নতুন পে স্কেলের প্রজ্ঞাপন চলতি সপ্তাহেই আসতে পারে। বিজি প্রেস ও আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং শেষে গেজেট প্রকাশ হবে; বেতন বাড়বে ৩ ধাপে।
নতুন বেতন কাঠামোর গেজেট প্রকাশের প্রক্রিয়া শেষ পর্যায়ে রয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের পে স্কেল-সংক্রান্ত কাজের সঙ্গে যুক্ত এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার তথ্য অনুযায়ী, নতুন পে স্কেলের প্রজ্ঞাপনের খসড়া ইতিমধ্যে বাংলাদেশ সরকারি মুদ্রণালয়ে (বিজি প্রেস) পাঠানো হয়েছে। সেখানে প্রয়োজনীয় কাজ শেষ হওয়ার পর খসড়াটি অর্থ মন্ত্রণালয়ে ফেরত আসবে। এরপর আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং সম্পন্ন করে এসআরও নম্বর দিয়ে গেজেট প্রকাশ করা হবে।
সবকিছু ঠিক থাকলে নতুন পে স্কেলের প্রজ্ঞাপন চলতি সপ্তাহেই প্রকাশ হতে পারে। ১০ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবারকেও সম্ভাব্য তারিখ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছিল। তবে ভেটিংসহ কয়েকটি আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার ওপরই চূড়ান্ত প্রকাশ নির্ভর করছে।
নতুন পে স্কেলের প্রজ্ঞাপন প্রকাশের প্রক্রিয়া কোথায়
নতুন পে স্কেলের গেজেট প্রকাশের আগে কয়েকটি প্রশাসনিক ধাপ সম্পন্ন করতে হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, নতুন পে স্কেলের রেজল্যুশন বুধবার বিজি প্রেসে পাঠানো হয়েছে।
বিজি প্রেসে প্রয়োজনীয় মুদ্রণ ও আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শেষ হলে নথিটি আবার অর্থ মন্ত্রণালয়ে আসবে। এরপর খসড়াটি আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের জন্য পাঠানো হবে।
আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং শেষ হওয়ার পর এসআরও নম্বর দিয়ে গেজেট প্রকাশের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। অর্থাৎ, প্রজ্ঞাপন প্রকাশের আগে বিজি প্রেস, অর্থ মন্ত্রণালয় ও আইন মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়া শেষ করা প্রয়োজন।
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে নতুন বেতন কাঠামো নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষা রয়েছে। ফলে গেজেট প্রকাশের সময় এবং এর পরবর্তী বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে আগ্রহও রয়েছে।
৩১ আগস্ট মন্ত্রিসভায় অনুমোদন

এর আগে গত ৩১ আগস্ট মন্ত্রিসভার বৈঠকে নবম জাতীয় পে স্কেলের প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নতুন বেতন কাঠামো ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।
এর আগে মন্ত্রিপরিষদসচিব নাসিমুল গনি জানিয়েছিলেন, চলতি সপ্তাহেই এ বিষয়ে আদেশ জারি হতে পারে। তবে ভেটিংসহ কিছু আনুষ্ঠানিকতা বাকি থাকায় গেজেট প্রকাশে কিছুটা সময় লাগছে।
এখন প্রজ্ঞাপনের খসড়া বিজি প্রেসে যাওয়ায় প্রক্রিয়াটি আরও এগিয়েছে। তবে চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশের আগে আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং এবং এসআরও নম্বর দেওয়ার ধাপও শেষ করতে হবে।
সর্বনিম্ন গ্রেডে বেতন ২০ হাজার টাকা
প্রস্তাবিত নতুন বেতন কাঠামোয় নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির হার তুলনামূলকভাবে বেশি রাখা হয়েছে।
বর্তমানে ২০তম গ্রেডে মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা। নতুন কাঠামোয় এই গ্রেডের মূল বেতন ২০ হাজার টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব রয়েছে।
অন্যদিকে প্রথম গ্রেডের মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে দ্বিগুণ বাড়িয়ে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
অর্থাৎ, প্রস্তাবিত কাঠামোয় সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ গ্রেডের মূল বেতনের ক্ষেত্রেই উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে নতুন বেসিকের পুরো সুবিধা একসঙ্গে কার্যকর হবে না।
তিন ধাপে বাড়বে মূল বেতন
নতুন বেতন কাঠামোর একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো বাড়তি মূল বেতন ধাপে ধাপে কার্যকর করার পরিকল্পনা।
প্রস্তাব অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের মধ্যেই বর্ধিত অর্থ তিন ধাপে মূল বেতনের সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
১০ম থেকে ২০তম গ্রেডে ৫০-২৫-২৫ শতাংশ
১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের ক্ষেত্রে বর্ধিত অংশের অর্ধেক অর্থাৎ ৫০ শতাংশ প্রথম ধাপে কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে।
এরপর দ্বিতীয় ধাপে বাড়তি অংশের ২৫ শতাংশ এবং তৃতীয় ধাপে বাকি ২৫ শতাংশ মূল বেতনের সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
অর্থাৎ এই গ্রেডগুলোর ক্ষেত্রে বাড়তি বেতন ৫০ শতাংশ, ২৫ শতাংশ এবং ২৫ শতাংশ—এই তিন ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।
১ম থেকে ৯ম গ্রেডে ৪০-৩০-৩০ শতাংশ
প্রথম থেকে নবম গ্রেডের ক্ষেত্রে ধাপের হার কিছুটা ভিন্ন।
এই গ্রেডগুলোর জন্য বাড়তি অংশের ৪০ শতাংশ প্রথম ধাপে, ৩০ শতাংশ দ্বিতীয় ধাপে এবং বাকি ৩০ শতাংশ তৃতীয় ধাপে নতুন বেসিকের সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
ফলে দুই গ্রুপের গ্রেডে বাস্তবায়নের ধাপ আলাদা হলেও উভয় ক্ষেত্রেই তিন ধাপে বর্ধিত মূল বেতন কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে।
নতুন ভাতা কার্যকর হবে ২০২৮ সালে
শুধু মূল বেতন নয়, নতুন পে স্কেলে বিভিন্ন ভাতার কাঠামোতেও পরিবর্তনের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে বাড়তি বেসিক কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সব ভাতা নতুন হারে দেওয়া হবে না।
প্রস্তাব অনুযায়ী, বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, শিক্ষা ও যাতায়াতসহ বিভিন্ন ভাতা ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে নতুন কাঠামোয় দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
এতে বোঝা যায়, নতুন বেতন কাঠামোর মূল বেতন এবং ভাতার সুবিধা একই সময়ে পুরোপুরি কার্যকর করার পরিকল্পনা নেই। মূল বেতনের বর্ধিত অংশ তিন ধাপে যুক্ত করার পর নির্ধারিত সময় অনুযায়ী বিভিন্ন ভাতাও নতুন কাঠামোয় কার্যকর করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
গেজেট প্রকাশের পর কী স্পষ্ট হবে
নতুন পে স্কেলের প্রজ্ঞাপন প্রকাশের পর নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের আনুষ্ঠানিক বিষয়গুলো আরও স্পষ্ট হবে। বিশেষ করে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর হওয়ার তারিখ, ধাপে ধাপে বেতন যুক্ত করার প্রক্রিয়া এবং পরবর্তী সময়ে ভাতা বাস্তবায়নের বিষয়গুলো প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক রূপ পাবে।
বর্তমানে খসড়া বিজি প্রেসে পাঠানো হয়েছে। এরপর তা অর্থ মন্ত্রণালয়ে ফিরে আসবে এবং আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিংয়ের জন্য পাঠানো হবে। ভেটিং শেষ হলে এসআরও নম্বর দিয়ে গেজেট প্রকাশ করা হবে।
অর্থাৎ, প্রজ্ঞাপন প্রকাশের আগে আরও কিছু প্রশাসনিক আনুষ্ঠানিকতা বাকি রয়েছে। এসব ধাপ শেষ হওয়ার পরই নতুন বেতন কাঠামোর সরকারি গেজেট প্রকাশিত হবে।
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হওয়ার আরেকটি কারণ হলো, নতুন কাঠামো অনুযায়ী মূল বেতনে বড় পরিবর্তনের পাশাপাশি ভাতা কার্যকরের সময়ও নির্ধারিত রয়েছে। তবে এসব সুবিধা কীভাবে এবং কোন ধাপে বাস্তবায়িত হবে, তার আনুষ্ঠানিক ভিত্তি হবে প্রকাশিত প্রজ্ঞাপন।
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অপেক্ষা
নতুন পে স্কেল নিয়ে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষা চলছে। ৩১ আগস্ট মন্ত্রিসভায় প্রস্তাব অনুমোদনের পর গেজেট প্রকাশের প্রক্রিয়া শুরু হয়।
এরপর খসড়া বিজি প্রেসে পাঠানো এবং আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিংয়ের প্রস্তুতি নেওয়ার মাধ্যমে প্রক্রিয়াটি এগিয়েছে। চলতি সপ্তাহে গেজেট প্রকাশের সম্ভাবনা থাকলেও চূড়ান্ত সময় নির্ভর করছে বাকি আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার ওপর।
প্রজ্ঞাপন প্রকাশিত হলে নতুন বেতন কাঠামোর বাস্তবায়ন বিষয়ে সরকারি নির্দেশনা আনুষ্ঠানিকভাবে পাওয়া যাবে। এর মাধ্যমে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের অপেক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ শেষ হবে।





