ওডেগার্ডের গোলে কষ্টার্জিত নাপোলির বিপক্ষে ১-০ ব্যবধানে জয় পেয়েছে আর্সেনাল। ৭৫ মিনিটের ওই গোলে টানা পাঁচ ম্যাচ জয়ের পথে গানাররা। ম্যাচে মোট নেয় ২৬ শট।
নাপোলির বিপক্ষে ১-০ ব্যবধানে কষ্টার্জিত জয় পেয়েছে আর্সেনাল। ইতালির স্তাদিও ডিয়েগো আর্মান্ডো ম্যারাডোনা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে দীর্ঘ সময় গোলশূন্য থাকার পর ৭৫ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে দুর্দান্ত শটে গোল করেন আর্সেনাল অধিনায়ক মার্টিন ওডেগার্ড। তাঁর ওই গোলেই শেষ পর্যন্ত পূর্ণ তিন পয়েন্ট নিশ্চিত করে ইংলিশ ক্লাবটি।
ম্যাচটি যখন ড্রয়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল, তখন দুই দলের গোলরক্ষক অ্যালেক্স মেরেট ও দাভিদ রায়া নিজেদের দক্ষতার প্রমাণ দেন। একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সেভে তাঁরা গোলের সুযোগগুলো আটকে রাখেন। শেষ পর্যন্ত মেরেটকে পরাস্ত করে ম্যাচের পার্থক্য গড়ে দেন ওডেগার্ড।
রয়টার্সের প্রতিবেদনেও নাপোলির মাঠে আর্সেনালের ১-০ জয়ের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
৭৫ মিনিটে ওডেগার্ডের গোল

ম্যাচের প্রথমার্ধ থেকে আর্সেনাল গোলের জন্য চেষ্টা চালিয়ে যায়। তবে নাপোলির গোলরক্ষক মেরেট বারবার বাধা হয়ে দাঁড়ান। অন্যদিকে আর্সেনালের গোলপোস্টের নিচে রায়াও নিজেদের দায়িত্ব ঠিকভাবে পালন করেন।
দুই গোলরক্ষকের পারফরম্যান্সের কারণে নির্ধারিত সময়ের শেষ ভাগ পর্যন্ত ম্যাচে কোনো দলই এগিয়ে যেতে পারেনি। ফলে ম্যাচটি ড্রয়ের দিকেই এগোচ্ছিল।
এই পরিস্থিতি বদলে দেন ওডেগার্ড।
ম্যাচের ৭৫ মিনিটে নাপোলির রক্ষণভাগের বাইরে থেকে সুযোগ পেয়ে শক্তিশালী শট নেন আর্সেনালের অধিনায়ক। বলটি মেরেটকে পরাস্ত করে জালে জড়ায়। ওডেগার্ডের গোল আর্সেনালকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেয় এবং শেষ পর্যন্ত সেটিই ম্যাচের জয় নির্ধারণী গোল হয়ে থাকে।
২৬ শট নিয়েও এক গোল আর্সেনালের
আর্সেনালের আক্রমণাত্মক প্রচেষ্টার পরিসংখ্যানেও ম্যাচটির কঠিন চিত্র ফুটে ওঠে। পুরো ম্যাচে গোলের জন্য ২৬টি শট নেয় গানাররা। এর মধ্যে ৮টি শট লক্ষ্যে ছিল।
তবে আর্সেনালের একাধিক সুযোগ আটকে দেন মেরেট। নাপোলির গোলরক্ষক নিশ্চিত তিনটি গোল সেভ করেন। তাঁর এই পারফরম্যান্সের কারণে ম্যাচের বড় একটি সময় পর্যন্ত স্বাগতিকদের জালে বল পাঠাতে পারেনি আর্সেনাল।
অন্যদিকে আর্সেনালের গোলরক্ষক দাভিদ রায়াও তিনটি সেভ করেন। ফলে দুই প্রান্তের গোলরক্ষকদের পারফরম্যান্স ম্যাচটিকে দীর্ঘ সময় গোলশূন্য রাখে।
এই কারণেই শেষ পর্যন্ত একটি গোলই ম্যাচের ফল নির্ধারণ করে দেয়। ৭৫ মিনিটে ওডেগার্ডের গোল আর্সেনালের দীর্ঘ প্রচেষ্টার ফল এনে দেয়।
দুই গোলরক্ষকের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা
ম্যাচের ফল ১-০ হলেও আর্সেনালের জয়ের পথ সহজ ছিল না। মেরেট যেমন নাপোলিকে গোল হজম করা থেকে একাধিকবার বাঁচিয়েছেন, তেমনি রায়াও আর্সেনালের গোলপোস্ট নিরাপদ রেখেছেন।
দুই গোলরক্ষকের তিনটি করে সেভ ম্যাচের ভারসাম্য ধরে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ফলে একটি গোলের জন্য আর্সেনালকে ম্যাচের ৭৫ মিনিট পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়।
আর্সেনালের আক্রমণের চাপ ও নাপোলির গোলরক্ষকের প্রতিরোধ—দুইয়ের মধ্যকার লড়াই শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত হয় ওডেগার্ডের একটি শটে।
ওডেগার্ডের গোল আর্সেনালের জয়ের ধারায়
এই জয়ের মাধ্যমে আর্সেনালের জয়ের ধারাও অব্যাহত থাকল। সব মিলিয়ে পাঁচ ম্যাচ খেলে পাঁচটিতেই জয় পেয়েছে দলটি।
নাপোলির বিপক্ষে জয়টি তাই শুধু একটি ম্যাচের তিন পয়েন্ট নয়, আর্সেনালের চলমান জয়ের ধারারও অংশ। বিশেষ করে প্রতিপক্ষের মাঠে গোলের জন্য দীর্ঘ অপেক্ষার পর জয় পাওয়ায় ম্যাচটির ফল দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
তবে ম্যাচের ব্যবধান ছিল মাত্র এক গোল। ২৬টি শট নেওয়ার পরও আর্সেনালকে ১-০ ব্যবধানের জয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে। নাপোলির গোলরক্ষক মেরেটের তিনটি নিশ্চিত সেভও ম্যাচের কঠিন পরিস্থিতি তুলে ধরে।
নাপোলির টানা তৃতীয় হার
আর্সেনালের বিপক্ষে হারের ফলে নাপোলির কঠিন সময় আরও দীর্ঘ হলো। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে এটি দলটির টানা তৃতীয় হার।
অর্থাৎ, একই ম্যাচে দুই দলের অবস্থান ছিল বিপরীতমুখী। আর্সেনাল পাঁচ ম্যাচে পাঁচ জয় নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে, আর নাপোলি টানা তিন ম্যাচে হারের মুখ দেখেছে।
ম্যাচের শেষ পর্যন্ত নাপোলি গোলের ব্যবধান সমান করার সুযোগ খুঁজেছে। কিন্তু আর্সেনালের রক্ষণ ও রায়ার গোলরক্ষকত্বের কারণে শেষ পর্যন্ত স্কোরলাইন আর বদলায়নি।
কষ্টার্জিত জয়, পার্থক্য গড়লেন অধিনায়ক
নাপোলির বিপক্ষে আর্সেনালের জয়কে কষ্টার্জিত বলার প্রধান কারণ ম্যাচের দীর্ঘ সময় গোল না পাওয়া এবং দুই গোলরক্ষকের কার্যকর পারফরম্যান্স। আর্সেনাল আক্রমণে অনেক চেষ্টা করেও মেরেটকে পরাস্ত করতে পারছিল না।
শেষ পর্যন্ত অধিনায়ক ওডেগার্ডের ব্যক্তিগত দক্ষতা ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। বক্সের বাইরে থেকে তাঁর নেওয়া শট নাপোলির গোলরক্ষককে পরাস্ত করে।
ফলে পুরো ম্যাচে আর্সেনালের ২৬টি শটের মধ্যে মাত্র একটি গোলই ব্যবধান গড়ে দেয়। সেই একটি গোলই শেষ পর্যন্ত দলকে ১-০ ব্যবধানে জয় এনে দেয়।
ম্যাচের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত গোলের জন্য চেষ্টা চালালেও আর্সেনালকে শেষ পর্যন্ত একটি গোলেই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে। ৭৫ মিনিটে ওডেগার্ডের শটই দুই দলের পার্থক্য তৈরি করে।
অন্যদিকে নাপোলি নিজেদের মাঠে গোলের সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি। মেরেটের তিনটি সেভ দলকে দীর্ঘ সময় ম্যাচে রেখেছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত ওডেগার্ডের শট ঠেকানো সম্ভব হয়নি।
ফলে স্তাদিও ডিয়েগো আর্মান্ডো ম্যারাডোনা স্টেডিয়ামে আর্সেনালের জয় নিশ্চিত হয় ১-০ ব্যবধানে। ওডেগার্ডের গোল শুধু ম্যাচের একমাত্র গোলই নয়, দলটির টানা পঞ্চম জয়েরও মূল নির্ধারক হয়ে থাকল।





