আরও খবর

News Photocard (18)
প্রভিডেন্ট ফান্ড নিয়ে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বড় সুখবর
News Photocard (15)
কিলোমিটারপ্রতি যত বাড়ল বাসভাড়া
News Photocard (9)
বেশ কয়েকটি দ্বিপক্ষীয় ও বহুপাক্ষিক বৈঠকে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী: মাহদী আমিন
News Photocard (27)
বিদেশ সফরে জামায়াতের ৩৪ এমপি, নানা সমালোচনা
News Photocard (15)
অপ্রতিম হত্যায় ৪ আসামির ২ কিশোরকে পাঠানো হচ্ছে সংশোধনাগারে

৩ দাবি মানলে ঢাকা শহরে আর ককটেল ফুটবে না : নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

৩ দাবি মানলে ঢাকা শহরে আর ককটেল ফুটবে না —এমন মন্তব্য করেছেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদ মিছিল শেষে তুলে ধরেছেন দাবিগুলো।

রাজধানী ঢাকায় ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা বন্ধের প্রসঙ্গে নিজেদের ৩ দাবি তুলে ধরেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর রাতে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে এনসিপির মিছিল শেষে রাজধানীর নেভি গলিতে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, সরকার তাদের উত্থাপিত ৩ দাবি মেনে নিলে ঢাকা শহরে আর ককটেল ফুটবে না।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বক্তব্যে যে ৩ দাবি উঠে এসেছে, সেগুলো হলো—আওয়ামী লীগকে বাংলাদেশে রাজনৈতিকভাবে বাদ দেওয়া, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন এবং জুলাই গণহত্যার বিচার। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এসব দাবিকে সামনে রেখেই তারা রাজপথে কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ৩ দাবি কী?

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী তাঁর বক্তব্যে তিনটি বিষয়কে এনসিপির চলমান রাজনৈতিক দাবির অংশ হিসেবে তুলে ধরেন। এর মধ্যে প্রথমটি আওয়ামী লীগকে বাংলাদেশে রাজনৈতিকভাবে বাদ দেওয়ার দাবি। দ্বিতীয়টি গণভোটের রায় বাস্তবায়ন এবং তৃতীয়টি জুলাই গণহত্যার বিচার।

তিনি বলেন, সরকার এখনো এসব দাবি মেনে নেয়নি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, দাবিগুলো বাস্তবায়ন করা হলে রাজধানীতে ককটেল বিস্ফোরণের মতো ঘটনা আর ঘটবে না।

এখানে ৩ দাবি-এর সঙ্গে ককটেল বিস্ফোরণের প্রসঙ্গটি সরাসরি যুক্ত করেছেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী নিজেই। তাঁর বক্তব্যের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিকভাবে বাদ দেওয়ার দাবি বাস্তবায়ন হলে দলটির কর্মীদের ককটেল ব্যবহারের সুযোগ থাকবে না—এমন বক্তব্যই তিনি বোঝাতে চেয়েছেন।

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদ মিছিল

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর এই বক্তব্য এসেছে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে আয়োজিত এনসিপির মিছিলের পর। সোমবার রাতে রাজধানীতে দলটির এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

মিছিল শেষে নেভি গলিতে দাঁড়িয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। তখনই তিনি সরকারের প্রতি তাদের রাজনৈতিক দাবিগুলো মেনে নেওয়ার আহ্বান জানান এবং ৩ দাবি বাস্তবায়নের সঙ্গে ঢাকায় ককটেল বিস্ফোরণের প্রসঙ্গটি যুক্ত করেন।

অর্থাৎ কর্মসূচিটির তাৎক্ষণিক প্রেক্ষাপট ছিল জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদ। তবে মিছিল-পরবর্তী বক্তব্যে আলোচনার বড় অংশজুড়ে উঠে আসে রাজনৈতিক সংস্কার, গণভোটের রায় এবং জুলাইয়ের ঘটনাবলির বিচারসংক্রান্ত দাবি।

আওয়ামী লীগ প্রসঙ্গে পাটওয়ারীর বক্তব্য

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, আওয়ামী লীগকে বাংলাদেশে রাজনৈতিকভাবে বাদ দিতে হলে সংস্কার প্রয়োজন। তিনি দাবি করেন, ১১ দলীয় জোটও একই ধরনের অবস্থান তুলে ধরছে।

এ সময় ১১ দলীয় জোট আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে কোনো মিছিল করে না—এমন অভিযোগের প্রসঙ্গও আসে। এর জবাবে পাটওয়ারী বলেন, অভিযোগটি সঠিক নয়। তাঁর দাবি, আগের দিনও দুটি মিছিল হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগকে বাংলাদেশে বাদ দেওয়ার প্রশ্নে সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথা ১১ দলীয় জোটও বলে আসছে। একইসঙ্গে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন এবং জুলাই গণহত্যার বিচারের দাবিকেও তিনি তাদের আন্দোলনের অংশ হিসেবে উল্লেখ করেন।

এভাবে তাঁর বক্তব্যে ৩ দাবি শুধু এনসিপির নিজস্ব কর্মসূচি নয়, ১১ দলীয় জোটের দাবির সঙ্গেও সম্পর্কিত বলে উপস্থাপিত হয়েছে।

ককটেল প্রসঙ্গে কী বলেছেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

ককটেল প্রসঙ্গে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বক্তব্যটি মূলত তাঁর রাজনৈতিক দাবিগুলোর সঙ্গে রাজধানীর সহিংসতার একটি সম্পর্ক তুলে ধরার চেষ্টা। তিনি বলেন, সরকার যদি তাদের ৩ দাবি মেনে নেয়, তাহলে ঢাকায় আর ককটেল ফুটবে না।

তাঁর বক্তব্যের ব্যাখ্যায় আওয়ামী লীগকে বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। পাটওয়ারীর বক্তব্য অনুযায়ী, আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিকভাবে বাদ দেওয়ার দাবি বাস্তবায়ন হলে দলটির কর্মীদের ককটেল ব্যবহারের সুযোগও থাকবে না।

তবে ককটেল বিস্ফোরণ ও রাজনৈতিক দাবির মধ্যে কোনো আইনগত বা তদন্তভিত্তিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার তথ্য মূল সোর্সে দেওয়া হয়নি। ফলে এ বিষয়ে পাটওয়ারীর বক্তব্যকে তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান ও বক্তব্য হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

১১ দলীয় জোট প্রসঙ্গে অবস্থান

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী তাঁর বক্তব্যে ১১ দলীয় জোটের কথাও উল্লেখ করেন। তাঁর দাবি, জোটটি যে দাবিগুলো নিয়ে আন্দোলন করছে, সেগুলোর সঙ্গে এনসিপির উত্থাপিত ৩ দাবি-এর মিল রয়েছে।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগকে বাংলাদেশে রাজনৈতিকভাবে বাদ দেওয়ার জন্য সংস্কার প্রয়োজন এবং ১১ দলীয় জোটও এ বিষয়টি বলে আসছে। একইসঙ্গে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন ও জুলাই গণহত্যার বিচারের দাবিকেও তিনি রাজপথের কর্মসূচির অংশ হিসেবে তুলে ধরেন।

এ প্রসঙ্গে তাঁর বক্তব্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—সরকার দাবিগুলো বাস্তবায়ন করছে না বলে তিনি অভিযোগ করেছেন। তাঁর মতে, দাবিগুলো বাস্তবায়িত হলে ককটেল বিস্ফোরণের মতো ঘটনা আর থাকবে না।

বক্তব্যের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বক্তব্যে একই সঙ্গে তিনটি বিষয় সামনে এসেছে—জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদ, রাজনৈতিক সংস্কারের দাবি এবং জুলাইয়ের ঘটনাবলির বিচার।

প্রতিবাদ মিছিলটি শুরু হয়েছিল জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিকে কেন্দ্র করে। কিন্তু মিছিল শেষে দেওয়া বক্তব্যে তিনি রাজনৈতিক সংস্কার ও আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিকভাবে বাদ দেওয়ার বিষয়টিকে সামনে আনেন।

এখানে ৩ দাবি-এর প্রতিটি আলাদাভাবে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ইস্যু হিসেবে তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে। তবে এসব দাবি বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া, সময়সীমা বা সরকারের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়ার তথ্য এই সোর্সে উল্লেখ নেই।

এনসিপির অবস্থানের সঙ্গে দাবিগুলোর সম্পর্ক

জাতীয় নাগরিক পার্টির অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে দলটি গণতন্ত্র পুনর্গঠন এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক সংস্কার নিয়ে তাদের অবস্থান প্রকাশ করেছে। দলটির ওয়েবসাইটে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধকরণ ও গণহত্যার বিচারসংক্রান্ত একটি অবস্থানও প্রকাশিত হয়েছে।

এই প্রেক্ষাপটে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বক্তব্যে উল্লিখিত ৩ দাবি এনসিপির প্রকাশ্য রাজনৈতিক অবস্থানের সঙ্গে সম্পর্কিত বিষয় হিসেবে সামনে আসে। তবে বর্তমান প্রতিবেদনের মূল তথ্য হিসেবে তাঁর ২১ সেপ্টেম্বরের বক্তব্যকেই ভিত্তি করা হয়েছে।

সামনে আলোচনায় যে বিষয়গুলো

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বক্তব্যের পর আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে তাঁর উত্থাপিত ৩ দাবি—আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিকভাবে বাদ দেওয়া, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন এবং জুলাই গণহত্যার বিচার।

এর পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে তাঁর ককটেল বিস্ফোরণ নিয়ে দেওয়া বক্তব্য। তিনি স্পষ্টভাবে দাবি করেছেন, সরকার এসব দাবি মেনে নিলে ঢাকায় আর ককটেল ফুটবে না।

তবে দাবিগুলো বাস্তবায়ন হলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে ঠিক কী পরিবর্তন ঘটবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা বা সরকারি প্রতিক্রিয়া এই সোর্সে নেই। তাই নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বক্তব্যের বাইরে এ বিষয়ে অতিরিক্ত কোনো সিদ্ধান্তে যাওয়ার সুযোগ নেই।

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে আয়োজিত একটি রাজনৈতিক কর্মসূচির পর দেওয়া এই বক্তব্যে তাই একদিকে মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদ, অন্যদিকে রাজনৈতিক সংস্কার ও বিচারসংক্রান্ত দাবি—দুই ধরনের ইস্যুই একসঙ্গে সামনে এসেছে।

সর্বাধিক পঠিত