এইমাত্র

আরও খবর

Website Feature Image (3)
কেন আরব দলগুলোর বিরুদ্ধে ভোট চুরির অভিযোগ আনলেন নেতানিয়াহু
Website Feature Image
ভোটে অমীমাংসিত ফলাফল: ইসরায়েলের অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পথে নেতানিয়াহু
Website Feature Image (33)
অদ্ভুত অর্থনৈতিক সংকটে ট্রাম্প
Website Feature Image (8)
ইসরায়েল সবেমাত্র একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনে ভোট দিয়েছে, তবে চূড়ান্ত ফলাফল স্পষ্ট হতে সময় লাগবে
Website Feature Image
ইসরায়েলি নির্বাচনের আগে নেতানিয়াহুর প্রশংসায় ট্রাম্প

ভারতের উপকূলে নতুন ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কা, সরানো হচ্ছে হাজারো মানুষ

ভারতে নতুন ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কায় তামিলনাড়ু ও অন্ধ্র প্রদেশের উপকূল থেকে ৩০ হাজার মানুষ সরানোর পরিকল্পনা নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। মঙ্গলবার ভোরে আঘাতের পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া বিভাগ।

ভারতের পূর্ব উপকূলে নতুন ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’ আঘাত হানার আশঙ্কায় উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়ার কাজ শুরু করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। ভারতীয় আবহাওয়া বিভাগ (আইএমডি) জানিয়েছে, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড়টি মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) ভোরে ভারতের স্থলভাগে আঘাত হানতে পারে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সোমবার (২ নভেম্বর) পর্যন্ত প্রায় দুই হাজার মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে নেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে প্রায় ৩০ হাজার মানুষকে সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নতুন এই ঘূর্ণিঝড়ের সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়তে পারে ভারতের দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলবর্তী দুই রাজ্য তামিলনাড়ু ও অন্ধ্র প্রদেশে। গত সপ্তাহে ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’-এর ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার আগেই নতুন ঝড়ের আশঙ্কা দেখা দেওয়ায় উপকূলীয় অঞ্চলে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা জোরদার করা হচ্ছে।

তবে আবহাওয়াসংক্রান্ত পূর্বাভাস অনুযায়ী, ‘মুরাসু’র তীব্রতা গত সপ্তাহের ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’-এর তুলনায় কিছুটা কম হতে পারে। আগের ঝড়টিতে ছয়জনের প্রাণহানির পাশাপাশি বহু ঘরবাড়ি ও ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল।

ভারতে ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কা, মঙ্গলবার ভোরে আঘাতের পূর্বাভাস

ভারতীয় আবহাওয়া বিভাগ (আইএমডি) জানিয়েছে, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নতুন ঘূর্ণিঝড়টি মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) ভোরে ভারতের স্থলভাগে আঘাত হানতে পারে। এই পূর্বাভাসের পরপরই উপকূলীয় এলাকায় বসবাসকারী মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ শুরু হয়েছে।

ঘূর্ণিঝড়ের সম্ভাব্য গতিপথ ও প্রভাব বিবেচনায় দক্ষিণ-পূর্ব ভারতের উপকূলীয় অঞ্চলগুলোকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে তামিলনাড়ু ও অন্ধ্র প্রদেশে ঝড়ের প্রভাবে ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।

ঘূর্ণিঝড় স্থলভাগে প্রবেশের আগে মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া দুর্যোগ মোকাবিলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এ কারণে সম্ভাব্য ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে নেওয়ার কার্যক্রম চালাচ্ছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

তামিলনাড়ু ও অন্ধ্র প্রদেশে বেশি প্রভাবের আশঙ্কা

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’র সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়তে পারে ভারতের দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলবর্তী তামিলনাড়ু ও অন্ধ্র প্রদেশ রাজ্যে।

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড়টির কারণে এই দুই রাজ্যের উপকূলীয় এলাকায় ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করছে আবহাওয়া বিভাগ। সে অনুযায়ী সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

উপকূলবর্তী এলাকায় বসবাসকারী মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরিয়ে নেওয়ার কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে। ঝড়ের সম্ভাব্য প্রভাব বিবেচনায় কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।

অন্ধ্র প্রদেশে ৩০ হাজার মানুষ সরানোর পরিকল্পনা

ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় অন্ধ্র প্রদেশে বড় পরিসরে মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। রাজ্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রখর জৈন জানিয়েছেন, সোমবার পর্যন্ত প্রায় দুই হাজার মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, এই কার্যক্রম তখনো চলমান ছিল। পরিস্থিতি বিবেচনায় সব মিলিয়ে প্রায় ৩০ হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করেছে কর্তৃপক্ষ।

অর্থাৎ, প্রাথমিকভাবে দুই হাজার মানুষকে সরিয়ে নেওয়ার পরও আরও অনেক মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে। ঘূর্ণিঝড়ের সম্ভাব্য প্রভাব মোকাবিলায় এই স্থানান্তর কার্যক্রমকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

পর্যায়ক্রমে চলছে নিরাপদ আশ্রয়ে স্থানান্তর

প্রখর জৈনের বক্তব্য অনুযায়ী, সোমবার পর্যন্ত প্রায় দুই হাজার মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে নেওয়া সম্ভব হয়েছে। তবে স্থানান্তরের কাজ শেষ হয়নি। পরিস্থিতি অনুযায়ী এই কার্যক্রম অব্যাহত রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।

মোট ৩০ হাজার মানুষকে সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা থেকে বোঝা যায়, অন্ধ্র প্রদেশের কর্তৃপক্ষ সম্ভাব্য ঝুঁকিপূর্ণ উপকূলীয় এলাকাগুলোতে বড় ধরনের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

তবে কোন কোন এলাকা থেকে কতজন মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হবে, সে বিষয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি।

ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার আগেই নতুন বিপদ

ভারতের পূর্ব উপকূলে নতুন ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কা এমন সময়ে দেখা দিয়েছে, যখন দেশটির উপকূলীয় অঞ্চলগুলো গত সপ্তাহের ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’-এর ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে।

ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের আঘাতে ছয়জন নিহত হয়েছিলেন। পাশাপাশি বহু ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পাওয়া যায়। কৃষি খাতেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল।

এমন পরিস্থিতিতে নতুন ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’র সম্ভাব্য আঘাত উপকূলীয় এলাকার মানুষের জন্য বাড়তি উদ্বেগ তৈরি করেছে।

আগের ঝড়ের ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলার পাশাপাশি নতুন দুর্যোগের প্রস্তুতি নেওয়া সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জন্য আরেকটি চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

নতুন ঝড়ের তীব্রতা তুলনামূলক কম হতে পারে

আবহাওয়াসংক্রান্ত পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’র তীব্রতা গত সপ্তাহের ‘অর্ণব’-এর তুলনায় কিছুটা কম হতে পারে।

তবে তুলনামূলক কম তীব্রতার পূর্বাভাস থাকলেও উপকূলীয় এলাকায় ঝুঁকি পুরোপুরি এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। এ কারণে কর্তৃপক্ষ আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।

বিশেষ করে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়ার মাধ্যমে সম্ভাব্য প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি কমানোর চেষ্টা চলছে।

বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড়, উপকূলে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব ভারতের দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলে পড়তে পারে বলে জানিয়েছে দেশটির আবহাওয়া বিভাগ। এ পরিস্থিতিতে তামিলনাড়ু ও অন্ধ্র প্রদেশের উপকূলীয় এলাকাগুলোতে সতর্কতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

ঘূর্ণিঝড়ের সম্ভাব্য আঘাতের সময় মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) ভোর নির্ধারণ করা হলেও পরিস্থিতির পরিবর্তনের বিষয়ে আবহাওয়া বিভাগের পূর্বাভাস গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

উপকূলীয় এলাকায় বসবাসকারী মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আগাম স্থানান্তর কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। অন্ধ্র প্রদেশে প্রায় ৩০ হাজার মানুষকে সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনাও সেই প্রস্তুতির অংশ।

নজর থাকবে ঘূর্ণিঝড়ের গতিপথ ও সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতিতে

ভারতের পূর্ব উপকূলে নতুন ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’র সম্ভাব্য আঘাত ঘিরে এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ঝড়টির গতিপথ, তীব্রতা এবং স্থলভাগে প্রবেশের পর সম্ভাব্য প্রভাব।

আবহাওয়া বিভাগের পূর্বাভাস অনুযায়ী, তামিলনাড়ু ও অন্ধ্র প্রদেশ সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকতে পারে। অন্যদিকে অন্ধ্র প্রদেশের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়ার কাজ শুরু করেছে।

গত সপ্তাহে ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের আঘাতে ছয়জনের প্রাণহানি এবং ঘরবাড়ি ও ফসলের ক্ষয়ক্ষতির অভিজ্ঞতার কারণে নতুন ঝড়ের প্রস্তুতি বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।

সব মিলিয়ে, ভারতের উপকূলীয় অঞ্চলে নতুন এই ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় আগাম সতর্কতা ও মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়াই এখন কর্তৃপক্ষের প্রধান অগ্রাধিকার।

সর্বাধিক পঠিত