এইমাত্র

আরও খবর

Untitled design (27)
খামেনির শেষ শ্রদ্ধা জানানোর আনুষ্ঠানিকতা শুরু, তেহরানে জনসমুদ্র
Untitled design (17)
ইউক্রেনকে ৭০ বিলিয়ন ইউরো সহায়তা দেবে ন্যাটো
Untitled design (14)
খামেনির বিদায় অনুষ্ঠানে কান্নায় ভেঙে পড়লেন ইরানের স্পিকার ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী
Untitled design (6)
দক্ষিণ আফ্রিকায় অভিবাসীবিরোধী বিক্ষোভ, গ্রেপ্তার প্রায় ৯০০
Untitled design (15)
অবৈধ অভিবাসীবিরোধী বিক্ষোভে দক্ষিণ আফ্রিকায় নিহত ৪

ফিলিপাইনের ভাইস প্রেসিডেন্টের অভিশংসন বিচার শুরু আজ

ফিলিপাইনের ভাইস প্রেসিডেন্টের অভিশংসন বিচার শুরু আজ। ৯২ দিনের এই বিচার সারা দুতের্তের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ, ২০২৮ সালের নির্বাচন ও ফিলিপাইনের রাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

ফিলিপাইনের ফিলিপাইনের ভাইস প্রেসিডেন্টের অভিশংসন বিচার সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হচ্ছে। রাজধানী ম্যানিলায় সিনেট অভিশংসন আদালত হিসেবে বসছে। ভাইস প্রেসিডেন্ট সারা দুতের্তের বিরুদ্ধে আনা একাধিক অভিযোগের বিচার দেশটির প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়রের সঙ্গে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বিরোধের মধ্যেই শুরু হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই বিচার শুধু একজন ভাইস প্রেসিডেন্টের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নয়, বরং ফিলিপাইনের সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিকেও প্রভাবিত করতে পারে।

বিচার শুরুর আগে রাজধানী ম্যানিলা ও সিনেট ভবনের আশপাশে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সম্ভাব্য বিক্ষোভ মোকাবিলায় ছয় হাজারেরও বেশি পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

ফিলিপাইনের ভাইস প্রেসিডেন্টের অভিশংসন বিচার কেন গুরুত্বপূর্ণ?

সিনেট অভিশংসন আদালত হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে এবং বিচারপ্রক্রিয়া প্রায় ৯২ দিন চলার কথা রয়েছে। বিচার শুরুর দিনে সারা দুতের্তে অথবা তাঁর আইনজীবীরা আদালতে উপস্থিত থাকতে পারবেন।

সারা দুতের্তের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হলে তিনি স্থায়ীভাবে সরকারি যেকোনো পদে দায়িত্ব পালনের অযোগ্য হয়ে যেতে পারেন। এর ফলে ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তাঁর সম্ভাব্য প্রার্থিতা বড় ধরনের বাধার মুখে পড়বে। একই নির্বাচনের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়রের ছয় বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা।

সারা দুতের্তের বিরুদ্ধে কী কী অভিযোগ?

ভাইস প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—

  • অজানা উৎস থেকে বিপুল সম্পদের মালিক হওয়ার অভিযোগ।
  • গোপন রাষ্ট্রীয় তহবিলের অপব্যবহারের অভিযোগ।
  • প্রকাশ্যে প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়রকে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ।

তবে সারা দুতের্তে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। বিচার শুরুর আগে তিনি অভিযোগগুলোর বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রকাশ্যে দিতে রাজি হননি।

নিরাপত্তা জোরদার, বিক্ষোভের আশঙ্কা

কর্তৃপক্ষের আশঙ্কা, বিচার শুরুর দিন সারা দুতের্তের সমর্থক ও বিরোধী—উভয় পক্ষই বিক্ষোভ করতে পারে।

এ কারণে দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণে প্রশিক্ষিত বিশেষ বাহিনীসহ ছয় হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে।

মার্কোস ও দুতের্তে পরিবারের রাজনৈতিক সম্পর্কের অবনতি

২০২২ সালের নির্বাচনে ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়র ও সারা দুতের্তে একই রাজনৈতিক জোট থেকে যথাক্রমে প্রেসিডেন্ট ও ভাইস প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন।

সে সময় ফিলিপাইনের দুই প্রভাবশালী রাজনৈতিক পরিবারের সমর্থন একত্রিত করতেই এই জোট গঠিত হয়েছিল। কিন্তু ক্ষমতায় আসার অল্প সময়ের মধ্যেই দুই নেতার সম্পর্কের অবনতি ঘটে এবং প্রকাশ্য রাজনৈতিক বিরোধ শুরু হয়।

সারা দুতের্তের সমর্থকদের দাবি, প্রেসিডেন্ট মার্কোস এবং তাঁর রাজনৈতিক মিত্ররা পরিকল্পিতভাবে ভাইস প্রেসিডেন্ট ও তাঁর ঘনিষ্ঠ সিনেট সদস্যদের রাজনৈতিকভাবে দুর্বল করার চেষ্টা করছেন।

সারা দুতের্তের বাবা রদ্রিগো দুতের্তের বিচারও আলোচনায়

সারা দুতের্তে সাবেক প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো দুতের্তের মেয়ে।

গত বছর আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) নির্দেশে রদ্রিগো দুতের্তেকে গ্রেপ্তার করে নেদারল্যান্ডসের হেগে নেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে আটক রয়েছেন।

মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আগামী ৩০ নভেম্বর তাঁর বিচার শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

রদ্রিগো দুতের্তের বিরুদ্ধে অভিযোগের মূল ভিত্তি তাঁর প্রেসিডেন্ট থাকাকালে পরিচালিত মাদকবিরোধী অভিযান। ওই অভিযানে হাজার হাজার মানুষ নিহত হন, যাদের অধিকাংশই ছিলেন দরিদ্র ও সন্দেহভাজন ব্যক্তি।

যদিও তিনি বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের অনুমতি দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

পররাষ্ট্রনীতিতেও দুই পরিবারের অবস্থান ভিন্ন

প্রেসিডেন্ট মার্কোস ক্ষমতায় আসার পর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও জোরদার করেছেন।

একই সঙ্গে দক্ষিণ চীন সাগরে চীনের ক্রমবর্ধমান তৎপরতার বিরোধিতা করে আসছে তাঁর সরকার।

অন্যদিকে রদ্রিগো দুতের্তে ক্ষমতায় থাকাকালে চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলেছিলেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার হুমকিও দিয়েছিলেন।

সাম্প্রতিক সময়ে দক্ষিণ চীন সাগরে চীনের উপকূলরক্ষী বাহিনী ফিলিপাইনের নৌবাহিনী ও জেলেদের বিরুদ্ধে শক্তিশালী জলকামান ব্যবহার করলেও সারা দুতের্তে প্রকাশ্যে তার নিন্দা করেননি। এ বিষয়েও তিনি সমালোচনার মুখে পড়েন।

প্রতিনিধি পরিষদের ভোট ও সিনেটের সমীকরণ

গত মাসে ফিলিপাইনের প্রতিনিধি পরিষদে বিপুল ভোটে সারা দুতের্তের বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রস্তাব পাস হয়।

প্রতিনিধি পরিষদে প্রেসিডেন্ট মার্কোসের সমর্থকদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে।

সারা দুতের্তেকে দোষী সাব্যস্ত করতে ২৪ সদস্যের সিনেটে অন্তত ১৬ জন সিনেটরের সমর্থন প্রয়োজন। অর্থাৎ দুই-তৃতীয়াংশ ভোট পেলেই তিনি সরকারি পদে থাকার অধিকার হারাতে পারেন।

দুতের্তে-সমর্থক সিনেটরদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ

বিচার শুরুর আগেই দুতের্তে-ঘনিষ্ঠ কয়েকজন সিনেটর আইনি জটিলতায় পড়েছেন।

সিনেটর জিংগয় এস্ট্রাডাকে গত মাসে একটি বন্যা নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য দুর্নীতির মামলা হয়েছে। তবে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

আরেক সিনেটর রোদান্তে মারকোলেতার বিরুদ্ধেও দুর্নীতির মামলায় গ্রেপ্তার হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে বড় অঙ্কের নির্বাচনী অনুদান গ্রহণ এবং সম্পদের ঘোষণায় সেই অর্থ গোপন করার অভিযোগ আনা হয়েছে। তিনিও অনিয়মের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন।

এদিকে সাবেক জাতীয় পুলিশপ্রধান ও বর্তমান সিনেটর রোনাল্ড দেলা রোসা আত্মগোপনে রয়েছেন। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত রদ্রিগো দুতের্তের আমলের হত্যাকাণ্ডে সহঅভিযুক্ত হিসেবে তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে।

বিচার ঘিরে রাজনৈতিক গুরুত্ব

বিশ্লেষকদের মতে, এই বিচার শুধু সারা দুতের্তের ব্যক্তিগত রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে না; বরং ফিলিপাইনের ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক শক্তি, বিরোধী শিবির এবং ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে ঘিরেও নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি করতে পারে।

সর্বাধিক পঠিত