আরও খবর

যে কারণে বাতিল মিশরের গোল (18)
কানাডার দাবানলের ধোঁয়া যুক্তরাষ্ট্রে, শুল্ক বাড়ানোর হুমকি ট্রাম্পের
যে কারণে বাতিল মিশরের গোল (12)
চীনের ভূমিধসে নিহত অন্তত ৮, নিখোঁজ ৩৪
যে কারণে বাতিল মিশরের গোল (3)
সাবেক ব্রিটিশ মন্ত্রী উইডিকম্বকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে: পুলিশ
যে কারণে বাতিল মিশরের গোল (12)
যুক্তরাষ্ট্রে ৬ দিনের ব্যবধানে দ্বিতীয় ঘটনা, আইস এজেন্টের গুলিতে অভিবাসী নিহত
যে কারণে বাতিল মিশরের গোল (9)
ইরানের এই পাহাড়ে কী আছে, যা ধ্বংস করতে চান ট্রাম্প

ইরানের কোথায় কোথায় হামলা চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র?

ইরানের কোথায় কোথায় হামলা চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র?, ইরানে মার্কিন হামলা নতুন করে উত্তেজনা বাড়িয়েছে। রাতভর অভিযানে ৮ জন নিহত ও ২০ জন আহত হয়েছেন, চাবাহার বন্দরেও হামলার তথ্য জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

ইরানে মার্কিন হামলা চালিয়ে নজরদারি স্থাপনা, সামরিক রসদ সরবরাহ অবকাঠামো, ভূগর্ভস্থ অস্ত্রভাণ্ডার ও সামুদ্রিক সক্ষমতাকে লক্ষ্য করা হয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। যুদ্ধবিমান, ড্রোন ও যুদ্ধজাহাজ ব্যবহার করে চালানো এই অভিযানে ইরানের বিভিন্ন অঞ্চলের অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএ জানিয়েছে, রাতভর হামলায় অন্তত আটজন নিহত ও আরও ২০ জন আহত হয়েছেন।

ঘটনাটি পশ্চিম এশিয়ায় চলমান উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়েছে। সেন্টকমের বিবৃতি অনুযায়ী, ১৭ জুলাই রাত ৯টা ৩০ মিনিটে যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চলীয় সময় পর্যন্ত অভিযান চলেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ অবরোধ কঠোরভাবে কার্যকর করার কথাও জানিয়েছে।

ইরানে মার্কিন হামলার লক্ষ্য কী ছিল?

সেন্টকমের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে একাধিক ধরনের সামরিক সক্ষমতা ব্যবহার করা হয়েছে। এর মধ্যে ছিল যুদ্ধবিমান, ড্রোন ও যুদ্ধজাহাজ।

অভিযানে ইরানের নজরদারি স্থাপনা, সামরিক রসদ সরবরাহের অবকাঠামো, ভূগর্ভস্থ অস্ত্রভাণ্ডার এবং সামুদ্রিক সক্ষমতাকে লক্ষ্য করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

তবে ইরানের কোন কোন নির্দিষ্ট স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। ইরানের বিভিন্ন প্রদেশে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে বলে দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএ জানিয়েছে।

সেন্টকম বলেছে, মার্কিন প্রেসিডেন্টের নির্দেশনা অনুযায়ী ইরানকে জবাবদিহির আওতায় রাখতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি দেশটির বন্দরগুলোতে নৌ অবরোধ আরও কঠোরভাবে কার্যকর করা হচ্ছে।

রাতভর হামলায় ইরানে হতাহতের তথ্য

ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএ শুক্রবার, ১৭ জুলাই, জানিয়েছে যে বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুক্রবার ভোর পর্যন্ত দেশটির কয়েকটি অঞ্চলে হামলা চালানো হয়।

এই অভিযানে অন্তত আটজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ২০ জন। তবে হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত নির্দিষ্ট স্থাপনাগুলোর বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ ও তথ্যকেন্দ্রের প্রধান হোসেইন কেরমানপুর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় আরও বড় হতাহতের তথ্য তুলে ধরেছেন।

তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসে যুক্তরাষ্ট্রের পুনরায় শুরু করা হামলায় এখন পর্যন্ত মোট ৩৮ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ৪০০ জনের বেশি।

নিহতদের মধ্যে তিনজন নারী এবং ১৮ বছরের কম বয়সী একজন কিশোর রয়েছেন। আহতদের মধ্যে ২২ জন নারী ও নয়জন অপ্রাপ্তবয়স্ক রয়েছেন বলে জানান কেরমানপুর।

তিনি আরও জানিয়েছেন, বর্তমানে ৪৭ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

চাবাহার বন্দরেও মার্কিন হামলার দাবি

ইরানের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ চাবাহার বন্দরও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের লক্ষ্যবস্তু হয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ।

তার দাবি, চাবাহার বন্দরে বিমান হামলা চালানো হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, বন্দরে থাকা একটি নজরদারি টাওয়ার ধ্বংস করা হয়েছে। ধসে পড়া টাওয়ারের ছবিও প্রকাশ করেন তিনি।

তবে এই হামলার বিষয়ে ইরানের পক্ষ থেকে এখনো কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

চাবাহার বন্দরটি ভারতের সহায়তায় উন্নয়ন করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে বন্দরটিতে মার্কিন হামলার বিষয়টি আঞ্চলিক ভূরাজনীতিতেও গুরুত্ব পেয়েছে।

কয়েক মাসে চাবাহারে তৃতীয় হামলা

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযানে চাবাহার বন্দর একাধিকবার যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্যবস্তু হয়েছে।

গত কয়েক মাসের মধ্যে এই বন্দরকে লক্ষ্য করে এটি তৃতীয় হামলা বলে উল্লেখ করা হয়েছে। নতুন হামলার পর বন্দরটির নিরাপত্তা ও সামুদ্রিক অবকাঠামো নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

তবে হামলার ক্ষয়ক্ষতি বা বন্দরের কার্যক্রমে এর কী প্রভাব পড়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

হরমুজ প্রণালির ঘটনার পর উত্তেজনা বৃদ্ধি

হরমুজ প্রণালিতে একটি পণ্যবাহী জাহাজে ইরানের হামলার পর পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

এরপর যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে পাল্টা সামরিক অভিযান শুরু করে। একই সঙ্গে ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধের ঘোষণা দেয় ওয়াশিংটন।

পরবর্তী সময়ে ইরানের বিভিন্ন স্থানে হামলা চালানোর তথ্য সামনে আসে। নজরদারি স্থাপনা, সামরিক অবকাঠামো এবং সামুদ্রিক সক্ষমতাকে লক্ষ্য করে এসব অভিযান চালানো হচ্ছে বলে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

এই ধারাবাহিকতায় চাবাহার বন্দরেও হামলার দাবি করা হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যে ৫০ হাজারের বেশি মার্কিন সেনা

সেন্টকম জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ৫০ হাজারের বেশি মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে।

মার্কিন সামরিক কমান্ডের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব সেনা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। প্রয়োজন হলে যেকোনো পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য তারা প্রস্তুত বলেও জানানো হয়েছে।

এদিকে ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ অবরোধ জোরদারের ঘোষণা এবং বিভিন্ন স্থানে সামরিক হামলার কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

তবে সামরিক অভিযান কতদিন চলবে বা পরবর্তী সময়ে এর পরিধি আরও বাড়বে কি না, সে বিষয়ে প্রতিবেদনে কোনো নির্দিষ্ট তথ্য দেওয়া হয়নি।

ইরানে মার্কিন হামলার সামগ্রিক প্রভাব

এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ইরানে মার্কিন হামলায় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করা হয়েছে। একই সঙ্গে দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে হতাহতের ঘটনাও ঘটেছে।

ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসে পুনরায় শুরু হওয়া মার্কিন হামলায় নিহতের সংখ্যা ৩৮ এবং আহতের সংখ্যা ৪০০ ছাড়িয়েছে। তবে পৃথক হামলাগুলোর ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র এখনো প্রকাশিত হয়নি।

চাবাহার বন্দরে হামলার মার্কিন দাবি নিয়েও ইরানের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এখনো পাওয়া যায়নি। ফলে বন্দরের প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতি এবং হামলার বিস্তারিত পরিস্থিতি সম্পর্কে আরও তথ্যের অপেক্ষা রয়েছে।

সেন্টকমের বিবৃতি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র সামরিক অভিযান ও নৌ অবরোধ—দুই দিকেই চাপ অব্যাহত রাখছে। অন্যদিকে, ইরানের বিভিন্ন অঞ্চলে হামলা ও হতাহতের তথ্য পরিস্থিতির মানবিক দিকটিও সামনে এনেছে।

ইরানে মার্কিন হামলা পশ্চিম এশিয়ার চলমান উত্তেজনাকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি অনুযায়ী, সামরিক ও সামুদ্রিক সক্ষমতার পাশাপাশি নজরদারি স্থাপনা ও অস্ত্রভাণ্ডারকে লক্ষ্য করে অভিযান চালানো হয়েছে। ইরানের তথ্য অনুযায়ী, এসব হামলায় প্রাণহানি ও আহতের সংখ্যা বাড়ছে।

চাবাহার বন্দরে হামলার মার্কিন দাবি, ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ অবরোধ এবং মধ্যপ্রাচ্যে ৫০ হাজারের বেশি মার্কিন সেনার উপস্থিতি—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি এখন অত্যন্ত সংবেদনশীল। তবে হামলার পূর্ণ ক্ষয়ক্ষতি ও পরবর্তী সামরিক পরিস্থিতি সম্পর্কে আরও তথ্যের অপেক্ষা রয়েছে।

সর্বাধিক পঠিত