন প্রশাসন বলছে, এই সময়সীমা নতুন শুল্ক ব্যবস্থার বাস্তবায়নের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

হোয়াইট হাউসের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৩০ সালের শুল্ক আইনের ৩৩৮ ধারা ব্যবহার করে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ওই ধারার অধীনে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যকে বৈষম্য বা অসম আচরণের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত করা হলে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের সুযোগ রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ কী

মার্কিন প্রশাসনের অভিযোগ, কানাডা মার্কিন পণ্যের ওপর বিভিন্ন শুল্ক ও কোটা আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। বিশেষ করে গাড়ি, অ্যালকোহল ও দুগ্ধজাত পণ্যের বাজারে কানাডার নীতিকে বৈষম্যমূলক বলে দাবি করেছে হোয়াইট হাউস।

মার্কিন তথ্য অনুযায়ী, কানাডায় যুক্তরাষ্ট্রের গাড়ি রপ্তানি ২২ শতাংশ কমেছে। একই সময়ে অ্যালকোহলজাত পণ্যের রপ্তানি কমেছে প্রায় ৮১ শতাংশ।

হোয়াইট হাউসের বক্তব্য, কানাডার নীতির কারণে মার্কিন ব্যবসা ও রপ্তানিকারকেরা বাণিজ্যিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। তাই বাণিজ্যবৈষম্য কমানো এবং মার্কিন ব্যবসাকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যেই নতুন শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।

মার্কিন প্রশাসন আরও জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের শুল্কনীতির বিরুদ্ধে বিশ্বজুড়ে মূলত চীন ও কানাডাই পাল্টা ব্যবস্থা নিয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে কানাডার বিরুদ্ধে নতুন পদক্ষেপকে ওয়াশিংটনের বাণিজ্যনীতির আরও কঠোর অবস্থান হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বাণিজ্য সম্পর্কে বাড়ছে চাপ

যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে ঘনিষ্ঠ বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে। দুই দেশের মধ্যে বিপুল পরিমাণ পণ্য আমদানি-রপ্তানি হলেও সাম্প্রতিক সময়ে শুল্ক, কোটা ও বাণিজ্যনীতি নিয়ে মতবিরোধ বেড়েছে।

নতুন কানাডার পণ্যে ৫০% শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত সেই উত্তেজনাকে আরও বাড়াতে পারে। কারণ, কানাডার বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পণ্য যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রবেশের সময় অতিরিক্ত করের মুখোমুখি হবে।

তবে মার্কিন প্রশাসন যেসব পণ্যকে নতুন শুল্ক থেকে বাদ দিয়েছে, সেগুলোর ক্ষেত্রে বাণিজ্যিক প্রভাব ভিন্ন হতে পারে। বিশেষ করে জ্বালানি, পটাশ, মাছ ও গুরুত্বপূর্ণ খনিজ পদার্থের মতো পণ্য শুল্কমুক্ত রাখার সিদ্ধান্ত এই ব্যবস্থার আওতা নির্দিষ্ট কিছু পণ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ রেখেছে।

অন্যদিকে, ওয়াইন, হকি স্টিক ও সিমেন্টের মতো পণ্য শুল্কের আওতায় আসায় কানাডার নির্দিষ্ট কিছু রপ্তানি খাত নতুন চাপের মুখে পড়তে পারে। তবে এই সিদ্ধান্তের পূর্ণ অর্থনৈতিক প্রভাব কতটা হবে, তা নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট পণ্যের বাণিজ্যিক পরিমাণ এবং দুই দেশের পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর।

দাবানলের ধোঁয়া নিয়ে আলোচনার পর নতুন ঘোষণা

কানাডার ওপর নতুন শুল্ক আরোপের ঘোষণা এমন এক সময়ে এলো, যখন দুই দেশের মধ্যে আরেকটি বিষয় নিয়েও আলোচনা চলছিল।

সাম্প্রতিক সময়ে দাবানলের ধোঁয়া দুই দেশের সীমান্ত এলাকায় ছড়িয়ে পড়া নিয়ে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে আলোচনা হয়।

ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কানাডাকে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছিল। একই সঙ্গে ব্যবস্থা না নিলে অর্থনৈতিক শাস্তির মুখোমুখি হওয়ার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়।

এরপরই কানাডার পণ্যের ওপর নতুন ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা আসে। ফলে দুই দেশের মধ্যে পরিবেশগত বিষয়, বাণিজ্যনীতি এবং অর্থনৈতিক চাপ—সব মিলিয়ে সম্পর্কের ওপর নতুন করে চাপ তৈরি হয়েছে।

কানাডার জন্য নতুন বাণিজ্যিক চ্যালেঞ্জ

নতুন সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে কানাডার নির্দিষ্ট কিছু পণ্য যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে আগের তুলনায় বেশি শুল্কের মুখোমুখি হবে। এর ফলে রপ্তানিকারকদের জন্য মার্কিন বাজারে প্রতিযোগিতা করা আরও কঠিন হতে পারে।

বিশেষ করে যেসব পণ্য নতুন শুল্কের আওতায় এসেছে, সেগুলোর মূল্য ও বাণিজ্যিক অবস্থানে পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে শুল্কের প্রভাব শেষ পর্যন্ত কীভাবে প্রতিফলিত হবে, তা নির্ভর করবে আমদানিকারক, রপ্তানিকারক এবং দুই দেশের পরবর্তী বাণিজ্যিক সিদ্ধান্তের ওপর।

এদিকে, কানাডা অতীতে মার্কিন শুল্কনীতির বিরুদ্ধে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়া দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম। ফলে নতুন শুল্ক ঘোষণার পর দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক প্রতিক্রিয়া আরও বাড়তে পারে—এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ার আগে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক আলোচনা বা নীতিগত পরিবর্তনের সুযোগ থাকছে। কারণ, শুল্ক কার্যকর হওয়ার জন্য ৩০ দিনের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।

এই সময়ের মধ্যে কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্যনীতি নিয়ে নতুন আলোচনা হতে পারে। তবে বর্তমান সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, শুল্ক কার্যকর হলে নির্ধারিত কানাডীয় পণ্যের ওপর অতিরিক্ত ৫০ শতাংশ কর আরোপ হবে।

নতুন কানাডার পণ্যে ৫০% শুল্ক ঘোষণার ফলে যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা বাণিজ্য সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। একদিকে ওয়াশিংটন এটিকে মার্কিন ব্যবসার স্বার্থ রক্ষার পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে। অন্যদিকে, কানাডার রপ্তানি খাতের জন্য এটি নতুন অর্থনৈতিক চাপ তৈরি করতে পারে।

সামগ্রিকভাবে, এই সিদ্ধান্ত দুই দেশের দীর্ঘদিনের বাণিজ্যিক সম্পর্কের ওপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। তবে পরবর্তী সময়ে কানাডার প্রতিক্রিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য আলোচনার ওপর পরিস্থিতির পরবর্তী গতিপথ অনেকটাই নির্ভর করবে।

সর্বাধিক পঠিত