এইমাত্র

আরও খবর

Website Feature Image (15)
নতুন পে স্কেলে বেতন নিয়ে জটিলতা, পাচ্ছেন না অনেক চাকরিজীবী
News Photocard (13)
মহানগর এক্সপ্রেসের নতুন রুট: এক ট্রেনেই কক্সবাজারে যেতে পারবে ৫ জেলার মানুষ
News Photocard (9)
ফেনীতে মাকে কুপিয়ে হত্যা, মেয়ে আটক
News Photocard (48)
বিদেশের কারাগারে ১৫ হাজারের বেশি বাংলাদেশি, সহায়তা নিয়ে অভিযোগ
News Photocard (27)
মন্ত্রিত্ব ছাড়লেন ইশরাক,মাদক বিরোধী অভিযান নিয়ে অবস্থানে অনড়

ঢাকা-টোকিওর যৌথ ঘোষণা: পাঁচ বছরে এক ট্রিলিয়ন ইয়েন বিনিয়োগের লক্ষ্য জাপানের

জাপানের এক ট্রিলিয়ন ইয়েন বিনিয়োগের লক্ষ্যে আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশে দুই লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টির আশা করছে দুই দেশ। উৎপাদন, কৃষি, প্রযুক্তি ও ওষুধশিল্পে বিনিয়োগ বাড়ানোর পাশাপাশি ব্যবসার পরিবেশ উন্নয়নে গুরুত্ব দিচ্ছে ঢাকা ও টোকিও।

ঢাকা ও টোকিওর অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার লক্ষ্যে আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশে জাপানের বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ এক ট্রিলিয়ন ইয়েন পর্যন্ত পৌঁছানোর লক্ষ্য সামনে এসেছে। এই বিনিয়োগের মাধ্যমে বাংলাদেশে দুই লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রত্যাশা করা হচ্ছে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর ২০২৬) জাপানের রাজধানী টোকিওতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও জাপানের প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি সানায়ের দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠকের পর প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়। উৎপাদনশিল্প, খাদ্য ও কৃষি, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি, ওষুধশিল্প, অবকাঠামো এবং জ্বালানি খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও দুই দেশ একমত হয়েছে।

জাপানের এক ট্রিলিয়ন ইয়েন বিনিয়োগ: পাঁচ বছরে বড় লক্ষ্য

বাংলাদেশে জাপানের বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ বাড়ানোর পরিকল্পনা দুই দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতায় নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে। আগামী পাঁচ বছরে বিনিয়োগের পরিমাণ এক ট্রিলিয়ন ইয়েনে পৌঁছানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে এসব বিনিয়োগের মাধ্যমে দুই লাখ কর্মসংস্থান তৈরির প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

যৌথ বিবৃতি অনুযায়ী, বাংলাদেশ ও জাপান তাদের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর করতে জাপানি বেসরকারি খাতের বিনিয়োগের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে সম্মত হয়েছে। বিনিয়োগের পরিমাণ বাড়ানোর পাশাপাশি উৎপাদন ও সরবরাহব্যবস্থাকে আরও কার্যকর এবং ঝুঁকি মোকাবিলায় সক্ষম করে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে শুধু নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ করাই নয়, বাংলাদেশে ব্যবসা পরিচালনার পরিবেশ উন্নত করাও গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে। বিনিয়োগকারীদের জন্য নীতিমালা ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ এবং পূর্বানুমানযোগ্য করার বিষয়টি আলোচনায় এসেছে।

কোন কোন খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে চায় জাপান

বাংলাদেশে জাপানের বিনিয়োগ সম্প্রসারণের পরিকল্পনায় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে—

  • উৎপাদনশিল্প: শিল্প উৎপাদন ও পণ্য সরবরাহব্যবস্থার সক্ষমতা বাড়ানো।
  • খাদ্য ও কৃষি: খাদ্য উৎপাদন, কৃষিভিত্তিক ব্যবসা এবং সংশ্লিষ্ট সরবরাহব্যবস্থায় সহযোগিতা সম্প্রসারণ।
  • তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি: প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে বিনিয়োগের সুযোগ বাড়ানো।
  • ওষুধশিল্প: ওষুধ উৎপাদন ও সংশ্লিষ্ট শিল্প খাতে বিনিয়োগের সম্ভাবনা কাজে লাগানো।

যৌথ বিবৃতিতে এসব খাতে পরস্পর-পরিপূরক এবং বিভিন্ন ঝুঁকি মোকাবিলায় সক্ষম পণ্য সরবরাহব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

এই খাতগুলোতে বিনিয়োগের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের শিল্প ও ব্যবসায়িক কার্যক্রমে নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে বিনিয়োগের নির্দিষ্ট প্রকল্প, প্রতিষ্ঠানভিত্তিক অর্থের পরিমাণ কিংবা কর্মসংস্থান সৃষ্টির সময়সূচি সম্পর্কে বিবৃতিতে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি।

বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নয়নে ঢাকার অঙ্গীকার

বিনিয়োগের লক্ষ্য অর্জনে ব্যবসা পরিচালনার পরিবেশ উন্নত করার বিষয়টি বৈঠকে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। জাপানের প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি সানায়ে বাংলাদেশে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে সরকারের নেওয়া উদ্যোগগুলোর প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে তিনি বিনিয়োগের পরিবেশ আরও উন্নত করার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।

জবাবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরকারের সাম্প্রতিক উদ্যোগগুলো তুলে ধরেন। বিনিয়োগকারীদের জন্য ব্যবসার পরিবেশ উন্নত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার অঙ্গীকারও করেন তিনি।

আলোচনায় কয়েকটি প্রশাসনিক ও আর্থিক প্রক্রিয়ায় নিয়ম-কানুনের স্বচ্ছতা এবং পূর্বানুমানযোগ্যতা বাড়ানোর বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—

  • করব্যবস্থা ও করসংক্রান্ত নিয়মকানুন;
  • শুল্ক ছাড়করণ প্রক্রিয়া;
  • অর্থ প্রেরণের ব্যবস্থা;
  • বিভিন্ন ধরনের লাইসেন্স প্রদানের প্রক্রিয়া।

এসব ক্ষেত্রে নিয়মের স্বচ্ছতা বাড়ানো এবং প্রক্রিয়াগুলোকে আরও পূর্বানুমানযোগ্য করা গেলে বিনিয়োগকারীদের ব্যবসায়িক পরিকল্পনা প্রণয়নে সুবিধা হতে পারে। তবে এসব পরিবর্তন বাস্তবায়নের নির্দিষ্ট সময়সীমা বা বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা যৌথ বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়নি।

অর্থনৈতিক সহযোগিতায় সমঝোতা স্মারক

বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্ক এবং ব্যবসার পরিবেশ উন্নত করার উদ্যোগের অংশ হিসেবে দুটি গুরুত্বপূর্ণ সহযোগিতার বিষয় সামনে এসেছে।

প্রথমত, জাপানের অর্থনীতি, বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশের অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরকে দুই প্রধানমন্ত্রী স্বাগত জানিয়েছেন।

দ্বিতীয়ত, খাদ্য, কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে ব্যবসা সম্প্রসারণ এবং বিনিয়োগ আকর্ষণে সহযোগিতা বাড়ানোর জন্য দুই দেশের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মধ্যে দুটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরকেও স্বাগত জানানো হয়েছে।

এসব উদ্যোগের লক্ষ্য দুই দেশের সরকারি পর্যায়ের সমন্বয় বাড়ানোর পাশাপাশি বেসরকারি খাতের জন্য সহযোগিতার সুযোগ সম্প্রসারণ করা।

জাপানি ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদল পাঠানোর পরিকল্পনা

বাংলাদেশে জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলোর বিনিয়োগের অঙ্গীকার বাস্তবায়ন এবং ব্যবসা সম্প্রসারণের গতি বাড়াতে অদূর ভবিষ্যতে একটি জাপানি ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদল বাংলাদেশে পাঠানোর পরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছে।

এই সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশের বিনিয়োগের সুযোগ সম্পর্কে জাপানি ব্যবসায়ীদের আগ্রহ বাড়ানো এবং দুই দেশের ব্যবসায়িক যোগাযোগ সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে প্রতিনিধিদলের সফরের নির্দিষ্ট তারিখ, সদস্যসংখ্যা কিংবা অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের নাম যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয়নি।

এ ছাড়া দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সংলাপ আয়োজন এবং যৌথ সরকারি-বেসরকারি অংশীদারি প্ল্যাটফর্মের আওতায় সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও আগ্রহ প্রকাশ করা হয়েছে।

সরকারি পর্যায়ের আলোচনা, ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলের সফর এবং বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ—এই উদ্যোগগুলো একসঙ্গে এগিয়ে নেওয়া গেলে বিনিয়োগ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সমন্বয় বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।

জাপান–বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অংশীদারি চুক্তি দ্রুত কার্যকরের উদ্যোগ

বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানোর লক্ষ্যে জাপান–বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অংশীদারি চুক্তি দ্রুত কার্যকর করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী।

এই চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশের শিল্পের বহুমুখীকরণ এবং স্বল্পোন্নত দেশের মর্যাদা থেকে মসৃণ ও টেকসই উত্তরণে সহায়তা পাওয়ার প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

শিল্পের বহুমুখীকরণ বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বিভিন্ন উৎপাদন খাতের বিকাশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগের সুযোগ কাজে লাগানো গেলে বিভিন্ন খাতে ব্যবসা সম্প্রসারণের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।

তবে চুক্তিটি কার্যকরের নির্দিষ্ট তারিখ কিংবা এর আওতায় কোন কোন পণ্যে কী ধরনের সুবিধা প্রযোজ্য হবে, সে বিষয়ে যৌথ বিবৃতিতে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি।

মাতারবাড়ী–মহেশখালীকে শিল্প ও জ্বালানির কেন্দ্রে গড়ে তোলার পরিকল্পনা

অর্থনৈতিক সহযোগিতার পাশাপাশি অবকাঠামো ও জ্বালানি খাতেও সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা করেছেন তারেক রহমান ও তাকাইচি সানায়ে।

বঙ্গোপসাগরীয় শিল্প প্রবৃদ্ধি বলয় বা বিআইজিবি উদ্যোগের আওতায় মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরকে কেন্দ্র করে মাতারবাড়ী–মহেশখালী এলাকাকে সরবরাহ, পরিবহন, জ্বালানি ও শিল্পের প্রধান কেন্দ্রে পরিণত করার লক্ষ্যে একসঙ্গে কাজ করতে সম্মত হয়েছেন দুই নেতা।

এই পরিকল্পনায় গভীর সমুদ্রবন্দরকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। সরবরাহ ও পরিবহনব্যবস্থা, জ্বালানি অবকাঠামো এবং শিল্প কার্যক্রমের উন্নয়ন একসঙ্গে এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্য সামনে রাখা হয়েছে।

তবে প্রকল্পটির আওতায় নির্দিষ্ট বিনিয়োগের পরিমাণ, বাস্তবায়নের সময়সূচি কিংবা পৃথক প্রকল্পের বিস্তারিত বিবরণ যৌথ বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়নি।

শাহজালাল বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল ও রেলপথ

ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল চালুর প্রস্তুতি এগিয়ে নেওয়ার বিষয়েও দুই দেশের বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।

একই সঙ্গে গণদ্রুত পরিবহনব্যবস্থার রেলপথ নির্মাণকাজ দ্রুত শুরুর বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। এসব উদ্যোগ অবকাঠামো খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর বৃহত্তর আলোচনার অংশ।

বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল চালুর প্রস্তুতি এবং রেলপথ নির্মাণের অগ্রগতি পরিবহন অবকাঠামোর উন্নয়নের সঙ্গে সম্পর্কিত। তবে বৈঠকের পর প্রকাশিত বিবৃতিতে এসব কাজের নতুন সময়সীমা, অর্থায়নের বিস্তারিত কাঠামো বা বাস্তবায়নের নির্দিষ্ট পর্যায় সম্পর্কে অতিরিক্ত তথ্য দেওয়া হয়নি।

জ্বালানি নিরাপত্তায় ৫০ বিলিয়ন ইয়েনের ঋণ সহায়তা

বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারে ৫০ বিলিয়ন জাপানি ইয়েনের ঋণ সহায়তার জন্য জাপানের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

দুই দেশের আলোচনায় জ্বালানি নিরাপত্তার পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানি, জ্বালানির দক্ষ ব্যবহার এবং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

জ্বালানি খাতে সহযোগিতার এই ক্ষেত্রগুলো বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও অবকাঠামো পরিকল্পনার সঙ্গে সম্পর্কিত। তবে ৫০ বিলিয়ন ইয়েনের ঋণ সহায়তার শর্ত, অর্থ ছাড়ের সময়সূচি কিংবা অর্থায়নটি কোন নির্দিষ্ট প্রকল্পে ব্যবহার করা হবে, সে বিষয়ে যৌথ বিবৃতিতে বিস্তারিত উল্লেখ নেই।

এক ট্রিলিয়ন ইয়েনের লক্ষ্য বাস্তবায়নে কী গুরুত্বপূর্ণ

আগামী পাঁচ বছরে জাপানের বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ এক ট্রিলিয়ন ইয়েনে উন্নীত করার লক্ষ্য এবং দুই লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রত্যাশা বাংলাদেশ–জাপান অর্থনৈতিক সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক।

তবে লক্ষ্য নির্ধারণ এবং বাস্তবে বিনিয়োগ সম্পন্ন হওয়া এক বিষয় নয়। এই পরিকল্পনা কতটা বাস্তবায়িত হবে, তা নির্ভর করবে বিনিয়োগের অঙ্গীকার বাস্তব প্রকল্পে রূপ নেওয়া, ব্যবসায়িক পরিবেশ উন্নত করা এবং দুই দেশের সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ের সমন্বয়ের ওপর।

বৈঠকের যৌথ বিবৃতিতে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ, প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা, অর্থনৈতিক অংশীদারি চুক্তি, ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলের সফর এবং অবকাঠামো ও জ্বালানি সহযোগিতার বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে।

একই সঙ্গে উৎপাদনশিল্প, কৃষি, খাদ্য, প্রযুক্তি ও ওষুধশিল্পে বিনিয়োগের সম্ভাবনা কাজে লাগানোর পরিকল্পনা সামনে এসেছে। এসব খাতে প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য অর্জনে সহায়তা করতে পারে। তবে দুই লাখ কর্মসংস্থানের প্রত্যাশা এখনো একটি পরিকল্পনাভিত্তিক লক্ষ্য; বাস্তবে কতটি কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে, তা ভবিষ্যৎ বিনিয়োগ ও প্রকল্প বাস্তবায়নের অগ্রগতির ওপর নির্ভর করবে।

সার্বিকভাবে, ২৭ অক্টোবর টোকিওতে তারেক রহমান ও তাকাইচি সানায়ের বৈঠকে বাংলাদেশ–জাপান সম্পর্কের অর্থনৈতিক দিকটি আরও জোরদার করার অঙ্গীকার উঠে এসেছে। আগামী পাঁচ বছরে বিনিয়োগ বাড়ানোর লক্ষ্য পূরণে দুই দেশ কীভাবে সমঝোতা, ব্যবসায়িক যোগাযোগ এবং নীতিগত উদ্যোগগুলো বাস্তবায়ন করে, সেটিই হবে পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

সর্বাধিক পঠিত