এইমাত্র

আরও খবর

News Photocard (33)
মহাকাশে আরো এক ধাপ এগোল ভারত, সফল জিএসএলভি-এফ১৭ মিশন
News Photocard (12)
নিউইয়র্কে বাংলাদেশি প্রবাসীদের জন্য কল সেন্টার চালু
News Photocard (3)
যুক্তরাষ্ট্রে বন্দুক হামলায় নিহত ১, আহত ৫
News Photocard (21)
ইমরান খান ও তার স্ত্রীর বিষয়ে পাকিস্তান হাইকোর্টের নতুন নির্দেশ
News Photocard (12)
একযোগে জর্ডান, ইরাক, কুয়েত ও বাহরাইনে মার্কিন অবস্থানে পাল্টা হামলা ইরানের

হরমুজে নৌ চলাচল নিশ্চিত করতে সামরিক প্রস্তুতি নিচ্ছে দক্ষিণ কোরিয়া

হরমুজে নৌ চলাচল নিশ্চিত করতে সামরিক প্রস্তুতি নিচ্ছে দক্ষিণ কোরিয়া, নৌ চলাচল নিশ্চিত করতে সামরিক সরঞ্জাম পাঠানোর সম্ভাবনা থাকলেও সিদ্ধান্ত এখনো চূড়ান্ত নয়।

হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে সম্ভাব্য সামরিক সহায়তা নিয়ে আলোচনা করছে দক্ষিণ কোরিয়া। দেশটির বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম সরকারি ও সামরিক সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, চলতি বছরের শেষ হওয়ার আগেই হরমুজে সামরিক সরঞ্জাম পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। তবে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের কার্যালয় বলেছে, সামরিক সরঞ্জাম পাঠানোর বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

বৃহস্পতিবার রাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্ভাব্য সরঞ্জাম পাঠানোর জন্য দক্ষিণ কোরিয়ার সরকার সংসদের অনুমোদন নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। মন্ত্রিসভায় বিষয়টি পর্যালোচনার পর চলতি মাসেই সংসদে অনুমোদনের প্রস্তাব জমা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

তবে কী ধরনের সরঞ্জাম পাঠানো হবে, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। সম্ভাব্য বিকল্প হিসেবে সামুদ্রিক টহল বিমান, রসদ সরবরাহকারী জাহাজ এবং সমুদ্রের মাইন শনাক্ত ও অপসারণে সক্ষম বিশেষ ইউনিট পাঠানোর বিষয় বিবেচনা করা হচ্ছে।

হরমুজ প্রণালিতে কেন এত গুরুত্ব?

হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হিসেবে পরিচিত। মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল ও অন্যান্য জ্বালানি পরিবহনের ক্ষেত্রে এই প্রণালির গুরুত্ব রয়েছে। ফলে এই পথে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখা শুধু সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর জন্য নয়, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।

এই প্রেক্ষাপটেই দক্ষিণ কোরিয়ার সম্ভাব্য ভূমিকা নিয়ে আলোচনা সামনে এসেছে। দেশটির সরকার হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে কী ধরনের বাস্তব সহায়তা দিতে পারে, তা নিয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা করছে।

তবে আলোচনার বিষয়টি এখনো সিদ্ধান্তে রূপ নেয়নি। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের কার্যালয় সামরিক সরঞ্জাম পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে—এমন খবর সরাসরি অস্বীকার করেছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার হরমুজ সামরিক প্রস্তুতিতে কী থাকতে পারে?

প্রতিবেদনগুলোতে সম্ভাব্য তিন ধরনের সহায়তার কথা উঠে এসেছে। এর মধ্যে প্রথমটি হলো একটি সামুদ্রিক টহল বিমান পাঠানো। দ্বিতীয় সম্ভাবনা হিসেবে রসদ সরবরাহকারী একটি জাহাজ পাঠানোর কথা বিবেচনা করা হচ্ছে। তৃতীয়ত, সমুদ্রের মাইন শনাক্ত ও অপসারণের জন্য একটি বিশেষ ইউনিট পাঠানোর বিষয়ও আলোচনায় রয়েছে।

তবে এসবের কোনটি বা কতগুলো পাঠানো হবে, তা এখনো নির্ধারিত হয়নি। ফলে দক্ষিণ কোরিয়ার সম্ভাব্য সামরিক সহায়তার সুনির্দিষ্ট ধরন সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তের জন্য সরকারি প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার অপেক্ষা করতে হবে।

সরকার সামরিক সরঞ্জাম পাঠানোর বিষয়ে সংসদের অনুমোদন নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে বলে কয়েকটি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। মন্ত্রিসভায় পর্যালোচনার পর চলতি মাসেই সংসদে প্রস্তাব জমা দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা

সম্ভাব্য সহায়তার ধরন ও পরিমাণ নিয়ে দক্ষিণ কোরিয়া যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সসহ কয়েকটি দেশের সঙ্গে আলোচনা করছে। এতে বোঝা যায়, হরমুজ প্রণালিতে সম্ভাব্য দক্ষিণ কোরীয় ভূমিকা নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও সমন্বয়ের বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।

তবে উৎসের তথ্যে এসব আলোচনার চূড়ান্ত ফলাফল বা কোনো দেশের সঙ্গে নির্দিষ্ট সমঝোতার কথা জানানো হয়নি। তাই এ বিষয়ে নিশ্চিত কোনো সিদ্ধান্তের দাবি করার সুযোগ নেই।

প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের বক্তব্য কী?

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের কার্যালয় বা ব্লু হাউস জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে দেশটি কী ধরনের বাস্তব সহায়তা দিতে পারে, সে বিষয়ে আলোচনা চলছে।

কিন্তু সামরিক সরঞ্জাম পাঠানোর সিদ্ধান্ত সরকার নিয়েছে—এমন সংবাদকে তারা প্রত্যাখ্যান করেছে। প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, এ ধরনের খবরের সঙ্গে ‘বাস্তব তথ্যের মিল নেই’।

অর্থাৎ, একদিকে দক্ষিণ কোরিয়া হরমুজ প্রণালিতে সম্ভাব্য সহায়তার ধরন নিয়ে আলোচনা করছে, অন্যদিকে সামরিক সরঞ্জাম পাঠানোর বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সরকারি সিদ্ধান্ত হয়নি। এই পার্থক্যটি বর্তমান পরিস্থিতি বোঝার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সামরিক সম্পর্কের প্রভাব

দক্ষিণ কোরিয়ার সম্ভাব্য এই পদক্ষেপের আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দেশটির সামরিক সম্পর্কও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। গত আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে দাবি করেছিলেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে সহায়তা করতে দক্ষিণ কোরিয়া অস্বীকৃতি জানিয়েছিল।

ট্রাম্প তাঁর অবস্থানের একটি কারণ হিসেবে দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক মহড়া কমিয়ে আনার বিষয়টি উল্লেখ করেছিলেন।

তবে বর্তমান প্রতিবেদনে ট্রাম্পের ওই দাবির বিষয়ে দক্ষিণ কোরিয়া কী প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে, তা উল্লেখ করা হয়নি। একইভাবে হরমুজ প্রণালিতে সম্ভাব্য সহায়তার সঙ্গে ওই বক্তব্যের সরাসরি সম্পর্কের বিষয়েও কোনো চূড়ান্ত তথ্য দেওয়া হয়নি।

দক্ষিণ কোরিয়ার সম্ভাব্য পদক্ষেপের বর্তমান অবস্থা

বর্তমান তথ্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালিতে দক্ষিণ কোরিয়ার সম্ভাব্য ভূমিকা এখনো আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে। সামরিক সরঞ্জাম পাঠানোর বিষয়ে সংসদীয় অনুমোদন নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করার খবর প্রকাশিত হলেও সরকার চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা নিশ্চিত করেনি।

সম্ভাব্য সহায়তার মধ্যে টহল বিমান, রসদ সরবরাহকারী জাহাজ এবং মাইন শনাক্ত ও অপসারণের বিশেষ ইউনিটের কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সসহ কয়েকটি দেশের সঙ্গে সহায়তার ধরন ও পরিমাণ নিয়ে আলোচনা চলছে।

ফলে এখনই দক্ষিণ কোরিয়া হরমুজ প্রণালিতে নির্দিষ্ট সামরিক ইউনিট বা সরঞ্জাম পাঠাচ্ছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক হবে না। বরং বিষয়টি মন্ত্রিসভা, সংসদীয় অনুমোদন এবং সরকারের পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।

আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে সম্ভাব্য গুরুত্ব

হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল ও অন্যান্য জ্বালানি পরিবহন হওয়ায় সেখানে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। এ কারণে প্রণালিটিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখার বিষয়টি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ।

দক্ষিণ কোরিয়ার সরকারও এই নৌ চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে কী ধরনের বাস্তব সহায়তা দেওয়া সম্ভব, তা পর্যালোচনা করছে বলে প্রেসিডেন্টের কার্যালয় জানিয়েছে। তবে সেই সহায়তার চূড়ান্ত রূপ এখনো নির্ধারিত হয়নি।

দক্ষিণ কোরিয়ার হরমুজ সামরিক প্রস্তুতি: সামনে কী?

দক্ষিণ কোরিয়ার হরমুজ সামরিক প্রস্তুতি নিয়ে প্রকাশিত তথ্য থেকে আপাতত দুটি বিষয় স্পষ্ট। প্রথমত, হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে দক্ষিণ কোরিয়ার সম্ভাব্য ভূমিকা নিয়ে সরকারি পর্যায়ে আলোচনা চলছে। দ্বিতীয়ত, সামরিক সরঞ্জাম পাঠানোর বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

সংসদীয় অনুমোদনের প্রক্রিয়া, মন্ত্রিসভার পর্যালোচনা এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনার পর বিষয়টি আরও পরিষ্কার হতে পারে। বর্তমানে সম্ভাব্য সহায়তার ধরন ও পরিমাণ নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।

তাই দক্ষিণ কোরিয়ার পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ভর করবে সরকারের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের ওপর। এর আগে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনের পাশাপাশি প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের বক্তব্যও বিবেচনায় রাখা জরুরি।

হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে দক্ষিণ কোরিয়ার সম্ভাব্য ভূমিকা আন্তর্জাতিক নজরে এসেছে। সামুদ্রিক টহল বিমান, রসদ সরবরাহকারী জাহাজ কিংবা মাইন শনাক্ত ও অপসারণকারী বিশেষ ইউনিট পাঠানোর সম্ভাবনা আলোচনায় থাকলেও কোন পদক্ষেপ নেওয়া হবে, তা এখনো চূড়ান্ত নয়।

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ও সামরিক সরঞ্জাম পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়ে গেছে—এমন খবর অস্বীকার করেছে। ফলে বর্তমানে বিষয়টিকে চূড়ান্ত সামরিক মোতায়েন নয়, বরং সম্ভাব্য সহায়তা নিয়ে চলমান সরকারি আলোচনা হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

সর্বাধিক পঠিত