এইমাত্র

আরও খবর

Website Feature Image (4)
এইচএসসি সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেন যারা
Website Feature Image (1)
আদালত অবমাননার ব্যাখ্যা দিতে এক মাস সময় চান ব্যারিস্টার ফুয়াদ
Website Feature Image (3)
মিরপুর-১ ও ১০-এ উচ্ছেদ বন্ধ ও পুনর্বাসনের দাবিতে বনানীতে মানববন্ধন
Website Feature Image (17)
এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নতুন পে স্কেল নিয়ে সুখবর দিলেন শিক্ষামন্ত্রী
Website Feature Image (12)
অকৃতকার্যদের পুনঃপরীক্ষা: সর্বোচ্চ চার বিষয়ে পরীক্ষার সুযোগ, দুয়েক দিনের মধ্যে রুটিন

তারেক রহমান-আনোয়ার ইব্রাহিমের বৈঠকঃ শ্রম-বাণিজ্য ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে আলোচনা

তারেক রহমান-আনোয়ার ইব্রাহিমের বৈঠক মালয়েশিয়ায় অনুষ্ঠিত হয়েছে। শ্রম, বাণিজ্য ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনসহ নানা বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-আনোয়ার ইব্রাহিম বৈঠক মালয়েশিয়ায় অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে দুই দেশের মধ্যে শ্রমবাজার, বাণিজ্য, প্রযুক্তি ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়। সোমবার (২২ জুন) স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ১০টায় মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

এই বৈঠকে দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্ব পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা ইস্যুতে মতবিনিময় করেন এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতার নতুন দিকনির্দেশনা নিয়ে আলোচনা করেন।

বৈঠকের প্রেক্ষাপট: তারেক রহমান-আনোয়ার ইব্রাহিম বৈঠক

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে তারেক রহমানের এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠককে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে। বৈঠকে জনশক্তি রপ্তানি, প্রযুক্তি সহযোগিতা, জ্বালানি খাত এবং বাণিজ্য সম্প্রসারণসহ একাধিক বিষয় গুরুত্ব পায়।

বিশেষ করে শ্রমবাজার পুনরায় উন্মুক্ত করা এবং বাংলাদেশি কর্মীদের কাজের সুযোগ বাড়ানোর বিষয়টি আলোচনায় অগ্রাধিকার পায়।

শ্রম, বাণিজ্য ও আঞ্চলিক সহযোগিতা

জনশক্তি ও শ্রমবাজার নিয়ে আলোচনা

বৈঠকে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় উন্মুক্ত করার বিষয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন কারণে অবৈধ হয়ে যাওয়া বাংলাদেশি নাগরিকদের নিয়মিতকরণ এবং ওয়ার্ক পারমিট নবায়নের বিষয়টিও আলোচনায় উঠে আসে।

এই অংশটি তারেক রহমান-আনোয়ার ইব্রাহিম বৈঠক-এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

কৃষি ও রপ্তানি বাণিজ্য

বাংলাদেশের আম, ফলমূল ও শাকসবজি মালয়েশিয়ার বাজারে আরও সহজে প্রবেশাধিকার পাওয়ার বিষয়েও আলোচনা হয়। দুই দেশের বাণিজ্য সম্পর্ক আরও গভীর করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ইস্যুতে আলোচনা

বৈঠকে শুধু দ্বিপাক্ষিক বিষয়ই নয়, বরং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যু নিয়েও আলোচনা হয়।

এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য:

  • আসিয়ানের সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনার হওয়ার জন্য বাংলাদেশের আবেদন
  • আঞ্চলিক বিস্তৃত অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তি
  • রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ইস্যু
  • জাতিসংঘ ও অন্যান্য বহুপাক্ষিক ফোরামে সহযোগিতা

এই বিষয়গুলো তারেক রহমান-আনোয়ার ইব্রাহিম বৈঠক-কে আরও কৌশলগত গুরুত্ব দিয়েছে।

রোহিঙ্গা ইস্যু ও মানবিক দিক

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ইস্যু বৈঠকের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল। দুই পক্ষই এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর জোর দেন। পাশাপাশি মানবিক ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার প্রশ্নে একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়।

সমঝোতা স্মারক ও দলিল বিনিময়

বৈঠকের পর দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে একটি সংস্কৃতি বিষয়ক সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হয়।

এছাড়া:

  • সন্ত্রাসবাদ দমন বিষয়ে গবেষণা ও সক্ষমতা বৃদ্ধির সহযোগিতা সংক্রান্ত একটি দলিল
  • বিনিয়োগ সংক্রান্ত একটি দ্বিপাক্ষিক দলিল

এই দুটি দলিল দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের মাধ্যমে বিনিময় করা হয়।

যৌথ সংবাদ সম্মেলন

বৈঠক শেষে দুই দেশের সরকারপ্রধান একটি যৌথ সংবাদ সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন। সেখানে আলোচনার সারসংক্ষেপ এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতার রূপরেখা তুলে ধরা হয়।

বিশ্লেষকদের মতে, এই তারেক রহমান-আনোয়ার ইব্রাহিম বৈঠক দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদারে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে কাজ করতে পারে।

সর্বাধিক পঠিত