আরও খবর

যে কারণে বাতিল মিশরের গোল (20)
ম্যারাডোনাকে ছাড়িয়ে অনন্য উচ্চতায় মেসি, বিশ্বকাপে অ্যাসিস্টের নতুন ইতিহাস
যে কারণে বাতিল মিশরের গোল (2)
১০ জনের সুইজারল্যান্ডকে হারিয়ে সেমিফাইনালে ‘অপ্রতিরোধ্য’ আর্জেন্টিনা
যে কারণে বাতিল মিশরের গোল (24)
কোর্তোয়াকে কেন তুলে নিয়েছিলেন, জানালেন কোচ
যে কারণে বাতিল মিশরের গোল (3)
মেসিদের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে বড় ধাক্কা সুইজারল্যান্ডের
যে কারণে বাতিল মিশরের গোল
এক জুলাই থেকে আরেক জুলাই, কোর্তোয়ার হাসি থেকে কোর্তোয়ার কান্না

উত্তেজিত হয়ে রেফারিকে কি বলেছিলেন মেসি?

উত্তেজিত হয়ে রেফারিকে কি বলেছিলেন মেসি? সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ৩-১ জয়ের ম্যাচে বিতর্কিত সিদ্ধান্তে কেন ক্ষুব্ধ হন লিওনেল মেসি, চোখে চোট পেয়েও কীভাবে ম্যাচ চালিয়ে যান, জানুন বিস্তারিত।

বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি হয় বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। ম্যাচে ৩-১ গোলের জয় তুলে নিয়ে শেষ পর্যন্ত সেমিফাইনাল নিশ্চিত করে লিওনেল মেসির দল। তবে জয়ের পাশাপাশি সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আসে মেসি রেফারিকে কী বলেছিলেন—এই প্রশ্ন। ম্যাচ চলাকালে একটি বিতর্কিত সিদ্ধান্তকে ঘিরে পর্তুগিজ রেফারি জোয়াও পিনহেইরোর সঙ্গে মেসির উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় ফুটবলপ্রেমীদের নজর কাড়ে।

প্রথমার্ধে এগিয়ে যাওয়ার পর দ্বিতীয়ার্ধে সমতায় ফেরে সুইজারল্যান্ড। ফলে ম্যাচের উত্তেজনা বাড়তে থাকে। শেষ পর্যন্ত অতিরিক্ত সময়ে তিন গোল করে জয় নিশ্চিত করে আর্জেন্টিনা।

মেসি রেফারিকে কী বলেছিলেন: বিতর্কিত সিদ্ধান্তে ক্ষোভ

ম্যাচের একটি বিতর্কিত মুহূর্তে রেফারি জোয়াও পিনহেইরোর সিদ্ধান্তে অসন্তুষ্ট হয়ে তার কাছে যান আর্জেন্টাইন অধিনায়ক লিওনেল মেসি।

মাঠেই রেফারির সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে মেসি স্পষ্ট ভাষায় বলেন,

“ভালোভাবে কথা বলুন, অসম্মান করবেন না। আমার সঙ্গে সম্মান রেখে কথা বলুন। আমি আপনার সঙ্গে সম্মান রেখেই কথা বলেছি।”

এই মন্তব্যের মধ্য দিয়ে বোঝা যায়, রেফারির আচরণে তিনি বিরক্ত ও অসন্তুষ্ট ছিলেন। ঘটনার পর মুহূর্তটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে।

ম্যাচের ধারাবাহিকতায় কী ঘটেছিল

সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচটি শুরু থেকেই প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ছিল।

প্রথমার্ধে আর্জেন্টিনা এগিয়ে গেলেও দ্বিতীয়ার্ধে সুইসরা সমতা ফিরিয়ে আনে। এরপর ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। অতিরিক্ত সময়েই আর্জেন্টিনা আরও দুটি গোল করে ৩-১ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে এবং সেমিফাইনালে জায়গা করে নেয়।

ম্যাচের বিভিন্ন সময়ে দুই দলই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলায় মনোযোগ দেয়। ফলে রেফারির বেশ কয়েকটি সিদ্ধান্ত নিয়েও মাঠে উত্তেজনা তৈরি হয়।

চোখে আঘাত পেয়েও মাঠ ছাড়েননি মেসি

রেফারির সঙ্গে বাক্যবিনিময়ের আগেই বড় ধাক্কা খেয়েছিলেন লিওনেল মেসি।

দ্বিতীয়ার্ধে বল দখলের লড়াইয়ে সুইজারল্যান্ডের এক খেলোয়াড়ের সঙ্গে সংঘর্ষে তার ডান চোখে আঘাত লাগে। পরিস্থিতি এমন হয় যে পানিবিরতির সময় দলের চিকিৎসকরা মাঠে এসে তার চোখে বরফ দিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন।

চোট পাওয়ার পরও তিনি ম্যাচ ছেড়ে যাননি। বরং পুরো সময় মাঠে থেকে দলের আক্রমণভাগে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।

গোল না করেও ছিলেন আক্রমণের কেন্দ্রবিন্দু

এই ম্যাচে নিজের নাম গোলদাতাদের তালিকায় তুলতে না পারলেও মেসির উপস্থিতি ছিল আর্জেন্টিনার আক্রমণে গুরুত্বপূর্ণ।

পুরো ম্যাচজুড়ে তিনি সুইজারল্যান্ডের রক্ষণভাগের ওপর চাপ সৃষ্টি করেন এবং আক্রমণ তৈরিতে ভূমিকা রাখেন। অতিরিক্ত সময়েও তার নেতৃত্ব দলকে আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছে।

ম্যাচের উত্তেজনা কেন আলোচনায়

আর্জেন্টিনা ও সুইজারল্যান্ডের এই লড়াই কেবল ফলাফলের জন্য নয়, মাঠের কয়েকটি ঘটনাও আলোচনায় নিয়ে এসেছে।

এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল—

  • রেফারির বিতর্কিত সিদ্ধান্ত।
  • লিওনেল মেসির প্রতিবাদ।
  • ডান চোখে আঘাত পাওয়ার ঘটনা।
  • চিকিৎসা নেওয়ার পরও ম্যাচ চালিয়ে যাওয়া।
  • অতিরিক্ত সময়ে আর্জেন্টিনার জয় নিশ্চিত করা।

এসব কারণে ম্যাচটি ফুটবলপ্রেমীদের কাছে আরও আলোচিত হয়ে ওঠে।

মেসি রেফারিকে কী বলেছিলেন—এই প্রশ্নের উত্তর পাওয়া গেছে ম্যাচ চলাকালীন তার সরাসরি প্রতিক্রিয়াতেই। রেফারির আচরণে অসন্তুষ্ট হয়ে তিনি সম্মান বজায় রেখে কথা বলার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে চোখে আঘাত পেয়েও মাঠে থেকে দলের হয়ে লড়াই চালিয়ে যাওয়া তার দৃঢ় মানসিকতারও পরিচয় দেয়। শেষ পর্যন্ত ৩-১ গোলের জয়ে আর্জেন্টিনা সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে।

সর্বাধিক পঠিত