এশিয়ান গেমসে শ্রীলঙ্কাকে উড়িয়ে দিল বাংলাদেশ, ৫-১ গোলের বড় জয়, আমিরুল ও আশরাফুলের জোড়া গোলে ঘুরে দাঁড়িয়ে এশিয়ান গেমসে গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য পায় দলটি।
২০তম এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা হকি ম্যাচে দাপুটে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ পুরুষ হকি দল। বৃহস্পতিবার জাপানের আইচি-নাগোয়ায় অনুষ্ঠিত ম্যাচে শ্রীলঙ্কাকে ৫-১ গোলের বিশাল ব্যবধানে হারিয়েছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক খেলায় আধিপত্য ধরে রাখে বাংলাদেশ। জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন আমিরুল ইসলাম ও আশরাফুল ইসলাম, দুজনই করেন দুটি করে গোল। অপর গোলটি আসে মাহবুব হোসেনের কাছ থেকে।
টানা দুই ম্যাচে বড় ব্যবধানে হারের পর এই জয় বাংলাদেশের জন্য ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ তৈরি করেছে। এর আগে দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে ৫-০ এবং স্বাগতিক জাপানের কাছে ৬-১ গোলে হেরেছিল বাংলাদেশ। ফলে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জয়টি দলের পয়েন্ট সংগ্রহে গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হয়ে এসেছে।
বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা হকিতে শুরু থেকেই বাংলাদেশের আধিপত্য

আইচি-নাগোয়ায় ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মনোভাব নিয়ে খেলতে থাকে বাংলাদেশ। শ্রীলঙ্কার রক্ষণভাগের ওপর ধারাবাহিক চাপ তৈরি করে একের পর এক আক্রমণ চালায় লাল-সবুজের দল।
ম্যাচজুড়ে বাংলাদেশের আক্রমণের ধারাবাহিকতা সবচেয়ে স্পষ্ট হয়েছে পেনাল্টি কর্নার আদায়ের সংখ্যায়। পুরো ম্যাচে ১৫টিরও বেশি পেনাল্টি কর্নার বা পিসি আদায় করে বাংলাদেশ। এর মাধ্যমে শ্রীলঙ্কার রক্ষণকে দীর্ঘ সময় চাপে রাখতে সক্ষম হয় তারা।
আক্রমণে ধারাবাহিক চাপ এবং সুযোগ তৈরির ফলে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ বাংলাদেশের হাতেই ছিল। শ্রীলঙ্কা পাল্টা আক্রমণের চেষ্টা করলেও বাংলাদেশের দাপুটে পারফরম্যান্সের সামনে সেই প্রচেষ্টা বড় কোনো পরিবর্তন আনতে পারেনি।
আমিরুল ও আশরাফুলের জোড়া গোল
বাংলাদেশের ৫-১ গোলের জয়ে সবচেয়ে বড় অবদান রাখেন আমিরুল ইসলাম ও আশরাফুল ইসলাম। দুজনই দুটি করে গোল করেন। ফলে দলের মোট পাঁচ গোলের চারটিই আসে এই দুই খেলোয়াড়ের স্টিক থেকে।
অন্য গোলটি করেন মাহবুব হোসেন। তিন খেলোয়াড়ের গোলেই বড় ব্যবধান তৈরি হয় এবং বাংলাদেশ ম্যাচে নিজেদের আধিপত্যকে ফলাফলে রূপ দিতে সক্ষম হয়।
শ্রীলঙ্কার হয়ে একমাত্র গোলটি করেন কুশল। প্রবল চাপের মধ্যে পাওয়া ওই গোলটি ব্যবধান কিছুটা কমালেও ম্যাচের ফলাফলে কোনো পরিবর্তন আনতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত ৫-১ গোলের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ।
১৫টিরও বেশি পেনাল্টি কর্নারে চাপ
বাংলাদেশের আক্রমণাত্মক পারফরম্যান্সের অন্যতম উল্লেখযোগ্য দিক ছিল পেনাল্টি কর্নার আদায়। ম্যাচে ১৫টিরও বেশি পেনাল্টি কর্নার পাওয়া বাংলাদেশের আক্রমণভাগের চাপের মাত্রা তুলে ধরে।
শ্রীলঙ্কার রক্ষণভাগকে বারবার পরীক্ষার মুখে ফেলেছে বাংলাদেশের আক্রমণ। একের পর এক পেনাল্টি কর্নার আদায়ের ফলে ম্যাচের বড় একটি সময় শ্রীলঙ্কাকে রক্ষণাত্মক অবস্থানে থাকতে হয়েছে।
এই ধারাবাহিক চাপের মধ্যেই বাংলাদেশের গোলগুলো আসে। ফলে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ শুধু বল দখল বা আক্রমণের পরিসরে নয়, স্কোরলাইনেও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
টানা দুই হারের পর ঘুরে দাঁড়াল বাংলাদেশ
২০তম এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের শুরুটা ভালো হয়নি। প্রথম ম্যাচে দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে ৫-০ গোলে হারের পর দ্বিতীয় ম্যাচে জাপানের বিপক্ষে ৬-১ গোলের পরাজয় দেখতে হয় দলকে।
টানা দুই পরাজয়ের পর শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচটি বাংলাদেশের জন্য ছিল ঘুরে দাঁড়ানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। সেই ম্যাচে দলটি শুধু জয়ই পায়নি, বড় ব্যবধানেও প্রতিপক্ষকে হারিয়েছে।
দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের বিপক্ষে বড় ব্যবধানে হারের পর এবার শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৫-১ গোলের ফলাফল বাংলাদেশের পারফরম্যান্সে বড় পরিবর্তন দেখিয়েছে। বিশেষ করে আক্রমণভাগের কার্যকারিতা এবং পেনাল্টি কর্নার আদায়ের ক্ষেত্রে দলটির দাপট ছিল চোখে পড়ার মতো।
পুল ‘এ’-তে বাংলাদেশের অবস্থান
শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জয়ের পর তিন ম্যাচ শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়িয়েছে ৩ পয়েন্টে। এক জয় ও দুই হার নিয়ে পুল ‘এ’-তে বাংলাদেশের অবস্থান চতুর্থ।
অন্যদিকে, দুই ম্যাচ থেকে পূর্ণ ৬ পয়েন্ট নিয়ে পুলের শীর্ষে রয়েছে ভারত। বাংলাদেশের তিন ম্যাচের মধ্যে একটি জয় এবং দুটি পরাজয় রয়েছে।
এখন পর্যন্ত পাওয়া ফলাফলে বাংলাদেশের অবস্থান এবং পয়েন্টের চিত্র পরিষ্কার। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জয় দলকে ৩ পয়েন্ট এনে দিয়েছে, যা আগের দুই ম্যাচের পরাজয়ের পর তাদের অবস্থানে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছে।
ফলাফলের ধারাবাহিকতায় পরিবর্তন
বাংলাদেশের প্রথম দুই ম্যাচের ফল ছিল—
- দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে ৫-০ গোলে পরাজয়
- জাপানের কাছে ৬-১ গোলে পরাজয়
এরপর তৃতীয় ম্যাচে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ফল—
- বাংলাদেশ ৫-১ শ্রীলঙ্কা
অর্থাৎ প্রথম দুই ম্যাচে বড় ব্যবধানে হারের পর তৃতীয় ম্যাচে বাংলাদেশ নিজেই বড় ব্যবধানে জয় পেয়েছে। এই জয় দলের পয়েন্ট সংগ্রহের পাশাপাশি টুর্নামেন্টে তাদের লড়াই চালিয়ে যাওয়ার সুযোগও ধরে রেখেছে।
শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বাংলাদেশের পারফরম্যান্স
বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা হকি ম্যাচের ফলাফল বিশ্লেষণ করলে বাংলাদেশের আক্রমণভাগের কার্যকারিতা বিশেষভাবে সামনে আসে। আমিরুল ইসলাম ও আশরাফুল ইসলামের জোড়া গোলের পাশাপাশি মাহবুব হোসেনের গোল দলকে পাঁচ গোলের ব্যবধান তৈরি করে দেয়।
অন্যদিকে শ্রীলঙ্কা পুরো ম্যাচে বাংলাদেশের চাপ সামলে মাত্র একটি গোল করতে পেরেছে। কুশলের সেই গোল বাংলাদেশের বড় ব্যবধানের জয় ঠেকাতে পারেনি।
বাংলাদেশের ১৫টিরও বেশি পেনাল্টি কর্নার আদায়ও ম্যাচের চিত্র বোঝার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। এটি দেখায়, আক্রমণের ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ কীভাবে শ্রীলঙ্কার রক্ষণভাগকে চাপের মধ্যে রেখেছিল।
তিন ম্যাচ শেষে ৩ পয়েন্ট নিয়ে পুল ‘এ’-তে চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। টুর্নামেন্টের এই পর্যায়ে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জয় দলটির জন্য পরবর্তী ম্যাচগুলোর আগে একটি গুরুত্বপূর্ণ ফল হিসেবে থাকছে।
তবে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের ফলাফলে জয় ও পরাজয় দুটিই রয়েছে। প্রথম দুই ম্যাচে দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের বিপক্ষে বড় ব্যবধানে পরাজয়ের পর তৃতীয় ম্যাচে শ্রীলঙ্কাকে ৫-১ গোলে হারিয়েছে দলটি।
এশিয়ান গেমসের চলমান প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের পারফরম্যান্সের এই পরিবর্তনই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে আক্রমণাত্মক হকি এবং বড় ব্যবধানের জয় দিয়ে দলটি নিজেদের পয়েন্টের খাতা খুলেছে।





