বিশ্ববাজারে বেড়েছে সোনার দাম বেড়েছে। ফেডের সুদের হার, তেলের দাম ও মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের প্রভাবে বিনিয়োগকারীদের সতর্ক অবস্থান বাজারে প্রভাব ফেলছে।
তেলের দাম কমা, মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার নিয়ে সম্ভাব্য সিদ্ধান্ত এবং মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের কারণে মুদ্রাস্ফীতির প্রভাব নিয়ে বিনিয়োগকারীদের সতর্ক অবস্থানের মধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম সামান্য বেড়েছে। শনিবার (২৫ জুলাই) বাংলাদেশ সময় রাত ২টা ১০ মিনিটে স্পট মার্কেটে বিশ্ববাজারে সোনার দাম ০ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৫২ দশমিক ৭৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
একই সময়ে আগস্ট ডেলিভারির জন্য মার্কিন গোল্ড ফিউচারসের দাম ০ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৭০ দশমিক ৮০ ডলারে স্থির হয়েছে।
বিশ্ববাজারে সোনার দাম বৃদ্ধির পেছনে যেসব কারণ

আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দামের সাম্প্রতিক ওঠানামায় একাধিক বিষয় প্রভাব ফেলছে। এর মধ্যে রয়েছে তেলের দাম, যুক্তরাষ্ট্রের সুদের হার নিয়ে ফেডের সিদ্ধান্ত এবং মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে সম্ভাব্য মুদ্রাস্ফীতি।
বিনিয়োগকারীরা এসব বিষয় গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। কারণ, সুদের হার এবং মুদ্রাস্ফীতির পরিস্থিতি সোনার মতো সুদবিহীন সম্পদের চাহিদায় সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশ্ববাজারে সোনার দাম বর্তমানে ৪ হাজার ডলারের ওপরে অবস্থান করছে। তবে বাজারের ভবিষ্যৎ গতিপথ নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সতর্কতা রয়েছে।
যুদ্ধ পরিস্থিতি ও সোনার বাজারের ঝুঁকি
মূল্যবান ধাতু ব্যবসায়ী তাই ওং বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির অবনতি হলে সোনার দাম আরও কমে যাওয়ার ঝুঁকি পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
তবে তাঁর মতে, সোনার দাম আবারও ঊর্ধ্বমুখী হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে মনে হচ্ছে। আগামী সপ্তাহে মার্কিন ফেড সুদের হার অপরিবর্তিত রাখার সম্ভাবনা এই প্রবণতাকে সহায়তা করতে পারে বলে তিনি মনে করেন।
অর্থাৎ, একদিকে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি করছে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সুদের হার নিয়ে প্রত্যাশা সোনার বাজারে নতুন করে প্রভাব ফেলতে পারে।
গত ফেব্রুয়ারি থেকে সোনার দামে বড় পতন
গত ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে সোনার দাম প্রায় ২৩ শতাংশ কমেছে। যুদ্ধের কারণে মুদ্রাস্ফীতি দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চ পর্যায়ে থাকতে পারে—এমন আশঙ্কাই মূলত সোনার দামে চাপ তৈরি করেছে।
সাধারণভাবে মুদ্রাস্ফীতির বিরুদ্ধে সোনাকে একটি সুরক্ষাকবচ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার সময়ে অনেক বিনিয়োগকারী সোনার দিকে ঝুঁকতে পারেন।
তবে সুদের হার বেশি থাকলে পরিস্থিতি ভিন্ন হয়। কারণ, সোনা কোনো সুদ প্রদান করে না। ফলে সুদের হার উচ্চ থাকলে সুদবিহীন সম্পদ হিসেবে সোনার ওপর চাপ তৈরি হতে পারে। এই কারণেই সুদের হার এবং মুদ্রাস্ফীতির পরিস্থিতি সোনার বাজারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
বিশ্ববাজারে সোনার দাম ও সুদের হারের সম্পর্ক
সোনার বাজারে সুদের হারের প্রভাব গুরুত্বপূর্ণ। সুদের হার বেশি থাকলে বিনিয়োগকারীরা সুদ পাওয়া যায় এমন সম্পদের দিকে বেশি আগ্রহী হতে পারেন। অন্যদিকে, সুদের হার কম বা অপরিবর্তিত থাকলে সোনার মতো সুদবিহীন সম্পদের ওপর চাপ কিছুটা কমতে পারে।
এই প্রেক্ষাপটে আগামী সপ্তাহে ফেডের সুদের হার অপরিবর্তিত রাখার সম্ভাবনা নিয়ে বাজারে আলোচনা রয়েছে। তবে ভবিষ্যৎ বাজার পরিস্থিতি নির্ভর করবে মুদ্রাস্ফীতি, অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং ভূরাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহের ওপর।
অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজার পরিস্থিতি
সোনার পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও মিশ্র প্রবণতা দেখা গেছে।
রুপার দাম ০ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৫৮ দশমিক ১১ ডলারে দাঁড়িয়েছে। বিপরীতে প্ল্যাটিনামের দাম ০ দশমিক ৮ শতাংশ কমে ১ হাজার ৫৮৭ দশমিক ১৭ ডলারে নেমে এসেছে।
এছাড়া প্যালাডিয়ামের দাম ১ দশমিক ৪ শতাংশ কমেছে। ধাতুটির দাম কমে প্রতি আউন্স ১ হাজার ২৩৯ দশমিক ২০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
ফলে একই সময়ে মূল্যবান ধাতুর বাজারে সোনা ও রুপার দাম বেড়েছে, অন্যদিকে প্ল্যাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের দাম কমেছে।
সামনে সোনার বাজারে কী হতে পারে
বর্তমান পরিস্থিতিতে বিশ্ববাজারে সোনার দাম একদিকে ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, অন্যদিকে সুদের হার ও মুদ্রাস্ফীতির প্রত্যাশার ওপর নির্ভর করছে।
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির অবনতি হলে বাজারে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে। আবার যুদ্ধের প্রভাবে মুদ্রাস্ফীতি বাড়লে সুদের হার দীর্ঘ সময় উচ্চ পর্যায়ে রাখার আশঙ্কাও তৈরি হতে পারে। এই দুই ধরনের প্রভাব সোনার বাজারে ভিন্নভাবে কাজ করতে পারে।
তাই বাজার বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে সামনে সোনার দামের গতিপথ নির্ভর করবে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি, মার্কিন ফেডের সিদ্ধান্ত এবং মুদ্রাস্ফীতির গতিপ্রকৃতির ওপর।
আন্তর্জাতিক বাজারে বিশ্ববাজারে সোনার দাম সামান্য বেড়েছে। স্পট মার্কেটে দাম ০ দশমিক ১ শতাংশ এবং আগস্ট ডেলিভারির মার্কিন গোল্ড ফিউচারসের দাম ০ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়েছে।
তবে গত ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে ইরান যুদ্ধ শুরুর পর থেকে সোনার দাম প্রায় ২৩ শতাংশ কমেছে। এখন বাজারে বিনিয়োগকারীরা তেলের দাম, মার্কিন ফেডের সুদের হার এবং মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের প্রভাবের দিকে নজর রাখছেন।
এই পরিস্থিতিতে সামনে সোনার বাজারে ওঠানামা অব্যাহত থাকতে পারে। তবে আন্তর্জাতিক বাজারের পরবর্তী গতিপথ নির্ধারণে ফেডের সিদ্ধান্ত এবং ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।





