একাধিক বিদেশি দূতাবাসে হুমকির ইমেইল, তদন্তে সিটিটিসি, ডিএমপিকে জানানো বার্তার বিষয়ে দূতাবাসগুলোকে আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে পুলিশ। তদন্ত অব্যাহত।
ঢাকার একাধিক বিদেশি দূতাবাসে পাঠানো দূতাবাসে হুমকির ইমেইল নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট। কয়েকদিন আগে পাওয়া এসব বার্তার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দূতাবাসগুলো ডিএমপিকে অবহিত করার পর পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখতে অনুসন্ধান শুরু করে। সিটিটিসি কর্মকর্তারা দুটি দূতাবাসের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করে কর্মীদের আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শও দিয়েছেন।
কী ঘটেছিল দূতাবাসগুলোতে
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকার একাধিক বিদেশি দূতাবাসে একটি হুমকির ইমেইল পাঠানো হয়। কয়েকদিন আগে এসব বার্তা পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট দূতাবাসগুলো বিষয়টি ডিএমপিকে জানায়।

এরপর ডিএমপির সিটিটিসি ইউনিট ঘটনাটি নিয়ে অনুসন্ধান শুরু করে। পুলিশের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে মূল তদন্তের কাজ শুরু করার কথা জানানো হয়েছে।
তবে হুমকির ইমেইলগুলোর প্রকৃতি বা এতে নির্দিষ্ট কী ধরনের হুমকি দেওয়া হয়েছিল, সে বিষয়ে উৎস প্রতিবেদনে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি। তাই এ বিষয়ে অতিরিক্ত কোনো তথ্য ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই।
দূতাবাসের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সিটিটিসির বৈঠক
বৃহস্পতিবার দুপুরে বারিধারার একটি কার্যালয়ে সিটিটিসি কর্মকর্তারা দুটি দূতাবাসের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে সাম্প্রতিক হুমকির ইমেইল নিয়ে আলোচনা হয়।
সিটিটিসি কর্মকর্তারা দূতাবাসের কর্মীদের আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দেন। অর্থাৎ, পুলিশ বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করলেও প্রাথমিক পর্যায়ে দূতাবাস সংশ্লিষ্টদের মধ্যে অযথা আতঙ্ক তৈরি না করার বার্তা দিয়েছে।
এই বৈঠকের মধ্য দিয়ে সংশ্লিষ্ট দূতাবাসগুলোর সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যোগাযোগের বিষয়টিও সামনে এসেছে।
দূতাবাসে হুমকির ইমেইল: তদন্তে কী বলছে পুলিশ
শনিবার (২২ আগস্ট) রাতে সিটিটিসির যুগ্ম পুলিশ কমিশনার মুন্সী শাহাবুদ্দীন সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি জানান, একাধিক দূতাবাস ও ব্যক্তির কাছে পাঠানো ইমেইল বার্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার মতো কিছু নেই।
তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে। এখনো কাউকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। তবে পুলিশের ধারণা, এগুলো প্রতারণামূলক ইমেইল বা ইমেইল স্ক্যামের অংশ হতে পারে।
এ বক্তব্য থেকে স্পষ্ট, তদন্তের বর্তমান পর্যায়ে পুলিশ হুমকির বার্তাগুলোকে সরাসরি কোনো নির্দিষ্ট অপরাধী বা গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত করেনি। বরং বার্তাগুলোর উদ্দেশ্য ও উৎস শনাক্ত করার কাজ চলছে।
ইমেইল স্ক্যামের সম্ভাবনা
সিটিটিসির যুগ্ম পুলিশ কমিশনারের বক্তব্য অনুযায়ী, এসব বার্তা প্রতারণামূলক ইমেইল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে বিষয়টি নিশ্চিত করে বলা হয়নি।
ইমেইল স্ক্যামের ক্ষেত্রে ভুয়া বা বিভ্রান্তিকর বার্তার মাধ্যমে আতঙ্ক, বিভ্রান্তি কিংবা অন্য কোনো উদ্দেশ্য হাসিলের চেষ্টা করা হতে পারে। কিন্তু এই নির্দিষ্ট ঘটনায় ইমেইলগুলো পাঠানোর উদ্দেশ্য কী ছিল, তা এখনো তদন্তাধীন।
পুলিশের একটি সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়ানোর উদ্দেশ্যে কোনো একটি চক্র এ ধরনের হুমকির বার্তা পাঠিয়ে থাকতে পারে।
তবে এখন পর্যন্ত ওই চক্রের পরিচয় বা এর সঙ্গে কারা জড়িত, সে বিষয়ে কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
তদন্ত এখনো চলমান
ঘটনাটির তদন্তে সিটিটিসি কাজ করছে এবং পুলিশ ইতোমধ্যে মূল তদন্ত শুরু করেছে। এখনো কাউকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছেন সিটিটিসির যুগ্ম পুলিশ কমিশনার।
ফলে এই মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ইমেইলগুলোর উৎস এবং প্রকৃতি সম্পর্কে তদন্তের ফলাফল। পুলিশ সেগুলো খতিয়ে দেখছে এবং সংশ্লিষ্ট দূতাবাসগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে।
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি নিয়ে দূতাবাসগুলোর পক্ষ থেকে ডিএমপিকে অবহিত করা হয়েছে এবং এরপরই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অনুসন্ধানে নামে।
আতঙ্ক না ছড়ানোর পরামর্শ
হুমকির ইমেইল পাওয়ার পরও সিটিটিসি দূতাবাসের কর্মীদের আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। একই সঙ্গে পুলিশ ঘটনাটিকে গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছে।
এ ধরনের ঘটনায় গুজব বা যাচাইহীন তথ্য ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি আরও বিভ্রান্তিকর হতে পারে। তাই তদন্ত শেষ হওয়ার আগে পুলিশ বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্যের বাইরে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক হবে না।
বিশেষ করে, এখনো যেহেতু কাউকে শনাক্ত করা হয়নি এবং পুলিশ এগুলোকে সম্ভাব্য প্রতারণামূলক ইমেইল হিসেবে দেখছে, তাই তদন্তের চূড়ান্ত ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করাই গুরুত্বপূর্ণ।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে তদন্তের গুরুত্ব
ঢাকার একাধিক বিদেশি দূতাবাসে একই ধরনের হুমকির ইমেইল পৌঁছানোর বিষয়টি পুলিশ গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। এ কারণেই ডিএমপির বিশেষায়িত সিটিটিসি ইউনিট অনুসন্ধানে যুক্ত হয়েছে।
তবে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে এখন পর্যন্ত কোনো বাস্তব হামলা, হামলার ঘটনা বা নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তিকে দায়ী করার তথ্য পাওয়া যায়নি। পুলিশ বরং ইমেইলগুলোর সত্যতা, উদ্দেশ্য ও উৎস সম্পর্কে তদন্ত করছে।
সিটিটিসির পক্ষ থেকে আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ এবং তদন্ত চলমান থাকার তথ্যই বর্তমানে এ ঘটনার বিষয়ে নিশ্চিতভাবে জানা বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে।
তদন্তের মাধ্যমে ইমেইলগুলো কোথা থেকে পাঠানো হয়েছে এবং এর পেছনে কারা রয়েছে, তা শনাক্ত করার চেষ্টা করছে পুলিশ। একই সঙ্গে এগুলো আসলেই কোনো হুমকি নাকি প্রতারণামূলক বার্তা—সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সিটিটিসির যুগ্ম পুলিশ কমিশনার জানিয়েছেন, তদন্ত চলছে। তাই তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঘটনাটির সঙ্গে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা চক্রকে যুক্ত করা হয়নি।
বর্তমানে সংশ্লিষ্ট দূতাবাসগুলো ডিএমপিকে বিষয়টি জানিয়েছে, সিটিটিসি তদন্ত করছে এবং দুটি দূতাবাসের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকও করেছে। পাশাপাশি দূতাবাসের কর্মীদের আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ঢাকার একাধিক বিদেশি দূতাবাসে পাঠানো দূতাবাসে হুমকির ইমেইল নিয়ে সিটিটিসির তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। পুলিশ এখনো কাউকে শনাক্ত করতে পারেনি। তবে সিটিটিসির ধারণা, বার্তাগুলো প্রতারণামূলক ইমেইল হতে পারে।
পুলিশের একটি সূত্র সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়ানোর সম্ভাব্য উদ্দেশ্যের কথাও জানিয়েছে। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো আসেনি। তদন্ত শেষ হলে ইমেইলগুলোর উৎস, উদ্দেশ্য ও প্রকৃতি সম্পর্কে আরও পরিষ্কার তথ্য পাওয়া যেতে পারে।





