এইমাত্র

আরও খবর

News Photocard (8)
পাঠ্যবইয়ে বড় সংযোজন : যুক্ত হচ্ছে শহীদ জিয়া-খালেদা জিয়া, ৭ নভেম্বর ও জুলাই গণঅভ্যুত্থান
News Photocard (30)
দ্বিতীয় স্ত্রীকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা : এমপি গাজী নজরুলের জামিন নামঞ্জুর
News Photocard (21)
ভুয়া স্পন্সরে ইতালিতে ‘শ্রমদাস’ বানানোর ফাঁদ
News Photocard (12)
ভারতীয় ভিসার অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিয়ে বিশেষ নির্দেশনা
News Photocard (9)
বিশ্বব্যাংকের বিশ্লেষণঃ ‘ফ্যামিলি কার্ড’ সমন্বয় হলে সাড়ে ২৮ লাখ মানুষকে দারিদ্র্যমুক্ত করা সম্ভব

দেশের প্রথম সাইকেল ট্র্যাক উদ্বোধন হচ্ছে কাল

দেশের প্রথম সাইকেল ট্র্যাক উদ্বোধন হচ্ছে কাল, ২.২ কিলোমিটার সড়কে পৃথক লেনের এই উদ্যোগে নিরাপদ, পরিবেশবান্ধব যাতায়াত ও সক্রিয় জীবনযাপনের সুযোগ বাড়বে।

চট্টগ্রামে বাংলাদেশের প্রথম সাইকেল ট্র্যাক আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন হতে যাচ্ছে আগামীকাল। নগরবাসী ও পর্যটকদের জন্য নিরাপদ, আরামদায়ক এবং পরিবেশবান্ধব যাতায়াতের সুযোগ তৈরির লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) উদ্বোধনের প্রস্তুতি ও নির্মাণকাজ পরিদর্শন করেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র। আগামীকাল আনুষ্ঠানিকভাবে সাইকেল ট্র্যাকটি উদ্বোধন করবেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

চট্টগ্রামে সাইকেল ট্র্যাক উদ্বোধনের প্রস্তুতি

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের আওতাধীন ‘চট্টগ্রাম এয়ারপোর্ট রোড সম্প্রসারণ ও অন্যান্য ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন’ প্রকল্পের আওতায় এই অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়েছে। প্রকল্পের অংশ হিসেবে প্রায় ২ দশমিক ২ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি চার লেনের সড়ক তৈরি করা হয়েছে।

সড়কের মাঝখানে কার্বস্টোন দিয়ে তৈরি করা হয়েছে মিড আইল্যান্ড। এর এক পাশে ল্যান্ডস্কেপিং ওয়াকওয়ের সঙ্গে যুক্ত করে নির্মাণ করা হয়েছে পৃথক সাইকেল ট্র্যাক। ফলে মূল সড়কের যানবাহনের চলাচল থেকে আলাদা একটি নির্দিষ্ট পথে সাইকেল চালানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে।

উদ্বোধনের আগে বৃহস্পতিবার ট্র্যাকটির সার্বিক প্রস্তুতি ও নির্মাণকাজ সরেজমিনে পরিদর্শন করেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র। উদ্বোধনের পর এটি নগরবাসীর জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।

নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব যাতায়াতের লক্ষ্য

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়রের বক্তব্য অনুযায়ী, নগরবাসী ও পর্যটকদের জন্য নিরাপদ, আরামদায়ক এবং পরিবেশবান্ধব যোগাযোগব্যবস্থা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

নগরীতে যানজট ও পরিবেশদূষণ কমানোর পাশাপাশি সাইকেল ব্যবহারকে আরও নিরাপদ করার সুযোগ তৈরি করাও প্রকল্পটির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। পৃথক লেন থাকায় সাইকেল আরোহীরা মূল যানবাহন চলাচলের পথ থেকে আলাদা অবস্থানে সাইকেল চালাতে পারবেন।

এতে একদিকে সাইকেল চালানোর নিরাপত্তা বাড়ার সুযোগ তৈরি হবে, অন্যদিকে পরিবেশবান্ধব যাতায়াতের পরিসরও সম্প্রসারিত হবে।

২.২ কিলোমিটার সড়কে পৃথক সাইকেল চলাচলের ব্যবস্থা

নতুন এই সাইকেল ট্র্যাক প্রায় ২ দশমিক ২ কিলোমিটার দীর্ঘ চার লেনের সড়কের অংশ। সড়কের মাঝখানে কার্বস্টোন দিয়ে মিড আইল্যান্ড এবং এক পাশে ল্যান্ডস্কেপিং ওয়াকওয়ের সঙ্গে ট্র্যাকটি নির্মাণ করা হয়েছে।

শহরের সড়ক অবকাঠামোর সঙ্গে সাইকেল চলাচলের জন্য নির্দিষ্ট জায়গা যুক্ত করার ফলে একই সড়কে বিভিন্ন ধরনের চলাচলের জন্য পৃথক পরিসর তৈরি হয়েছে। মূল প্রকল্পের আওতায় সড়ক সম্প্রসারণ ও অন্যান্য ভৌত অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি এই সুবিধা যুক্ত করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নগরবাসী ও পর্যটকদের জন্য নিরাপদ এবং আরামদায়ক যোগাযোগব্যবস্থা নিশ্চিত করতেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্যসচেতন জীবনযাপনে ভূমিকা রাখার প্রত্যাশা

সাইকেল চলাচলের জন্য পৃথক লেন তৈরির আরেকটি সম্ভাব্য সুবিধা হিসেবে স্বাস্থ্যসচেতন ও সক্রিয় জীবনযাপনের প্রবণতা বাড়ার কথা উল্লেখ করেছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র।

নির্দিষ্ট সাইকেল ট্র্যাক থাকায় সাইকেল চালানোর জন্য নগরবাসীর সামনে তুলনামূলকভাবে পরিকল্পিত একটি পথ তৈরি হবে। এর মাধ্যমে দৈনন্দিন যাতায়াতের ক্ষেত্রে সাইকেল ব্যবহারের সুযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি সক্রিয় জীবনযাপনের প্রবণতাও উৎসাহিত হতে পারে।

তবে ট্র্যাকটি চালু হওয়ার পর এর ব্যবহার, নগরবাসীর অংশগ্রহণ এবং সামগ্রিক প্রভাবই এই উদ্যোগের কার্যকারিতা বোঝার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হবে।

নগর পরিবেশে নতুন যোগাযোগব্যবস্থার সংযোজন

চট্টগ্রামের মতো ব্যস্ত নগরে যানজট ও পরিবেশদূষণ কমানোর লক্ষ্য সামনে রেখে বিকল্প ও পরিবেশবান্ধব যাতায়াতের সুযোগ তৈরি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এই প্রেক্ষাপটে পৃথক সাইকেল ট্র্যাক নগর পরিবহন অবকাঠামোয় একটি নতুন সংযোজন।

চসিকের পক্ষ থেকে যে লক্ষ্য তুলে ধরা হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে নিরাপদ চলাচল, পরিবেশবান্ধব যোগাযোগ এবং নগরবাসীর সক্রিয় জীবনযাপন। সাইকেলের জন্য নির্দিষ্ট লেন তৈরির মাধ্যমে এসব লক্ষ্য বাস্তবায়নের একটি অবকাঠামোগত সুযোগ তৈরি করা হয়েছে।

প্রায় ২ দশমিক ২ কিলোমিটার দীর্ঘ এই ট্র্যাক তাই শুধু সাইকেল চালানোর আলাদা পথ হিসেবে নয়, নগর যোগাযোগব্যবস্থায় পরিবেশবান্ধব চলাচলের একটি নতুন সুযোগ হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।

উদ্বোধনের পরই নগরবাসীর জন্য উন্মুক্ত

আগামীকাল আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পর বাংলাদেশের প্রথম এই সাইকেল ট্র্যাক নগরবাসীর জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে। অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এর উদ্বোধন করবেন।

এর মাধ্যমে চট্টগ্রামের নগরবাসী ও পর্যটকদের জন্য সাইকেল চলাচলের একটি পৃথক অবকাঠামো আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হবে। একই সঙ্গে সাইকেল আরোহীদের নিরাপত্তা বাড়ানো এবং পরিবেশবান্ধব যাতায়াতের সুযোগ সম্প্রসারণের যে লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে, সেটিও বাস্তব ব্যবহারে আসবে।

সব মিলিয়ে, আগামীকাল উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে চট্টগ্রামে বাংলাদেশের প্রথম সাইকেল ট্র্যাক আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করবে। প্রায় ২ দশমিক ২ কিলোমিটার দীর্ঘ এই পৃথক লেন নগরবাসীর নিরাপদ সাইকেল চলাচল, পরিবেশবান্ধব যাতায়াত এবং সক্রিয় জীবনযাপনের সুযোগ বাড়াতে কতটা কার্যকর হয়, তা এখন বাস্তব ব্যবহারের ওপর নির্ভর করবে।

সর্বাধিক পঠিত