আরও খবর

যে কারণে বাতিল মিশরের গোল (10)
দেশের বাজারে আজ সোনার ভরি কত?
যে কারণে বাতিল মিশরের গোল (13)
দেশের বাজারে আজ সোনার ভরি কত?
যে কারণে বাতিল মিশরের গোল (22)
দাম বাড়ার পর আজ যে দামে বিক্রি হচ্ছে সোনা
যে কারণে বাতিল মিশরের গোল (18)
আন্ত সীমান্ত ডিজিটাল লেনদেনে নতুন কাঠামো চালু
যে কারণে বাতিল মিশরের গোল (9)
কমলো স্বর্ণের দাম, ভরি কত?

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিতে মূল্যস্ফীতির ওপর তেমন প্রভাব পড়বে না: বাণিজ্যমন্ত্রী

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিতে মূল্যস্ফীতির ওপর তেমন প্রভাব পড়বে না বাণিজ্যমন্ত্রীর গুরুত্বপূর্ণ দাবি, ডিজেলে ১৫ টাকা বাড়লেও বাজারে বড় নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না—জানুন বিস্তারিত।

বাংলাদেশে ডিজেলের দাম প্রতি লিটারে ১৫ টাকা বাড়লেও জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতি পরিস্থিতির ওপর বড় ধরনের প্রভাব পড়বে না বলে দাবি করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। মঙ্গলবার সচিবালয়ে দ্রব্যমূল্য ও বাজার পরিস্থিতিবিষয়ক টাস্কফোর্সের একাদশ বৈঠক শেষে তিনি বলেন, বৈশ্বিক জ্বালানি অস্থিরতার মধ্যেও সরকার এমন ব্যবস্থা নিচ্ছে যাতে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী অতিরিক্ত চাপের মুখে না পড়ে।

মন্ত্রী একইসঙ্গে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, বাজারে কোনো সিন্ডিকেট বা অবৈধ যোগসাজশের মাধ্যমে জনগণকে জিম্মি হতে দেবে না সরকার। আসন্ন ঈদুল আজহা সামনে রেখে সরবরাহ ব্যবস্থা ও বাজার নিয়ন্ত্রণেও বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে।

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতি নিয়ে সরকারের অবস্থান

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে যুক্তরাষ্ট্রসহ অনেক দেশে জ্বালানি তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। সে তুলনায় বাংলাদেশে মূল্যবৃদ্ধি সীমিত। তার ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম ২ ডলার ৮০ সেন্ট থেকে ৫ ডলারের বেশি হয়েছে, কিন্তু বাংলাদেশে ডিজেলে লিটারপ্রতি বৃদ্ধি ১৫ টাকা।

তিনি জানান, চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় একটি পণ্যবাহী ট্রাকের পরিবহন ব্যয়ে এই মূল্যবৃদ্ধির কারণে অতিরিক্ত প্রায় ৪৫০ টাকা যুক্ত হতে পারে। সরকারের হিসাব অনুযায়ী, এই ব্যয় বৃদ্ধি সামগ্রিক মূল্যস্ফীতিতে বড় ধাক্কা দেবে না।

মন্ত্রী বলেন, যদি কোনো প্রভাব পড়েও, তা যেন নিম্ন ও প্রান্তিক আয়ের মানুষের ওপর না পড়ে, সে জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

মূল্যস্ফীতি এখনো ৮ শতাংশের ওপরে

বৈঠকে জানানো হয়, দেশে বর্তমান মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ৭১ শতাংশ। সরকার মূল্যস্ফীতিকে দুটি মূল কারণে দেখছে—চাহিদাজনিত ও ব্যয়জনিত।

খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেন, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির মাধ্যমে নিম্ন আয়ের মানুষের সুরক্ষা নিশ্চিতের চেষ্টা চলছে। বর্তমানে ৭০ লাখের বেশি মানুষ ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) মাধ্যমে সুবিধা পাচ্ছেন।

প্রতি মাসে ট্রাক সেল ছাড়াও দুই ঈদ উপলক্ষে বিশেষ বিক্রয় কার্যক্রম চলছে। ফ্যামিলি কার্ডের আওতায়ও ভর্তুকি মূল্যে পণ্য দেওয়ার উদ্যোগ রয়েছে।

বৈশ্বিক সংঘাত ও সরবরাহ চাপে উদ্বেগ

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ও বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ তৈরি হয়েছে। তবে সরকার নিবিড়ভাবে বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছে।

তিনি ইঙ্গিত দেন, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রভাব থাকলেও দেশীয় বাজারে অস্থিরতা ঠেকাতে প্রশাসনিক নজরদারি বাড়ানো হচ্ছে।

টাস্কফোর্স বৈঠকের সিদ্ধান্ত ও বাস্তবায়ন অগ্রগতি

বৈঠক সূত্রে জানানো হয়, গত ২৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত দশম বৈঠকে সাতটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে ছয়টি বাস্তবায়িত হয়েছে।

শুধু গরম মসলার ওপর আরোপিত শুল্ক হার পুনর্বিবেচনার বিষয়টি এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। এ বিষয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) আবেদন করা হয়েছে এবং তা পর্যালোচনাধীন।

বাণিজ্যসচিবের দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত সচিব আবদুর রহিম খান সংবাদ ব্রিফিংয়ের সূচনা বক্তব্যে এসব অগ্রগতির তথ্য তুলে ধরেন।

সয়াবিন সরবরাহ, সিন্ডিকেট ও বাজার কারসাজি নিয়ে সতর্কতা

বোতলজাত সয়াবিনের সরবরাহ তুলনামূলক কম হলেও খোলা সয়াবিন পর্যাপ্ত আছে বলে দাবি করেন বাণিজ্যমন্ত্রী।

তিনি বলেন, নির্ধারিত মূল্যের বাইরে অতিরিক্ত দাম নেওয়ার অভিযোগ সরকারের নজরে রয়েছে। প্রয়োজনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, কোনো গোষ্ঠী বা ব্যক্তি কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না।

“এটি ১৮ কোটি মানুষের দেশ, কাউকে বাজার জিম্মি করতে দেওয়া হবে না”—বাণিজ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের মূল বার্তা ছিল এমনই।

ঈদুল আজহা সামনে রেখে বিটিটিসির সুপারিশ

আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন (বিটিটিসি) কয়েকটি সুপারিশ তুলে ধরে।

সুপারিশগুলোর মধ্যে রয়েছে:

  • মসলা আমদানিতে ব্যবসায়ীদের উৎসাহ দেওয়া
  • পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধির অজুহাতে অতিমুনাফা ঠেকানো
  • অবৈধ মজুতদারদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা
  • লবণের সরবরাহ ও দাম স্বাভাবিক রাখা
  • এলসি খোলা পণ্যের আমদানি ঈদের আগেই নিশ্চিত করা

সরকারের পক্ষ থেকে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, এসব সুপারিশ বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো কাজ করবে।

বাজার স্থিতিশীল রাখতে সরকারের বার্তা

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাজারে কৃত্রিম সংকট, সিন্ডিকেট বা কারসাজি সরকার বরদাশত করবে না। জ্বালানি মূল্য সমন্বয়ের সুযোগ নিয়ে কেউ অস্বাভাবিক মুনাফা করার চেষ্টা করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, পরিবহন ব্যয়ের সামান্য পরিবর্তন কিছু পণ্যের দামে প্রভাব ফেলতে পারে, তবে সরকারের দাবি—তা সামগ্রিক মূল্যস্ফীতিতে বড় সংকট তৈরি করবে না।

সরকারের বক্তব্য অনুযায়ী, জ্বালানি মূল্য সমন্বয়ের পরও সরবরাহ ব্যবস্থা, সামাজিক নিরাপত্তা এবং বাজার নজরদারির মাধ্যমে চাপ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা থাকবে।

ঈদকে সামনে রেখে নিত্যপণ্যের সরবরাহ ধরে রাখা এবং মূল্য স্থিতিশীল রাখাই এখন সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার।

সর্বাধিক পঠিত