অর্ধশত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান ও সহকারী শিক্ষককে শোকজ, নোটিশ দিয়েছে বেড়া উপজেলা শিক্ষা অফিস। এফএলএন লক্ষ্যমাত্রা পূরণে ব্যর্থতার অভিযোগে শিক্ষকদের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।
পাবনার বেড়া উপজেলার ৫০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকদের ৫০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শোকজ নোটিশ দিয়েছে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস। মৌলিক স্বাক্ষরতা ও সংখ্যা জ্ঞান (এফএলএন) কর্মসূচির নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যর্থতার অভিযোগে এই কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

বেড়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। গত মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) রাতে তিনি জানান, সংশ্লিষ্ট ৫০টি বিদ্যালয়ের মোট ২৭২ জন শিক্ষককে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। এর আগে গত রবিবার (২৬ জুলাই) উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত নোটিশ জারি করা হয়।
নোটিশের বিষয়টি ছড়িয়ে পড়ার পর বেড়া উপজেলাজুড়ে এ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
এফএলএন কর্মসূচির লক্ষ্য পূরণ না হওয়ায় ব্যবস্থা
প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় শিক্ষার্থীদের মৌলিক শেখার দক্ষতা নিশ্চিত করতে সরকার মৌলিক স্বাক্ষরতা ও সংখ্যা জ্ঞান (এফএলএন) কর্মসূচির ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।
নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে, ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনার আওতায় গত ৩০ জুনের মধ্যে নির্দিষ্ট কিছু শিক্ষাগত দক্ষতা অর্জনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল।
এর মধ্যে ছিল—
- তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বাংলা রিডিং দক্ষতা নিশ্চিত করা;
- চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের গণিতের চারটি মৌলিক নিয়ম (যোগ, বিয়োগ, গুণ ও ভাগ) শেখানো;
- পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের সাবলীল ইংরেজি রিডিং নিশ্চিত করা।
কিন্তু সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়গুলো এসব নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জন করতে পারেনি বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।
৫০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শোকজ নোটিশ দেওয়ার কারণ
৫০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শোকজ নোটিশ দেওয়ার পেছনে মূল কারণ হিসেবে এফএলএন কর্মসূচির লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের নোটিশে বলা হয়, একাধিক নির্দেশনা ও তদারকির পরও সংশ্লিষ্ট শিক্ষকরা কার্যকর উদ্যোগ নিতে ব্যর্থ হয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয়েছে।
এ কারণে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে কেন তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, সে বিষয়ে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।
যেসব বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা নোটিশ পেয়েছেন
শোকজ পাওয়া বিদ্যালয়গুলোর মধ্যে রয়েছে রূপগঞ্জ, আকনাই, কোমরপুর, শ্যামপুর, চর নতিবপুর, পুরান মাসুমদিয়া, নতুন মীরপুর, রতনগঞ্জ, ঢালারচর, খাষ ঢালারচর, রামনারায়নপুর, মাশুমদিয়া কাজিপাড়া, মহিষাখোলা, দুর্গাপুর ও সিন্দুরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ অন্যান্য বিদ্যালয়।
তবে সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, মোট ৫০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা এই নোটিশের আওতায় রয়েছেন।
শিক্ষকদের দাবি, বিভিন্ন সমস্যায় বাধাগ্রস্ত হয়েছে শিক্ষা কার্যক্রম
নোটিশ পাওয়া কয়েকজন শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, অনেক বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট রয়েছে। পাশাপাশি অতিরিক্ত প্রশাসনিক দায়িত্ব, প্রত্যন্ত এলাকায় বিদ্যালয়ের অবস্থান, যাতায়াতের সমস্যাসহ বিভিন্ন কারণে নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জনে বাধা তৈরি হয়েছে।
তারা আরও জানান, শিক্ষার্থীদের অনিয়মিত উপস্থিতি এবং অভিভাবকদের পর্যাপ্ত সহযোগিতার অভাবও শিক্ষার মান উন্নয়নের পথে চ্যালেঞ্জ হিসেবে কাজ করেছে।
শিক্ষকরা জানিয়েছেন, এসব বিষয় উল্লেখ করে তারা লিখিত ব্যাখ্যা জমা দেবেন।
প্রশাসনের বক্তব্য
বেড়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের এক কর্মকর্তা জানান, শিক্ষার্থীদের মৌলিক শিখন দক্ষতা নিশ্চিত করতে সরকার এফএলএন কর্মসূচিকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।
তিনি বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন না হলে সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির আওতায় আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বেড়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, ৫০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত ২৭২ জন শিক্ষককে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। নোটিশের জবাব সন্তোষজনক না হলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে বেড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রোনাল্ড চাকমা জানান, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস শিক্ষকদের শোকজ নোটিশ দিয়েছে। শিক্ষকদের দেওয়া জবাব পর্যালোচনা করে বিধি অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
শিক্ষার মান উন্নয়নে জবাবদিহির গুরুত্ব
প্রাথমিক পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের মৌলিক দক্ষতা অর্জন ভবিষ্যৎ শিক্ষাজীবনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তাই নির্ধারিত শিক্ষাগত লক্ষ্য পূরণে নিয়মিত তদারকি ও মূল্যায়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
৫০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শোকজ নোটিশ বিষয়টি এ ক্ষেত্রেই প্রশাসনিক জবাবদিহির একটি পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।





