আরো পাঁচ দেশের প্রবাসীরা পাবেন এনআইডি সেবা, প্রবাসীদের এনআইডি সেবা আরও সম্প্রসারণ করছে নির্বাচন কমিশন। সিঙ্গাপুর, সুইডেন, বাহরাইন, নরওয়ে ও ফিনল্যান্ডে শুরু হচ্ছে ভোটার নিবন্ধনের প্রস্তুতি।
বিশ্বের আরও পাঁচ দেশে বসবাসরত বাংলাদেশিদের জন্য প্রবাসীদের এনআইডি সেবা ও ভোটার নিবন্ধন কার্যক্রম সম্প্রসারণের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগ। নতুন করে সিঙ্গাপুর, সুইডেন, বাহরাইন, নরওয়ে ও ফিনল্যান্ডে প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোটার নিবন্ধনের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রবাসীদের বিভিন্ন প্রশাসনিক ও ব্যক্তিগত প্রয়োজনে জাতীয় পরিচয়পত্রের প্রয়োজন হওয়ায় এ কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে এনআইডি বিভাগ।
ইতোমধ্যে নির্বাচন কমিশনের একটি দল সিঙ্গাপুরে পৌঁছে কার্যক্রম শুরু করেছে। অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার এবং এনআইডির মহাপরিচালক আবুল হাসনাত মুহাম্মদ আনোয়ার পাশা তাঁদের টিম নিয়ে সুইডেন সফরে যাচ্ছেন। একই সময়ে সিঙ্গাপুরে অবস্থানরত দলের সঙ্গে যোগ দিতে নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহরও সেখানে যাওয়ার কথা রয়েছে।
এনআইডি বিভাগ বলছে, নতুন পাঁচ দেশ যুক্ত হলে প্রবাসী ভোটার নিবন্ধন ও জাতীয় পরিচয়পত্র বিতরণ কার্যক্রমের আওতায় থাকা দেশের সংখ্যা দাঁড়াবে ১৯টিতে।
প্রবাসীদের এনআইডি সেবা পাবে যে পাঁচ দেশ

নির্বাচন কমিশনের পরিকল্পনা অনুযায়ী নতুন করে যেসব দেশের প্রবাসী বাংলাদেশিরা ভোটার নিবন্ধন ও এনআইডি কার্যক্রমের আওতায় আসছেন, সেগুলো হলো—
- সিঙ্গাপুর
- সুইডেন
- বাহরাইন
- নরওয়ে
- ফিনল্যান্ড
এ লক্ষ্যে জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগ প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। দেশগুলোতে কার্যক্রম চালুর পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট দূতাবাসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভোটার নিবন্ধন ও এনআইডি বিতরণসংক্রান্ত প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।
সিঙ্গাপুরে শুরু হয়েছে কার্যক্রম
নতুন পাঁচ দেশের মধ্যে সিঙ্গাপুরে নির্বাচন কমিশনের একটি দল ইতোমধ্যে পৌঁছেছে এবং কার্যক্রম শুরু করেছে। সেখানে প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোটার নিবন্ধন ও এনআইডি সেবাসংক্রান্ত কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
সিঙ্গাপুরে অবস্থানরত ইসি দলের সঙ্গে যোগ দিতে নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহরও যাওয়ার কথা রয়েছে। সফররত কর্মকর্তারা ভোটার নিবন্ধন ও জাতীয় পরিচয়পত্র বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধনসহ প্রবাসীদের সঙ্গে বিভিন্ন সভায় অংশ নেবেন।
এসব সভায় প্রবাসীদের ভোটদান, ভোটার নিবন্ধন এবং জাতীয় পরিচয়পত্র সেবাসংক্রান্ত বিষয়গুলো তুলে ধরা হবে।
সুইডেন সফরে যাচ্ছেন ইসি কমিশনার ও এনআইডি ডিজি
নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার এবং জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের মহাপরিচালক আবুল হাসনাত মুহাম্মদ আনোয়ার পাশা তাঁদের টিম নিয়ে সুইডেনের উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে।
সুইডেনে ভোটার নিবন্ধন ও এনআইডি কার্যক্রম শুরু করার পাশাপাশি দেশটির বাংলাদেশ দূতাবাসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
সুইডেনের দূতাবাসের মাধ্যমে নরওয়ে ও ফিনল্যান্ডে বসবাসরত বাংলাদেশিরাও কনসুলার সেবা গ্রহণ করেন। এ কারণে নরওয়ে ও ফিনল্যান্ডের প্রবাসীদের জন্য প্রবাসীদের এনআইডি সেবা চালুর পরিকল্পনাও সুইডেনকেন্দ্রিক কার্যক্রমের সঙ্গে সমন্বয় করে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
বাহরাইনের কার্যক্রম আগস্টের শুরুতে
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির জটিলতার কারণে বাহরাইনে নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত সফর পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে।
এনআইডির মহাপরিচালক আবুল হাসনাত মুহাম্মদ আনোয়ার পাশা জানিয়েছেন, নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদের ১৫ থেকে ২১ জুলাই পর্যন্ত বাহরাইনে অবস্থান করার কথা ছিল। তবে পরিস্থিতির কারণে সেই সফর স্থগিত করা হয়।
বর্তমানে আগামী আগস্টের শুরুতে তাঁর বাহরাইন সফরের পরিকল্পনা রয়েছে। সফরটি সম্পন্ন হলে সেখানে প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোটার নিবন্ধন ও জাতীয় পরিচয়পত্র কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হবে।
কীভাবে প্রবাসীরা এনআইডি সেবা পান
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত বাংলাদেশিরা সংশ্লিষ্ট দেশের বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে ভোটার নিবন্ধন ও এনআইডি সেবা গ্রহণ করেন।
প্রক্রিয়াটি সাধারণত কয়েকটি ধাপে সম্পন্ন হয়—
প্রথমে প্রবাসীরা সংশ্লিষ্ট দূতাবাসের মাধ্যমে ভোটার নিবন্ধনের আবেদন করেন। এরপর আবেদন ও প্রয়োজনীয় তথ্য দেশে পাঠানো হয়। দেশে তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের পর জাতীয় পরিচয়পত্র প্রস্তুত ও ছাপানো হয়।
পরবর্তী সময়ে সংশ্লিষ্ট দূতাবাসের মাধ্যমে জাতীয় পরিচয়পত্র আবেদনকারীর কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়।
এভাবে দূতাবাসভিত্তিক ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রবাসীদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা এবং জাতীয় পরিচয়পত্র সরবরাহ করা হচ্ছে।
কেন গুরুত্বপূর্ণ প্রবাসীদের এনআইডি সেবা
এনআইডির মহাপরিচালক বলেন, নির্বাচন কমিশন চেষ্টা করছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত সব বাংলাদেশিকে পর্যায়ক্রমে ভোটার নিবন্ধনের আওতায় আনতে।
তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন প্রয়োজনীয় কাজে প্রবাসীদের জাতীয় পরিচয়পত্রের দরকার হয়। এনআইডি না থাকলে অনেক ক্ষেত্রে তাঁদের বিভিন্ন জটিলতা ও সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়।
এ কারণে নির্বাচন কমিশন সংশ্লিষ্ট দেশগুলোতে গিয়ে স্থানীয় কার্যক্রমে যুক্ত ব্যক্তিদের সক্রিয় করার মাধ্যমে ভোটার নিবন্ধন ও এনআইডি বিতরণ কর্মসূচি আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নিয়েছে।
সফররত কর্মকর্তারা ভোটার নিবন্ধন ও এনআইডি বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধনের পাশাপাশি প্রবাসীদের ভোটদান, ভোটার নিবন্ধন এবং জাতীয় পরিচয়পত্র সেবাবিষয়ক সভায় অংশ নেবেন।
দূতাবাস কর্মকর্তাদের দেওয়া হবে প্রশিক্ষণ
এনআইডি বিভাগ জানিয়েছে, নির্বাচন কমিশনের একাধিক দল নতুন দেশগুলোতে পৌঁছানোর পর সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
প্রশিক্ষণে ভোটার নিবন্ধনের প্রক্রিয়া, আবেদন গ্রহণ এবং জাতীয় পরিচয়পত্র বিতরণসংক্রান্ত বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
প্রয়োজনে দেশ থেকে আরও প্রশিক্ষিত জনবল পাঠানো হতে পারে বলেও জানিয়েছে এনআইডি বিভাগ। এর মাধ্যমে প্রবাসীদের এনআইডি সেবা কার্যক্রমকে আরও কার্যকরভাবে পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে।
ফ্রান্সে কার্যক্রম শুরু হতে আরও সময় লাগতে পারে
নির্বাচন কমিশন ফ্রান্সে বসবাসরত বাংলাদেশিদেরও ভোটার নিবন্ধনের আওতায় আনার পরিকল্পনা করেছিল।
এ লক্ষ্যে ফ্রান্সে বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হয়। তবে সংশ্লিষ্ট দূতাবাস নির্বাচন কমিশনকে জানিয়েছে, তারা বর্তমানে এ কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার জন্য প্রস্তুত নয়।
এ কারণে ফ্রান্সে প্রবাসী ভোটার নিবন্ধন ও এনআইডি কার্যক্রম শুরু হতে আরও সময় লাগতে পারে। নির্বাচন কমিশন পরে এ কার্যক্রম শুরু করার বিষয়ে চিন্তা করছে।
আগে ১৪ দেশে চালু ছিল কার্যক্রম
এর আগে বিশ্বের ১৪টি দেশের ২৪টি স্টেশনে প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোটার নিবন্ধন ও জাতীয় পরিচয়পত্র বিতরণ কার্যক্রম হাতে নিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। তবে এসব স্থানের কার্যক্রম এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি।
নতুন করে আরও পাঁচটি দেশ যুক্ত হলে মোট ১৯ দেশের প্রবাসীরা ভোটার নিবন্ধন ও এনআইডি কার্যক্রমের আওতায় আসবেন।
বর্তমানে যেসব দেশ ও স্টেশনে এ কার্যক্রম চালু রয়েছে, সেগুলো হলো—
সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবি ও দুবাই; সৌদি আরবের রিয়াদ ও জেদ্দা; যুক্তরাজ্যের লন্ডন, ম্যানচেস্টার ও বার্মিংহাম; ইতালির রোম ও মিলান; কুয়েতের কুয়েত সিটি; কাতারের দোহা; মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুর; অস্ট্রেলিয়ার ক্যানবেরা ও সিডনি; কানাডার অটোয়া ও টরন্টো; জাপানের টোকিও; যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক, মায়ামি, ওয়াশিংটন ডিসি ও লস অ্যাঞ্জেলেস; মালদ্বীপের মালে; ওমানের মাসকাট এবং দক্ষিণ আফ্রিকার প্রিটোরিয়া।
পাঁচ মাসে এক লাখ নতুন প্রবাসী নিবন্ধিত
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর গত পাঁচ মাসে এসব দেশ থেকে নতুন করে প্রায় এক লাখ প্রবাসী ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত হয়েছেন।
এদের মধ্যে প্রায় ৩০ হাজার প্রবাসী জাতীয় পরিচয়পত্র পেয়েছেন।
এই তথ্য থেকে বোঝা যায়, বিদেশে বসবাসরত বাংলাদেশিদের মধ্যে ভোটার নিবন্ধন ও জাতীয় পরিচয়পত্র সেবার চাহিদা রয়েছে। নতুন পাঁচ দেশে কার্যক্রম সম্প্রসারণের মাধ্যমে আরও বেশি প্রবাসী এ সেবার আওতায় আসার সুযোগ পাবেন।
প্রবাসীদের এনআইডি সেবা সম্প্রসারণে নতুন অগ্রগতি
সিঙ্গাপুর, সুইডেন, বাহরাইন, নরওয়ে ও ফিনল্যান্ডে ভোটার নিবন্ধন কার্যক্রম সম্প্রসারণের উদ্যোগ প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
নতুন দেশগুলোতে কার্যক্রম চালুর পাশাপাশি দূতাবাসের কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ, প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত জনবল সরবরাহ এবং প্রবাসীদের সঙ্গে সচেতনতামূলক সভার পরিকল্পনা করেছে নির্বাচন কমিশন।
তবে ফ্রান্সে সংশ্লিষ্ট দূতাবাসের প্রস্তুতি না থাকায় সেখানে কার্যক্রম শুরু হতে আরও সময় লাগবে।
বিশ্বের আরও পাঁচ দেশে প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোটার নিবন্ধন ও জাতীয় পরিচয়পত্র সেবা সম্প্রসারণের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রম আরও বিস্তৃত হচ্ছে।
সিঙ্গাপুরে ইতোমধ্যে কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং সুইডেন, বাহরাইন, নরওয়ে ও ফিনল্যান্ডে প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। নতুন পাঁচ দেশ যুক্ত হলে মোট ১৯ দেশের প্রবাসীরা ভোটার নিবন্ধন ও এনআইডি কার্যক্রমের আওতায় আসবেন।
নির্বাচন কমিশনের লক্ষ্য হলো, পর্যায়ক্রমে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত বাংলাদেশিদের ভোটার নিবন্ধনের সুযোগ দেওয়া এবং প্রয়োজনীয় জাতীয় পরিচয়পত্র সেবা সহজ করা।





