এইমাত্র

আরও খবর

News Photocard (16)
মেসির কীর্তি ভেঙে রোনালদোয় চোখ কেইনের
News Photocard (6)
বাংলাদেশ সফরের জন্য ওয়েস্ট ইন্ডিজের দল ঘোষণা, কে আছেন, কে নেই
News Photocard (6)
হামজাকে ছাড়াই সাফ শুরু করবে বাংলাদেশ
News Photocard (3)
আর্জেন্টিনার হয়ে মেসির পথচলায় রোনালদোর শ্রদ্ধা
News Photocard (24)
বিস্ফোরক বিবৃতিতে নিজের শাস্তি চাইলেন রোনালদো

টেস্ট ক্রিকেটে ‘চা-বিরতি’ শুরু হয়েছিল যেভাবে

টেস্ট ক্রিকেটে ‘চা-বিরতি’ শুরু হলো, জানুন ১৮৮১-৮২ সালের অ্যাশেজ থেকে ১৯০৫ সালের পরিবর্তন এবং আধুনিক ক্রিকেটে এই ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ ইতিহাস।

টেস্ট ক্রিকেটে চা-বিরতি এখন পাঁচ দিনের ক্রিকেটের পরিচিত ঐতিহ্য। তবে এই প্রথার সূচনা ইংল্যান্ডের হাত ধরে হয়নি; ক্রিকেট ইতিহাসের তথ্য অনুযায়ী, ১৮৮১-৮২ সালের অ্যাশেজ সিরিজে অস্ট্রেলিয়ায় প্রথম চা-বিরতির প্রচলন শুরু হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়। পরবর্তী সময়ে ১৮৯৯ সালে অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক জো ডার্লিংয়ের প্রস্তাব, ১৯০২ ও ১৯০৫ সালের অ্যাশেজের পরিবর্তন এবং স্কটল্যান্ডের পুরোনো ক্রিকেট ম্যাচের তথ্য এই ঐতিহ্যের ইতিহাসকে আরও সমৃদ্ধ করেছে।

বর্তমানে টেস্ট ক্রিকেটে চা-বিরতি শুধু চা পান করার সময় নয়; এটি খেলোয়াড়দের বিশ্রাম, খাবার গ্রহণ এবং দীর্ঘ সময়ের প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্যে সাময়িক বিরতি নেওয়ার একটি পরিচিত অংশ। সময়ের সঙ্গে এই বিরতির খাবার ও আয়োজনেও এসেছে পরিবর্তন।

টেস্ট ক্রিকেটে চা-বিরতি যেভাবে ঐতিহাসিক ঐতিহ্যে পরিণত হলো

ক্রিকেটের উৎপত্তি ও বিকাশের সঙ্গে ইংল্যান্ডের নাম ঘনিষ্ঠভাবে জড়িয়ে আছে। কিন্তু খেলাটির অন্যতম পরিচিত সংস্কৃতি হিসেবে বিবেচিত চা-বিরতির প্রচলনের কৃতিত্ব পুরোপুরি ইংল্যান্ডকে দেওয়া যায় না।

প্রাথমিক যুগের টেস্ট ক্রিকেটে চা-বিরতির জন্য নির্দিষ্ট কোনো আনুষ্ঠানিক নিয়ম ছিল না। খেলোয়াড়দের জন্য কখন এবং কীভাবে চা পরিবেশন করা হবে, তা তখনকার ম্যাচ আয়োজনের অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়নি।

ক্রিকেট ইতিহাসের বর্ণনা অনুযায়ী, ১৮৮১-৮২ সালের অ্যাশেজ সিরিজে অস্ট্রেলিয়ায় চা-বিরতির প্রচলন দেখা যায়। এই সময়টিকে টেস্ট ক্রিকেটের চা-বিরতির ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

অ্যাশেজ ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যকার ঐতিহ্যবাহী ক্রিকেট প্রতিদ্বন্দ্বিতা। এই সিরিজের সঙ্গে চা-বিরতির ইতিহাস যুক্ত হওয়ায় বিষয়টি ক্রিকেটের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের আলোচনায় বিশেষ জায়গা পেয়েছে।

১৮৯৯ সালে জো ডার্লিংয়ের প্রস্তাব

চা-বিরতিকে আরও নিয়মিতভাবে চালু করার ক্ষেত্রে অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক জো ডার্লিংয়ের ভূমিকা উল্লেখযোগ্য।

১৮৯৯ সালে অস্ট্রেলিয়া দল ইংল্যান্ড সফরে গেলে ডার্লিং আনুষ্ঠানিকভাবে চা-বিরতির প্রস্তাব দেন। ইংল্যান্ডের ক্রিকেট কর্তৃপক্ষ বা সংশ্লিষ্ট পক্ষ তাঁর এই প্রস্তাবকে সম্মান জানায়। তবে শুরুতে বিরতির আয়োজন বর্তমান সময়ের মতো ছিল না।

খেলোয়াড়দের চা পান করার জন্য মাঠ ছেড়ে প্যাভিলিয়নে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হতো না। বরং তাঁরা মাঠেই থাকতেন এবং তাঁদের কাছে চা ও হালকা নাশতা পৌঁছে দেওয়া হতো।

এই পদ্ধতিতে খেলোয়াড়দের জন্য বিরতির ব্যবস্থা করা হলেও মাঠের সঙ্গে তাঁদের সংযোগ বজায় থাকত। অর্থাৎ, চা পান ও হালকা খাবার গ্রহণের জন্য বিরতি থাকলেও আলাদা করে প্যাভিলিয়নে যাওয়ার প্রচলন তখনো পুরোপুরি প্রতিষ্ঠিত হয়নি।

১৯০২ সালের অ্যাশেজেও একই নিয়ম

১৮৯৯ সালে প্রস্তাবিত ব্যবস্থার ধারাবাহিকতা দেখা যায় ১৯০২ সালের অ্যাশেজেও। ওই সময় খেলোয়াড়দের মাঠে চা পরিবেশন করার রীতি বহাল ছিল।

এতে বোঝা যায়, চা-বিরতির ধারণাটি ক্রিকেটে জায়গা করে নিলেও বিরতির ধরন ও ব্যবস্থাপনা একবারে বর্তমান রূপ পায়নি। ধীরে ধীরে এই প্রথার নিয়ম ও আয়োজন বদলেছে।

১৯০৫ সালে চা-বিরতিতে বড় পরিবর্তন

চা-বিরতির ইতিহাসে ১৯০৫ সালকে একটি গুরুত্বপূর্ণ সময় হিসেবে উল্লেখ করা হয়। ওই বছর প্রথমবারের মতো ক্রিকেটাররা আনুষ্ঠানিকভাবে চা পান করার জন্য মাঠ ছেড়ে প্যাভিলিয়নে যাওয়ার সুযোগ পান।

এর আগে মাঠেই তাঁদের জন্য চা ও হালকা খাবার পরিবেশন করা হতো। ১৯০৫ সালের পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে বিরতির সময় খেলোয়াড়দের মাঠের বাইরে গিয়ে বসার ব্যবস্থা আরও স্পষ্ট রূপ পায়।

তবে এই পরিবর্তনের পরপরই মাঠে বসে চা খাওয়ার ঐতিহ্য পুরোপুরি হারিয়ে যায়নি। পরবর্তী বেশ কয়েক বছরও মাঠে বসে চা পান করার দৃশ্য দেখা গেছে।

এই ধারাবাহিকতা দেখায়, ক্রিকেটের চা-বিরতি কোনো একক নিয়মের মাধ্যমে চূড়ান্ত রূপ পায়নি। বরং সময়, আয়োজন এবং খেলোয়াড়দের প্রয়োজন অনুযায়ী এর ব্যবহারিক দিকগুলো পরিবর্তিত হয়েছে।

স্কটল্যান্ডের ক্রিকেটেও চা-বিরতির পুরোনো ইতিহাস

চা-বিরতির সূচনা নিয়ে ক্রিকেট ইতিহাসে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য রয়েছে, যার সঙ্গে স্কটল্যান্ডের নাম যুক্ত।

স্কটল্যান্ড টেস্ট খেলুড়ে দেশ না হলেও দেশটির ক্রিকেট ইতিহাস সমৃদ্ধ। সেখানে উনিশ শতকের শেষ দিকে ক্রিকেট ম্যাচে চা পানের প্রচলন শুরু হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়।

১৮৯২ সালের মে মাসে গ্লাসগোর টিটউডে নর্থাম্বারল্যান্ড এবং গ্লাসগো অ্যান্ড ডিস্ট্রিক্টের মধ্যে একটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। ওই ম্যাচে মধ্যাহ্নভোজের পর চা-বিরতি নেওয়ার লিখিত প্রমাণ পাওয়া যায় বলে ক্রিকেট ইতিহাসের বর্ণনায় উল্লেখ রয়েছে।

এই তথ্য চা-বিরতির ইতিহাসকে আরও বিস্তৃতভাবে দেখার সুযোগ দেয়। কারণ, টেস্ট ক্রিকেটে প্রথাটি প্রতিষ্ঠিত হওয়ার আগেই বা একই সময়ের কাছাকাছি অন্য ক্রিকেট ম্যাচেও চা পানের বিরতি চালু ছিল বলে ধারণা পাওয়া যায়।

তবে স্কটল্যান্ডের ম্যাচের এই তথ্য এবং ১৮৮১-৮২ সালের অ্যাশেজে চা-বিরতির প্রচলনের বর্ণনা একই ধরনের ঐতিহাসিক দাবি নয়। একটির ক্ষেত্রে অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটে প্রাথমিক প্রচলনের কথা বলা হয়েছে, অন্যটির ক্ষেত্রে ১৮৯২ সালের একটি ম্যাচে বিরতির লিখিত প্রমাণের উল্লেখ রয়েছে।

ওয়ানডে ক্রিকেটেও ছিল চা-বিরতির প্রচলন

চা-বিরতি শুধু টেস্ট ক্রিকেটের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। একসময় ওয়ানডে ক্রিকেটেও এই ঐতিহ্য দেখা যেত।

ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত প্রথম তিনটি বিশ্বকাপ ছিল ৬০ ওভারের। সেই সময়ের ওয়ানডে ম্যাচগুলোতে সাধারণত দুই ইনিংসের মধ্যে আলাদা ধরনের বিরতি রাখা হতো। প্রথম ইনিংসের পর থাকত মধ্যাহ্নভোজের বিরতি, আর দ্বিতীয় ইনিংসের আগে বা সংশ্লিষ্ট সময়সূচি অনুযায়ী থাকত চা-বিরতি।

এটি ছিল তখনকার ওয়ানডে ক্রিকেটের ম্যাচ পরিচালনার অংশ। ফলে চা-বিরতি একসময় দীর্ঘ সংস্করণের ক্রিকেটের বাইরেও ব্যবহৃত হয়েছে।

কিন্তু সময়ের সঙ্গে ওয়ানডে ক্রিকেটের কাঠামো ও বিরতির ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আসে। আধুনিক ওয়ানডে ম্যাচে দুই ইনিংসের মাঝখানে দীর্ঘ বিরতি রাখার প্রচলন থাকায় আগের সেই মধ্যাহ্নভোজ ও চা-বিরতির বিন্যাস আর দেখা যায় না।

বর্তমানে চা-বিরতি মূলত পাঁচ দিনের টেস্ট ক্রিকেটের পরিচিত বৈশিষ্ট্য হিসেবে টিকে আছে।

আধুনিক টেস্ট ক্রিকেটে চা-বিরতির আয়োজন

সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে টেস্ট ক্রিকেটের চা-বিরতির আয়োজনেও বৈচিত্র্য এসেছে। একসময় যেখানে চা ও হালকা নাশতাই ছিল প্রধান আকর্ষণ, এখন সেখানে খাবারের তালিকা অনেক বেশি বিস্তৃত।

খেলোয়াড়দের জন্য চা ছাড়াও বিভিন্ন পুষ্টিকর খাবার, স্যান্ডউইচ এবং নানা ধরনের নাশতার ব্যবস্থা করা হয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ক্রিকেটারদের খাবার তৈরির দায়িত্ব দেওয়া হয় বিশ্বখ্যাত শেফদের।

এই পরিবর্তন থেকে বোঝা যায়, চা-বিরতি এখন কেবল একটি পানীয় গ্রহণের সময় নয়। দীর্ঘ সময় ধরে মাঠে থাকা ক্রিকেটারদের জন্য খাবার গ্রহণ ও সাময়িক বিশ্রামের সুযোগ হিসেবেও এটি গুরুত্বপূর্ণ।

টেস্ট ক্রিকেটে খেলোয়াড়দের শারীরিক সক্ষমতা, মনোযোগ এবং দীর্ঘ সময় ধরে খেলার প্রস্তুতি গুরুত্বপূর্ণ। চা-বিরতি সেই দীর্ঘ ম্যাচের দৈনন্দিন রুটিনের একটি অংশ হয়ে উঠেছে।

তবে বিরতির খাবার ও আয়োজন সব দল বা ম্যাচে একই রকম হয়—এমন তথ্য এখানে নেই। বরং সময়ের সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের খাবার যুক্ত হওয়ার বিষয়টিই এই ঐতিহ্যের বিবর্তনকে তুলে ধরে।

খেলোয়াড়দের পছন্দের খাবার নিয়েও কৌতূহল

চা-বিরতির সময় ক্রিকেটাররা কী খান বা কী পান করেন, তা নিয়েও ভক্তদের আগ্রহ রয়েছে। মাঠের পারফরম্যান্সের বাইরে খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত পছন্দ জানার সুযোগ তৈরি করে এই বিরতি।

ইংল্যান্ডের তারকা ব্যাটার অলি পোপ এক সাক্ষাৎকারে তাঁর পছন্দের কথা জানিয়েছিলেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, অনেকেই চা পছন্দ করলেও তিনি সাধারণত স্যান্ডউইচের সঙ্গে কফি পান করতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।

পোপের এই পছন্দ থেকে বোঝা যায়, চা-বিরতি নামটির সঙ্গে চা যুক্ত থাকলেও প্রত্যেক ক্রিকেটারের পানীয়ের পছন্দ এক নয়। কেউ চা পান করতে পারেন, আবার কেউ কফি বা অন্য খাবারকে প্রাধান্য দিতে পারেন।

এ কারণেই চা-বিরতি এখন নামের দিক থেকে ঐতিহ্যবাহী হলেও এর খাবার ও পানীয়ের আয়োজন আগের তুলনায় বৈচিত্র্যময়।

টেস্ট ক্রিকেটে চা-বিরতির গুরুত্ব কোথায়?

পাঁচ দিনের টেস্ট ম্যাচে খেলোয়াড়দের দীর্ঘ সময় ধরে মনোযোগ ধরে রাখতে হয়। ম্যাচের পরিস্থিতি অনুযায়ী ব্যাটিং, বোলিং ও ফিল্ডিংয়ের চাপও বদলে যায়। এমন পরিবেশে নির্ধারিত বিরতিগুলো খেলোয়াড়দের সাময়িকভাবে বিশ্রাম নেওয়া এবং খাবার গ্রহণের সুযোগ দেয়।

চা-বিরতির ঐতিহাসিক গুরুত্ব অবশ্য শুধু বিশ্রামের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এটি টেস্ট ক্রিকেটের নিজস্ব সংস্কৃতি ও পরিচিতির অংশ হয়ে উঠেছে।

১৮৮১-৮২ সালের অ্যাশেজ থেকে ১৮৯৯ সালে জো ডার্লিংয়ের প্রস্তাব, ১৯০২ সালের অ্যাশেজে পুরোনো পদ্ধতির ধারাবাহিকতা এবং ১৯০৫ সালে প্যাভিলিয়নে গিয়ে চা পান করার সুযোগ—এই সময়রেখা দেখায়, প্রথাটি ধীরে ধীরে বদলেছে।

অন্যদিকে, স্কটল্যান্ডের ১৮৯২ সালের ম্যাচে চা-বিরতির লিখিত প্রমাণ এবং একসময় ওয়ানডে ক্রিকেটে এই বিরতির ব্যবহারও ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

আজকের দিনে টেস্ট ক্রিকেটে চা-বিরতি একটি পরিচিত ঐতিহ্য। খাবারের তালিকা বদলেছে, আয়োজন হয়েছে বৈচিত্র্যময়, কিন্তু দীর্ঘ ম্যাচের মধ্যে নির্ধারিত এই বিরতি ক্রিকেটের সংস্কৃতিতে নিজের জায়গা ধরে রেখেছে।

ক্রিকেটের ইতিহাসে অনেক পরিবর্তনের মধ্যেও কিছু প্রথা টিকে থাকে তাদের পরিচিতি ও ঐতিহ্যের কারণে। চা-বিরতি তেমনই একটি উদাহরণ—যার শিকড় উনিশ শতকের ক্রিকেটে, আর উপস্থিতি এখনো পাঁচ দিনের টেস্ট ম্যাচে।

সর্বাধিক পঠিত