শ্রুতি হাসানের পিসিওএস নিয়ে ১৪ বছর বয়সেই জেনেছিলাম মা হতে পারব না কথা জানালেন অভিনেত্রী। চিকিৎসকের পরামর্শও নিচ্ছেন তিনি।
ভারতীয় অভিনেত্রী ও গায়িকা শ্রুতি হাসান সম্প্রতি অভিনেত্রী সোহা আলি খানের পডকাস্টে নিজের স্বাস্থ্য, পলিসিস্টিক ওভারি সিন্ড্রোম (পিসিওএস), গর্ভধারণ ও মাতৃত্ব নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন। সেখানে তিনি জানান, মাত্র ১৪ বছর বয়সেই জানতে পেরেছিলেন যে পিসিওএসের কারণে ভবিষ্যতে স্বাভাবিকভাবে মা হওয়া তার জন্য কঠিন হতে পারে। দীর্ঘদিন এই আশঙ্কা তাকে ভাবিয়েছে এবং একপর্যায়ে তিনি জৈবিক সন্তানের বদলে সন্তান দত্তক নেওয়ার মানসিক প্রস্তুতিও নিয়েছিলেন।
তবে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মাতৃত্ব নিয়ে তার সেই ধারণায় পরিবর্তন এসেছে। বর্তমানে তিনি মা হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে আশাবাদী। চার দশকের কাছাকাছি বয়সে এসে সন্তান ধারণের বিষয়ে চিকিৎসকদের পরামর্শও নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন এই অভিনেত্রী।
শ্রুতি হাসান প্রখ্যাত অভিনেতা কমল হাসান ও অভিনেত্রী সারিকার বড় মেয়ে। তামিল, তেলেগু ও হিন্দি চলচ্চিত্রে অভিনয়ের পাশাপাশি গানেও তার পরিচিতি রয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে তিনি ৪০ বছরে পা দিয়েছেন।
১৪ বছর বয়সে শুরু হয়েছিল দুশ্চিন্তা

সোহা আলি খানের পডকাস্টে নিজের শারীরিক অবস্থার কথা বলতে গিয়ে শ্রুতি জানান, কৈশোর থেকেই তিনি পিসিওএসে ভুগছেন। মাত্র ১৪ বছর বয়সে এই সমস্যার বিষয়ে জানতে পারেন তিনি।
পিসিওএসের কারণে ভবিষ্যতে সন্তান ধারণ করতে পারবেন কি না—এ নিয়ে তখন থেকেই তার মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়। দীর্ঘদিন ধরে তাকে বলা হয়েছিল, পিসিওএসের কারণে প্রাকৃতিকভাবে সন্তান ধারণ তার জন্য কঠিন হতে পারে।
এই আশঙ্কা ধীরে ধীরে শ্রুতির নিজের ভবিষ্যৎ মাতৃত্বের ধারণাকেও প্রভাবিত করে। একপর্যায়ে তিনি ধরে নিয়েছিলেন, হয়তো কখনোই জৈবিক সন্তানের মা হতে পারবেন না।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, চিকিৎসকদের কাছ থেকে পিসিওএসের সঙ্গে মাতৃত্বের জটিলতার কথা শুনতে শুনতে তিনি এমন একটি পরিস্থিতির জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত হয়েছিলেন, যেখানে তাকে অন্য পথ বেছে নিতে হতে পারে।
দত্তক নেওয়ার কথাও ভেবেছিলেন শ্রুতি
শ্রুতি হাসান জানান, জৈবিক সন্তান না হওয়ার আশঙ্কা থেকে তিনি ভবিষ্যতে সন্তান দত্তক নেওয়ার বিষয়েও মানসিক প্রস্তুতি নিয়েছিলেন।
নিজের সেই সময়ের ভাবনা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, পিসিওএস থাকলে মা হওয়ার আশা ছেড়ে দিতে হবে—এমন কথা তাকে বারবার বলা হয়েছে। তাই চিকিৎসকের কাছে গেলে হয়তো সন্তান হওয়ার সব পথ বন্ধ হয়ে গেছে, এমন কথাই শুনতে হবে বলে তিনি মনে করতেন।
তার এই বক্তব্যে বোঝা যায়, কৈশোরে পাওয়া স্বাস্থ্যসংক্রান্ত তথ্য কীভাবে দীর্ঘ সময় ধরে তার ব্যক্তিগত ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও মাতৃত্ব সম্পর্কে ধারণাকে প্রভাবিত করেছিল।
বয়স বাড়ার সঙ্গে বদলেছে মাতৃত্বের ধারণা
শ্রুতি হাসানের বক্তব্যের গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, সময়ের সঙ্গে সন্তান ধারণ নিয়ে তার দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিবর্তন এসেছে।
আগে যেখানে তিনি জৈবিক সন্তান ধারণের সম্ভাবনা নিয়ে অত্যন্ত অনিশ্চিত ছিলেন, এখন সেখানে তিনি নতুন করে আশাবাদী। বর্তমানে সন্তান ধারণের বিষয়ে চিকিৎসকদের পরামর্শও নিচ্ছেন তিনি।
অর্থাৎ, ১৪ বছর বয়সে পিসিওএস সম্পর্কে জানার পর যে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল, সময়ের সঙ্গে তা একই জায়গায় থাকেনি। চিকিৎসা-পরামর্শ ও বয়সের সঙ্গে অর্জিত অভিজ্ঞতার কারণে মাতৃত্ব নিয়ে তার ভাবনায় পরিবর্তন এসেছে।
শ্রুতির নিজের অভিজ্ঞতা তাই শুধু একজন তারকার ব্যক্তিগত জীবনের বিষয় নয়; একই সঙ্গে পিসিওএস ও মাতৃত্ব নিয়ে প্রচলিত ধারণা এবং বাস্তবতার পার্থক্য নিয়েও আলোচনার সুযোগ তৈরি করেছে।
পিসিওএস থাকলেই কি মা হওয়া অসম্ভব?
পডকাস্টে এ বিষয়ে চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিভঙ্গিও তুলে ধরা হয়। বন্ধ্যাত্ব ও আইভিএফ বিশেষজ্ঞ ড. রিচিকা সহায় শুক্লা জানান, পিসিওএসের কারণে অনেক নারীর ডিম্বস্ফোটনে সমস্যা দেখা দিতে পারে। এর ফলে গর্ভধারণে কিছুটা জটিলতা তৈরি হতে পারে।
তবে বিশেষজ্ঞের বক্তব্য অনুযায়ী, পিসিওএস থাকা মানেই মা হওয়া অসম্ভব—এমন ধারণা সঠিক নয়।
ড. রিচিকা সহায় শুক্লার ব্যাখ্যায়, প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা, নিয়মিত পর্যবেক্ষণ এবং উপযুক্ত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে পিসিওএস থাকা অনেক নারী গর্ভধারণ করতে পারেন।
এখানেই শ্রুতি হাসানের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার সঙ্গে বিশেষজ্ঞের বক্তব্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ যোগসূত্র তৈরি হয়। কৈশোরে শ্রুতি যে আশঙ্কা নিয়ে বড় হয়েছেন, বিশেষজ্ঞের বক্তব্যে সেই আশঙ্কাকে সরাসরি ‘মাতৃত্ব অসম্ভব’ হিসেবে দেখানো হয়নি।
শ্রুতি হাসানের পিসিওএস ও মাতৃত্ব নিয়ে নতুন আশাবাদ
শ্রুতি হাসানের পিসিওএস নিয়ে বক্তব্যে দুটি ভিন্ন সময়ের অভিজ্ঞতা উঠে এসেছে। প্রথমটি হলো কৈশোরে পাওয়া উদ্বেগ ও ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা। দ্বিতীয়টি হলো বর্তমানে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং মা হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে আশাবাদী হওয়া।
১৪ বছর বয়সে পিসিওএস সম্পর্কে জানার পর শ্রুতি ভেবেছিলেন, হয়তো তার জৈবিক সন্তান হবে না। সেই কারণে দত্তক নেওয়ার বিষয়েও নিজেকে প্রস্তুত করেছিলেন। কিন্তু বর্তমানে তিনি একই বিষয়কে আগের মতো দেখছেন না।
তার বক্তব্য অনুযায়ী, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মাতৃত্ব নিয়ে ধারণা বদলেছে এবং এখন তিনি সন্তান ধারণের সম্ভাবনা নিয়ে আশাবাদী।
এদিকে ড. রিচিকা সহায় শুক্লার বক্তব্যে পিসিওএস ও গর্ভধারণের সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সামনে এসেছে। পিসিওএস ডিম্বস্ফোটনে সমস্যা তৈরি করতে পারে এবং এর ফলে গর্ভধারণ কঠিন হতে পারে। তবে উপযুক্ত চিকিৎসা ও ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে পিসিওএস থাকা অনেক নারীর গর্ভধারণ সম্ভব হতে পারে বলে তিনি জানান।
পিসিওএস নিয়ে তথ্য জানার গুরুত্ব
শ্রুতি হাসানের অভিজ্ঞতা দেখায়, পিসিওএস সম্পর্কে প্রাথমিক পর্যায়ে পাওয়া তথ্য একজন মানুষের ভবিষ্যৎ নিয়ে ধারণাকে প্রভাবিত করতে পারে। একই সঙ্গে বিশেষজ্ঞের বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, পিসিওএসের উপস্থিতিকে সরাসরি মাতৃত্বের অসম্ভবতার সঙ্গে সমান করে দেখা উচিত নয়।
তবে ব্যক্তিভেদে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারে। তাই পিসিওএস বা গর্ভধারণসংক্রান্ত উদ্বেগের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ গুরুত্বপূর্ণ—শ্রুতি নিজেও বর্তমানে সন্তান ধারণের বিষয়ে চিকিৎসকদের পরামর্শ নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন।
শ্রুতি হাসানের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার মূল বার্তা
শ্রুতি হাসানের বক্তব্যে তার দীর্ঘদিনের একটি ব্যক্তিগত উদ্বেগের কথা উঠে এসেছে। ১৪ বছর বয়স থেকে পিসিওএসের সঙ্গে বসবাস করতে গিয়ে তিনি ভবিষ্যতে মা হতে পারবেন কি না, তা নিয়ে চিন্তিত ছিলেন। এমনকি জৈবিক সন্তান না হওয়ার আশঙ্কায় দত্তক নেওয়ার জন্যও নিজেকে প্রস্তুত করেছিলেন।
কিন্তু বর্তমানে সেই ধারণা বদলেছে। সন্তান ধারণের সম্ভাবনা নিয়ে তিনি আশাবাদী এবং চিকিৎসকদের পরামর্শ নিচ্ছেন।
পিসিওএস ও মাতৃত্ব নিয়ে আলোচনায় বিশেষজ্ঞ ড. রিচিকা সহায় শুক্লাও জানিয়েছেন, পিসিওএসের কারণে গর্ভধারণে জটিলতা হতে পারে, বিশেষ করে ডিম্বস্ফোটনে সমস্যা দেখা দিলে। তবে পিসিওএস থাকা মানেই মা হওয়া অসম্ভব নয়।
শ্রুতি হাসানের এই ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা তাই পিসিওএস, গর্ভধারণ ও মাতৃত্ব নিয়ে আরও তথ্যভিত্তিক আলোচনার সুযোগ তৈরি করেছে।
- শ্রুতি হাসান জানান, ১৪ বছর বয়স থেকেই তিনি পিসিওএসে ভুগছেন।
- কৈশোর থেকেই ভবিষ্যতে মা হতে পারবেন কি না, তা নিয়ে তার দুশ্চিন্তা ছিল।
- একপর্যায়ে তিনি জৈবিক সন্তানের পরিবর্তে সন্তান দত্তক নেওয়ার মানসিক প্রস্তুতি নেন।
- বর্তমানে মাতৃত্ব নিয়ে তার ধারণায় পরিবর্তন এসেছে।
- তিনি সন্তান ধারণের বিষয়ে চিকিৎসকদের পরামর্শ নিচ্ছেন।
- ড. রিচিকা সহায় শুক্লা জানান, পিসিওএস গর্ভধারণে জটিলতা তৈরি করতে পারে, তবে পিসিওএস থাকা মানেই মা হওয়া অসম্ভব নয়।
- প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা, পর্যবেক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে পিসিওএস থাকা অনেক নারী গর্ভধারণ করতে পারেন বলে বিশেষজ্ঞ জানান।





